"উপকণ্ঠ প্রাত্যহিক বিভাগ"
(ওয়েব ম্যাগাজিন)
প্রকাশ কাল:-19/05/2020, মঙ্গলবার
সময় :- সকাল 6 টা
সময় :- সকাল 6 টা
সম্পাদক এবং
প্রকাশক:- সেক আসাদ আহমেদ
যুগ্ম সহঃ সম্পাদক :-
১) ইমরান খাঁন
২) শেখ মণিরুল ইসলাম
সম্পাদকীয় দপ্তর ::-
গ্রাম:- গাংপুরা ডাকঘর:- সাগরেশ্বর
থানা:- রামনগর জেলা:- পূর্ব মেদিনীপুর
সূচক- ৭২১৪৪৬ পশ্চিমবঙ্গ ভারত
•••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••
আমাদের ফেসবুক আইডি:-
Upokontha Sahitya Patrika
Facebook link 🔗🔗🔗
https://www.facebook.com/upokonthasahitya.patrika
সম্পাদকের ফেসবুক আইডি :-
Sk Asad Ahamed
Facebook link 🔗🔗🔗
https://www.facebook.com/asat.sk
যোগাযোগ:- 9593043577 (What's app)
8122817680 (মণিরুল)
🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻
কিছু কথা
উপকণ্ঠ সাহিত্য পত্রিকা নতুন প্রতিভার সন্ধান করে থাকে। নবীন প্রবীণ, খ্যাত অখ্যাত সকল প্রকার কবি সাহিত্যিকদের লেখনী তুলে ধরা হয় এই ব্লগের মাধ্যমে, অবশ্যই সাধুবাদ ও হৃদয়ের অন্তঃস্থল থেকে ভালোবাসা জানাই সেই সকল কলমচিদের যাদের লেখনী স্রষ্টায় সমৃদ্ধ হয়েছে আজকের উপকণ্ঠ প্রাত্যহিক বিভাগ।
তাদের লেখনী সত্ত্বার আরও বিকাশ হোক এই কামনা করি।
আজকে এই বিভাগে সমসাময়িক কালীন সুমন ভট্টাচার্য এর নিবন্ধ ,১৯মে স্মরণে বারাক ভাষা আন্দোলন বিষয়ক মিঠুন রায় এবং বিজ্ঞানেের উপর রাজা দেবরায় এর প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।
সবাই কে পড়ার অনুরোধ রইল।
সবাই কে পড়ার অনুরোধ রইল।
প্রিয় পাঠক বন্ধুরা উপকণ্ঠ প্রাত্যহিক বিভাগ সবার কেমন লাগছে, ভালো খারাপ, ভুল-ত্রুটি , ভালো পরামর্শ অবশ্যই নির্দ্বিধায় আপনার মতামত জানাবেন। যা আমাদের অনুপ্রেরণা ও উদ্যম বাড়াবে।
সবাই ভালো থাকুন আর সুস্থ থাকুন।
ধন্যবাদান্তে
সেক আসাদ আহমেদ
🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻
উপকণ্ঠ প্রাত্যহিক বিভাগ
আজকে যারা কলম ধরেছেন ✒✒✒✒✒✒✒✒✒✒✒
১)সুমন ভট্টাচার্য (নিবন্ধ)
২) মিঠুন রায় (প্রবন্ধ)
৩) পার্থ প্রতিম মাল (কবিতা)
৪) সোহিনী শবনম (কবিতা)
৫) জুয়েল রূহানী (কবিতা)
৬) প্রদ্যুৎ দাস (কবিতা)
৭) প্রসূন কালসার (কবিতা)
৮) অগ্নিমিত্র ( ডঃ সায়ন ভট্টাচার্য)
৯) আব্দুল রাহাজ (কবিতা)
১০) বাপন দেব লাড়ু (কবিতা)
১১) বিশ্বজিৎ কর (কবিতা)
১২) রাজা দেবরায় (প্রবন্ধ)
১৩) সেক সাবির মোল্লা (কবিতা)
১৪) প্রদীপ কুমার দে (কবিতা)
২) মিঠুন রায় (প্রবন্ধ)
৩) পার্থ প্রতিম মাল (কবিতা)
৪) সোহিনী শবনম (কবিতা)
৫) জুয়েল রূহানী (কবিতা)
৬) প্রদ্যুৎ দাস (কবিতা)
৭) প্রসূন কালসার (কবিতা)
৮) অগ্নিমিত্র ( ডঃ সায়ন ভট্টাচার্য)
