Monday, June 15, 2020

উপকণ্ঠ প্রাত্যহিক ওয়েব ম্যাগাজিন-15/06/2020


               "উপকণ্ঠ প্রাত্যহিক বিভাগ"
                 (ওয়েব ম্যাগাজিন)
        প্রকাশ কাল:-15/06/2020, সোমবার
                    সময় :- সকাল 11টা

সভাপতি:- অরুণ কুমার ঘড়াই
সহঃ সভাপতি:- সেক আব্দুল মজিদ

সম্পাদক এবং
প্রকাশক:- সেক আসাদ আহমেদ
যুগ্ম সহঃ সম্পাদক :-
                  ১) ইমরান খাঁন
                  ২) শেখ মণিরুল ইসলাম

সম্পাদকীয় দপ্তর ::-
গ্রাম:- গাংপুরা ডাকঘর:- সাগরেশ্বর
থানা:- রামনগর জেলা:- পূর্ব মেদিনীপুর
সূচক-৭২১৪৪৬ পশ্চিমবঙ্গ ভারত

মুঠোফোন:- 9593043577

🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷

উপকণ্ঠ সাহিত্য পত্রিকা ফেসবুক আইডি লিঙ্কে ক্লিক করুন আর যুক্ত হন আমাদের সাথে
 Click here

উপকণ্ঠ সাহিত্য পত্রিকা এর হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপতে যুক্ত হন লিঙ্কে ক্লিক করে
Click here

🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷

আজকে উপকণ্ঠ প্রাত্যহিক ওয়েব ম্যাগাজিনে যারা কলম ধরেছেন✒✒✒✒👇👇👇👇👇
ইংরেজি কবিতা:-
   • সিদ্ধার্থ সিংহ
প্রবন্ধ:-
    • রাজা দেবরায়
কবিতা:-
    •সোহিনী শবনম
    •সুমন্ত মাজি
    • বিশ্বজিৎ কর
    • মিঠুন রায়
    • সোহিনী মুখার্জী
    • টুম্পা মুখার্জী
    • কাশীনাথ সাহা
    • তীর্থঙ্কর সুমিত
    • প্রশান্ত মাইতি
    • জুয়েল রূহানী
    • কাঞ্চন সরকার
    • বাপ্পা দাস
ছোটোগল্প:-
         • আব্দুল রাহাজ
কবিতা:-
          • প্রদীপ কুমার দে
          • অনাদি মুখার্জী

🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋


The Saplings
     ✍✍✍ Siddhartha Singha

A gust of breeze would blow away the thatched roof
The room full of dust
Calendar flying against the wall
Film on the bucket of water
As rain drenched them all.
Rati huddled under the cot with her children
Gushing water Swept away the newly planted saplings
I used to look at the sky often
thinking, if only Rahoul Would grow up!
Not just Rahoul, all the children are grown up now
So big that they don't fit into this room
Each gone his own way, striking rooms.
Even now there is gusty wind, the sudden lash of a storm
We, the old couple, crouch on the bad in fear,
The roof stays intact, not even a straw flies away
Are Rahoul and the children standing guard round the house?
Opening the door we find the saplings turned into trees.
🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋
প্রবন্ধ
RIP
✍✍✍ রাজা দেবরায়

