Friday, May 8, 2020

উপকণ্ঠ সাহিত্য পত্রিকা

                   উপকণ্ঠ 
         ...একটি সম্পূর্ণ গ্রামীণ সাহিত্য পত্রিকা। 
                   

সম্পাদকীয় দপ্তর ::-
গ্রাম:- গাংপুরা ডাকঘর:- সাগরেশ্বর
থানা:- রামনগর জেলা:- পূর্ব মেদিনীপুর
সূচক- ৭২১৪৪৬   পশ্চিমবঙ্গ ভারত


।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।
উপকণ্ঠ প্রাত্যহিক বিভাগ 

পরিণতি 
    - অগ্নিমিত্র 
   
         

আমার ঘরে এখন জমা 
স্বপন- ভাঙা বেদন..
তুমি এলেও আর কি হবে
আমাদের সেই মিলন ?
মেঘের পরে মেঘ জমেছে 
আকাশের মুখ ভার..
ভাবনায় তুমি এক রকম 
বাস্তবে কেউ আর !!



ছড়া

হাজার রকম পাখি
              সেক সরজু
       

 হাজার রকম পাখি 
            করছে ডাকা ডাকি, 
দোয়েল কোয়েল শ্যামা 
             গায়ে নতুন জামা। 
ময়না হবে বর 
           সাজায়  বাড়ি ঘর 
কাকাতুয়া আর শালিক
           বিয়ে বাড়ির মালিক  ।।

০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০


অনুগল্প

টেলিফোনে প্রপোজ
শুভঙ্কর রায়

হ্যালো মৌমিতা! আমি অনি বলছি। আমি ফোন করছি বলে অবাক হচ্ছ তাইনা? সেদিন তোমাকে যে কথা বলবো বলেছিলাম, বারবার সামনে গিয়ে বলতে পারিনি সে কথা।কিন্তু সরস্বতী পূজার দিন কসম করে গিয়েছিলাম যে তোমাকে মূল কথাটা বলবই। যে মুহূর্তে কথাটা তোমার সামনে তুলে ধরবো ঠিক সেই মুহুর্তে তোমার দাদা এসে বাড়ি নিয়ে গেলো তোমাকে। বলা হলো না আমার সে কথা। কথাটা মাথার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। যতদিন বলতে না পারব ততদিন আমার মনে শান্তি নেই, রাতে ঘুম নেই, আহার নেই। কাজকর্ম, চিন্তাভাবনা সমস্ত কিছুই আজ তিলে তিলে শেষ হতে যাচ্ছে। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি আজ রাতেই তোমাকে বলে ফেলি সে কথাটা। নিশ্চয়ই তুমি অবাক হচ্ছে তাইনা? কি বলবো 'তা' ভেবে। এতদিন আমি কষ্ট করেছি, জ্বালা-যন্ত্রণা পেয়েছি। আমি নিঃশেষ হয়ে গেছি তোমার কথা ভেবে। আজ তোমাকে ও সঙ্গী করতে চাই 'আমি তোমাকে ভালোবাসি'এই কথা বলে।
অনির এই কথা শেষ হতেই ফোনের অপরপ্রান্ত থেকে ভেসে এলো পুরুষ কন্ঠ -''মৌমিতা বাড়ি নেই।"


