Wednesday, July 15, 2020

High Madrasah Madhayamik Result 2020


WBBME RELEASED RESULTS 2020 

      WB MADRASAH BOARD 

High Madrasah Madhayamik Result 2020
High Madrasah, Alim , Fazil Exam Results 2020 

Results Declared on 16/07/20 
Wb 10 th Class Exam results 2020 of West Bengal Board Madrasah Education

Today 16/07/2020 , Thursday 12:00 pm High Madrasah, Alim, Fazil exam results published vey soon 


High Madrasah Exam results link 

Check Your  Results click below link
Www.wbbme.org
Click Here


Or another Results check link 
Wbresults.nic.in
Click here


Check Ruslts below link
Www.exametc.com  👇👇👇

https://www.exametc.com/university.php?id=118&name=West+Bengal+Board+of+Madrasha+Education


Follow the steps given here to download your WBBME Results 2020 (HM, Alim and Fazil):

••Visit the official website www.wbbme.org

••Click on the results link given on the homepage

••Click on the WBBME Results 2020 (HM, Alim and Fazil) link given there

On the next page, key in your registration details
•••Click submit and check your results from next page

Along with the WBBME Results 2020, the board will also release the abstract of results, first-ten candidates in order of merit, highest marks subject wise and link for downloading the certificate.


কীভাবে হাই মাদ্রাসা, আলিম এবং ফাজিল পরীক্ষা ২০২০ সালের রেজাল্ট (WBBME Madrasah Result 2020) দেখবেন :


১) মাদ্রাসা শিক্ষা পর্ষদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে (wbbme.org) যান।

২) H.M/Alim/Fazil Result 2020 লিঙ্কে ক্লিক করুন।

৩) নিজের রোল নম্বর এবং জন্ম তারিখ দিন। 'Submit'-এ ক্লিক করুন।


৪) স্ক্রিনে আপনার হাই মাদ্রাসা, আলিম এবং ফাজিল পরীক্ষা ২০২০ সালের রেজাল্ট (WBBME Madrasah Result 2020) দেখাবে।

৫) ভবিষ্যতের জন্য তা ডাউনলোড করে রেখে দিন।

আরও একাধিক ওয়েবসাইট থেকে হাই মাদ্রাসা, আলিম এবং ফাজিল পরীক্ষা ২০২০ সালের রেজাল্ট (WBBME Madrasah Result 2020) দেখা যাবে, সেগুলি হল :


১) wbresults.nic.in

২) www.exametc.com

কীভাবে SMS-এর মাধ্যমে হাই মাদ্রাসা, আলিম এবং ফাজিল পরীক্ষা ২০২০ সালের রেজাল্ট (WBBME Madrasah Result 2020) দেখবেন :


WBBME<space>Roll Number লিখে ৫৬০৭০ নম্বরে মেসেজ পাঠিয়ে দিন।
নীচের লিঙ্কে ক্লিক করুন এবং ফলাফল দেখুন
http://www.wbbme.org/Result_Publish.aspx



Monday, June 15, 2020

উপকণ্ঠ প্রাত্যহিক ওয়েব ম্যাগাজিন-15/06/2020


               "উপকণ্ঠ প্রাত্যহিক বিভাগ"
                 (ওয়েব ম্যাগাজিন)
        প্রকাশ কাল:-15/06/2020, সোমবার
                    সময় :- সকাল 11টা

সভাপতি:- অরুণ কুমার ঘড়াই
সহঃ সভাপতি:- সেক আব্দুল মজিদ

সম্পাদক এবং
প্রকাশক:- সেক আসাদ আহমেদ
যুগ্ম সহঃ সম্পাদক :-
                  ১) ইমরান খাঁন
                  ২) শেখ মণিরুল ইসলাম

সম্পাদকীয় দপ্তর ::-
গ্রাম:- গাংপুরা ডাকঘর:- সাগরেশ্বর
থানা:- রামনগর জেলা:- পূর্ব মেদিনীপুর
সূচক-৭২১৪৪৬ পশ্চিমবঙ্গ ভারত

মুঠোফোন:- 9593043577

🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷

উপকণ্ঠ সাহিত্য পত্রিকা ফেসবুক আইডি লিঙ্কে ক্লিক করুন আর যুক্ত হন আমাদের সাথে
 Click here

উপকণ্ঠ সাহিত্য পত্রিকা এর হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপতে যুক্ত হন লিঙ্কে ক্লিক করে
Click here

🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷

আজকে উপকণ্ঠ প্রাত্যহিক ওয়েব ম্যাগাজিনে যারা কলম ধরেছেন✒✒✒✒👇👇👇👇👇
ইংরেজি কবিতা:-
   • সিদ্ধার্থ সিংহ
প্রবন্ধ:-
    • রাজা দেবরায়
কবিতা:-
    •সোহিনী শবনম
    •সুমন্ত মাজি
    • বিশ্বজিৎ কর
    • মিঠুন রায়
    • সোহিনী মুখার্জী
    • টুম্পা মুখার্জী
    • কাশীনাথ সাহা
    • তীর্থঙ্কর সুমিত
    • প্রশান্ত মাইতি
    • জুয়েল রূহানী
    • কাঞ্চন সরকার
    • বাপ্পা দাস
ছোটোগল্প:-
         • আব্দুল রাহাজ
কবিতা:-
          • প্রদীপ কুমার দে
          • অনাদি মুখার্জী

🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋


The Saplings
     ✍✍✍ Siddhartha Singha

A gust of breeze would blow away the thatched roof
The room full of dust
Calendar flying against the wall
Film on the bucket of water
As rain drenched them all.
Rati huddled under the cot with her children
Gushing water Swept away the newly planted saplings
I used to look at the sky often
thinking, if only Rahoul Would grow up!
Not just Rahoul, all the children are grown up now
So big that they don't fit into this room
Each gone his own way, striking rooms.
Even now there is gusty wind, the sudden lash of a storm
We, the old couple, crouch on the bad in fear,
The roof stays intact, not even a straw flies away
Are Rahoul and the children standing guard round the house?
Opening the door we find the saplings turned into trees.
🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋
প্রবন্ধ
RIP
✍✍✍ রাজা দেবরায়

প্রথমেই বলে রাখি কেউ ব্যক্তিগতভাবে নেবেন না । কারণ কেউ মারা গেলে 'রিপ' কথাটা অধিকাংশ লোকই বলে থাকেন ।
RIP মানে Rest In Peace অর্থাৎ যিনি মারা গেলেন তিনি শান্তিতে বিশ্রাম করুন । এটা যারা 'রিপ' বলেন তারা তাদের GOD-এর কাছে মৃত ব্যক্তি কফিনে সর্বশান্তিতে শায়িত থাকুক প্রার্থনা করেন । আসলে মরে গেলে কফিনে তো শান্তিতেই থাকবেন । বেঁচে থাকলেই তো যত ঝামেলা, অশান্তি !
এই বিদেশী শব্দ 'রিপ' কথাটা কফিনে যারা শায়িত থাকেন সবসময়ের জন্য, তাদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য ।
এবার স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে তাহলে আমরা বলি কেনো ?
আসলে এই 'রিপ' কথাটা মূলত যারা বিশ্বাস করেন তারা 'আত্মা'কেই উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে বোঝায় । কেননা যতটুকু শুনেছি, বলা হয়ে থাকে যে 'আত্মা' অবিনশ্বর, অর্থাৎ 'আত্মা'র মৃত্যু নেই - অমর বা অক্ষয় । তাহলে তো 'আত্মা' বেরিয়ে গেলে নিথর শরীরের আর কী দাম ! এই 'আত্মা' আবার নাকি অন্য শরীরে প্রবেশ করে বা করবে কোনো এক সময় !
কিন্তু যতটুকু শুনেছি 'আত্মা' তো বিশ্রাম করে না, ছুটোছুটি করে অনবরত । নতুন এক শরীরের খোঁজে দিনরাত ঘোরাফেরা করে ।
তাহলে 'রিপ' কথাটা প্রকৃতই কাকে উদ্দেশ্য করে বলা হয় ? আর 'শান্তিতে বিশ্রাম'ইবা কোথায় করবে এবং কখন করবে ?
তাহলে কি আমাদের ভাবনায়, কথায় আর কাজে 'দ্বিচারিতা' (অথবা নতুন শব্দ সৃষ্টি করলে 'ত্রিচারিতা') আছে ??
🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋
স্বেচ্ছায় রক্তদান
     ✍✍✍ সোহিনী শবনম

  অ্যানিমিয়ায় যে ভোগে,
সে বোঝে রক্তের আসল মর্ম।
  তুমি তো রোজ বেদানা খাও,
দেহে রক্তের পরিমাণ যথার্থ।
কারো শরীরে রক্ত কম-
এ বিধাতার অন্যায় বিচার নয় কি?
রক্তের মাধ্যমে গঠিত হবে নতুন বন্ধন,
ভগবানের এক পবিত্র পরিকল্পনা বোধহয় এটি।
দৃষ্টির আড়ালে যুক্ত হবে;
পুণ্যের আর এক পয়েন্ট।
বাঁচবে আর একটি প্রাণ, তোমার রক্ত স্রোতে ভেসে,
কৃতজ্ঞতার হাসি মুখটি যোগাবে তোমার,
ঐশ্বরিক আনন্দ উপলব্ধির উপকরণ।
অভাব যদি থেকেই থাকে,
পূর্ণ করো তা দানে।
স্বেচ্ছায় করো রক্তদান,
জীবন ঢালো অন্যের প্রাণে।
🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋
লিখব না আর
          ✍✍✍  সুমন্ত মাজি

লিখব না আর কবিতা আমি
কী হবে লেখালেখি করে ?
দেখবেন, জোরের উপর পড়বেন আপনি বা আপনারা...
কী লিখব বলুনতো?
প্রকৃতির কথা? মানুষের কথা?
তাতে কী মুক্তি পাবে নগর সমাজের দুর্দশা...
কাদের জন্য লিখব?
চব্বিশ-পরগনার ওই বছর আঁশির বৃদ্ধের হয়ে? যে দুবেলা খাবার জোটাতে হিমশিম খেত, প্রবল ঝড় ভিটেবাড়ির নড়বড়ে ছাদটাও উড়িয়ে দিল।  নাকি ওই হতভাগা পিতার হয়ে যাদের খেতে হলে গুনতে হয় নগদ চল্লিশ টাকা তার ওই শিক্ষিত মুর্খ  শিক্ষক ছেলের কাছে কিংবা আশ্রয় নিতে হয় গাছের তলে বা রাস্তায় ধারে কোনো অন্ধকার ধ্বংসস্তূপে। কাদের জন্য লিখব ওই বিধ্বস্ত , বিপর্যস্ত থমকে যাওয়া জনমানবের হয়ে , তাতেও কী লাভ হবে কিছু , হুম হবে আপনার , আমার আবেগতাড়িত মন  সাহায্য,  সহযোগিতার , সহানুভূতির কথা বলবো দুদিন সাহায্য করে ' ফেসবুকে' ছবি প্রকাশ করব। তারপর? ....
পারবেন কী সর্বশান্ত হয়ে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা সেই মানুষগুলোর প্রয়োজনীয় আর্থিক বন্দোবস্তের ব্যবস্থা।
🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋
কবিতা
আমার দূর্গার কথা!
✍✍✍ বিশ্বজিৎ কর

