"উপকণ্ঠ প্রাত্যহিক বিভাগ"
(ওয়েব ম্যাগাজিন)
প্রকাশ কাল:-17/05/2020, রবিবার
সম্পাদক এবং
প্রকাশক:- সেক আসাদ আহমেদ
যুগ্ম সহঃ সম্পাদক :-
১) ইমরান খাঁন
২) শেখ মণিরুল ইসলাম
সম্পাদকীয় দপ্তর ::-
গ্রাম:- গাংপুরা ডাকঘর:- সাগরেশ্বর
থানা:- রামনগর জেলা:- পূর্ব মেদিনীপুর
সূচক- ৭২১৪৪৬ পশ্চিমবঙ্গ ভারত
•••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••
আমাদের ফেসবুক আইডি:-
আমাদের ফেসবুক আইডি:-
Upokontha Sahitya Patrika
Facebook link 🔗🔗🔗
https://www.facebook.com/upokonthasahitya.patrika
সম্পাদকের ফেসবুক আইডি :-
Sk Asad Ahamed
Facebook link 🔗🔗🔗
https://www.facebook.com/asat.sk
যোগাযোগ:- 9593043577 (What's app)
••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••
কিছু কথা
উপকণ্ঠ সাহিত্য পত্রিকা নতুন প্রতিভার সন্ধান করে থাকে। নবীন প্রবীণ, খ্যাত অখ্যাত সকল প্রকার কবি সাহিত্যিকদের লেখনী তুলে ধরা হয় এই ব্লগের মাধ্যমে, অবশ্যই সাধুবাদ ও হৃদয়ের অন্তঃস্থল থেকে ভালোবাসা জানাই সেই সকল কলমচিদের যাদের লেখনী স্রষ্টায় সমৃদ্ধ হয়েছে আজকের উপকণ্ঠ প্রাত্যহিক বিভাগ।
তাদের লেখনী সত্ত্বার আরও বিকাশ হোক এই কামনা করি।
প্রিয় পাঠক বন্ধুরা উপকণ্ঠ প্রাত্যহিক বিভাগ সবার কেমন লাগছে, ভালো খারাপ, ভুল-ত্রুটি , ভালো পরামর্শ অবশ্যই নির্দ্বিধায় আপনার মতামত জানাবেন। যা আমাদের অনুপ্রেরণা ও উদ্যম বাড়াবে।
সবাই ভালো থাকুন আর সুস্থ থাকুন।
ধন্যবাদান্তে
সেক আসাদ আহমেদ
••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••
উপকণ্ঠ প্রাত্যহিক বিভাগ
আজকে যারা কলম ধরেছেন ✒✒✒✒✒✒✒✒✒✒✒
১) প্রদীপ কুমার দে (কবিতা)
২) রাজা দেবরায় (প্রবন্ধ)
৩) চিন্ময় রায় (কবিতা)
২) রাজা দেবরায় (প্রবন্ধ)
৩) চিন্ময় রায় (কবিতা)
৪) আব্দুল রাহাজ (ছোটো গল্প)
৫) প্রদীপ কুমার পাল (কবিতা)
৫) প্রদীপ কুমার পাল (কবিতা)
৬) অগ্নিমিত্র ( ডঃ সায়ন ভট্টাচার্য) কবিতা
৭) সৌরভ আম্বলী (কবিতা)
৮) মিঠুন রায় (অনুগল্প)
৯) দেবনাথ সাঁতরা (কবিতা)
১০) প্রশান্ত মাইতি (গুচ্ছ কবিতা)
৭) সৌরভ আম্বলী (কবিতা)
৮) মিঠুন রায় (অনুগল্প)
৯) দেবনাথ সাঁতরা (কবিতা)
১০) প্রশান্ত মাইতি (গুচ্ছ কবিতা)
••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••
••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••
কবিতাহাহাকার
✒✒✒✒প্রদীপ কুমার দে
একটা দুঃস্বপ্নে ঘুম ভেঙে দেখি
নিশ্চুপ রাতটা অন্ধকার পেরিয়ে,
ভোরের আলো মেখে
দোরে কড়া নাড়ছে।
কুয়াশাচ্ছন্ন আবছা চোখে
এলোমেলো হাতড়ে খুঁজি-
কই! কেউ তো নেই।
শুধু দেখি-
বাতাসের সমবেদনা পেয়ে
সংযমী গাছগুলির পাতা বেয়ে
টুপটাপ ঝরে পড়ছে কুয়াশারা।
একলা রাস্তা
নিথর হয়ে পড়ে আছে।
নির্মম সত্যটা
ক্রমশ প্রকট হতে থাকে।
প্রতিপলে অনুভূত হও তুমি।
মনে হয়-
একবুক হাহাকার নিয়ে
ছুটে যাই তোমার কাছে।
•••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••
প্রবন্ধ
মুখে মাখার ক্রিম !