ছোট গল্প
ও পাড়ার মৃৎশিল্পী
      
          আব্দুল রাহাজ



একটা গ্রাম পাশে বয়ে চলেছে বিদ্যাধরী নদী সে আপন বেগে চিরদিন দিগন্তের পথে প্রকৃতির সাথে তাল মিলিয়ে বয়ে চলেছে আর গ্রামটি সময়ের তালে তালে পতিত রয়েছে বছরের পর বছর। গ্রামটির নাম ছিল কমলাপুর খুবই বড় ছিল। গ্রামটিতে দুটি পাড়া ছিল একটা উত্তরপাড়া আর একটা দক্ষিণপাড়া। পুরো গ্রামটি গাছপালায় আবৃত সবুজের ঘনঘটায় পরিপূর্ণ আর বেশিরভাগ মানুষ সরল আমোদপ্রমোদ পারস্পারিক মেলবন্ধন ছিল দেখার মতো। দক্ষিণ পাড়ায় একটি লোক ছিল নামটি তাহার জগমোহন বাবু। দেখতে ছিল কালো রংয়ের মাঝারি লম্বা দেহটা ছিল ছিপছিপে খুবই সরল আর সত্যবাদী বিপদের দিনে মানুষের পাশে দাঁড়াতো। এলাকায় একজন মৃৎশিল্পী খুবই নামডাক ছিলো। গ্রামের প্রবীণদের কাছে শোনা যায় যে তাদের এই মৃৎশিল্প পূর্বপুরুষ থেকে শুরু হয়েছে আর তার ধারা এখনো বয়ে চলেছে। জগমোহন বাবুর বাড়িটি ছিল বিদ্যাধরী নদীর তীরে ফলে মাটির হাঁড়ি কলসি অন্যান্য জিনিস করতে যে প্রধান উপাদান কাদা লাগতো তা অফুরন্ত মজুত ছিল তাতে কোন অসুবিধা হতো না। ফলে জগমোহন বাবু মাটির হাঁড়ি কলসি অন্যান্য জিনিস খুবই সুন্দর ভাবে তৈরি করতে পারতেন। যখন বাবু ও তাঁর স্ত্রী সুজাতা দুজনে মিলে তৈরি করতেন মাটির জিনিসপত্র অসাধারণ নকশা ও তাদের হাতের কাজ দেখলে সকলের মন ভরে যেত। যখন বাবুর স্ত্রী সুজাতা খুবই বড় ভালো মানুষ ছিলেন হাতের কাজ অত্যন্ত সুদক্ষ। তাদের সংসার চলত এই কাজ করে কিন্তু তাদের একটা আকাঙ্ক্ষা ছিল যে তাদের কোন সন্তান নেই এই নিয়ে তারা খুবই চিন্তিত তারা মনে করতো আমরা না হয় একদিন এই পৃথিবীতে থাকবো না তারপরেই পূর্বপুরুষের কাজ আমার হাতের করা এই সুন্দর সুন্দর জিনিস বিলীন হয়ে যাবে এইসব কথা মনে করলেই জগমোহন বাবুর চোখে গোড়ায় জল চলে এসতো। তবে যাই হোক যতদিন  এই বিশ্ব মায়ের কোলে বাঁচবে ততদিন জগমোহন বাবু তৈরি করবেন বিভিন্ন মাটির জিনিস তার সাথে তার স্ত্রী সুজাতার তৈরি নকশার প্রলেপ থাকবে সেইসব হাতে করা জিনিসের উপরে। যা বাংলার সংস্কৃতি সভ্যতার কাছে একটা  বড় পাওনা হয়ে থাকবে। প্রতিদিন পাশের গ্রাম জাফরপুর এ হাট-বাজার বসতো প্রত্যেকদিন বিকাল বেলায় তাদের হাতে গড়া নকশা মিশ্রিত মাটির জিনিস নিয়ে সেই জাফর পুরের বাজারে রওনা দিতেন আর বাজার আর শেষে যাহা জীবিকা উপার্জন করতেন তাদের হাট বাজার করে আনতেন। তাদের জিনিসের চাহিদা ছিল প্রচুর আর মানুষ কিন্তু চুটিয়ে। বেচাকেনা নামডাক যবন বাবুর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে আসে পাশের গ্রামে। প্রতিদিন বাজার বসতে বলে জগমোহন বাবু ও তাঁর স্ত্রী সবসময় ব্যস্ত থাকতো তাদের কাজ নি য়ে। একবার স্কুলের কোন অনুষ্ঠানের জন্য হাসান কে দায়িত্ব দেওয়া হলো মাটির ফুলদানি কিনে আনতে হাসান বাড়ি এসে জগমোহন বাবুর বাড়ি গেল ডাকতে লাগলো কাকু কাকু বাড়িতে আছেন ভিতর থেকে জগমোহন বাবুর স্ত্রী হাঁক দিয়ে বললেন কে হাসান বললো আমিও পাড়ার রহিম চাচার ছেলে ও আচ্ছা দাঁড়াও যাচ্ছি জগমোহন বাবুর মিস্ত্রি সুজাতা বাচ্চা ছেলে মেয়েদের খুব ভালোবাসতেন বাইরে এসে বললাম একটা সুন্দর ফুলদানি লাগবে তো হাসানকে ঘরে ডেকে নিয়ে গেলেন হাসানের চোখ তো বড় বড় হয়ে গেল এত সুন্দর তারপর  কাকিমা বলে সম্বোধন করে কুড়ি টাকা দামের ঝাঁ-চকচকে ফুলদানি কিনে বাড়িতে এসে পরের দিন স্কুলে নিয়ে গিয়েছিলাম ফুলদানি দেখে সবাই  অবাক হলেন আর তারিফ করলেন হাসানকে। একদিন পড়ন্ত বিকেলে শোনা যাচ্ছে জগমোহন বাবু  ও তার স্ত্রী সুজাতা কোন একটা প্রদর্শনীতে যোগ দিচ্ছে।