প্রথমেই বলে রাখি কেউ ব্যক্তিগতভাবে নেবেন না । কারণ কেউ মারা গেলে 'রিপ' কথাটা অধিকাংশ লোকই বলে থাকেন ।
RIP মানে Rest In Peace অর্থাৎ যিনি মারা গেলেন তিনি শান্তিতে বিশ্রাম করুন । এটা যারা 'রিপ' বলেন তারা তাদের GOD-এর কাছে মৃত ব্যক্তি কফিনে সর্বশান্তিতে শায়িত থাকুক প্রার্থনা করেন । আসলে মরে গেলে কফিনে তো শান্তিতেই থাকবেন । বেঁচে থাকলেই তো যত ঝামেলা, অশান্তি !
এই বিদেশী শব্দ 'রিপ' কথাটা কফিনে যারা শায়িত থাকেন সবসময়ের জন্য, তাদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য ।
এবার স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে তাহলে আমরা বলি কেনো ?
আসলে এই 'রিপ' কথাটা মূলত যারা বিশ্বাস করেন তারা 'আত্মা'কেই উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে বোঝায় । কেননা যতটুকু শুনেছি, বলা হয়ে থাকে যে 'আত্মা' অবিনশ্বর, অর্থাৎ 'আত্মা'র মৃত্যু নেই - অমর বা অক্ষয় । তাহলে তো 'আত্মা' বেরিয়ে গেলে নিথর শরীরের আর কী দাম ! এই 'আত্মা' আবার নাকি অন্য শরীরে প্রবেশ করে বা করবে কোনো এক সময় !
কিন্তু যতটুকু শুনেছি 'আত্মা' তো বিশ্রাম করে না, ছুটোছুটি করে অনবরত । নতুন এক শরীরের খোঁজে দিনরাত ঘোরাফেরা করে ।
তাহলে 'রিপ' কথাটা প্রকৃতই কাকে উদ্দেশ্য করে বলা হয় ? আর 'শান্তিতে বিশ্রাম'ইবা কোথায় করবে এবং কখন করবে ?
তাহলে কি আমাদের ভাবনায়, কথায় আর কাজে 'দ্বিচারিতা' (অথবা নতুন শব্দ সৃষ্টি করলে 'ত্রিচারিতা') আছে ??
🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋
স্বেচ্ছায় রক্তদান
     ✍✍✍ সোহিনী শবনম

  অ্যানিমিয়ায় যে ভোগে,
সে বোঝে রক্তের আসল মর্ম।
  তুমি তো রোজ বেদানা খাও,
দেহে রক্তের পরিমাণ যথার্থ।
কারো শরীরে রক্ত কম-
এ বিধাতার অন্যায় বিচার নয় কি?
রক্তের মাধ্যমে গঠিত হবে নতুন বন্ধন,
ভগবানের এক পবিত্র পরিকল্পনা বোধহয় এটি।
দৃষ্টির আড়ালে যুক্ত হবে;
পুণ্যের আর এক পয়েন্ট।
বাঁচবে আর একটি প্রাণ, তোমার রক্ত স্রোতে ভেসে,
কৃতজ্ঞতার হাসি মুখটি যোগাবে তোমার,
ঐশ্বরিক আনন্দ উপলব্ধির উপকরণ।
অভাব যদি থেকেই থাকে,
পূর্ণ করো তা দানে।
স্বেচ্ছায় করো রক্তদান,
জীবন ঢালো অন্যের প্রাণে।
🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋
লিখব না আর
          ✍✍✍  সুমন্ত মাজি

লিখব না আর কবিতা আমি
কী হবে লেখালেখি করে ?
দেখবেন, জোরের উপর পড়বেন আপনি বা আপনারা...
কী লিখব বলুনতো?
প্রকৃতির কথা? মানুষের কথা?
তাতে কী মুক্তি পাবে নগর সমাজের দুর্দশা...
কাদের জন্য লিখব?
চব্বিশ-পরগনার ওই বছর আঁশির বৃদ্ধের হয়ে? যে দুবেলা খাবার জোটাতে হিমশিম খেত, প্রবল ঝড় ভিটেবাড়ির নড়বড়ে ছাদটাও উড়িয়ে দিল।  নাকি ওই হতভাগা পিতার হয়ে যাদের খেতে হলে গুনতে হয় নগদ চল্লিশ টাকা তার ওই শিক্ষিত মুর্খ  শিক্ষক ছেলের কাছে কিংবা আশ্রয় নিতে হয় গাছের তলে বা রাস্তায় ধারে কোনো অন্ধকার ধ্বংসস্তূপে। কাদের জন্য লিখব ওই বিধ্বস্ত , বিপর্যস্ত থমকে যাওয়া জনমানবের হয়ে , তাতেও কী লাভ হবে কিছু , হুম হবে আপনার , আমার আবেগতাড়িত মন  সাহায্য,  সহযোগিতার , সহানুভূতির কথা বলবো দুদিন সাহায্য করে ' ফেসবুকে' ছবি প্রকাশ করব। তারপর? ....
পারবেন কী সর্বশান্ত হয়ে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা সেই মানুষগুলোর প্রয়োজনীয় আর্থিক বন্দোবস্তের ব্যবস্থা।
🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋
কবিতা
আমার দূর্গার কথা!
✍✍✍ বিশ্বজিৎ কর