✒✒✒✒✒ রাজা দেবরায়
বাজারে মুখে মাখার অনেক ধরণের ক্রিম পাওয়া যায় - সাধারণ ক্রিম, কোল্ড ক্রিম, ভ্যানিশিং ক্রিম, ভিটামিনযুক্ত বা ভেষজযুক্ত ক্রিম ইত্যাদি ।
এখন প্রশ্ন হলো এইসব মুখে মাখার ক্রিমগুলোতে কী থাকে ?
সাধারণভাবে ভ্যানিশিং ক্রিম ছাড়া অন্য ক্রিমগুলোতে থাকে মূলত -
১) কোন ধরনের তেল - ভেষজ তেল বা কোন মিনারেল তেল হতে পারে । তবে মিনারেল তেলগুলো অপেক্ষাকৃত সস্তা বলে সাধারণত এগুলোই ব্যবহার করে থাকে ।
২) এছাড়া থাকে কোন এক ধরনের চর্বি - প্যারাফিন বা ল্যানোলিন হতে পারে বা অন্য কোন চর্বিও হতে পারে ।
৩) আর থাকে মোম জাতীয় পদার্থ যেমন মৌচাকের মোম ।
এগুলো মেশানো থাকে জলের দ্রবণে । সাধারণভাবে জলে তো তেল বা চর্বি মেশেনা, তাই এগুলোকে জলে মেশানোর জন্য ব্যবহার করা হয় কোন এক ধরনের মিশ্রক । আর ক্রিমগুলোতে থাকে বিভিন্ন ধরনের সুগন্ধি পদার্থ ।
এগুলোর সঙ্গে ভ্যানিশিং ক্রিমগুলোর তফাৎ এখানেই যে, তেলের বদলে সেখানে থাকে গ্লিসারিন আর মোম জাতীয় পদার্থের বদলে সেখানে মেশানো হয় স্টিয়ারিক অ্যাসিড । আর এই যে ভ্যানিশিং ক্রিম মুখে মাখার পর মিলিয়ে যায়, তার কারণ হলো ভ্যানিশিং ক্রিমে ব্যবহৃত পদার্থগুলোর যে মিশ্রণ তৈরি হয় তা মুখে মাখার পর খুব পাতলা একটা আবরণ ফেলে চামড়ার ওপর । আর এর গলনাঙ্ক চামড়ার উত্তাপের থেকে বেশি, ফলে অন্যান্য ক্রিমের মতো এটা চটচটে হয়না । কিন্তু মুখটাতে একটু হালকা আভা এনে দেয়, যার ফলে এর ওপর ফেস পাউডার ইত্যাদি লাগাতে সুবিধা হয় ।
আর ডিপ-ক্লিনজিং ক্রিমগুলোতে তেলটি অবশ্যই কোন মিনারেল তেল (পেট্রোলিয়াম থেকে তৈরি হয়) এবং তা যথেষ্ট পরিমাণে মেশানো থাকে । কোন একটা ক্রিম কতখানি নরম বা শক্ত হবে তা নির্ভর করে এই মিনারেল তেলের ওপরই ।।
(চলবে)
••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••
কবিতা
আশাতে - আশা
✒✒✒✒✒✒✒ চিন্ময় রায়
ভেবেছিলাম ফিরবে তুমি,
আড়ষ্ঠ হিমেল হাওয়ার হাত ধরে, শীতের স্বপ্ন হয়ে।
কিংবা
বসন্তের ওষ্ঠপুটে পলাশের মৃদু ঘ্রাণে।
শরতের শিশির ভেজা শিউলি বোঁটায় কই তুমি!