এই খবর শোনার পর গ্রামের লোক সবাই জগমোহন বাবুর বাড়ি গিয়ে অভিবাদন শুভেচ্ছা জানিয়ে এলেন। জগমোহন বাবু বেজায় খুশি এর পরের দিন সকাল বেলায় তাদের হাতে তৈরি সেরা জিনিস গুলো নিয়ে রওনা দিলেন শহর কলকাতায় এক প্রদর্শিত যাওয়ার পথে গ্রামের চার রাস্তার মোড়ে হাসানের সাথে ও তার বন্ধুদের সাথে দেখা জগমোহন বাবু বললেন হাসান চললাম প্রদর্শনীতে যাও তবে কবে ফিরবে একমাস পরে ও আচ্ছা ঠিক আছে তাহলে একমাস পরে দেখা হবে চাপা গলায় জগমোহন বাবু বললো তোর আমার বাড়ির দিকটা দেখিস তো আচ্ছা হবে। দেখতে দেখতে এক মাস কেটে গেল তারপর সন্ধ্যাবেলা বাড়িতে ফিরলো জগমোহন বাবু প্রদর্শনী খুব ভালোই হলো। একটা মোটা অংকের টাকা উপার্জন করে নিয়ে এলেন জগমোহন বাবু এরপর নিত্য দিনের মতো আবারো সুন্দর সুন্দর জিনিস তৈরি করতে লাগলেন হাঁটতে লাগলেন টাকা-পয়সা রোজগার করতেন ভালই। এইভাবে বছর ঘুরতে না ঘুরতেই জগমোহন বাবু একটা ফান্ড খুললেন যেখানে গরীব দুস্থ ছাত্রছাত্রীদের ও মানুষের জন্য অর্থ দান করতেন এদিকে আশেপাশের এলাকায় নাম হয়ে গেল মৃৎশিল্পী জগমোহন চাটুজ্জের। বড় দয়ালু প্রকৃতির ছিলেন আর তাদের মৃৎশিল্প যে বাহার নামডাক তা প্রতিনিয়ত বেড়েই  চলেছিল। জগমোহন বাবু প্রতি রবিবার স্থানীয় প্রাথমিক স্কুলে ছোট ছোট বাচ্চাদের বিস্কুট চকলেট দিতেন যা দেখে গ্রামের মানুষ অবাক হতেন আর ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা জগমোহন বাবুর খুবই ভালবাসতেন আর বলতেন চকলেট দাদু। এরপর আস্তে আস্তে জগমোহন বাবুর স্ত্রী ও সুজাতার বয়স হলো তবুও তাদের হাতের কাজ যে সৌন্দর্য তা এখনো চালিয়ে যেতে থাকেন আরে বাড়ি থেকে বেচাকেনা করতেন। তাদের হাতের কাজ সত্যিই ছিল অতুলনীয় আস্তে আস্তে বয়স বাড়ার কারণে কোথাও যেন বন্ধ হয়ে যেতে থাকলো জীবনের শেষ সায়াহ্ণে উপস্থিত হয়ে জগমোহন বাবু চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে কাঁদে আর বলে সব অতীত হয়ে যাবে আর কেউ বোধহয় এই গ্রামে আর কেউ এই কাজ করবে না। হঠাৎ একদিন প্রচন্ড ঝড় বৃষ্টি ও বজ্রপাত পরছে জগমোহন বাবু ও তাঁর স্ত্রী শুয়ে শুয়ে কথা বলতে বলতে দুজনেই একসাথে চিরঘুমের দেশে পাড়ি দিলেন। প্রকৃতির মায়ের কোলে যেন অন্ধকার ছায়া নেমে এসেছিল সেদিন আর কোথাও যেন মনে হচ্ছিল বাংলার শিল্প কোথাও যেন বড় ধাক্কা খেল। এইভাবে যখন বাবুর বাড়ি পড়ে রইলো কয়েকবছর পরিণত হচ্ছিল ধ্বংসস্তূপে একদিন সরকারি লোকেরা এসে জায়গাটিকে একটি সংরক্ষিত স্থান হিসেবে চিহ্নিত করে যান। গ্রামবাসীকে জানিয়ে দিলেন লিখে দিয়ে গেলেন মৃৎশিল্পী জগমোহন চাটুজ্জের বাড়ি। আস্তে আস্তে ধ্বংসস্তূপে তলানীতে যাচ্ছিল সূর্যের উজ্জ্বল আলোর শিখার প্রদ্যুতের মত যে দুটি মানুষ উপহার দিত সুন্দর সুন্দর নকশা কৃত্রিম মাটির জিনিসের তারাই আজ নেই চলে গেছে অন্য জগতে আর তাদের চির বাসস্থান হচ্ছে ধ্বংসস্তূপে প্রকৃতি লীলাখেলায় বাতাসে হাওয়ায় পরিবেশ মৃৎশিল্পী জগমোহন বাবু ও তার স্ত্রী সুজাতা সকলের মনের অন্তরে। আর এই ভাবেই শেষ হয়েছিল মৃৎশিল্পী জগমোহন বাবু ও তার শিল্পকলার অবসান। বিলীন হয়ে গিয়েছিল সূর্যের আলোর সাথে আর এখন পড়ে আছে ইতিহাস আর ইতিহাস।