ওরা বলছে ওকে বলো
এরা বলছে তা'কে বলো
আমার দূর্গার কথা কেউ শোনে না
ওরা বলছে হোটেলে চলো
এরা বলছে বাড়িতে এসো
আমার দূর্গার কান্না কেউ বোঝে না
ওরা সবে মিলে ভোগ করে
এরা যৌনক্ষুধা মিটিয়ে চলে
আমার দূর্গার ভিডিও ভাইরাল
ওরা সাত খুনে পেয়ে যায় পার
এরা বুক চিতিয়ে পগার পার
আমার দূর্গার নিরাপত্তা বেহাল
ওরা ব্যস্ত সমাজসেবায়
এরা ছুটছে জনসেবায়
আমার দূর্গা বাবুকে করে যত্ন
ওরা কাটে কত ফিতে
এরা নাকি জনহিতে
আমার দূর্গার চুরমার সব স্বপ্ন
ওরা দিনের আলোয় সব ভালো
এরা যেন জগতের আলো
আমার দূর্গার প্রসব ফুটপাতে
ওরা থাকছে দুধেভাতে
এরা মশগুল নেশাতে
আমার দূর্গার কদর গভীর রাতে
🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋
ওই রূপে
   ✍✍✍ মিঠুন রায়

তোমার হাত ধরে লক্ষ্যহীন পথে হেঁটে চলছি আমি,
গন্তব্যস্থল জানা নেই।
বিশ্বাসে ভর করে ঘর
ছেড়েছি,
তাই বলে নেই অনুশোচনা ।
ক্ষুধা ও চোখের ঘুম কোথাও গেছে চলে তোমার স্পর্শ পেয়ে,
অস্হি শূন্য শরীরে লিখে দিয়েছি তোমার নাম,
মেঘমালার দেশে ডুবন্ত সূর্যের  মধ্যে কল্পনা করি
তোমার  প্রেমময়ী রূপ।
🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋
শেষ দেখা
✍✍✍ সোহিনী মুখার্জী
হাঁটতে হাঁটতে চলতি পথে খানিক ক্লান্তি এলে
তবু চলতে হবে ক্লান্তি পায়ে ক্লেশ মুছে ফেলে,
শেষ দেখা হবে জানি তোমার কাছে যাবো
ক্রোশ মাইল হেঁটে গিয়ে তোমার দেখা পাবো,
পরিযায়ী বলছে লোকে,তবু মানুষ তুমি জানো,
অন্ন নেই বস্ত্র নেই নেই মোর কোনো ত্রাণ ও,
ভিন রাজ্য গড়তে গিয়ে লাশ হয়ে গেলাম
আমিও এবার জামাই ষষ্ঠী তে ফিরবো ভেবেছিলাম।।
🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋
আড়াল
✍✍✍ টুম্পা মুখার্জী

ভালোবাসা আর প্রতি রাতে জাগিয়ে
রাখে না তোমায়,
ঘুমের আবেশে, নাকি ছলনার
আশ্রয়ে পাশ ফিরে থাকো?
জেগে থাকার আদুরে স্বপ্নকে
নিকোটিনের ধোঁয়ায়
পরিণতি দিতে চাও,
জানো নাহলে বিরোধিতা আছড়ে
পরবে তোমার অজুহাতে।
অনভ‍্যস্ত হাতে তাই নিজেকে গোটাচ্ছি,
ঠিক যেন রিলে গোটানো সুতো--
যার প্রতি পাকে জমা এক একটা কাহিনী।
পাক ছাড়ালেই যা সুনামি হবে,
ডুবিয়ে দেবে সবকিছু।
তাই আড়ালের ঢাকনার তলায়
সব চাপা পড়ে থাক,চাপা পড়ে থাক
ভালোবাসাহীনতা,চাপা পড়ে থাক একাকীত্ব,
চাপা পড়ে থাক অপেক্ষা।
🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋
অবরুদ্ধ সময়ে পুরাতনকে ফিরে দেখা।
স্বাধীনতা
✍✍✍ কাশীনাথ সাহা

ও মেয়ে তোকে দিলাম আমি অবাধ স্বাধীনতা
চার দেওয়ালের মধ্যে তুই বলতে পারিস কথা।
গাইতে পারিস মন খুলে ইচ্ছে মতো সুরে
উঠোনে দিলাম বিধিনিষেধ, যাসনে বেশী দূরে।
মেঘলা বিকেল দিলাম তোকে, দিলাম নদীর জল
চোখের ভিতর সাজিয়ে রাখিস জীবনের সম্বল।
ছায়া দিলাম, কান্না দিলাম, দিলাম ফাগুন মাস
সঞ্জীবনী মন্ত্র দিলাম, থাকিস ক্রীতদাস।
গর্ভ দিলাম,পুত্র দিলাম,রাখিস না সংশয়
সন্তানটির স্বীকৃতি হোক পিতৃপরিচয়।
মেয়ে তোকে শরীর দিলাম, দিলাম শুদ্ধ মন
পুরুষ দৃষ্টিতে উপাচার অস্থায়ী যৌবন।
উদার আকাশ দিলাম তোকে, দিচ্ছি তবু বলে
ডানা যদি মেলতে চাস - পুড়বি গঙ্গাজলে!
🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋
বাস ছেড়ে দিলে
✍✍✍ তীর্থঙ্কর সুমিত

বাসটা দাঁড়িয়ে আছে স্টপেজে
চারিদিকে কত ভিড়
বাকি বাসগুলো এক এক করে ছেড়ে দিয়েছে তাদের গন্তব্যস্থল
এদিকে ওদিকে হাজারো গাড়ি হুস হুস করে ছুটে আসছে
সকলের ই তাড়া
এবার বাসটা ছাড়লো ...
ভিড়ে পা গলানোর জায়গা নেই
কত লোকে ধরতে পারলনা বাসটা
অথচ একটু আগেই
কত কথ্যালাপ
মনে হয় কত চেনা অচেনার ভিড়ে
কেউ হিসেব রাখেনা বাস ছেড়ে দিলে।
🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋
   চমকে  উঠি
        ✍✍✍ প্রশান্ত মাইতি

টিভির সামনে বসে গরম চায়ে
চুমুক দিতে দিতে খবর দেখি
পাশে বসে প্রীতিদীপ্ত
          
বন্ধ শহর,বন্ধ দেশ
কোলাহলহীন নিস্তব্ধ পাড়া
বখাটে ছেলেদের আড্ডাটাও থেমেছে
আজ বেশ কিছুদিন
             
সেই চিন,সেই স্পেন,আমেরিকা
লকডাউন, কোয়ারেন্টাইন আর সেই
আক্রান্ত মৃত্যুর নামাবলী
ভালোলাগেনা টিভির পর্দায় চোখ রাখতে
                
চোখ আতঙ্কে বন্ধ হয়ে আসে
হিম হয়ে যায় শরীর দেশের খবরে
               
চমকে উঠি,যখন পাশের বাড়ির কেউ...
🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋
কবিতা
স্বাধীনতা তুমি
✍✍✍ জুয়েল রূহানী

স্বাধীনতা তুমি-বাঙ্গালী জাতীর আত্ম-অহংকার
স্বাধীনতা তুমি-বাংলার বুকে ফিরে এসো বার বার।
স্বাধীনতা তুমি-সন্তান হারা মায়ের আহাজারি
স্বাধীনতা তুমি-বোনের পড়নে লাল টুক্ টুক্ শাড়ি।
স্বাধীনতা তুমি-বাংলা মায়ের দামাল ছেলের হাসি,
স্বাধীনতা তুমি-রাখাল ছেলের বাজানো বাশের বাঁশি।
স্বাধীনতা তুমি-বধুর চোঁখে স্বামী হারা কষ্ট-
স্বাধীনতা তুমি-শিশুর চোঁখে স্বপ্ন সু-স্পষ্ট!
স্বাধীনতা তুমি-মাঁয়ের আঁচলে রক্তের চিহ্ন,
স্বাধীনতা তুমি-বীর বাঙ্গালীর পরিচয় অ-ভিন্ন।
স্বাধীনতা তুমি-বীর বাঙ্গালীর তাজা রক্তের স্মৃতি,
স্বাধীনতা তুমি-বাঙ্গালী জাতীর স্বদেশ-প্রীতি!
স্বাধীনতা তুমি-লাখো মা-বোনের সম্ভ্রমহানী!
স্বাধীনতা তুমি-ত্যাগের ফসল সে তো আমি জানি।
স্বাধীনতা তুমি-দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠা দ্বীপ শিখা
স্বাধীনতা তুমি-এ দেশের বুকে স্বাধীন মন্ত্র লিখা।
স্বাধীনতা তুমি-বাঙ্গালী জাতীর মনে, সাহসের মূল মন্ত্র,
স্বাধীনতা তুমি-ঘায়েল করেছো শত্রুর ষড়যন্ত্র!
স্বাধীনতা তুমি-রক্তে ভেজা সোনালী ইতিহাস,
স্বাধীনতা তুমি-অসীম ত্যাগে দিয়েছো বাংলাদেশ।
🎋🇧🇩🎋🇧🇩🎋🇧🇩🎋🇧🇩🎋🇧🇩🎋🇧🇩🎋🇧🇩🎋🇧🇩🎋🇧🇩🎋🇧🇩🎋🇧🇩🎋🇧🇩🎋🇧🇩🎋🇧🇩🎋🇧🇩