৯) আব্দুল রাহাজ (কবিতা)
১০) বাপন দেব লাড়ু (কবিতা)
১১) বিশ্বজিৎ কর (কবিতা)
১২) রাজা দেবরায় (প্রবন্ধ)
১৩) সেক সাবির মোল্লা (কবিতা)
১৪) প্রদীপ কুমার দে (কবিতা)
🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻
©সেক আসাদ আহমেদসম্পাদক, উপকণ্ঠতাং- 19/05/2020, মঙ্গলবার
স্থান:- গাংপুরা, পূর্ব মেদিনীপুর
স্কুলের পরে রেলপারের বস্তিতে যেতাম সপ্তাহে তিন-চারদিন। বাচ্ছাগুলোকে একসাথে করে একটু বসাতাম।তারপর স্কুলের বই-খাতা গুলো নিয়ে একটু নাড়াচাড়া, একটু গল্প, একটু পড়াশোনা। ঝুলিতে লজেন্স থাকত। বিলিয়ে দিয়ে বাড়ি ফিরতে সন্ধ্যে হত।
ওখানেই তুলসিকে দেখলাম। ক্লাস সিক্স অব্দি পড়াশোনায় বেশ ভালো ছিল মেয়েটা। তারপর পড়াশোনা ছাড়িয়ে দিল বাবা। অনেক বোঝালাম। শুনলনা কিছুতেই। দু-তিন বছর পর তুলসি একটা ছেলের সাথে পালাল। যখন ফিরল পেটে তিন মাসের বাচ্ছা। চার-পাঁচ বছরের মধ্যে তিন-তিনটে বাচ্ছার মা হল তুলসি। বর ছেড়ে চলে গেল। অন্য জায়গায় বিয়ে করল আবার। তিন তিনটে বাচ্ছাকে খাবার দিতে গিয়ে সকাল থেকে রাত অব্দি বাড়ি বাড়ি কাজ করতে হয় তুলসিকে। বাচ্চাগুলো বস্তির ঘুপচি ঘরে কিলবিল করে। যক্ষা হল তুলসির।
আমি নিয়মিত দুধ-ডিমের ব্যবস্থা করি তুলসির বাচ্ছা গুলোর জন্য। তুলসি বলে- ‘কাকু, তুমি এতো পারবে কি করে? তোমারও তো ঘর-সংসার আছে..’.
আমি বলি- ‘তোরা কি আমার সংসারের বাইরে?’
তুলসির বর মাঝে মাঝে আসে। কাজ করে তুলসি যে টাকা পায়, সেখান থেকে নিয়ে যায়।
কাল আমাকে মনোজ ফোন করেছিল। মনোজ আমার ছাত্র। ঐ বস্তিতেই থাকে। সবার খোঁজ রাখে।
--- ‘স্যার , তুলসির অবস্থা খুবই খারাপ’।
আমি বললাম---‘কেন রে? রেশনে চাল তো পাচ্ছে’।
---‘হ্যা, স্যার, পেয়েছিল। কিন্তু ওর বর এসে নিয়ে চলে গেছে, ও বাধা দিলে ওকে খুব মেরেছে। বাচ্ছাগুলো তিন-দিন না খেয়ে আছে’।
একটা ব্যাগে চাল, ডাল, আটা, বাচ্ছাদের দুধ, সোয়াবিন , তেল, চিনি, নুন ,সাবান, বিস্কুট এসব কিনে দিয়ে এলাম তুলসির হাতে। কদিন চলবে এভাবে, কে জানে! কিম্বা, কালকেই হয়ত ওর বর এসে সব নিয়ে যাবে কেড়ে কুড়ে। তবু,তবু, আজ তো খাক। আজ তো বাঁচুক।
ব্যাগটার উপর হামলে পড়ে বাচ্ছা গুলো। বিস্কুটের প্যাকেটটা ছিঁড়ে খেতে থাকে। তুলসি আমাকে বলে- ‘কাকু, তুমি এসময় এতো খরচ কোরো না। তোমারও তো...’।
আমি ওর মাথায় টোকা দিয়ে বলি-‘ তোকে পাকামো করতে হবে না। যক্ষার ওষুধটা খাচ্ছিস তো? ঐ বাচ্চাগুলোর কথা তো ভাবতে হবে...’।
তুলসির চোখ দুটো কোটরের মধ্যে থেকেই চিক্চিক্ করে ওঠে- ‘হ্যা, ওদের জন্যেই তো...’।
আমি চলে আসবার সময় তুলসী আমাকে প্রশ্ন করে – ‘কাকু, এই লক-ডাউন কবে উঠবে? কাজে যেতে না পারলে যে...’