আব্দুল রাহাজ
বসিরহাট উত্তর, 24 পরগনা।




খোলাচিঠি

         সৌরভ আম্বলী


বহুদিন হলো তোকে দেখিনা
মন খারাপে আজও আসিস---
হয়ে জানালায় বাতাস দখিনা,
ক্লাইম্যাক্সের মাঝে দাঁড়িয়ে জীবন
বাস্তবে তোর হতে পারিনি
তুই আজ অন্যকারোর আপন।

বৃষ্টিতে যখন ভেজে মাটি
তোর ইয়াদ তাজা হয়
মনে পড়ে কাটানো সময়টি,

আরেকবার পারবি দেখা দিতে !
চিনিনা আজও আমার আমিকে
অগোছালো হলেও যত্নে রেখেছি ---
না দিতে পারা চিঠিগুলোকে।

গানের স্কুলের বাইরে দাঁড়াইনা
তোর সাদা চুড়িদারে আজও
আটকে আছে আমার রেটিনা,
জানি, সময়টা পাল্টেছে বেশ
কালো মাথায় একটা দুটো---
উঁকি দিচ্ছে সাদা কেশ ।

বিয়ে করেছিস নাকি অবিবাহিত !
জেদি মন আমার বড্ড
একই প্রশ্ন জিজ্ঞাসে অবিরত,
উদাস মনে তোকে স্পষ্ট দেখি
থাকতে না পেরে তাই ---
তোর নামে লিখলাম খোলাচিঠি ।
::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
মূর্খ কবি
                     
            শেখ মনিরুল ইসলাম


আমি মূর্খ কবি ভাই
এদিক ওদিক, চারিদিক
ছন্দ খুঁজে বেড়াই
ভাবছি বসে লিখব  ভারী
লিখতে গিয়ে ছন্দ হারাই।
মা বকে দেয়, লিখবি কী তুই ?
জানিস মূর্খ কবির আড়ি।
শুধু শুধুই ভাবিস যা তা
 লিখবি কী না  তুই কবিতা ?
যা রে তুই ছন্দহীনা
তোর সাথে আজ আড়ি !
মা বলে দেয় রেগে
আমি নাকি, মূর্খ কবির ধাড়ি  ।