ওরা বলছে ওকে বলো
এরা বলছে তা'কে বলো
আমার দূর্গার কথা কেউ শোনে না
ওরা বলছে হোটেলে চলো
এরা বলছে বাড়িতে এসো
আমার দূর্গার কান্না কেউ বোঝে না
ওরা সবে মিলে ভোগ করে
এরা যৌনক্ষুধা মিটিয়ে চলে
আমার দূর্গার ভিডিও ভাইরাল
ওরা সাত খুনে পেয়ে যায় পার
এরা বুক চিতিয়ে পগার পার
আমার দূর্গার নিরাপত্তা বেহাল
ওরা ব্যস্ত সমাজসেবায়
এরা ছুটছে জনসেবায়
আমার দূর্গা বাবুকে করে যত্ন
ওরা কাটে কত ফিতে
এরা নাকি জনহিতে
আমার দূর্গার চুরমার সব স্বপ্ন
ওরা দিনের আলোয় সব ভালো
এরা যেন জগতের আলো
আমার দূর্গার প্রসব ফুটপাতে
ওরা থাকছে দুধেভাতে
এরা মশগুল নেশাতে
আমার দূর্গার কদর গভীর রাতে
🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋
ওই রূপে
   ✍✍✍ মিঠুন রায়

তোমার হাত ধরে লক্ষ্যহীন পথে হেঁটে চলছি আমি,
গন্তব্যস্থল জানা নেই।
বিশ্বাসে ভর করে ঘর
ছেড়েছি,
তাই বলে নেই অনুশোচনা ।
ক্ষুধা ও চোখের ঘুম কোথাও গেছে চলে তোমার স্পর্শ পেয়ে,
অস্হি শূন্য শরীরে লিখে দিয়েছি তোমার নাম,
মেঘমালার দেশে ডুবন্ত সূর্যের  মধ্যে কল্পনা করি
তোমার  প্রেমময়ী রূপ।
🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋
শেষ দেখা
✍✍✍ সোহিনী মুখার্জী
হাঁটতে হাঁটতে চলতি পথে খানিক ক্লান্তি এলে
তবু চলতে হবে ক্লান্তি পায়ে ক্লেশ মুছে ফেলে,
শেষ দেখা হবে জানি তোমার কাছে যাবো
ক্রোশ মাইল হেঁটে গিয়ে তোমার দেখা পাবো,
পরিযায়ী বলছে লোকে,তবু মানুষ তুমি জানো,
অন্ন নেই বস্ত্র নেই নেই মোর কোনো ত্রাণ ও,
ভিন রাজ্য গড়তে গিয়ে লাশ হয়ে গেলাম
আমিও এবার জামাই ষষ্ঠী তে ফিরবো ভেবেছিলাম।।
🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋
আড়াল
✍✍✍ টুম্পা মুখার্জী

ভালোবাসা আর প্রতি রাতে জাগিয়ে
রাখে না তোমায়,
ঘুমের আবেশে, নাকি ছলনার
আশ্রয়ে পাশ ফিরে থাকো?
জেগে থাকার আদুরে স্বপ্নকে
নিকোটিনের ধোঁয়ায়
পরিণতি দিতে চাও,
জানো নাহলে বিরোধিতা আছড়ে
পরবে তোমার অজুহাতে।
অনভ‍্যস্ত হাতে তাই নিজেকে গোটাচ্ছি,
ঠিক যেন রিলে গোটানো সুতো--
যার প্রতি পাকে জমা এক একটা কাহিনী।
পাক ছাড়ালেই যা সুনামি হবে,
ডুবিয়ে দেবে সবকিছু।
তাই আড়ালের ঢাকনার তলায়
সব চাপা পড়ে থাক,চাপা পড়ে থাক
ভালোবাসাহীনতা,চাপা পড়ে থাক একাকীত্ব,
চাপা পড়ে থাক অপেক্ষা।
🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋
অবরুদ্ধ সময়ে পুরাতনকে ফিরে দেখা।
স্বাধীনতা
✍✍✍ কাশীনাথ সাহা