আমি উত্তর দিতে পারিনা, ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থাকি হতাশায় ধুঁকতে থাকা রেল লাইন গুলোর দিকে।
ওখানেই তুলসিকে দেখলাম। ক্লাস সিক্স অব্দি পড়াশোনায় বেশ ভালো ছিল মেয়েটা। তারপর পড়াশোনা ছাড়িয়ে দিল বাবা। অনেক বোঝালাম। শুনলনা কিছুতেই। দু-তিন বছর পর তুলসি একটা ছেলের সাথে পালাল। যখন ফিরল পেটে তিন মাসের বাচ্ছা। চার-পাঁচ বছরের মধ্যে তিন-তিনটে বাচ্ছার মা হল তুলসি। বর ছেড়ে চলে গেল। অন্য জায়গায় বিয়ে করল আবার। তিন তিনটে বাচ্ছাকে খাবার দিতে গিয়ে সকাল থেকে রাত অব্দি বাড়ি বাড়ি কাজ করতে হয় তুলসিকে। বাচ্চাগুলো বস্তির ঘুপচি ঘরে কিলবিল করে। যক্ষা হল তুলসির।
আমি নিয়মিত দুধ-ডিমের ব্যবস্থা করি তুলসির বাচ্ছা গুলোর জন্য। তুলসি বলে- ‘কাকু, তুমি এতো পারবে কি করে? তোমারও তো ঘর-সংসার আছে..’.
আমি বলি- ‘তোরা কি আমার সংসারের বাইরে?’
তুলসির বর মাঝে মাঝে আসে। কাজ করে তুলসি যে টাকা পায়, সেখান থেকে নিয়ে যায়।
কাল আমাকে মনোজ ফোন করেছিল। মনোজ আমার ছাত্র। ঐ বস্তিতেই থাকে। সবার খোঁজ রাখে।
--- ‘স্যার , তুলসির অবস্থা খুবই খারাপ’।
আমি বললাম---‘কেন রে? রেশনে চাল তো পাচ্ছে’।
---‘হ্যা, স্যার, পেয়েছিল। কিন্তু ওর বর এসে নিয়ে চলে গেছে, ও বাধা দিলে ওকে খুব মেরেছে। বাচ্ছাগুলো তিন-দিন না খেয়ে আছে’।
একটা ব্যাগে চাল, ডাল, আটা, বাচ্ছাদের দুধ, সোয়াবিন , তেল, চিনি, নুন ,সাবান, বিস্কুট এসব কিনে দিয়ে এলাম তুলসির হাতে। কদিন চলবে এভাবে, কে জানে! কিম্বা, কালকেই হয়ত ওর বর এসে সব নিয়ে যাবে কেড়ে কুড়ে। তবু,তবু, আজ তো খাক। আজ তো বাঁচুক।
ব্যাগটার উপর হামলে পড়ে বাচ্ছা গুলো। বিস্কুটের প্যাকেটটা ছিঁড়ে খেতে থাকে। তুলসি আমাকে বলে- ‘কাকু, তুমি এসময় এতো খরচ কোরো না। তোমারও তো...’।
আমি ওর মাথায় টোকা দিয়ে বলি-‘ তোকে পাকামো করতে হবে না। যক্ষার ওষুধটা খাচ্ছিস তো? ঐ বাচ্চাগুলোর কথা তো ভাবতে হবে...’।
তুলসির চোখ দুটো কোটরের মধ্যে থেকেই চিক্চিক্ করে ওঠে- ‘হ্যা, ওদের জন্যেই তো...’।
আমি চলে আসবার সময় তুলসী আমাকে প্রশ্ন করে – ‘কাকু, এই লক-ডাউন কবে উঠবে? কাজে যেতে না পারলে যে...’