কলম
                          শেখ মনিরুল ইসলাম
যত পড়ি
তত লেখি,
র্ব্যথ  হয়
হাতের কলম
দিন-রাত সারাক্ষন।

সময় গেলো কেটে
কলম এলো ক্ষেপে
ও ভাই, ও ভাই
      এবার
আমায় থামাও।

নাহি কেহ পর
চির সাথি তর
ভুলনা কেহ,আমায় তুমি।
____________________________________________________________________________________

জঙ্গল কাব্য
            শ্রী কৃষ্ণ দে

         




          ১)
শিশিরে হাত রেখে
ভাগ্য পরীক্ষায় নেমে পড়ে চাষী
গত কদিনের ঘামের দাম
কত হতে পারে
নুনের দাম,তেলের দাম, মশলার দামের
যোগফল
ঘামের দামের সমান হবে তো
ঘরের আগুনে বসে
চাল -আলুর হাড়ি
আঙ্গুল গুণে
চাষী ফিরে ভাঙ্গা সাইকেলে
ছেঁড়া গামছার সুতোয় জল ভরে
           ২)
মাংসের স্বাদ কেমন?
দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আসে সময়
কোদাল কোঁপানো আড়ের মাটি
গভীর ক্ষতে খুঁজে পায় ইঁদুরের পথ
জানে জানে....
ক্লান্ত পা দুটি জানে
ফসকা ধরা ডান হাত জানে
ঘাম ঝড়ানো ভাঙ্গা শরীর জানে
জিহ্বা চিনে তো শুধু রক্ত
নাক বুঝে মশলায় ডোবা শুধু গন্ধ
    ৩)
উইধরা ভেজা মাটি।শুয়ে আসে কঙ্কাল এক দেহ। চোখ বুজে।ছায়া পাশে বসে।
পাশে পড়ে শুকনো কয়েকটা কাঠ।মরে যাওয়া কয়লা ও পাশ।মুখ ভাঙ্গা উনুনের গায়ে বুড়িয়ে উঠা হাড়ি।
হাত ছাড়া বালতির বুকে লার্ভা ভরা জল।

অনেকদিন আগুন জ্বলেনি।
অনেকদিন ধোঁয়া উঠেনি।
অনেকদিন রান্না হয়নি।



::::::::::::::::::::::;;;;::::::::::::::::::::::::::::::::;;;;;;;;;;;::::::;;;:::::;
সেক আসাদ আহমেদ এর গুচ্ছ কবিতা 




সে আমার
               সেক আসাদ আহমেদ
সে আমার হৃদয়ের স্পন্দন
সে আমার প্রবাহমান রক্তের স্রোত,
সে আমার নিশীথের  স্বপন্
সে আমার আত্মার জাগ্রতমান ভক্তের শ্লোক।
সে আমার প্রাণের ব্যাকুলতা
সে আমার যৌবন জীবনের বসন্ত ;
সে আমার সমুদ্র মনের গভীরতা
সে আমার  সমুদ্র সৌন্দর্য অনন্ত ।
সে আমার চিরসঙ্গী পথের সাথী। 


¶¶¶¶¶¶¶¶¶¶¶¶¶¶¶¶¶¶¶¶¶¶¶¶¶¶¶¶¶¶¶¶¶¶¶¶¶¶¶
ঠোঁট কাটা 
        সেক আসাদ আহমেদ

এখন মানুষ শুধুই যৌনমুখী
স্বপ্ন বিলাসী উচ্চবিত্ত সুখী ;
তীক্ষ্ণ চোখে কচি জরায়ু সন্ধানী
নেই সংগ্রাম, নেই ক্রান্তিকাল
               পৃথিবী একদিন হবে লাল
                         ধর্ষিতার যৌন রক্তে...
দেশে দেশে আজ মহড়া জোর কদম
জরায়ু নিধন, স্বাদ গ্রহণ যঞ্জের আয়োজনে ;
দিনে দিনে বাড়ে যৌন শত্রুর হাত
নিজ মেয়েকেও চায় প্রয়োজনে
নেই প্রতিবাদ, মরুভূমি অকাল
                       পৃথিবী একদিন হবে লাল
                         ধর্ষিতার যৌন রক্তে...
                         :::::::::::::::