ও মেয়ে তোকে দিলাম আমি অবাধ স্বাধীনতা
চার দেওয়ালের মধ্যে তুই বলতে পারিস কথা।
গাইতে পারিস মন খুলে ইচ্ছে মতো সুরে
উঠোনে দিলাম বিধিনিষেধ, যাসনে বেশী দূরে।
মেঘলা বিকেল দিলাম তোকে, দিলাম নদীর জল
চোখের ভিতর সাজিয়ে রাখিস জীবনের সম্বল।
ছায়া দিলাম, কান্না দিলাম, দিলাম ফাগুন মাস
সঞ্জীবনী মন্ত্র দিলাম, থাকিস ক্রীতদাস।
গর্ভ দিলাম,পুত্র দিলাম,রাখিস না সংশয়
সন্তানটির স্বীকৃতি হোক পিতৃপরিচয়।
মেয়ে তোকে শরীর দিলাম, দিলাম শুদ্ধ মন
পুরুষ দৃষ্টিতে উপাচার অস্থায়ী যৌবন।
উদার আকাশ দিলাম তোকে, দিচ্ছি তবু বলে
ডানা যদি মেলতে চাস - পুড়বি গঙ্গাজলে!
🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋
বাস ছেড়ে দিলে
✍✍✍ তীর্থঙ্কর সুমিত

বাসটা দাঁড়িয়ে আছে স্টপেজে
চারিদিকে কত ভিড়
বাকি বাসগুলো এক এক করে ছেড়ে দিয়েছে তাদের গন্তব্যস্থল
এদিকে ওদিকে হাজারো গাড়ি হুস হুস করে ছুটে আসছে
সকলের ই তাড়া
এবার বাসটা ছাড়লো ...
ভিড়ে পা গলানোর জায়গা নেই
কত লোকে ধরতে পারলনা বাসটা
অথচ একটু আগেই
কত কথ্যালাপ
মনে হয় কত চেনা অচেনার ভিড়ে
কেউ হিসেব রাখেনা বাস ছেড়ে দিলে।
🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋
   চমকে  উঠি
        ✍✍✍ প্রশান্ত মাইতি

টিভির সামনে বসে গরম চায়ে
চুমুক দিতে দিতে খবর দেখি
পাশে বসে প্রীতিদীপ্ত
          
বন্ধ শহর,বন্ধ দেশ
কোলাহলহীন নিস্তব্ধ পাড়া
বখাটে ছেলেদের আড্ডাটাও থেমেছে
আজ বেশ কিছুদিন
             
সেই চিন,সেই স্পেন,আমেরিকা
লকডাউন, কোয়ারেন্টাইন আর সেই
আক্রান্ত মৃত্যুর নামাবলী
ভালোলাগেনা টিভির পর্দায় চোখ রাখতে
                
চোখ আতঙ্কে বন্ধ হয়ে আসে
হিম হয়ে যায় শরীর দেশের খবরে
               
চমকে উঠি,যখন পাশের বাড়ির কেউ...
🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋
কবিতা
স্বাধীনতা তুমি
✍✍✍ জুয়েল রূহানী