বেকারের প্রেম-ভালোবাসা
        ✍✍✍কাঞ্চন সরকার

সপ্ত,
বল বন্ধু কেমন আছিস?জানি আছিস ভালো।
লকডাউনে দেখা-সাক্ষাৎ সব যে হারিয়ে গেলো॥
#দীপ,
কি আর করবো বল! থাকতে হবে যে ভালো।
সে নাহয়!দড়ি দিয়ে ভালোটা,বাঁধায় রইলো॥
#সপ্ত,
কি দিনকাল এলো ভাই!দীর্ঘ লকডাউন যে চলে।
আজকাল তোর খবর,অন্যের থেকে নিতে হচ্ছে॥
#দীপ,
আমার আবার খবর!সে তো নিরুদ্দেশের দেশে।
কি শুনেছিস বল ব্যাটা?নাহলে ক্যালানি আছে॥
#সপ্ত,
শুনলাম তোদের নাকি বিয়ে, লকডাউনের শেষে।
তাহলে সব চিন্তার শেষে,বন্ধু আসছে নতুন বেশে॥
#দীপ
বাদদে ওসব কথা,এসব স্বপ্ন,বাস্তব তো আর না।
এ জামাই ওদের ঠিকঠাক রুচিতে আর ধরছেনা॥
#সপ্ত,
মানে সব জেনে শুনেই তো!ওরা এগিয়ে ছিলো।
আজ হঠাৎ! কি এমন হলো? কি এমন হলো?
#দীপ,
আর বলিস নারে!ওদের পরিবারের অনেক কথা।
আছে অনেক সমস্যা,অনেক স্বপ্ন ও চাহিদা॥
#সপ্ত,
দেখ ভাই তোরা সমবয়সী, সময় একটু লাগবে।
বয়স যে তোর অনেক কম, ওদের বুঝতে হবে॥
#দীপ,
দেখ ভাই তুই ,ওরা কিন্তু এত কিছু বুঝবেনা।
মেয়েটা ওদের,ওরা কি!ওর ভালোটুকু খুঁজবেনা॥
#সপ্ত,
অবশ্যই অধিকার আছে, প্রতিষ্ঠিত ছেলে খুঁজবে।
কিন্তু বন্ধু বলতে পারিস! মন দুটো কোথায় যাবে?
#দীপ,
আমার হাতে কিছু নেই ভাই, সব ঈশ্বরের হাতে।
আমার দুর্দিনে! ওদের পরিবারও দুহাত তুলেছে॥
#সপ্ত,
বন্ধু তুমি শান্ত ও ধৈর্য ধরো, একদম ভেবো না।
তোরা ঠিক থাকলে,কেউ কিচ্ছু করতে পারবেনা॥
#দীপ,
আবার তোর জ্ঞান শুরু হলো।
প্রেমে পড়ার থেকে ভাই!ড্রেনে পড়া অনেক ভালো॥
#সপ্ত,
এটা এতদিন প্রেম করে? তবেই মাথায় ঢুকল।
তবে ওদের পরিবারের,একটু বোঝা উচিত ছিল॥
#দীপ,
এতসব কে বুঝাবে? ওরা এসব বোঝেনা।
ওদের এখনি সব চাই, অপেক্ষা যে সইনা॥
#সপ্ত
বৌমা আমার সে কি চায় সেটা আগে শোন।
ওকি তোর সাথে দেবে? কি চাই ওর মন॥
#দীপ,
ও এখনো আমার পাশেই আছে,বলেছে থাকবে।
কিন্তু পরিবারের,জামাই পরিচয় দিতে বড্ড বাঁধবে॥
#সপ্ত,
তা বেশ ওতো পাশে আছে, ও এখনও লড়বে।
দেখিস একদিন তোদের স্বপ্ন তাজমহলটা গড়বে॥
#দীপ,
এখনও ঠিক আছে ভাই ,ও আমার পাশে আছে।
কিন্তু মন যে! যুগের সাথে,সময়ের সাথে চলে॥
#সপ্ত,
অপেক্ষা করো! সময় হলে, সবাই হবে রাজি।
"মিয়া বিবি রাজি তো, কিয়া করেগা কাজী"॥
#দীপ,
তা তো সবই ঠিক আছে ভাই,কাজী হারিয়ে গেছে।
নাজানি কত বেকারের প্রেম!এই কারণে ভেঙ্গেছে॥
#সপ্ত,
সত্যি ভাই বেকারদের প্রেমের,কি করূন অবস্থা।
এই জগত স্বার্থ খোঁজে,ওরা চাই শুধু ভালোবাসা॥
#দীপ,
সবাই শুধু ভালো খোঁজে,আমরা যে খারাপে গাঁথা।
তাই তো আজ নিজের গল্পরে দিয়েছি পাথর চাপা॥
#সপ্ত,
জানিরে বন্ধু বেকারদের আজ কোনো গল্পই নেই।
ভালোবাসা সত্যি হলে,জয় ভালোবাসার হবেই॥
#দীপ,
মন ছুঁয়ে গেল! বন্ধু এটা বলেছিস পুরো খাসা।
দেখি কে জেতে অবশেষে, প্রেম নাকি টাকা॥
#সপ্ত,
প্রেম জিতবে তুই অপেক্ষা করে,এটা দেখে নিস।
তোরা দুইজন চাইলে,একদিন সব হবেই ঠিক॥
#দীপ,
তা যা বলেছিস বন্ধু, পুরো তরতাজা।
ও ছাড়া যে জগৎটা আমার সত্যি পুরো ফাঁকা॥
#সপ্ত,
জন্ম, মৃত্যু, বিয়ে সে যে তিন বিধাতা নিয়ে।
ডেটিং,চ্যাটিং যতই করো,সেটিং তারই হাতে॥
#দীপ,
খুব পড়ছি এখন বন্ধু দিনরাত এক করে।
চাকরিটা যে পেতেই হবে,এতো বাঁধার ওপারে॥
#সপ্ত,
সাধু,সাধু,সাধু এই তো বন্ধু চাই।
জিতবে তুমি,হাসবে তুমি এ জানি ভাই॥
#দীপ,
হারি জিতি নাইকো লাজ,লড়ে আমি চলবো।
দুঃখ যতই আসুক,আমি এরমধ্যেই ভালো রইবো॥
#সপ্ত,
আজ রাখি,ভালো থাকবি ভাই,নিজের যত্ন নিবি।
কবি ব্যাটা সব শুনেছে ভাই, কি লিখবে কি জানি॥
#দীপ,
ওকে ভাই,তুমিও ভালো থাকবে,নিজের যত্ন নেবে।
ঠিক আছে,কবির আনন্দ লেখাতে,সে নতুন সৃষ্টিতে মেতেছে॥
🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋
মনকে ঘিরে ধরেছে বিষন্নতা
              ✍✍✍  বাপ্পা দাস

মনকে ঘিরে ধরেছে বিষন্নতা,
ফুরিয়ে যাচ্ছে আশা ।
প্রেম জাগানো স্মৃতি এলোমেলো,
মরবে বুঝি ভালোবাসা ।
অভীষ্ট ফল অধরা রবে বিষন্নতার ছায়ায় ।
মিশে যাবে পথ,
রোগগ্রস্ত হবে চেতনা বোধ ।
ঢেউ এর মতো দুলতে হবে,
ঝড়ের মতো চলতে হবে,
তবেই বেরবে খুশির চাঁদ ।
তাঁকে স্বাগত জানাবে সহস্র তারা ।
অন্ধকার ঘুচিয়ে এগোতে হবে জীবনে,
আলো জ্বালাতে হবে লক্ষ্যের দরজায়,
তবেই সফলতার দেবে ধরা ।
🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋
ওরা পাঁচ জন
ছোটগল্প
✍✍✍ আব্দুল রাহাজ

সৈকত, আহমেদ , ইশান, এবং বল্টু আর প্যালা এই পঞ্চপান্ডব খুবই ভালো বন্ধু মানুয়ের বিপদের দিনে সবসময় পাশে থাকে সবার প্রায় একই বয়স একই গ্ৰামে বসবাস করে  ওরা এবার সবাই গ্ৰাম পাঠশালা থেকে হাইস্কুলে ভর্তি হবে পড়াশোনায় ওরা মাঝারি মানের কিন্তু ওদের নীতিবোধ ছিল বেশ ভালো। একবার গ্ৰামে মাতলা নদীর বাঁধ ভেঙে জল ঢুকেছে খগেন ধরেন সরেন দের সব ভেসে যায় যায় ওই পঞ্চপান্ডব দল আর ঘরে বসে থাকতে পারেনি ওরা সাঁতারে খুব পটু এবং সাহস দেখার মতো ছিল এরপর ওদের দলের নেতা সৈকত বললো সবাই বিভিন্ন দিকে ভাগ হয়ে যাও । সৈকত বললো আমি একা নদীর দিকের মানুষের কাছে যাচ্ছি আর প্যালা আর আহমেদ বনের ধারে মানুষের কাছে যা আর বল্টু ইশান তোরা মাঠের দিকে মানুষের কাছে যা এই বার শোন  তোরা মানুষ গুলো কে নিয়ে স্কুল ঘরে নিয়ে আয়  আচ্ছা এখন জল কম আছে তাড়াতাড়ি করতে হবে সব ঠিক আছে হ্যাঁ হ্যাঁ ওরা গ্ৰামের মানুষকে স্কুলে আনলো ওরা ওতো ছোট বয়সে কাজ গুলো করলো গ্ৰামের প্রবীনদের কাছে ওরা পঞ্চমুখ  ওরা বললো এবার খাবার কী দিবি বল্টু বললো সৈকত বললো তাও তো ঠিক ওরা আবার বাইরে বেরোলো খাবারের সন্ধানে তখন জলের চাপ একটু কম আছে ওরা গ্ৰামের প্রত্যেকের বাড়ি ঢুকে প্রয়োজনীয় খাবার নিয়ে স্কুল বাড়ি ঢুকলো সবাই কে খাবার দিয়েও দশদিনের খাবার মজুত আছে আহমেদ হাঁক দিয়ে সৈকতকে বললো  বাবা বাঁচা গেলো রাতে পানি বাড়তে লাগলো ওরা সবাই বেশ আতঙ্কে এই ভাবে গোটা পাঁচ দিন কেটে গেল জল নামতে শুরু করলে রহিম চাচা আর ব্রাহ্মণ পঞ্চপান্ডব কে খুশির খবর দিল । এই বার আস্তে আস্তে স্বাভাবিক জীবনে ফিরলো ওরা গ্ৰামের মানুষের এই এতো বড়ো বিপদের দিনে পাশে দাঁড়ায় ওরা সত্যিই আপ্লুত হয়েছিল। এদিকে বন্যার কারণে গাছপালা কমে আসছে ওরা ঠিক করলো আমরা আবার নতুন করে সাজাবো গ্ৰাম ওরা পাঁচ জন সহ গ্ৰামের মানুষ কে নিয়ে শুরু হলো বৃক্ষরোপণ অনেক গাছ লাগানো হলো এরপর দিন যায় দিন আসে কয়েকটা বছর কেটে গেল চারিদিকে যেন সবুজ এর আভা এক মনোরম দৃশ্য ফুটে উঠলো যা দেখে ওরা আপ্লুত আনন্দিত । এই ভাবে গ্ৰামের মানুষ শান্তির আবহ সৃষ্টি করে মিলেমিশে গ্ৰামকে নতুন রূপ দিয়ে প্রকৃতির মাকে অন্য রূপে লাবন্যে ভরপুর করে বাঁচতে লাগলো । আর পঞ্চপান্ডব  গ্ৰামের সকলের কাছে মধ্যমনি হয়ে উঠলো।
🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋
কবিতা
ক্যাকটাস
  ✍✍✍ প্রদীপ কুমার দে