আমাজন থেকে আন্দামানেও খুঁজে মরি।
ভেবেছিলাম,
তোমার হাত ধরে পাড়ি দিবো জম্বুদ্বীপে।
রত্নাকরের গণ্ড চুমে কুড়িয়ে নেবো রত্ন।
কিংবা
তোমার মদিরাক্ষে কুবের হয়ে আমি মাতাবো ষড়ঋপু।
মদিরায় মত্ত হয়ে মাতাবো মর্ত্যভূমি।
কিংবা
তোমার লাবন্যে লাবণি হব আমি।
কিন্তু এলে তুমি,
গহন রাতে রুদ্রবেশে,
প্রলয় রূপে নাচলে তুমি হে নটরাজ।
সমূলে নাশ করলে ইচ্ছে-ডানা।
এখন আমি বসন্তের মর্মরিত পত্রে, ঘূর্ণিঝড়ের দুর্বিপাকে।
সাহারা হয়ে কখনোবা পেঙ্গুইনের দেশে।
•••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••
অভাব (ছোট গল্প)
✒✒✒✒✒ আব্দুল রাহাজ
এক গ্রামে বসবাস করতেন হরেন চাচা ও তার পরিবার। গ্রামটির নাম ছিল রজনী পুর। গ্রামীণ নামের সাথে রজনী ফেলে সম্পর্কটা যেন সত্যিই দেখবার মতো। গ্রামের কয়েকটা পরিবারের বসবাস। তার মতে হরেন যায় সেটা খুবই প্রাচীন বসতি। গ্রামটির চার পাশে আছে পুকুর খাল বিলে ভরা আর গ্রামের চারপাশে আছে গাছপালা। গাছপালা পুরো গ্রামটাকে ঘিরে রেখেছে। দূর থেকে দেখলে মনে হয় সুন্দর পৃথিবীর মায়া কোলে কোন রূপকথার দেশ। গ্রাম থেকে আট কিলোমিটার দূরে হাট-বাজার এখানকার মানুষের খুবই অভাব এর মধ্যে দিন কাটতো। খাল-বিল-নদী-নালার সবুজ গাছপালা থাকলেও এখানকার গ্রামবাসীরা অভাবের তাড়নায় কোথাও যেন হারিয়ে হারিয়ে যেত। আর এইভাবে অভাবতা কে জয় করে হরিণ চাচা ও তার গ্রামবাসীরা সবাই সেই গ্রামে বসবাস করত। হরিণ চাচা একদিন হাট বাজার থেকে আসার সময় এক সাহেবের টাকার ব্যাগ পেলেন তখন কিছু না ভেবে সাহেবের খোঁজে পাড়ি দিলেন এবং সফল হলেন সাহেবকে টাকা ফেরত দিলেন প্রয়োজনে চাচাকে কিছু অর্থ দিয়ে সাহায্য করলেন তখন হরেন চাচা তার পরিবারও গ্রামবাসীদের জন্য খাবার জামাকাপড় ও তাদের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে গ্রামে ঢুকলেন গ্রামের মানুষেরা প্রতিটি বাড়িতে হরেন কাকার জন্য চিন্তিত চিন্তিত ও তার পরিবার তারপর হরেন কাকাকে দেখে তারা তাকে জড়িয়ে ধরলেন । এরপর হরেন চাচা তাদের সব ঘটনা বললেন তাদের সবাইকে খাবার জিনিসপত্র দিয়ে দিলে ন এরপর গ্রামবাসীরা মহানন্দে যে যার বাড়িতে চলে গেলেন এরপর থেকে গ্রামের লোকেরা হরেন চাচাকে মোড়ল হিসেবে নির্বাচিত করে কিন্তু সেই অভাব কোথাও যেন তাদের সামনে চলে আসতে থাকে। এরপর বহু