স্বাধীনতা তুমি-বাঙ্গালী জাতীর আত্ম-অহংকার
স্বাধীনতা তুমি-বাংলার বুকে ফিরে এসো বার বার।
স্বাধীনতা তুমি-সন্তান হারা মায়ের আহাজারি
স্বাধীনতা তুমি-বোনের পড়নে লাল টুক্ টুক্ শাড়ি।
স্বাধীনতা তুমি-বাংলা মায়ের দামাল ছেলের হাসি,
স্বাধীনতা তুমি-রাখাল ছেলের বাজানো বাশের বাঁশি।
স্বাধীনতা তুমি-বধুর চোঁখে স্বামী হারা কষ্ট-
স্বাধীনতা তুমি-শিশুর চোঁখে স্বপ্ন সু-স্পষ্ট!
স্বাধীনতা তুমি-মাঁয়ের আঁচলে রক্তের চিহ্ন,
স্বাধীনতা তুমি-বীর বাঙ্গালীর পরিচয় অ-ভিন্ন।
স্বাধীনতা তুমি-বীর বাঙ্গালীর তাজা রক্তের স্মৃতি,
স্বাধীনতা তুমি-বাঙ্গালী জাতীর স্বদেশ-প্রীতি!
স্বাধীনতা তুমি-লাখো মা-বোনের সম্ভ্রমহানী!
স্বাধীনতা তুমি-ত্যাগের ফসল সে তো আমি জানি।
স্বাধীনতা তুমি-দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠা দ্বীপ শিখা
স্বাধীনতা তুমি-এ দেশের বুকে স্বাধীন মন্ত্র লিখা।
স্বাধীনতা তুমি-বাঙ্গালী জাতীর মনে, সাহসের মূল মন্ত্র,
স্বাধীনতা তুমি-ঘায়েল করেছো শত্রুর ষড়যন্ত্র!
স্বাধীনতা তুমি-রক্তে ভেজা সোনালী ইতিহাস,
স্বাধীনতা তুমি-অসীম ত্যাগে দিয়েছো বাংলাদেশ।
🎋🇧🇩🎋🇧🇩🎋🇧🇩🎋🇧🇩🎋🇧🇩🎋🇧🇩🎋🇧🇩🎋🇧🇩🎋🇧🇩🎋🇧🇩🎋🇧🇩🎋🇧🇩🎋🇧🇩🎋🇧🇩🎋🇧🇩