রৌদ্রতেজে পরিশ্রান্ত, মরুঝড়ে কলেবর ক্লান্ত,
উদকীয় তৃষ্ণায় ওষ্ঠাগত প্রাণ।
এহেন কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন
অসহায়, একাকী জীর্ণ ক্যাকটাস।
অতৃপ্ত প্রকৃতিস্নেহে ধৈর্যক্ষমা সহজাত,
নির্মম ক্ষত যত, সর্বাঙ্গে আচ্ছাদিত।
জীবন সংগ্রামে আজ সে
ধরিত্রীর মূর্ত প্রতীক।
জর্জর বক্ষে তার সঞ্চিত আঘাত,
মরুর অন্তরালে বাক্যহীন প্রতিবাদ।
কণ্টকে পর্যবসিত পত্রক আজ
শোষকের বিরুদ্ধে শানিত অস্ত্র।
🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋
বৃষ্টির দিনে 
   কবিতা
       ✍✍✍ অনাদি মুখার্জি


কোনো এক বৃষ্টি ভেজা দুপুরে,
    পথের ধারে থাকবো আমি
           শুধু তোর অপেক্ষায় !
   তুই আসবি পরি হয়ে ধরবি
    স্পর্শ করবি  আমার হাত !
  তোর সাথে হারিয়ে যেতে যায়,   
নগরের সমস্ত পথ হবে তোর আমার !
তোর যত মনের কথা বলবি আমার সঙ্গে,
ইচছে ডানা মেলে শুনবো আমি কান পেতে !
বৃষ্টির জল মেখে দেখবো তোর ঐ ভিজে ঠোঁট,
তখন আকাশের বিজলি চমকে উঠবে,
তখন ভয়ে তুই জড়িয়ে ধরিস আমায় ,
  তোকে বুকে জড়িয়ে ধরে  সারা জীবনের নেমে ক্লান্তি হবে দূর আমার!
🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋



©সেক আসাদ আহমেদ
   সম্পাদক, উপকণ্ঠ
তাং- 15/06/2020
গাংপুরা, পূর্ব মেদিনীপুর




Saturday, June 13, 2020

উপকণ্ঠ প্রাত্যহিক ওয়েব ম্যাগাজিন-14/06/2020



            "উপকণ্ঠ প্রাত্যহিক বিভাগ"
                 (ওয়েব ম্যাগাজিন) 
        প্রকাশ কাল:-14/06/2020, রবিবার
                    সময় :- সকাল 11 টা

সভাপতি:- অরুণ কুমার ঘড়াই
সহঃ সভাপতি:- সেক আব্দুল মজিদ

সম্পাদক এবং
প্রকাশক:- সেক আসাদ আহমেদ
যুগ্ম সহঃ সম্পাদক :-
                  ১) ইমরান খাঁন
                  ২) শেখ মণিরুল ইসলাম

সম্পাদকীয় দপ্তর ::-
গ্রাম:- গাংপুরা ডাকঘর:- সাগরেশ্বর
থানা:- রামনগর জেলা:- পূর্ব মেদিনীপুর
সূচক-৭২১৪৪৬ পশ্চিমবঙ্গ ভারত

মুঠোফোন:- 9593043577

🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷

উপকণ্ঠ সাহিত্য পত্রিকা ফেসবুক আইডি লিঙ্কে ক্লিক করুন আর যুক্ত হন আমাদের সাথে
 Click here

উপকণ্ঠ সাহিত্য পত্রিকা এর হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপতে যুক্ত হন লিঙ্কে ক্লিক করে
Click here
🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷
আজকে উপকণ্ঠ প্রাত্যহিক ওয়েব ম্যাগাজিনে যারা কলম ধরেছেন✒✒✒✒👇👇👇👇👇
ইংরেজি কবিতা:-
     • সিদ্ধার্থ সিংহ
প্রবন্ধ:-
     • রাজা দেবরায়  • জুয়েল রূহানী
ছোটোগল্প:-
      • আব্দুল  রাহাজ 
রম্য রচনা:-
      • কাশীনাথ সাহা
অনুগল্প:-
     • জহরলাল দাস
গ্রন্থ সমালোচনা:-
      • প্রশান্ত ভৌমিক
অনু কবিতা:-
       • সম্রাজ্ঞী কোনার
কবিতা:-
    • মণিকাঞ্চন সিংহ
    • গোবিন্দ কুমার সরকার
    • সোহিনী শবনম
    • রূপা বিশ্বাস
    • শংকর হালদার
    • প্রদীপ কুমার দে
    • চিরশ্রী কুন্ডু
    • উমর ফারুক
    • সৌমিত্র ভান্ডারী
    • রিঞ্জক
    • অগ্নিমিত্র ( ডঃ সায়ন ভট্টাচার্য) 
    • সেক আসাদ আহমেদ
    • রাজা দেবরায়
    

💉💉💉💉💉💉💉💉💉💉💉💉💉💉💉💉💉💉💉💉💉💉💉💉💉💉💉💉💉💉

English Poem

In the middle

✍✍✍ Siddhartha Singha
Let Babi be in the middle, and either you or  me on the wallside.
After all there are just those few bricks
at the foot of the bedstead,
and all the bricks have raised their heads
between you and me.

How long it's been I do not bring bakuls in my palm
and offer you to smell,
neither do I see you standing at the door as before
when l turn round the corner of the lane.

Let Babi be in the middle, you near the wall.
At least till we can settle Babi down with his brush and colours
and then quietly leave for the room next,
just you and me.

🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖
প্রবন্ধ
সেল্ফি মৃত্যু - পরোক্ষে কি আমরাও দায়ী ?
   ✍✍✍ রাজা দেবরায়
প্রথমেই সেল্ফি মৃত্যু সংক্রান্ত কিছু তথ্য দেখে নিই -

২০১৮ গ্লোবাল স্টাডি বলছে, ২০১১ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত বিশ্বে ১৩৭টি ঘটনায় সেল্ফি তুলতে গিয়ে ২৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের গড় বয়স ২২.৯৪ বছর । সেল্ফি সংক্রান্ত মৃত্যু ভারত, রাশিয়া, অ্যামেরিকা ও পাকিস্তানে তুলনামূলক অনেক বেশী ।

এছাড়াও ২০১৪ তে (তথাকথিত "ইয়ার অব দ্য সেল্ফি"র বছরে) ইউনাইটেড স্টেটস ডিপার্টমেন্ট অব ট্রান্সপোর্টেশন হিসেব করে দেখেছে যে যান চালানোর সময় সেল ফোন ব্যবহার করে ৩৩০০০ জন আহত হয়েছে । ২০১৫ সালের সার্ভেতে এরিই ইন্সুরেন্স গ্রুপ খুঁজে পেয়েছে ৪% ড্রাইভারদের যারা স্বীকার করেছে যে তারা যান চালানোর সময় সেল্ফি তুলেছে ।

২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট রিপোর্ট করেছে যে ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের অগাস্ট মাস অবধি ভারতে সেল্ফি তুলতে গিয়ে কমপক্ষে ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে যার মধ্যে ২০১৫ সালেই কমপক্ষে ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে ।

ইন্ডিয়ান মিনিস্ট্রি অব ট্যুরিজম রাজ্যগুলোকে নির্দেশ দিয়েছিলো "সেল্ফি ডেঞ্জার" এরিয়াগুলো আইডেন্টিফাই করার জন্য এবং ব্যারিকেড দেওয়ার জন্য যেটা সেল্ফি ডেথ আটকানোর জন্য প্রথম জাতীয় পদক্ষেপ ছিলো । একজন লোক সেল্ফি-টেকারকে বাঁচাতে ডুবে যাওয়ার পরে মুম্বাই পুলিশ কমপক্ষে ১৬টি "সেল্ফি ডেঞ্জার" জোন খুঁজে বের করেছিলো ।
তাছাড়া কুম্ভ মেলার উদ্যোক্তারাও কিছু জায়গাগুলোকে নো-সেল্ফি জোন হিসেবে চিহ্নিত করে দিয়েছিলো ।

কিন্তু এতকিছুর পরেও তো সেল্ফি মৃত্যু হয়েই চলেছে । এখন প্রশ্ন হচ্ছে এত ঝুঁকি (যে তুলছে তার কাছে হয়তো কোন কোন ক্ষেত্রে ঝুঁকি মনেই হয় না) নিয়ে সেল্ফি তুলছে কেন ? যে সেল্ফি মৃত্যুকেও হাতছানি দেয় বা দিচ্ছে তাকে বরণ করতেও পিছপা হচ্ছেনা কেন ?

আমরা প্রায় সবাই জানি এর কারণটা । ঠিক ধরেছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করার জন্য । ভার্চুয়াল ফ্রেন্ডদের বাহবা কুড়নোর জন্য । প্রচুর প্রচুর বা প্রচুরস লাইক, কমেন্ট শেয়ার পাবার জন্য । একটু হটকে সেল্ফি দিয়ে নিজেকে 'হিরো' দেখানোর জন্য, তাতে 'একটু ঝুঁকি' নিলে আপত্তি কিসের ! সাধের প্রাণটা যে চলে যেতে পারে সেই চিন্তাই তখন কাজ করে না ।

আসলে সেল্ফি ডেথ আটকানো একা সরকারের পক্ষে সম্ভব নয় । আমরা যারা নিজেদের শিক্ষিত, শুভচিন্তক, সচেতন নাগরিক মনে করি, আমাদের এগিয়ে আসতে হবে । এখন প্রশ্ন হচ্ছে কিভাবে আমরা এগিয়ে আসবো ? আমরা এগিয়ে আসবো এই ঝুঁকিপূর্ন সেল্ফি সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করে নিজেকে 'হিরো' জাহির করার উদ্দেশ্যটাকে ব্যাহত করে । কিভাবে ? কিভাবে বলার আগে একটু অন্য কথায় যাই ।

ইদানীং দেখছি খুব বেশী নাচার বা বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি করার ভিডিও বেশ জনপ্রিয় হচ্ছে এবং এর ফলে দিনদিন তা বেড়েই যাচ্ছে । আসলে অল্পকিছু করে বা কাজের কিছু না করেও এই "সস্তার জনপ্রিয়তা" বিশেষত যুব সমাজকে বিপথগামী করছে বা বোকা করে রাখছে । কোন চিন্তা-ভাবনার প্রয়োজন হচ্ছে না, বিশেষ কাজও করতে হচ্ছে না, এমনিতেই "জনপ্রিয়তা" লাভ করার এই মানসিকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে খুবই পরিকল্পিতভাবে, যা খুবই দুঃখজনক । আমাদের এর থেকে বেরনো উচিত এক্ষুণি । এইগুলো লাইক, কমেন্ট, শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে আমাদের । সদ্য যুবদেরও বোঝাতে হবে, না হলে আসল কাজের মানুষ কমে যাবে দ্রুত ।