পরিবর্তনও কয়েকটা বছর কেটে যাওয়ার পর গ্রামের নদী-নালায় জলের সংকট দেখা দিতে শুরু করলো আর সেই প্রয়োজনে খাদ্যের অভাব গ্রামের মানুষেরা খাবারের অভাবে কাতর হয়ে একে অপরের একে একে চলে যেতে শুরু করল চিরঘুমের দেশে হরেন চাচা অশ্রুসিক্ত জলে তাদের বিদায় দিতে হয়েছিল দেখতে দেখতে একটি বছর কেটে গেল হরেন কাকার বয়স প্রায় একশর কাছাকাছি একদিন ডেকে বলল যুবকদের এই অভাব থেকে রক্ষা করো সবাইকে সেই যুগ যুগ ধরে আমরা অভাবের তাড়নায় ভুগে আসছি সমাজের চোখে আমরা হয়ে গিয়েছি নিপীড়িত মানুষ কিন্তু আমাদের বাঁচানোর কেউ নেই অভাব আমাদের প্রতি পদে পদে দেখা দিতে আসে দিতে আসছে। তোমরা চেষ্টা করো এই অভাব থেকে সবাইকে বাঁচাতে। কি নেই এই গ্রামে খাল বিল পুকুর গাছপালায় মোড়া আমাদের গ্রাম তবুও আমরা অভাবের তাড়নায় বঞ্চিত এই বলে হরেন চাচা চিরঘুমের দেশে পাড়ি দিলেন। অবসান হলো অভাবের বিরুদ্ধে লড়ে থাকা মানুষটির এভাবে দেখতে দেখতে কয়েকটা বছর কেটে গেল হরেন চাচা চলে যাওয়ার পর গ্রামটির অবস্থা আরো দুর্বলতা হয়ে পরল অভাবের তাড়নায় সবাই চলে যেতে লাগলো তারপর কয়েক মাসের মধ্যে রজনীপুর মানব শুন্য হয়ে গেল দেখতে দেখতে হরিণ চাচার জন্মভূমি হয়ে উঠলো সবুজ বনভূমি সবুজ বনভূমি খাল বিল পুকুর পরিণত হলে নদীতে দেখতে দেখতে পরিবর্তন হয়ে গেল গ্রামটি সার্বিক চিত্র। গ্রামটি তৈরি হলো সবুজ বনের পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে ছোট্ট নদী। প্রকৃতির মিলন খেলা দেখতে দেখতে বিশাল বনভূমি ও নদীর মাঝে ছোট্ট দ্বীপ আরেকটি হলো সেই অভাব এর বিরুদ্ধে লড়তে থাকা হরেন চাচার সমাধি। গজনী পুর গ্রাম থেকে তার নাম হয়ে উঠল অভাবে রূপকথার দেশ। কারণ সবুজায়নের যে দৃশ্য তা দেখলে মনে হয় মায়ের শক্তির উদ্ভব এই অভাবের দেশ থেকে। আর ছোট্ট নদীর জলের ঢেউ মনে করিয়ে দেয় তার আবেগ দুঃখ এভাবেই এই সুন্দর পৃথিবীতে প্রকৃতি মায়ের কোলে বিরাজমান।
বসিরহাট, উত্তর 24 পরগনা
••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••
কবিতা
অলিন্দ
✒✒✒✒✒✒ প্রদীপ কুমার পাল
বিশাল অলিন্দ সুরের প্রতিধ্বনি।
শোনা যায় নিক্কন বাজার তালে তালে--
ঠিক সেদিনের মত ।
জমাট অন্ধকার , দুর্ভেদ্য প্রাকার
দুরন্ত আজন্ম শৈশবস্মৃতি।
উদ্দাম অতৃপ্ত বাসনা উদভ্রান্তের মত
বিদগ্ধ ইতিহাস হয়ে বারবার