বেকারের প্রেম-ভালোবাসা
        ✍✍✍কাঞ্চন সরকার

সপ্ত,
বল বন্ধু কেমন আছিস?জানি আছিস ভালো।
লকডাউনে দেখা-সাক্ষাৎ সব যে হারিয়ে গেলো॥
#দীপ,
কি আর করবো বল! থাকতে হবে যে ভালো।
সে নাহয়!দড়ি দিয়ে ভালোটা,বাঁধায় রইলো॥
#সপ্ত,
কি দিনকাল এলো ভাই!দীর্ঘ লকডাউন যে চলে।
আজকাল তোর খবর,অন্যের থেকে নিতে হচ্ছে॥
#দীপ,
আমার আবার খবর!সে তো নিরুদ্দেশের দেশে।
কি শুনেছিস বল ব্যাটা?নাহলে ক্যালানি আছে॥
#সপ্ত,
শুনলাম তোদের নাকি বিয়ে, লকডাউনের শেষে।
তাহলে সব চিন্তার শেষে,বন্ধু আসছে নতুন বেশে॥
#দীপ
বাদদে ওসব কথা,এসব স্বপ্ন,বাস্তব তো আর না।
এ জামাই ওদের ঠিকঠাক রুচিতে আর ধরছেনা॥
#সপ্ত,
মানে সব জেনে শুনেই তো!ওরা এগিয়ে ছিলো।
আজ হঠাৎ! কি এমন হলো? কি এমন হলো?
#দীপ,
আর বলিস নারে!ওদের পরিবারের অনেক কথা।
আছে অনেক সমস্যা,অনেক স্বপ্ন ও চাহিদা॥
#সপ্ত,
দেখ ভাই তোরা সমবয়সী, সময় একটু লাগবে।
বয়স যে তোর অনেক কম, ওদের বুঝতে হবে॥
#দীপ,
দেখ ভাই তুই ,ওরা কিন্তু এত কিছু বুঝবেনা।
মেয়েটা ওদের,ওরা কি!ওর ভালোটুকু খুঁজবেনা॥
#সপ্ত,
অবশ্যই অধিকার আছে, প্রতিষ্ঠিত ছেলে খুঁজবে।
কিন্তু বন্ধু বলতে পারিস! মন দুটো কোথায় যাবে?
#দীপ,
আমার হাতে কিছু নেই ভাই, সব ঈশ্বরের হাতে।
আমার দুর্দিনে! ওদের পরিবারও দুহাত তুলেছে॥
#সপ্ত,
বন্ধু তুমি শান্ত ও ধৈর্য ধরো, একদম ভেবো না।
তোরা ঠিক থাকলে,কেউ কিচ্ছু করতে পারবেনা॥
#দীপ,
আবার তোর জ্ঞান শুরু হলো।
প্রেমে পড়ার থেকে ভাই!ড্রেনে পড়া অনেক ভালো॥
#সপ্ত,
এটা এতদিন প্রেম করে? তবেই মাথায় ঢুকল।
তবে ওদের পরিবারের,একটু বোঝা উচিত ছিল॥
#দীপ,
এতসব কে বুঝাবে? ওরা এসব বোঝেনা।
ওদের এখনি সব চাই, অপেক্ষা যে সইনা॥
#সপ্ত
বৌমা আমার সে কি চায় সেটা আগে শোন।
ওকি তোর সাথে দেবে? কি চাই ওর মন॥
#দীপ,
ও এখনো আমার পাশেই আছে,বলেছে থাকবে।
কিন্তু পরিবারের,জামাই পরিচয় দিতে বড্ড বাঁধবে॥
#সপ্ত,
তা বেশ ওতো পাশে আছে, ও এখনও লড়বে।
দেখিস একদিন তোদের স্বপ্ন তাজমহলটা গড়বে॥
#দীপ,
এখনও ঠিক আছে ভাই ,ও আমার পাশে আছে।
কিন্তু মন যে! যুগের সাথে,সময়ের সাথে চলে॥
#সপ্ত,
অপেক্ষা করো! সময় হলে, সবাই হবে রাজি।
"মিয়া বিবি রাজি তো, কিয়া করেগা কাজী"॥
#দীপ,
তা তো সবই ঠিক আছে ভাই,কাজী হারিয়ে গেছে।
নাজানি কত বেকারের প্রেম!এই কারণে ভেঙ্গেছে॥
#সপ্ত,
সত্যি ভাই বেকারদের প্রেমের,কি করূন অবস্থা।
এই জগত স্বার্থ খোঁজে,ওরা চাই শুধু ভালোবাসা॥
#দীপ,
সবাই শুধু ভালো খোঁজে,আমরা যে খারাপে গাঁথা।
তাই তো আজ নিজের গল্পরে দিয়েছি পাথর চাপা॥
#সপ্ত,
জানিরে বন্ধু বেকারদের আজ কোনো গল্পই নেই।
ভালোবাসা সত্যি হলে,জয় ভালোবাসার হবেই॥
#দীপ,
মন ছুঁয়ে গেল! বন্ধু এটা বলেছিস পুরো খাসা।
দেখি কে জেতে অবশেষে, প্রেম নাকি টাকা॥
#সপ্ত,
প্রেম জিতবে তুই অপেক্ষা করে,এটা দেখে নিস।
তোরা দুইজন চাইলে,একদিন সব হবেই ঠিক॥
#দীপ,
তা যা বলেছিস বন্ধু, পুরো তরতাজা।
ও ছাড়া যে জগৎটা আমার সত্যি পুরো ফাঁকা॥
#সপ্ত,
জন্ম, মৃত্যু, বিয়ে সে যে তিন বিধাতা নিয়ে।
ডেটিং,চ্যাটিং যতই করো,সেটিং তারই হাতে॥
#দীপ,
খুব পড়ছি এখন বন্ধু দিনরাত এক করে।
চাকরিটা যে পেতেই হবে,এতো বাঁধার ওপারে॥
#সপ্ত,
সাধু,সাধু,সাধু এই তো বন্ধু চাই।
জিতবে তুমি,হাসবে তুমি এ জানি ভাই॥
#দীপ,
হারি জিতি নাইকো লাজ,লড়ে আমি চলবো।
দুঃখ যতই আসুক,আমি এরমধ্যেই ভালো রইবো॥
#সপ্ত,
আজ রাখি,ভালো থাকবি ভাই,নিজের যত্ন নিবি।
কবি ব্যাটা সব শুনেছে ভাই, কি লিখবে কি জানি॥
#দীপ,
ওকে ভাই,তুমিও ভালো থাকবে,নিজের যত্ন নেবে।
ঠিক আছে,কবির আনন্দ লেখাতে,সে নতুন সৃষ্টিতে মেতেছে॥
🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋
মনকে ঘিরে ধরেছে বিষন্নতা
              ✍✍✍  বাপ্পা দাস