মানুষ কে প্রশ্ন ?
                  সেক আসাদ আহমেদ

কেন আজ অভিমানী বর্ষন?
                 কাজ বনানীর ধর্ষণ।
কেন আজ অসময়ে বজ্রপাত?
                কাজ প্রকৃতি কে আঘাত।
কেন আজ অসময়ে গলছে তুষার?
                   কাজ  উষ্ণতার প্রসার।
কেন আজ  সবুজের রং ফিকে?
                   কাজ  ওজোন নষ্ট ওপর দিকে।
কেন আজ বিপন্ন পশু-পাখি ?
                  কাজ  অরণ্যে ঘর ঢাকি।
কেন আজ বেড়েছে দূষণ?
                   কাজ ব্যাপক অক্সিজেন দহন।
কেন আজ ধ্বংসের দিকে বিশ্ব?
                     কারণ মানুষতো ধ্বংস শিষ্য।
                            -----------     


কবি দিব্যেন্দু চ্যাটার্জী-র   গুচ্ছ কবিতা








  ১। 
         এক পশলা বৃষ্টি
      ..... দিব্যেন্দু চ্যাটার্জী

সজনে ফুল বিছিয়ে রাখা রাস্তায়।
মধুর খোঁজে আসেনি কোন মৌমাছি।
তুমি আজ হয়ত আসবে......
তাই দুপুরে কয়েকবার কোকিল ডেকেছিল।
বাবুই কে বাসা বাঁধতে দেখে...
আমিও খেই হারাই,
আজ এক পশলা বৃষ্টি হতে পারত
হয়ত তুলে রাখা আছে হেমন্তের চাষিদের জন্য।


২। 

          শীত
........... দিব্যেন্দু চ্যাটার্জী



যখন তুই এলি হেমন্তের গোধুলি লগ্নে,
শীতের ব্যথায় অসাড় হয়নি পাঁজর।
ভেসে এসেছিল কিছু আবেগ...
যখন ছুঁয়ে ছিলি হাত দুটো,
তখন আঙুলগুলি নয়
কেঁপেছিল স্পর্শের শারদীয় বৈভব।
যখন পূর্ণিমা উদ্ভাসিত আলো...
জাগিয়েছিল তোর চন্দ্রমুখ,
সুখগুলো শুধু শিহরিত হয়েছিল।
যখন ফিরে গেলি সীমাহীন অবহেলায়,
তখন বুকে ছেয়ে গিয়েছিল
শীত কুয়াশার সংসার।



৩। 

        অপেক্ষা
...... দিব্যেন্দু চ্যাটার্জী


অপেক্ষারা আজ আসেনি,
গায়ে ওদের ভীষণ জ্বর।
শাড়ি ও কামিজে আরক্ত টিউলিপ
ত্রিস্রোতা পিয়ানোর তাপ বাড়ে।
প্রাচীন স্বপ্ন দৃশ্য থেকে মুছে যায় নিমগ্ন প্রতিবিম্ব,
তারপর......
রোদ্দুর হাতে
তামাটে শহরের বুকে লিখে রেখে যায় কেউ,
অনন্ত দুঃখ
আর অপেক্ষারা না আমি একই থাকি।


৪। 
শূন্য মনে...
....... দিব্যেন্দু চ্যাটার্জী



ছড়িয়ে রয়েছে ছেড়া ডায়রির পাতাগুলো ঘর ময়।
পাতাগুলোতে লেখা আছে আজও কিছু কথা,
আবছা কালিতে।
আবছা কালিতে আবার স্পষ্ট হয়েছে রাত জাগা।
রাতের আঁধারে ঝরে গেছে কত শিশির বিন্দু।
দুই চোখ জেগেছে তখন, তারাদের সাথে...
দিনলিপি জেগেছে ছেঁড়া পাতাকে আঁকড়ে ধরে।
আজ সব এলোমেলো...
ছেঁড়া পাতা আর কালি, সবই আবছা হয়েছে,
ঝরে গেছে শিশিরবিন্দু হয়ে।