ঠিক এইভাবেই ঝুঁকিপূর্ন সেল্ফিগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় ছাড়া হয় । তারা যেহেতু কাজের কাজ কিছু করতে পারে না, কোন ভালো কিছু পোস্ট করতে পারে না, তাই সস্তার জনপ্রিয়তা পেতে এইগুলো পোস্ট করে । আমাদের দায়িত্ব থাকবে এই ঝুঁকিপূর্ন সেল্ফিগুলো লাইক, কমেন্ট, শেয়ার না করে তাদের নিরুৎসাহ প্রদান করা ।

আরেকটি ব্যাপারেও আমাদের সচেতন হয়ে এগিয়ে আসতে হবে, সেটা হলো ভালো পোস্টগুলোকে উৎসাহিত করা । সোশ্যাল মিডিয়ায় শুধুমাত্র ভালো পোস্টগুলোকে উৎসাহিত করলেই 'আজেবাজে' পোস্টগুলো একটা সময় পরে কমে যাবে বা প্রায় বন্ধ হয়ে যাবে ।

সোশ্যাল মিডিয়ায় মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপারই বেশী মাত্রায় দেখা যায় । কেউ হয়তো একটা ছবি পোস্ট করলো । দেখা গেল ৮০০ লাইক পড়েছে । খুশিতে একটা ভালো কিছু পোস্ট করলো । এবার হয়তো দেখলো ১০টি লাইক পড়েছে । এবার তার মনে ক্রিয়া করতে শুরু করলো যে ভালো পোস্টে যেহেতু লাইক পাই না, তাই এগুলো আর দেবো না । তার মূল্যায়নে অবনতি দেখা দিলো । শুধুমাত্র লাইক পাওয়ার আশায় তার দৃষ্টিকোণে অস্বচ্ছতা, অস্পষ্টতা দেখা দিলো । এবং এই পুরো ব্যাপারটির জন্য পরোক্ষভাবে হলেও আমরাই দায়ী নই কি ?

পরিশেষে, সবার প্রতি অনুরোধ থাকবে সুন্দর ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে আগামীদিনে আমরা যেন সোশ্যাল মিডিয়ায় আরো সচেতন, আরো সতর্ক থাকার চেষ্টায় থাকি ।।
🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖

প্রবন্ধ

"বিবেক"
  ✍✍✍ জুয়েল রুহানী

মানব জীবনের সবচেয়ে বড় বিপর্যয় হলো বিবেকহীন হয়ে যাওয়া। জীবন চলার দুর্গম পথে শত বাঁধা-বিপত্তি উপেক্ষা করতে হয়, বিনিময়ে সফলতার দর্শন মিলে। আমরা যে কোন কর্ম সম্পাদনের শুরুতেই নানান চিন্তার উদ্রেক ঘটাই আমাদের মনোজগতে। কল্পনার জগতে পা বাড়াই, ভাবতে থাকি কী হতে পারে কর্মফল? ইতিবাচক-নেতিবাচক উভয় চিন্তাই ঘুরপাক খায় স্মৃতিপটে। যখন সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হতে না পারি, তখন হয়তো কর্ম সম্পাদন করে যাই অতৃপ্তির স্রোতে গা ভাসিয়ে। এ ক্ষেতে যে সমস্যার সৃষ্টি হয় তা থেকে পরিত্রানের কোন উপায় থাকে না! যার ফলশ্রুতিতে বয়ে যাওয়া জীবন নদীর একূল-ওকূল উভয়ই হারাতে হয়! আর তাইতো সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার জন্য প্রয়োজন বিবেকের কাছে প্রশ্ন করা।

একজন ব্যাক্তি সাধু সেজে যতই বলুক সে মিথ্যা বলেনি তথাপি এ কথা বলার পূর্বে অন্তত দশবার বিবেক নাড়া দিয়েছে যে, "তুমি মিথ্যা বলছো"? এহেন পরিস্থিতে যদি বিবেকের উদয়ে সদয় হয়ে একবারও সাড়া দেয়া যেত তবে সফলতার মুখয়বয়ব দেখা যেত নিঃসন্দেহে বিবেকের ডাকে সাড়া দিয়ে যদি একবার চলা যায়, তবে জীবনের বাকীটা পথ সহজ-সরলই হয়। কেননা বিবেকের কাছে প্রশ্ন না করে যদি জীবনের পথে পা বাড়ানো যায় তবে সাড়া জীবন ঐ ভূলের মাশুল দেয়ার জন্য অপেক্ষার প্রহর গুনতে হয়!

আমি কে? এ প্রশ্নের উত্তর আমিই জানি। অন্য কেউ নয়। জীবনে যতটা পথ পাড়ি দিয়েছি ততটা সময়ই সঙ্গ দিতে হয়েছে নিজেকে। তাই আমিই আমাকে চিনি। আমি ভালো কাজের ডাকে সাড়া দিয়েছি? না কি মন্দের দিকে ঝাঁপিয়ে পরেছি? ন্যায়সঙ্গত কথা বলেছি? না কি অন্যায়ের সঙ্গে মিলিয়ে দিয়েছি নিজেকে? সে তো আমিই জানি। উদাত্ত কন্ঠে সত্য বাণী ছড়িয়ে দিয়েছি? না কি মিথ্যার গ্লানি ভোগ করেছি? সে কথা কে জানে? আমি নিজেই। আমি যদি সমাজের মানুষের কাছে উচ্চস্বরে বলি আমি অন্যায় করিনি, অন্যায়ের পথে পা বাড়াইনি, সে ক্ষেত্রে বিবেকই স্বাক্ষী থাকবে স্বীয় কৃতকর্মের। আমি যদি আমাকে না চিনি তবে অন্যের কাছে নিজেকে চেনার কোন উপায় নেই। অন্যের কাছে সুখী থাকলেও কখনও কখনও গুমড়ে উঠবে বুকের ভিতর অসহনীয় যন্ত্রনা। সে কথাই বা কে জানে আমি ব্যতিত? কেউ কি বলবে সে কথা? নিঃসন্দেহে না।

জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই আমাদের প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয় পরীক্ষা স্বরূপ। তবে কি আমাদের উচিৎ নয়? ভাবনার উদয়ে সদয় হয়ে কঠিন পরিক্ষায় অংশগ্রহন করা? তবেই তো সফলতা নিশ্চিত। তাই কর্ম সম্পাদনের পূর্বে বিবেকের কাছে প্রশ্ন করে আত্মবিশ্বাসের সাথে দ্বিধাহীনচিত্ত্বে কর্ম সম্পন্নের নিমিত্তে কর্ম শুরু কর, তবে কর্মের সুমিষ্ট ফল ভোগ করতে পারবে। কর্ম সম্পাদনের পূর্বে বিভিন্ন জনের বিভিন্ন মতামত পরিলক্ষিত হতে পারে সেদিকে ভ্রুক্ষেপ না করে আশ্রয় গ্রহন করতে হবে বিবেকের নীড়ে। তবেই সন্দেহের অবকাশ থাকবে না এতটুকু।

আমরা যদি আমাদের বিবেককে জাগ্রত করি, বিবেকের কাছে প্রশ্ন করি, জীবন চলার পথের সঠিক দিক নির্দেশনা খুঁজি বিবেকের কাছে, তবে জুলুমের যাঁতাকলে পিষ্টতার হাত থেকে মুক্তি মিলবে, যুক্তি প্রদর্শনের কোন উপায় থাকবে না বিবেকহীনার ন্যায়। আর তাই যদি বিবেক যে কোন প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারে তবে কি উচিৎ বলে গণ্য হবে না বিবেকের দ্বারে দ্বারে ঘুরে আশ্রয় প্রার্থনা করা?
🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖

ভুবনদের গ্ৰাম 
ছোট গল্প)
✍✍✍ আব্দুল রাহাজ

ভুবন ছেলেটির বয়স দশ একটু মাঝারি লম্বা গায়ের রং ফর্সা গোলগাল চেহারা চুলটা কোঁকড়ানো বেশ দুরন্ত তার বন্ধুরা ডাকে মন্টু বলে। ভুবন যে গ্ৰামে বসবাস করে সেই গ্ৰামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ছিল অপূর্ব সবাই দেখতে যেত বিকাল বেলায় । ভুবন দের গ্ৰামটা চারিদিক থেকে ঘিরে রেখেছে গাছপালা নদী আর মাঠ ভরা ফসলে আবদ্ধ মনে হয় প্রকৃতির মাঝে আরেক সোনার বাংলা। ভুবন এর বন্ধু টিঙ্কু ওদের বাড়ি থেকে বেশ কিছু দুরে ওদের স্কুল ওরা প্রতিদিন স্কুলে যায় একসাথে খুব আনন্দে দিন কাটে ওদের । গ্ৰামটির মানুষ গুলো খুবই সরল সাদাসিধে পারস্পারিক মেলবন্ধনে বৈচিত্র্যময় পরিবেশে বসবাস করে। কিন্তু ওরা খুবই প্রান্তিক দুবেলা দুমুঠো ভাতের আশায় কঠোর পরিশ্রম করে মাঠে যা উৎপাদিত হয় তা দিয়ে সংসার চালান আর আছে প্রকৃতি মা খুব ভালো ওদের সাহায্য করে এইভাবে দিন চলে যায় ভুবন রিঙ্কু সহ গ্ৰামের প্রতিটি মানুষের । গ্ৰাম এই অপরূপ সৌন্দর্য শোভা উপভোগ করতে অনেক দুরের মানুষের ভিড় জমতো। শীতকালে আসত পরিযায়ী পাখি এক অনন্য পরিবেশ সৃষ্টি করতো ওরা । একদিন গ্ৰামের মোড়ল হারু চাচা এক সন্ধ্যায় গ্ৰামের মানুষের তাদের বাড়িতে ডাকলেন বললেন তোমরা এই প্রান্তিক মানুষ থেকে বড়ো হতে পারবে আদ্যনাথ বললো কীভাবে আরে বাছা বলছি বলছি তোমরা সবাই কাজকর্মে ব্যস্ত থাকো তোমরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সম্পর্কে কী বুঝবে আরে বাইরের লোক আমাদের গ্ৰামের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসে তাদেরও তো একটু খাওয়া দাওয়ার ঘুমের প্রয়োজন হয় তাদের ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখার প্রয়োজন হয় হয় কিনা তো তোমরা সবাই তাদের এই কাজ গুলো করলে ওদের কাছ থেকে অর্থ পাবে তোমাদের আর্থিক স্বচ্ছল হবে গ্ৰামের নাম চারিদিকে ছড়িয়ে পড়বে তোমরা দুবেলা দুমুঠো ভাত ভালো ভাবে খেতে পারবে এরপর সবাই বললো তাহলে আমরা কাল থেকে করি ঠিক আছে কর্তা বললো রাত হয়েছে কাল সবাই কাজে লেগে পড়ো তারপর দেখ কীরকম উন্নতি হয় এই বলে মোড়লের ধন্য ধন্য করতে চলে এলো। আসার পথে ভুবনের বাবা ও রিঙ্কুর বাবা বললো আমরা দুজনে কাজটা একসাথে করি আমরা দুজন দোকান সামলাবো আর রিঙ্কু আর ভুবন আগত মানুষের ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখাবেন তাই হোক।
কাক ভোর থেকে কাজ শুরু হলো গ্ৰামের প্রত্যেকে এই কাজ শুরু করলো এক অন্য পরিবেশ নিয়ে ভুবন দের গ্ৰাম সেজে উঠলো । আস্তে আস্তে প্রকৃতি মা তার অপরূপ সৌন্দর্য আরও মেলে ধরলো মানুষ তা উপভোগ করতে লাগলো এদিকে গ্ৰামের মানুষের ঘরে ঘরে খুশির হিমেল হাওয়া বইছিল ভাতের গন্ধে সারা গ্ৰাম ভরপুর হয়ে ছিল এবার ওরা ঠিকমতো খেতে পাচ্ছিল। গ্ৰামের সকলের আর্থিক স্বচ্ছল তা আসলো ভুবন দের গ্ৰামের নাম চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লো বেশ সুখে শান্তিতে বসবাস করছিল ওরা। সূর্যের উজ্জ্বল নক্ষত্রের প্রতীক হিসেবে বিশ্ব মায়ের কোলে এই গ্ৰাম অবাধ বিচরণ করছিল যা প্রকৃতি মা রূপে লাবন্যে ফুটে ওঠে এক অনন্য পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল।
ভুবন দের গ্ৰাম এক প্রকৃতির মনোরম সৌন্দর্যের লীলাভূমি হয়ে উঠেছিল যা গ্ৰামের প্রতিটি মানুষের কাছে শান্তির আবহ তৈরি হয়েছিল। উপভোগ করতো সবাই তবুও গ্ৰাম যেন এক অনন্য হিসেবে সবার মনে বিরাজ করতো।
🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖

রম্যরচনা

বউ
  ✍✍✍ কাশীনাথ সাহা

এই বিষয়টি নিয়ে কিছু বলবার আগে অনেক ভেবেচিন্তে পা ফেলতে হচ্ছে। আপনারা বুদ্ধিজীবী জনগণ, নিশ্চয় বুঝিয়ে বলতে হবে না, আমার এই অতি সতর্কতার কারণটা কি! আসলে আমরা পুরুষেরা যতো বড়ো বীরপুরুষই হই না কেন বউয়ের চেয়ে বীরাঙ্গনা কেউ নই। আমাদের বাহান্ন বা ছাপ্পান্ন ইঞ্চি যে মাপেরই ছাতি থাকুক না কেন সব ঢিলে হয়ে যায় বউয়ের সামনে দাঁড়ালে। তাই একটু বাড়তি সতর্কতা। শত্রুর তো অভাব নেই। কে কখন গিন্নীর কানে চুপিচুপি ফুসমন্তর ঢেলে দেবে। তখন আমি কাশীনাথ থেকে মুহূর্তেই অনাথ।
বউ কি? বউ মানে Wife. Wife হলো - without information fight everyone.
 তাহলে বিবাহ কি? Marriage is a agreement of permanent disagreement.
একই ছাদের তলায় দু'জন আজীবন বক্সিং লড়ে যাব।দুজনেই ঝগড়া চালিয়ে যাব, তবুও বিবাহ করে বউ নিয়ে আনতে হয়। না আনলে চরিত্রের বারোটা বেজে যাবে। প্রতিবেশীরাই আপনার চরিত্রের বারোটা বাজিয়ে দেবে!
আমি যতোই কর্তা সেজে মাতব্বরি করি না কেন, গিন্নিই আসলি চীজ। তু চীজ বড়ি হ্যায় মস্ত মস্ত... তু চীজ বড়ি হ্যায় মস্ত...
আমি যদি মাথা হই বউ হলো ঘাড়। আমার নামেই উপরে অবস্থান। বউ মানে ঘাড় মাথার নিচে থাকলেও ঘাড় যেদিকে ঘোরাবে মাথা সেদিকেই ঘুরবে! সংসারে ওরাই প্রবল পরাক্রমশালী।
ছেলেবেলায় মাথায় কারও দুটা টিকি থাকলে বলতাম তাঁর ভাগ্যে দুটো বিয়ে আছে। তবে এখন এতোদিন সংসার ধর্ম পালন করে হাড়ে হাড়ে বুঝতে পারছি, বিয়ে করলে দুটো বিয়েই করা উচিত। একটা বউ থাকলে সবসময়ই স্বামীর সাথেই ঝগড়া করবে, কিন্তু দুটো বউ থাকলে দুই সতীনের ঝগড়ার মাঝখান থেকে আপনি বেঁচে যাবেন। যুক্তিটা সংবিধান বিরোধী হলেও ভাবতে পারেন!
এক বিজ্ঞানী মহাকাশ নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করতে করতে ভাবলেন নারী নিয়ে একটু গবেষণা করা দরকার। নারী নিয়ে গবেষণা করতে হলে নারী চাই। সেজন্য একটা বিয়েও করে ফেললেন। পরে তাঁর সমস্যা হলো বিয়ের পরে তিনি বিজ্ঞানটা কি সেটাই বেমালুম ভুলে গেছেন।
অনেক পুরুষ মানুষ আছেন যাঁরা খুব বেশী বয়সে বিয়ে করেন।সেই এরকমই একজন ধনী ব্যক্তি প্রায় বিরাশি বছর বয়সে একটি খুবই কম বয়সী মেয়েকে বিয়ে করলেন। যথারীতি বিয়ে ভাল ভাবেই হলো। অতিথি সেবাও দারুন জম্পেশ করে হলো। অবশেষে ফুলশয্যা। কিন্তু সমস্যা হলো ওই বয়সে বৃদ্ধ মানুষটি আর কিছুতেই মনে করতে পারছেন না ফুলশয্যায় কি করতে হয়। আর মেয়েটি এতোই নাবালিকা যে সে জানেই না এই রাতে কি করতে হয়। তাই বলি যদি বিয়ে করতেই হয় সময়ে করুন। দুঃসময়ে নয়!
একটা কথা প্রায়ই ভাবি। মনে মনে ভাবি। সামান্যতমও প্রকাশ করি না। আচ্ছা ভাবুন তো,কৃষ্ণ রাধার জন্য কদমতলায় বাঁশি বাজিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকতো। শাজাহান বিবির জন্য তাজমহল বানিয়ে ছিল। রাজা মহারাজা,জমিদারেরা বউয়ের জন্য কতো স্মৃতিসৌধ বানিয়েছেন। ইতিহাসে তার ভুরি ভুরি প্রমাণ আছে। কিন্তু স্বামীর জন্য কোন বউ কিছু বানিয়েছে আজ পর্যন্ত শুনিনি। বানিয়েছে, সেটা এঁচোড়ের তরকারি নয়তো ভালবেসে বড়জোর মুড়িঘণ্ট। এজন্য সাবধানবাণী করে যাচ্ছি। যদি নিজের স্মৃতিতে কিছু বানাতে হয় নিজেই তৈরী করে যাবেন বউয়ের ভরসায় থাকবেন না।
স্বামী স্ত্রী র বিবাহ বিচ্ছেদ মামলার রায় বের হলো। বিচারক রায় দিলেন, স্ত্রী র ভরণপোষণের জন্য স্বামীর বেতনের অর্ধেক স্ত্রী কে দিয়ে দিতে হবে। স্বামী বেজায় খুশি। খুশিতে পাড়াপ্রতিবেশিকে মিষ্টি বিতরণ করতে লাগলো। এক প্রতিবেশী আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞেস করলেন কি ব্যাপার দাদা এতো ফূর্তি কিসের? মাস ফুরোলে বেতনের অর্ধেক তো দিয়ে দিতে হবে। স্বামী হাসতে হাসতে বললো,ওটাই তো খুশির কারণ ভায়া। আগে তো বেতনের পুরো টাকাটাই বউয়ের হাতে তুলে দিতে হতো৷ তাহলে বুঝুন লাভটা কার হলো!
বউকে নিয়ে কাপড় দোকানে নিশ্চয়ই গেছেন! আমিও গেছি । পকেট ভর্তি টাকা নিয়ে বউকে নিয়ে গেছলাম পুজোর মার্কেটিং করতে। প্রথম প্রথম বিয়ে বুকে কলকল করছে আনন্দ। সন্ধ্যা ছটায় দোকানে ঢুকেছিলাম। ঝাড়াইবাছাই করে বউ কেনাকাটা করে যখন বের হলো তখন রাত সাড়ে নটা। দশ হাজার ফিনিস। বউ ঘরে এনে সব কিছু খাটে ঢেলে দিল। আমি বড় আশা করে ছিলাম আমার জামা প্যান্টও নিশ্চিত ওখানে আছে। কিচ্ছু নেই । শুধু একটা লুঙ্গি আমার জন্য বরাদ্দ। ভারতবর্ষের মানচিত্রের নিচে শ্রীলঙ্কার অবস্থানের মতো আমার দৈনদশা। এ পর্যন্ত তবুও ঠিক ছিল । পরদিন ভোরবেলা তখনও ঘুম ভাঙেনি। মিসেস বললো, এ্যাই এই শাড়ির রঙগুলো কেমন যেন ওল্ড, প্রিন্টটাও সেকেলে এগুলো আজ পাল্টে অন্য শাড়ি নেব। তুমি সাথে যাবে।
বউকে ধার দিন ঠিক আছে কিন্তু ভুল করেও বউয়ের কাছে টাকা ধার নিবেন না। নিয়েছেন তো গাড্ডায় পড়েছেন। আমি চার বছর আগে বউয়ের কাছে দুহাজার টাকা ধার নিয়ে চারবার শোধ করেছি। কিন্তু বউ এখনও আমার কাছে আড়াই হাজার টাকা পায়। কোন ধারাপাতের কোন অংক সেটা আজও সমঝে উঠতে পারলাম না!
বউ নিয়ে আমরা স্বামীরা যতো আদিখ্যেতা দেখাই না কেন, আমরা কিন্তু কম শয়তান নই। সবসময়ই আমাদের নিজের বউয়ের চাইতে পরের বউকেই বেশী সুন্দরী মনে হয়। এই তো সেদিন সন্ধ্যার সময় বাড়ি ফিরছি, দেখি আমার বাড়ির সামনে এক অপরূপ সুন্দরী মহিলা দাঁড়িয়ে আছে। ঠিক যেন মাধুরী দিক্ষীত। আহা কোন সৌভাগ্যবানের বউ কে জানে! ভগবান কেন যে সব সুন্দরী মহিলাকেই পরের বউ করে দেয় কে জানে। ঈশ্বরের এ বহুৎ পক্ষপাতিত্বের ব্যাপার। মহিলার দিকে অনেকক্ষণ তাকিয়ে থাকতে থাকতে জিজ্ঞেস করলাম, দিদিভাই আপনি কি কাউকে খুঁজছেন? মহিলা তীব্র কটাক্ষ করে বললো, আ মরণ নিজের বউকে দিদিভাই বলছো কেন! মাথা খারাপ হয়নি তো? বুঝলাম বাউন্ডারি মারতে গিয়ে হিট উইকেট করে ফেলেছি। গিন্নি পার্লার থেকে মাঞ্জা দিয়ে এসেছে। তাই চেনা চেনা লাগলেও চিনতে পারছিলাম না।
ভুলটা বুঝতে পেরে ঢোঁক গিললাম, নাগো একটু রসিকতা করছিলাম।
সংসার সুখের হয় রমণীর গুনে। তবে পরের লাইনটা সর্বদা স্মরণে রাখবেন। স্বামী যদি নতমস্তকে বউয়ের কথা শুনে। এই দ্বিতীয় লাইনটার থেকে বেলাইনে হেঁটেছেন তো সংসার দাবানল!
বউদের নিয়ে এসব বলছি বলে ভাববেন না আমি বউ বিরোধী। আমি মশায় ছা পোষা গৃহপালিত স্বামী। বউ ছাড়া দুদিনও চলে না। এই তো সেদিন বউ বাপের বাড়িতে গেল। ভাবলাম এবার আমি মুক্ত পুরুষ। পনেরই অগাস্টের স্বাধীনতা দিবসের মতো বেশ একটি ফুরফুরে ভাব এসে গেল মনে। গলা ছেড়ে গান ধরলাম, আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে..... ।পরের লাইনগুলো আর মনে নেই। তাই ওই এক লাইনই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে চললো ঘন্টা খানিক । কিন্তু ওই দুদিন। তারপরই বউয়ের বিরোহে মন ডানা ঝাপটাতে লাগলো । নিজের বউয়ের সাথে ঝগড়া করবার জন্য বউকে বাড়ী ফিরিয়ে এনে তবে শান্তি।
🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖

অনুগল্প:---
       রোগমুক্তি
✍✍✍ জহরলাল দাস

বেশ ক'দিন ধরেই শায়ন বিছানায় শয্যাশায়ী। কি এক অজানা রোগে যেন কোমাচ্ছন্ন অবস্থা! ঠিক মতো খাওয়া দাওয়াও করে না। কোন কিছুতেই যেন তার রুচি নেই।
মা বাবা কিছুই বুঝে উঠতে পারে না। বার বার ডাকা সত্ত্বেও তেমন সাড়া দেয় না। উপুর হয়ে ঘুমিয়ে ম্রিয়মান সুরে শুধু বলছে --"মাথা ব্যথা।ভাল লাগছে না।"
ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে চাইলেও যাচ্ছে না। অগ্যতা বাবা ডাক্তারের কাছে গিয়ে ছেলের রোগের বর্ননা দিয়ে কিছু ঔষুধ নিয়ে এসেছে। কিন্তু ঔষধে কোন পরিবর্তনই লক্ষ করছে না শায়নের বাবা বিশ্বনাথবাবু।
গতকাল বিকেলে সারাদিন ঝিরঝির বৃষ্টি। ঘনকালো মেঘে ঢাকা আকাশ।দিনেই যেন সন্ধ্যার আঁধার ঘনিয়ে এসেছে। চরাচর শুনশান। মিঠেল বৃষ্টির হিমেল আবহে ঘরবন্দি মানুষ যেন সুখনিদ্রায় নিমগ্ন। ঘড়িতে তখন বিকেল ৪টা। শায়ন পূবদিকের তার আলাদা ঘরটায় বিছানায় পরে আছে । পশ্চিমদিকের ঘরটায় শায়নের বাবা মা ও এই কর্মহীন রিমঝিম অলস বৃষ্টিভেজা দিনে বিশ্রামের ঘুমে আচ্ছন্ন। প্রকৃতিতে যেন বিরহের আবহ। শায়ন যেন এই বিরহের সাগরে কোমাচ্ছন্ন। এই বৃষ্টিভেজা নিঃশব্দ চরাচরে ফোল্ডিং ছাতাটি ভেঙে ধীরে ধীরে অত্যন্ত সন্তর্পণে শায়নের ঘরের ভেজানো দরজাটা ফাঁক করে কৃষ্ণবিরহিনী রাধিকার মত মৌমিতা প্রবেশ করল শায়রের ঘরে। মৌমিতা শায়রের স্কুল সহপাঠিনী ভাললাগা বান্ধবী থেকে ভালবাসার সম্পর্কে জড়ানো জুটি। বৰ্তমানে অভিমান-অনুরাগে জড়ানো এক অভিন্ন আত্মা। বিগত সপ্তাহ খানেক মান-অভিমানের গুপ্ত চোরাস্রোতে শায়র ভেসেছিল।
ঘরে ঢুকেই মৌমিতা হালকা বেডকভারে ঢেকে উপুর হয়ে শোওয়া শায়রের গায়ে এক দুষ্টমির চিমটি কাটতেই শায়ন হকচকিয়ে ঘুম থেকে লাফিয়ে উঠল। চোখে তখন তার বিস্ময় আর হাসির রোল। দু'জনের তখন শুধু হাসির রোল। মহুর্তে শায়নের এক সপ্তাহ কালের অজানা জটিল রোগের পরিসমাপ্তি ঘটল। ততক্ষনে আকাশে ঘনঘোর মেঘ কেটে বিদায়ী সূর্য়ের সোনালী হাসিতে চারিদিক আলোকিত হয়ে উঠল।
🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖
বই সমালোচনা
‘বাজান’ ডাক শোনার আকুতি...
     ✍✍✍ প্রশান্ত ভৌমিক

বইঃ বাজান (উপন্যাস) 
লেখকঃ ইকবাল খন্দকার।
প্রকাশনা:- বর্ষাদুপুর।

নাম শুনেই মনে হয়েছিল এক অসহায় বাবার কাহিনী নিয়ে বই। কিন্তু কিছুদূর যাওয়ার পর ভুল ভাঙল। বের হয়ে এল এমন এক বাবা যে বাবা হয়েও বাবা ডাক শুনতে পায়না। যে স্ত্রীকে ভালবাসলেও, সেই ভালবাসাও সময়ে সময়ে বদলে যায়। নিজের সন্তান প্রতিবন্ধী হওয়ার দোষ যে অনায়াসে চাপিয়ে দেয় স্ত্রীর উপর। আবার স্ত্রী যখন বলে ঘর থেকে তাড়িয়ে না দিতে, তখন সে জানায় কখনোই এরকম কিছু হবে না।
বন্ধুর প্ররোচনায় স্ত্রীকে সন্দেহ, নির্যাতন কিছুই বাদ রাখে না সে। কিন্তু এক সময় স্ত্রীর মুখ থেকে প্রকৃত সত্য জানতে পেরে প্রতিবাদী হয়ে সম্পর্ক ছিন্ন করে বন্ধুর সাথে।

লেখক ইকবাল খন্দকার খেলেছেন এই উপন্যাসের চরিত্রগুলো নিয়ে, খেলেছেন সংলাপ নিয়ে। সাধারণত পাঠ প্রতিক্রিয়ায় লেখা হয়- লেখক নিপুণ হাতে গড়েছেন চরিত্রগুলোকে। এই উপন্যাসের ক্ষেত্রে শুধু এই কথা লেখাই যথেষ্ঠ নয়। বরং বলা চলে, লেখক আপন মনে যেন একটু একটু করে গড়ে তুলেছেন ‘বাজান’ নামের উপন্যাসটি।
উপন্যাসে ভাষার ব্যবহার বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয়। সংলাপে আঞ্চলিক ভাষার যথার্থ ব্যবহার প্রশংশনীয়। স্বল্প সংখ্যক চরিত্রে যেন উপন্যাসটি পরিপূর্ণতা পেয়েছে। সুফিয়া সাধারণ এক গৃহবধু, স্বাভাবিকভাবেই মাতৃস্নেহে যার হৃদয় পরিপূর্ণ। তারা মিয়া আপাত কঠিন এক নিষ্ঠুর লোক, যার মত মানসিকতার লোক অন্তত বাংলাদেশে বিরল নয়। তাদের সন্তান প্রতিবন্ধী আলী হোসেন। দুলাল তারা মিয়ার বন্ধু হলেও পাশবিক লোভও তার মধ্যে কম নয়। সেই পথে ব্যর্থ হয়ে সে বেছে নেয় এমন এক প্রতিহিংসার পথ, যাতে করে নষ্ট হয়ে যায় সবক’টি জীবন। কবিরাজের চরিত্র কাহিনীর প্রয়োজনেই এসেছে। আরো কয়েকটি ছোট খাটো চরিত্র থাকলেও চাচীর চরিত্রটি ঠিক যেন যাত্রার বিবেকের মত। কাহিনীতে যখন যখন প্রয়োজন ছিল তখন তখন এসে যাত্রার বিবেকের মত হাজির হয়েছেন চাচী। কাহিনীর মোড় ঘুরানোর কাজটিও করেছেন তিনিই।
উপন্যাসের শেষটা সত্যিই আমাদের অনেক কিছু শিখিয়ে যায়। জীবনের একটি ভুল সিদ্ধান্ত যে কত বড় হয়ে উঠতে পারে তার সার্থক প্রয়োগ দেখা যায়। কিন্তু শেষ দিকটা যেন আরেকটু বিশদ ব্যাখ্যার দাবি রাখে। কি হল, না হল একটা দ্বিধা থেকে যায়। কিন্তু আধুনিক সাহিত্য এমনই। ঠিক যেন নির্দিষ্ট পথে চলে না।
আমার মতে, নিঃসন্দেহে উপন্যাসটি ঔপন্যাসিকের অন্যতম সেরা কাজ। সব দিক মিলিয়ে একটি পরিপূর্ণ আখ্যান বলা যায়।
🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖

অনু কবিতা:-
লকডাউন
         ✍✍✍ সম্রাজ্ঞী কোনার
উনুন জ্বলছে না, তবু পেট জ্বলছে!
চোপ রাও , দেশে লকডাউন চলছে।

🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖

দিব্যদৃষ্টি 
✍✍✍ মণিকাঞ্চন সিংহ

কবর পচনে জ্যান্ত মড়া
গামছা ভিজায় বুকে ,
কলম ধরে আজকে দ্যাখো
ইতিহাস কেমন আঁকে ।

মহুয়া করেছে মাতাল কেমন
দৃষ্টি ও মরীচিকা ,
আদিবাসীর ছাই মাড়িয়ে
দাঁড়িয়ে সাবেক অট্টালিকা।

শহুরে আজ পথের বাতি
লাগামছাড়া তেজ
ল্যাংটো দেহের পিচ গলিয়ে
যাচ্ছে মোহন শেঠ ।

🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖

আত্মজা
✍✍✍ গোবিন্দ কুমার সরকার

জীবনের সবকিছু নিংড়ে পেয়েছি তোমায়,
 তোমা হতে পরম পুরস্কার আর কিছু নেই,
ন'মাসের লালন পালন কেমনে শোধাবে?
যা শোধ করতে পারবেনা শত জনমেও।