মনকে ঘিরে ধরেছে বিষন্নতা,
ফুরিয়ে যাচ্ছে আশা ।
প্রেম জাগানো স্মৃতি এলোমেলো,
মরবে বুঝি ভালোবাসা ।
অভীষ্ট ফল অধরা রবে বিষন্নতার ছায়ায় ।
মিশে যাবে পথ,
রোগগ্রস্ত হবে চেতনা বোধ ।
ঢেউ এর মতো দুলতে হবে,
ঝড়ের মতো চলতে হবে,
তবেই বেরবে খুশির চাঁদ ।
তাঁকে স্বাগত জানাবে সহস্র তারা ।
অন্ধকার ঘুচিয়ে এগোতে হবে জীবনে,
আলো জ্বালাতে হবে লক্ষ্যের দরজায়,
তবেই সফলতার দেবে ধরা ।
🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋
ওরা পাঁচ জন
ছোটগল্প
✍✍✍ আব্দুল রাহাজ

সৈকত, আহমেদ , ইশান, এবং বল্টু আর প্যালা এই পঞ্চপান্ডব খুবই ভালো বন্ধু মানুয়ের বিপদের দিনে সবসময় পাশে থাকে সবার প্রায় একই বয়স একই গ্ৰামে বসবাস করে  ওরা এবার সবাই গ্ৰাম পাঠশালা থেকে হাইস্কুলে ভর্তি হবে পড়াশোনায় ওরা মাঝারি মানের কিন্তু ওদের নীতিবোধ ছিল বেশ ভালো। একবার গ্ৰামে মাতলা নদীর বাঁধ ভেঙে জল ঢুকেছে খগেন ধরেন সরেন দের সব ভেসে যায় যায় ওই পঞ্চপান্ডব দল আর ঘরে বসে থাকতে পারেনি ওরা সাঁতারে খুব পটু এবং সাহস দেখার মতো ছিল এরপর ওদের দলের নেতা সৈকত বললো সবাই বিভিন্ন দিকে ভাগ হয়ে যাও । সৈকত বললো আমি একা নদীর দিকের মানুষের কাছে যাচ্ছি আর প্যালা আর আহমেদ বনের ধারে মানুষের কাছে যা আর বল্টু ইশান তোরা মাঠের দিকে মানুষের কাছে যা এই বার শোন  তোরা মানুষ গুলো কে নিয়ে স্কুল ঘরে নিয়ে আয়  আচ্ছা এখন জল কম আছে তাড়াতাড়ি করতে হবে সব ঠিক আছে হ্যাঁ হ্যাঁ ওরা গ্ৰামের মানুষকে স্কুলে আনলো ওরা ওতো ছোট বয়সে কাজ গুলো করলো গ্ৰামের প্রবীনদের কাছে ওরা পঞ্চমুখ  ওরা বললো এবার খাবার কী দিবি বল্টু বললো সৈকত বললো তাও তো ঠিক ওরা আবার বাইরে বেরোলো খাবারের সন্ধানে তখন জলের চাপ একটু কম আছে ওরা গ্ৰামের প্রত্যেকের বাড়ি ঢুকে প্রয়োজনীয় খাবার নিয়ে স্কুল বাড়ি ঢুকলো সবাই কে খাবার দিয়েও দশদিনের খাবার মজুত আছে আহমেদ হাঁক দিয়ে সৈকতকে বললো  বাবা বাঁচা গেলো রাতে পানি বাড়তে লাগলো ওরা সবাই বেশ আতঙ্কে এই ভাবে গোটা পাঁচ দিন কেটে গেল জল নামতে শুরু করলে রহিম চাচা আর ব্রাহ্মণ পঞ্চপান্ডব কে খুশির খবর দিল । এই বার আস্তে আস্তে স্বাভাবিক জীবনে ফিরলো ওরা গ্ৰামের মানুষের এই এতো বড়ো বিপদের দিনে পাশে দাঁড়ায় ওরা সত্যিই আপ্লুত হয়েছিল। এদিকে বন্যার কারণে গাছপালা কমে আসছে ওরা ঠিক করলো আমরা আবার নতুন করে সাজাবো গ্ৰাম ওরা পাঁচ জন সহ গ্ৰামের মানুষ কে নিয়ে শুরু হলো বৃক্ষরোপণ অনেক গাছ লাগানো হলো এরপর দিন যায় দিন আসে কয়েকটা বছর কেটে গেল চারিদিকে যেন সবুজ এর আভা এক মনোরম দৃশ্য ফুটে উঠলো যা দেখে ওরা আপ্লুত আনন্দিত । এই ভাবে গ্ৰামের মানুষ শান্তির আবহ সৃষ্টি করে মিলেমিশে গ্ৰামকে নতুন রূপ দিয়ে প্রকৃতির মাকে অন্য রূপে লাবন্যে ভরপুর করে বাঁচতে লাগলো । আর পঞ্চপান্ডব  গ্ৰামের সকলের কাছে মধ্যমনি হয়ে উঠলো।
🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋
কবিতা
ক্যাকটাস
  ✍✍✍ প্রদীপ কুমার দে