মাথা কুড়ে জন্মভিটের তুলসী মঞ্চের তলে।
তারি সোপানতলে
বসে মুখোমুখি
হয়ে চোখাচোখি
নির্নিমেষ তাকিয়ে থাকি--
স্বপ্নের পাখা মেলে বিস্মৃত ইতিহাস
একটা জিজ্ঞাসা- চিহ্ন হয়ে ছুটে বেড়ায় অলিন্দ থেকে অলিন্দে ।
দুজনেই হারিয়ে যাই একসময়
পারস্পরিক চাহিদার তাড়নায়
অতৃপ্ত আত্মা স্নান করে জীবন-যমুনায় ।।
•••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••
কবিতা
শিক্ষা
✒✒✒✒✒অগ্নিমিত্র ( ডঃ সায়ন ভট্টাচার্য)
একটা বিষাণু আজ শিখিয়ে গেল
সবথেকে দরকার কোনটা ...
তা নাহলে লোকে লড়ছিল
আমরা ওরা করে...।
ধর্মের দালালরা আজ ঘরে দোর দিয়েছে,
আর কাজ করছে কারা ?
সেই তারা, যাদের রক্ত না বহালে
সমাজের তৃপ্তি হয় না!
অর্গলবদ্ধ সেই সব বোদ্ধারা ...
সবাই এখন বুঝছে
সবথেকে জরুরী কোনটা !!
•••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••
কবিতা
*চিলতে হাসি দেখবো বলে*
✒✒✒✒✒✒ সৌরভ আম্বলী
মনুষ্য মানবিক মূল্যবোধে
মানুষের পাশে মানুষ যখন ,
ভয় কি আর 'কালবৈশাখীর' ?
ভাঙবেনা ঘর গড়বে তখন ।
কিসের ভেদ কিসের বিবাদ ?
কিসের রাজ কিসের নীতি ?
বিপর্যয়কে একত্রে হার মানাবোই ---
রাখবো টিকিয়ে ধর্মীয় সম্প্রীতি ।
লড়াই যখন লড়তেই হবে
একত্রে সব্বাই সাথ দেবো ,
অভ্যুক্তদের মুখের হাসি হয়ে ---
রবির নতুন আলো ছড়াবো ।
••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••
অনুগল্প
প্রতিদান
✒✒✒✒✒মিঠুন রায়
প্রিয়ার বয়স সবেমাত্র সাতাশ।গতবছর অর্থনীতি নিয়েই এম.এ পাশ করেছে সে।আপাতত মানিকতলায় একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে কাজ করে সে।বাবা সুশান্ত মিত্র প্রতিদিন অফিসে যাবার পথে মেয়েকে নামিয়ে দিয়ে যান।যদিও বাবাকে কখনও মন থেকে মেনে নিতে পারেন নি প্রিয়া।সেই কুড়ি বছর আগের কথাপ্রিয়ার জন্মদাতা বাবা নবারুণ গুহ যান দুর্ঘটনায় মারা যান।মা বিপাশা দেবীর তো শিরে বজ্রাঘাত।সংসারে হাল ধরার কেউ নেই।বাসনমাঝা থেকে শুরু করে দু-তিন বাড়িতে ঝি -এর কাজ করেও মা-মেয়ের খরচ মেটাতে ব্যর্থ হন তিনি।শ্রীরামপুরে ফ্ল্যাটে কাজ করার সময়ই সুশান্ত বাবুর সাথে পরিচয় হয় বিপাশা দেবীর।সুশান্ত বাবু বিয়ে থা করেন নি।পরিচয় থেকেই পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ হন তিনি।সাত বছরের শিশু প্রিয়া পেল তার নতুন পিতাকে।