সেতো বংশ পরম্পরায় হয়ে আসছে,
মাও তাই করেছে?
চিন্তা করোনা ,
তুমিও তাই করবে,যেমনটা আমরা করেছি।


সতত সন্তান পালনে লালনে ,
হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসায় ,
আজ তুমি পূর্ণ অবয়বে,
ফেলে রেখোনা বৃদ্ধাশ্রমে বিষয় বৈভবে।

কোনো স্বর্গ নেই যেথা অলীক সুখ আছে,
সাক্ষাৎ স্বর্গ করি তাচ্ছিল্য অবহেলে,
অলীক স্বর্গ ধুলায় লুটিবে,
যেথা পিতামাতা অনাদরে চলেগেলে।
🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖
আয়না
✍✍✍ সোহিনী শবনম

আমি আয়না হতে চাই,
সকলের সমতল দর্পন।
ব্যবহার আমার মিষ্ট,
তা হয়তো বা কখনো তিক্ত।
ক্ষনিকের জন্য বড্ড স্পষ্ট,
আবার কখনো ভ্যাপসা।
মুছে নিলে ভালো মতো,
দেখা যাবে স্পষ্ট অবিরত।

যেমন তুমি করবে ব্যবহার,
পাবে ঠিক তার সমান প্রতি-ব্যবহার।
আলো পড়লে দর্পণে,
তার পরিচয় মেলে আদর্শ প্রতিফলনে।।
🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖
তবু আশা থামেনা
✍✍✍ রুপা বিশ্বাস

ঘন ঘন গর্জিছে মেঘ,
সাথে সাথে বর্ষিছে বৃষ্টি,
ক্ষনিকের বন্ধুর মত তাহাতে সঙ্গ দিয়াছে সৌদামিনী।

জানিনা !কখন থামিবে
এই দুর্যোগপূর্ণ সময়----
তাই নিশ্চুপ চাতকীর মত দিন গুনিয়া যাই!

মনে ভাবি কখন উদিত হইবে
নতুন দিগন্তের রবি,
ঝলমল করিবে রৌদ্র
হাসিয়া খেলিয়া গাহিয়া বেড়াইবে পক্ষী।

কিন্তু পরক্ষণেই নিস্তব্ধ রাত্রের মত সব শেষ হইয়া যায়!
ঘোর অন্ধকার নামিয়া আসে!
একফালি চাঁদের আশায় --
তবু আশা থামেনা।।
🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖
জিঞ্জাসা
✍✍✍ শংকর হালদার

ওরা চলেছে ওদের মতো
ধর্ম পায়ে করে,
গায়ের চামড়া অতি সাধারণ
নানা বেশ ধরে ।

দেবতা এখন পাষাণ বেদি
বদ্ধ ঘরের মায়া,
ভক্ত যত নিভৃতে কাঁদে
পিছে অকাল ছায়া ।

আজ ভগবান মৌন মূখ
নীরব দর্শক মাত্র ,
সমাজ জুড়ে ঈর্ষা প্রনয়
বর্জ্য হানো সর্বত্র ।

মন্দির মসজিদ গির্জা ভাঙে
ধরণী পদতল ,
তব নামে কলঙ্ক হবে
ভক্তের চোখে জল ।

আজ মনুষ্যত্ব হারিয়ে ফেলেছে
কালের অমোঘ টানে ,
তুমি বিনা তারা অসহায়
যারা তোমারি মানে।

বন্ধ্যা সমাজ অন্ধ ভক্তিতে পলে পলে ভয় ,
পৃথিবী জুড়ে শোকার্ত ছায়া
ধর্মের অবক্ষয় ।

ধর্মে গ্লানি ভরে গেছে
সোচ্চার হবে কবে,
তব সম্মুখে সৃষ্টির লয়
তাতে কি চক্ষু জুড়াবে ?

মানবতা আজ অরন্যে রোদন
মন্দির মসজিদে তালা,
ভক্তের কেমন ভগবান তুমি
জবাব দেওয়ার পালা ।

🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖

কবিতার নাম - প্রেমী
✍✍✍ প্রদীপ কুমার দে

সুন্দর প্রিয়া-
তব আঁখিদ্বয় মোরে
         করেছে প্রেমী,
তুমি নাইবা জানিলে
        জানে অন্তর্যামী।

তব হাস্যঝলক সখী
        মোর শুন্য মনে,
অনুরাগের স্নিগ্ধ ছোঁয়া
        দিয়ে যায় গোপনে।

লজ্জামাখা ওষ্ঠে তব
       পুবের রক্তিমাভা,
নয়নমেলে দেখি তাই
       শোভন রূপের শোভা।

তব স্পর্শে মোর তনু
         শিহরিয়া যায়,
প্রেমের ডালি সাজিয়ে
         তোমার অপেক্ষায়।
🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖
       লুকোচুরি
          ✍✍✍ চিরশ্রী কুণ্ডু (অবন্তিকা)


 জল টুপটুপ পায়ে ভেসে গেছে শান্তির সুর
হাজারো আশা জমে রয়েছে চেনা শহরের বুকে,

চেনা অচেনা গলির মাঝে লুকিয়ে আছে ঘর
অঝোর ধারায় বইছে দেখো মেঘ বৃষ্টির দল ,

কান্না সুরের ছন্দে অন্তর মম তুমি হে আমার
উদারতার ভিড়ে মেঘ জমেছে ক্লান্তির বেসুর ভাব ,

কণ্ঠ ভেজা দুই নয়নে ভাব প্রকাশের মনের কোণে
উকি দিয়েছে হাজার তারা রাত বিরাতের আধার মাঝে,

সীমাহীন এক শহরে অচেনা সাজে নানান রকম বেশে
আঁকিবুকি কেটে যায় কিছু হিসেব নিকেষের হাত ধরে ।।
🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖

ভেতর থেকে
✍✍✍ উমর ফারুক

তুমি জানো বন্ধু,,
একবার মনে করি গ্রীষ্ম
একবার হিমালয়!
চৈত্রের পেঁজা তুলো
তোমার চোখের আড়ালে
বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
রৌদ্রদগ্ধ এই চোখ
মরুভূমির রুগ্ন চেহারা দেখে
সিন্ধুর পরিবার উদ্বিগ্ন।
অন্তরে পরিখা খাদ,
এর ভেতর থেকে তুমি
একজন নিত্যযাত্রী।।
🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖

মৃত্যুভয়
✍✍✍ সৌমিত্র ভান্ডারী

প্রতিকূলতা বেড়ে যাচ্ছে,
বাড়ছে খুব জনসংখ্যা
একভাগ স্থলের পৃথিবীতে
হটাৎ মরার আশঙ্খা।
দিন দিন সব বাড়ছে
মৃত্যুভয় কাটছে না
বাঁচার মুখ দেখতে গিয়ে
নতুন উপদ্রব কমছে না।
চারিদিকে শুধু মৃত্যু মিছিল
সব থমকে যাচ্ছে
মানুষই আজ হিংস্র হয়ে
সবাইকে গিলে খাচ্ছে।

🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖

লখিন্দর
         ✍✍✍ রিঞ্জক

মাতৃজঠরে সেঁধানোর প্রতিযোগিতা
আপাত এসকেপ না কোয়ারেন্টাইন
ঘরে ফেরার মিছিল
পেটে গামছা
প্রাণের দায়ে
তৃতীয় মহারণের পদাতিক ।

পঞ্চাশের সেই স্মৃতি। পদাতিকের মিছিল
গ্রাম থেকে শহরের পথে
ভাত-বিলাসিতা, একটু ফ্যানের হাহাকার
শকুনের পৌষমাস।

ছেচল্লিশ-সাতচল্লিশে কিংবা একাত্তর
আত্মরক্ষার পদাতিক মিছিল
বারংবার সিন্ধুর পথে
গন্তব্যে পৌঁছতে পেরেছিল কি সবাই ?

বিশের বিষে জর্জরিত
মধ্যযুগীয় লখিন্দরদের সর্পিল দংশন
ঔরঙ্গাবাদ আর সাতালি পর্বত
কালনাগিনীরূপী বাষ্পশকট
মিলেমিশে একাকার
বেহুলা কলার মান্দাসে গিয়েছিল ভেসে
বিশের বেহুলারা আটকে লকডাউনে
অমঙ্গলের সাইরেন হেঁকে যায়
পথ খোঁজে
ভাগ্যবিধাতার বৈকুণ্ঠধামের।
🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖

কবিতা

সুন্দর
 - অগ্নিমিত্র ( ডঃ সায়ন ভট্টাচার্য)

সুন্দর তুমি সুন্দর হে, সুন্দর কথা বলে
চাতক এ মন আমার তুমি নিয়ে গেলে চলে।
তোমার সাথে দেখা হয় নি কয়েক যুগ হলো..
স্বপ্নে তবু রোজই দেখি, স্মৃতিতে কথা বোলো ।
ছিল না মিল কোনো আমাদের মাঝে;
দুটি হৃদয় কেমন ভাবে তবু এসেছিল কাছে !
বন্ধুত্ব বজায় থাকুক, হোক না যত বেলা,
তোমার কথা ভাবলে যেন দেখি রঙের মেলা ।।
🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖


আঁটে ফন্দি
✍✍✍ সেক আসাদ আহমেদ

রিক্তবেশে সিক্ততার হাতছানি
শুনশান শ্মশান
                       স্বার্থের অবসান
ভক্তি শেষে, মরদেহ নিয়ে টানাটানি ।

উপার্জন সত্য বা মিথ্যার আজও বাক্সে বন্দী
কী নিয়ে গেলি?
               সব ফেলে নগ্ন এলি
আপনজন, মাংস খুবলে খাবে শেষ টুকু - আঁটে ফন্দি।

🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖

বিশ্ব রক্তদাতা দিবস !
✍✍✍ রাজা দেবরায়
রক্তদান মহৎ দান
শুনতে ভালো লাগে
রক্তদান কি আসলেই দান ?
মনে প্রশ্ন জাগে
শরীরের রক্ত নির্দিষ্ট সময়ের পর
হয়ে যায় নষ্ট
তবে নতুন রক্তের সৃষ্টি হয়
থাকেনা আর কষ্ট
তবে রক্ত'দান' ভালো কাজ
মেটায় মানুষের প্রয়োজন
১৮ থেকে ৬০ সুস্থ সবাই দিতে পারে
তবে ৪৫ (বা ৫০) কেজি হওয়া চাই ওজন
রক্তের কোনো বিকল্প নেই
তাই রক্ত দেওয়া চাই
রক্তের কোনো জাত, ধর্ম হয়না
রক্ত যে সব্বার 'ভাই' !
🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖🏖

© সেক আসাদ আহমেদ
 সম্পাদক, উপকণ্ঠ
14/06/2020
গাংপুরা, পূর্ব মেদিনীপুর