রৌদ্রতেজে পরিশ্রান্ত, মরুঝড়ে কলেবর ক্লান্ত,
উদকীয় তৃষ্ণায় ওষ্ঠাগত প্রাণ।
এহেন কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন
অসহায়, একাকী জীর্ণ ক্যাকটাস।
অতৃপ্ত প্রকৃতিস্নেহে ধৈর্যক্ষমা সহজাত,
নির্মম ক্ষত যত, সর্বাঙ্গে আচ্ছাদিত।
জীবন সংগ্রামে আজ সে
ধরিত্রীর মূর্ত প্রতীক।
জর্জর বক্ষে তার সঞ্চিত আঘাত,
মরুর অন্তরালে বাক্যহীন প্রতিবাদ।
কণ্টকে পর্যবসিত পত্রক আজ
শোষকের বিরুদ্ধে শানিত অস্ত্র।
🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋
বৃষ্টির দিনে 
   কবিতা
       ✍✍✍ অনাদি মুখার্জি


কোনো এক বৃষ্টি ভেজা দুপুরে,
    পথের ধারে থাকবো আমি
           শুধু তোর অপেক্ষায় !
   তুই আসবি পরি হয়ে ধরবি
    স্পর্শ করবি  আমার হাত !
  তোর সাথে হারিয়ে যেতে যায়,   
নগরের সমস্ত পথ হবে তোর আমার !
তোর যত মনের কথা বলবি আমার সঙ্গে,
ইচছে ডানা মেলে শুনবো আমি কান পেতে !
বৃষ্টির জল মেখে দেখবো তোর ঐ ভিজে ঠোঁট,
তখন আকাশের বিজলি চমকে উঠবে,
তখন ভয়ে তুই জড়িয়ে ধরিস আমায় ,
  তোকে বুকে জড়িয়ে ধরে  সারা জীবনের নেমে ক্লান্তি হবে দূর আমার!
🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋🎋



©সেক আসাদ আহমেদ
   সম্পাদক, উপকণ্ঠ
তাং- 15/06/2020
গাংপুরা, পূর্ব মেদিনীপুর




No comments:

Post a Comment