৫। 
     সাদা-লাল
..... দিব্যেন্দু চ্যাটার্জী


কলেজের গেট থেকে বেরিয়ে
আড়চোখে দেখেছিলি আমায়।
আকাশে তখন মেঘের ঘনঘটা,
বৃষ্টি শুরু হল বলে।
আমি যে তোকে রোজ দেখি,
সেটা তুই জানতিস।
পরের দিন তোর ডিপার্টমেন্টে নবীনবরণ অনুষ্ঠান।
গুটি গুটি পায়ে মনে জোর এনেছিলাম,
আজ কিছু কথা বলব। না করে দিস।
তবুও মনে রখবি তুই, জীবন ভর।
গেটের মুখে সাবধানে বাক্য সাজিয়েছি,
আজ আমি তোকে সব বলবই......
হঠাৎ সামনে এসে চুল ঠিক করলি তুই,
নজরে এল তোর ফর্সা হাত।
উঁকি দিল, লাল-সাদা চুড়ি,
না দেখলে, আর কিছুদিন......!




:::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
 এস. এম ইসলাম রচিত গুচ্ছ কবিতা




(এক) 
পৃথিবীর স্বর্গে
                               শেখ মনিরুল ইসলাম

মাগো! 
তুমি আমার ভালোবাসা;
তোমার কাছে কত আশা? 
মাগো! 
আমার সুখের জীবন তুমি
জীবন-মরণ তোমার চরণভূমি
মাগো! 
তোমার মতো, 
এ জগতে হয় না কেউ
হয় না কারোর সাথে তুলনা। 
মাগো! 
তুমি আমার আশার প্রদীপ
ভাই মা কেউ ভুলিও না। 
মাগো! 
যখন আমি এতুটুকু, 
ছিলাম তোমার গর্ভে
এখন আমি তোমার কোলে
পৃথিবীর স্বর্গে। 



        (দুই) 
স্বপ্নের ধারা
                                 শেখ মনিরুল ইসলাম
জীবন! 
একটি আশা নিরাশার পান্ডুলিপি! 
সীমাহীন রাত্রির অসহ্য যন্ত্রনা___
জীবন! 
এক অমানবিক ভাবনার স্থল
অন্ধকারে আলো-আঁধারির সমুজ্জ্বোল। 
জীবন! 
এক সীমাহীন রাত্রির মাঝে___
খুঁজে আলোর উজ্জ্বলধারা, 
মেঘের আড়ালে আড়ালে..... 
জীবন! 
এক স্বপ্নময় দুনিয়া
তোমায় ছাড়া মাত্রহীন অশ্রুজল। 
জীবন! 
নির্জন রাত্রের স্বপ্নের ধারা
একটু আলো একটু আধাঁর.... 


     (তিন) 


     শুভ দৃষ্টি
                            শেখ মনিরুল ইসলাম
দেখেছি_____
বসন্তের সকালে
পাখি গুন-গুন
মৃদু-মন্দ বাতাস, 
প্রথম সোনালী ভোর
আর মুক্ত আকাশ
পৃথিবী নীরবতা। 
ঠিক যেনো, 
নতুন এক চেহারা___
নতুন এক ভাবনার সাথে
প্রথম শুভ দৃষ্টি। 


অসহায় গোলাপ
                             শেখ মনিরুল ইসলাম

জীবন ভালো বেসে ফেলল
এক ছোট্ট গোলাপ ফুলকে, 
কিন্তুু, এ ফুলে বহু মাছির দল
ফুলের মধু ও রস খেয়ে
গোলাপকে জ্বালাতন করে। 

 এ-এক অসহায় গোলাপ
ও প্রকৃতির শান্তি চায় ।

---—-------------—-------------------------------------------------------:::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
©উপকণ্ঠ সাহিত্য পত্রিকা
সম্পাদকঃ- সেক আসাদ আহমেদ
মুঠো ফোন📞:- 9593043577

3 comments:

  1. দিব্যেন্দু চ্যাটার্জী, কৃষ্ণ দে (৩) কবিতা ভালো লাগলো

    ReplyDelete
  2. This comment has been removed by the author.

    ReplyDelete