আমি উত্তর দিতে পারিনা, ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থাকি হতাশায় ধুঁকতে থাকা রেল লাইন গুলোর দিকে।
∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆
মানবজাতির সাহিত্য,শিল্প,সভ্যতা,সংস্কৃতির ভিত্তিভূমি হল মাতৃভাষারা মাতৃদুগ্ধ সম।মাতৃভাষা মানে জনজাগরণের যাত্রাবিন্দু।গ্রীক্ শব্দ Lagos শব্দ থেকে এসেছে ইংরেজি Language,যার বাংলা প্রতিশব্দ হচ্ছে 'ভাষা।'আর Lagos মানে চিন্তা শক্তি।মাতৃভাষার মাধ্যমেই মানুষ ছড়িয়ে দেয় নিজের স্বপ্ন।অন্যভাবে বলা যায়,মাতৃভাষাই মানবজাতির সত্তা বিকাশের নির্নায়ক শক্তি।শিশু জন্মের পর মায়ের মুখ থেকে শুনে যে ভাষায় কথা বলে তাই মাতৃভাষা।বাঙালির মাতৃভাষা বাংলা।
আমরা জানি বাংলা ভাষার গড় আয়ূ আড়াই হাজার বছরের বেশি।লিপির বয়স তিন হাজার বছর।বাংলা ভাষা উদ্ভব সম্পর্কে নানা মত রয়েছে।মাতৃভাষা বাংলাকে রক্ষা করার জন্য বার বার দামাল সন্তানেরা আত্মবলিদান দিয়েছেন।ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের ঘটনা ঘটে ভারতবর্ষের আসাম প্রদেশের বরাক উপত্যকায়।
আসাম মূলত দুই নদের অববাহিকা অঞ্চল।ব্রক্ষ্মপুএ ও বরাক।১৯৪৭ সালে দেশ স্বাধীনতা লাভ করার পর শ্রীহটে্র করিমগঞ্জ,হাইলাকান্দি এবং এককালের স্বাধীন কাছাড় রাজ্য অসমের সাথে যুক্ত হয়।অথচ প্রাচীনকাল থেকেই এই অঞ্চল বাঙালি জনগণের স্বাভাবিক বাসভূমি ছিল।১৯৩১ এর জনগণনা অনুযায়ী এই অঞ্চলে বসবাসরত বাঙালির সংখ্যা ২৮,৪৮,৪৫৪ জন।আর অসমীয়াদের সংখ্যা ছিল ৩,৬৯২ জন।বরাকে বসবাসরত জনগণ কথা বলেন বাংলায়।খাদ্যাভাস ও সংস্কৃতিও বাঙালিদের মতোই।বরাকের বাঙালিরা প্রথম থেকেই সংখ্যালঘু অসমীয়াদের দাদাগিরির শিকার।সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালিদের সংখ্যা কমানোর জন্য ১৯৫০ সালে আসামে গড়ে উঠে বাঙাল খেদা আন্দোলন।বলার অপেক্ষা রাখেনা এ আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিল অসমীয়ারা।অবশ্য অসমীয়া জাতীয়তাবাদ সৃষ্টি এবং অসমীয়া ভাষাকে শিক্ষার মাধ্যমে ও সরকারি ভাষারূপে প্রতিষ্ঠা করার ইন্ধন জোগাতে ব্রিটিশ ও আমেরিকানদের যথেষ্ট ভূমিকা ছিল।১৯৬০ সালে অসম প্রদেশ কংগ্রেস সিদ্ধান্ত নেয় গোটা রাজ্যে শুধু অসমিয়া ভাষাই সরকারি স্বীকৃতি পাবে।অসমীয়ারা নিজেদের ভাষাকে রাজ্যের সরকারি ভাষা করার জন্য দাবি জানাতে থাকে এবং আন্দোলন শুরু করে।এই আন্দোলন পরিণত হয় বাঙালিদের গৃহদাহ,সম্পওি লুট ও নরহত্যায়।ঐ বছর ২৪ অক্টোবর আসাম বিধানসভায় পাশ হয় অসমিয়া ভাষা বিল।মুখ্যমন্ত্রী বিমলা প্রসাদ চালিহা অসমে বসবাসকারী ৪৩ লক্ষ মাতৃভাষা উপেক্ষা করে জোর করে অসমীয়া ভাষা চাপিয়ে দেয়।সরকারী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শুরু হয় প্রতিবাদ।ঐসময় ভাষা আন্দোলনের সুপ্তবীজ ছড়িয়ে পড়ে।অধ্যাপক শরৎ চন্দ্র নাথকে আহ্বায়ক করে প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হয়।পরবর্তী সময়ে ২-৩ জুন,শিলচরে চপলাকান্তের পৌরহিত্যে দু-দিনব্যাপী নিখিল আসাম বাংলা ভাষা সন্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।সন্মেলনে বাংলাকে সরকারি ভাষা হিসাবে প্রতিষ্ঠা করার দাবি জানানো হয়।এভাবেই বাংলা ভাষার স্বপক্ষে সরকারি ঘোষণার প্রতিবাদে আসামে চলতে থাকে নানা কর্মসূচি।