যদিও নবারুণ বাবুর জায়গায় প্রিয়া তার নতুন বাবাকে কখনও বসাতে রাজী ছিলেন না।মা-বাবার ভালোবাসা পেলেওতার মনে যেন একটা বরাবরই অতৃপ্তি ছিল।বাবার অপত্য স্নেহ থেকে সে সদাই নিজেকে বঞ্চিত মনে করত।স্কুলে পড়ার সময় সহপাঠী অয়নের সাথে তার ভালো বন্ধুত্ব হয়।পরবর্তী সময়ে অয়ন ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে।বিপাশা দেবীও তাকে পছন্দ করেন।হাতের ছেলে বলে কথা।অয়নকেই জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় প্রিয়া।সেদিন হঠাৎ অফিস থেকে ফেরার পথে চৌমাথায় অয়নের রক্তবমি হয়।কি ব্যাপার!সহকর্মী বাদল তাকে ট্রাক্সি কর নিয়ে যায় পাশ্ববর্তী আরোগ্য নিকেতনে।চিকিৎসায় ধরা পড়ে অয়নের ব্লাড ক্যান্সার।প্রাইমারী স্টেজ। চিকিৎসকদের পরামর্শ একটি জটিল অস্ত্রোপচারে সেরে যাবে।
অন্যদিকে অয়ন আর প্রিয়ার আশীর্বাদের দিনও ঘনিয়ে আসছে।যথারীতি শুরু হল অপারেশন।আচমকা প্রয়োজন হল রক্তের।অয়নের রক্তের গ্রুপ বি-নেগেটিভ।বিরল গ্রুপ।নার্সিংরুমে এই গ্রুপের রক্ত নেই।প্রিয়া বার বার বন্ধুবান্ধবদের ফোন করেও রক্ত পাচ্ছে না।অয়নের বড় ভাই বেহালা থেকে এসেছেন।কিন্তু রক্ত নেই।উপস্হিত সকলেরতো মাথায় হাত।প্রিয়ার দুচোখে জল।তবে কি আক্ষরিক অর্থে তার আর অয়নের সাথে সামাজিক গাটবন্ধন হবে না।এমন সময় অপারেশন রুমের আলো নিভে গেল।হাসিমুখে বেরিয়ে এলেন ডা: বসু।অপারেশন ভালো হয়েছে।তবে কে দিয়েছে রক্ত?দৌড়ে গেল প্রিয়া।রক্ত দিয়েছেন সুশান্ত মিত্র।সারাজীবন যাকে প্রিয়া ঘৃণা করত,ঐ লোকটা কিনা শেষপর্যন্ত তার জীবনসঙ্গীকে বাঁচিয়েছেন।হায়রে বিধাতার একি বিধান।ছুটে গিয়ে প্রিয়া জাপটে ধরল বাবাকে।লুটিয়ে পড়ল সুশান্ত মিত্রের চরণে।আজ সে অনুতপ্ত।ক্ষমা করে দাও বাবা।আমি যেন সারাজীবন তোমাকে কষ্ট দিয়েছি।মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে বাবা বলল-তোর খুশি তোকে ফিরিয়ে দিয়ে আমিও খুশি।প্রকৃত ভালোবাসার প্রতিদানও মহৎ হয়।
••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••
কবিতা
মামনি আর আমি
✒✒✒✒✒✒দেবনাথ সাঁতরা
ও মামনি, ও মামনি
তুমি কি আমার ওপর রেগে
সত্যি বলছি পাগল আমি
তোমাকে কলেজে দেখার পর থেকে।
প্রতি রাতে ফেসবুকে তে
তোমাকে পাঠিয়েছি রিকুয়েস্ট
ফলোয়ার হয়েই রয়ে গেলাম
শুধু বৃথা টাইম হয়েছে ওয়েস্ট্।
ও মামনি, ও মামনি
তুমি এতো নিষ্ঠুর কেন হলে
ফলোয়ার হয়েই তো ছিলাম আমি
তবুও আমায় ব্লকলিস্টে ফেলে দিলে।
মনের ভেতর দুঃখ খুব
আমার স্থান তোমার ব্লকলিস্টে
তোমার খবর নিচ্ছি তবু
অনেক কষ্টে সৃষ্টে।
ও মামনি, ও মামনি
তুমি কেন এতো অভিমানী
মনের সব দুঃখ ভুলে
এবার হাসো একটুখানি।
তোমার হাসি দেখবো বলে
কখন থেকে চেয়ে আছি
সত্যি বলছি বিরিয়ানীর থেকেও
তোমার হাসিকে আমি বেশি ভালোবাসি।
ও মামনি, ও মামনি
তুমি কি সত্যিই আমার উপর রেগে
বেপরোয়া মনটাও নিরুপায়
খুব ভালোবেসে ফেলেছে তোমাকে।
আড়াল থেকে দেখছি তোমায়
তোমায় নিয়ে লিখছি প্রতি রাতে
তোমায় নিয়ে দেখা স্বপ্ন গুলো
আমি চাইনা আর হারাতে।
ও মামনি, ও মামনি
তুমি শুনছো আমার কথা
আমার দিকটাও একটু ভেবো
প্লিজ আর দিওনা ব্যাথা।
তোমার হতে চাই না আমি
আমার হয়েই তুমি থেকো
ভালোবাসা তোমার নাইবা পেলাম
তোমার অবহেলায় আমায় রেখো।।
••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••
প্রশান্ত মাইতি এর গুচ্ছ কবিতা
(8)
ছাপ
✒✒✒✒ প্রশান্ত মাইতি
এখনো ছড়িয়ে রয়েছে পথের বাঁকে
অজস্র পায়ের ছাপ
চেনা যায় কিছু আমার প্রিয়জনের
#
এ ছাপ তোমার চৈতালি
ঘুরতে যাওয়া হাইহিল পড়া জুতোর
#
সেছাপ স্পষ্ট জোনাকির রাতের আলোয় ।
(৫)
নীরবতা ভেঙে
প্রশান্ত মাইতি
আজ যেন নীরবতা পালন করছে
পথ,ঘাট,আকাশ,বাতাস
চারিদিক নিস্তব্ধতার চাদরে মোড়া
#
তুমিও কেমন যেন নীরব হলে
আমার থেকে সরে প্রকৃতির পথে
চারিদিক ভাসছে হাওয়ায় ভাইরাস
সেই ভয়ে হয়তো যাচ্ছ ছেড়ে আমায়
ভুলে যাওয়ার পথে হেঁটে
#
তোমার রূপ আজও ডাকে আমায়
তোমার নীরবতায় কবিতা আসে উঠে
মন ভোলানো সেই হাসি অকৃত্রিম
#
আমার নীরবতা ভেঙে আসে কবিতা হয়ে।
(৬ )
অযাচিত লতা
প্রশান্ত মাইতি
একবারও দেখোনি খুঁজে আমার
প্রেমহীন হতাসিক্ত মুখ
#
নিরুপায় দিশেহারা ছেলেটার মত
উদাসীন চোখে তাকিয়ে দেখেছি বহুদিন
কখনো নদীর কিনারে বসে ধুয়ে
দিয়েছি স্রোত জলে সমস্ত বিষাদ
#
জানার চেষ্টাও করোনি কখনো
নিখাদ যন্ত্রনার কষ্টের কথা
এতদিন পর বুঝলাম আমি শুধু
#
অযাচিত বেড়ে ওঠা গুলম লতা ।।
••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••
© সেক আসাদ আহমেদ
সম্পাদক, উপকণ্ঠ
গাংপুরা, পূর্ব মেদিনীপুর
তাং- 17/05/2020










No comments:
Post a Comment