সরকারী আইনের প্রতিবাদে ১৮-২০ নভেম্বর পন্ডিত রাজমোহন নাথের সভাপতিত্বে শিলচরে বিশাল সন্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।সন্মেলনে গৃহীত এক সিদ্ধান্তে বলা হয়,যদি এ আইন করে বাংলা ভাষাকে অসমীয়া ভাষার সমমর্যাদা দেওয়া না হয় তবে বাঙালি সমাজের মৌলিক অধিকার ও মাতৃভাষা রক্ষার্থে আসামের বাংলা ভাষা অধ্যুষিত অঞ্চল গুলোর বৃহত্তম আসাম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া অরিহার্য হয়ে পড়বে।ক্রমে ভাষা আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে করিমগঞ্জে,হাইলাকান্দি সহ বিস্তীর্ণ জনপদে।এ অবস্হায় ১৯৬১ এর ১৫ জানুয়ারি করিমগঞ্জ শহরে একটি সন্মেলন করা হয়।এই সন্মেলনে পৌরহিত্য করেন সাংসদ পন্ডিত শীলভদ্র মাঝি।রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে ওঠে দেশপ্রেমিক মানুষের ঐক্যমতের ভিত্তিতে এই সন্মেলনে গঠিত হয় গণসংগ্রাম পরিষদ।আইনজীবি আবদুল রহমান চৌধুরী পরিষদের সভাপতি ও নলিনীকান্ত দাস সম্পাদক মনোনীত হন।পরিষদের সভায় সিদ্ধান্ত হল-১৯ মে থেকে শুরু হবে শান্তিপূর্ণ,নিরস্ত্র আইন আমান্য আন্দোলন।১৯মের আগে থেকেই নিরাপত্তা বাহিনীতে ছেয়ে যায় বরাক উপত্যকা।১২ মে থেকেই সেনা কমান্ডে পরিচালিত আসাম রাইফেলস জওয়ানেরা শুরু করেন ফ্ল্যাগমার্চ।১৮ মে গ্রেফতার হন রবীন্দ্রনাথ সেন,নলিনীকান্ত দাশ,বিধুভূষণ চৌধুরী সহ ভাষা আন্দোলনের প্রথম সারির নেতারা।
১৯ মে সকাল ছয়টা।বরাকের সব কয়টি রাস্তায় উওাল জনস্রোত।সত্যাগ্রহীরা অহিংসভাবে হরতাল পালন করছিলেন।শিলচরেও শুরু হয় মহামিছিল।বরাকের ২০০ টির মতো স্হানে সত্যাগ্রহ হয়।প্রশাসন শিলচর জেলা কারাগার ছাড়াও আরও তিনটি অস্হায়ী কারাগার খোলে।একসময় আন্দোলন ভেস্তে দেওয়ার জন্য পুলিশ শিলচর রেলস্টেশনে কাঁদানে গ্যাস ছাড়ে।দুপুর ২টা ৩৫ মিনিট নাগাদ বিনা প্ররোচনায় সত্যাগ্রহীদের উপর পুলিশ গুলি ছুড়ে।এ ঘটনায় ১১ জন নিহত হন।আহত হন আরও ত্রিশ জন।নিহতরা হল-শচীন্দ্র মোহন পাল,হিতেশ বিশ্বাস,তরুণী দেবনাথ,চন্ডীচরণ সূত্রধর,কুমুদ রঞ্জন দাস,সুকোমল পুরকায়স্হ,কানাইলাল নিয়োগী,সুনীল সরকার,সত্যেন্দ্র কুমার দে ও বীরেন্দ্র সূত্রধর।সরকারী সান্ধ্য আইন তোয়াক্কা না করেই পরের দিন লক্ষ লক্ষ জনগণ বাংলাভাষার মর্যাদার দাবিতে রাস্তায় নামে।নারকীয় এ হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে টানা ২৮ দিন বধ্যভূমিতে সংগ্রাম চলে।কলকাতা থেকে বধ্যভূমিতে ছুটে আসেন প্রফুল্ল ঘোষ,ত্রিগুণা সেন,সিদ্ধার্থ শংকর রায়ের মতো নেতারা।এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে তৎকালীন মণিপুরী সম্প্রদায়ের বিধায়ক নন্দ কিশোর সিংহ আসাম বিধানসভার সদস্য পদ থেকে ইস্তফা দেন।শেষ পর্যন্ত আসাম সরকার বাংলাকে সরকারি ভাষার মর্যাদা দিলে আন্দোলন প্রত্যাহৃত হয়।যারা বুকের রক্ত দিয়ে মাতৃভাষাকে সন্মান জানাল,তাদের কি আমরা ভুলিতে পারি?যদিও নানা কারণে বরাকের ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস সম্পর্কে এই দেশের বৃহত্তর অংশের জনগণ ওয়াকিবহাল নন।একবিংশ শতকে ভাষা ও সংস্কৃতির বিপর্যয়ের মাঝেও প্রতিটি জাতিগোষ্ঠী তার নিজস্ব অস্তিত্বের জন্য সংগ্রাম করে চলছে।মাতৃভাষা প্রতিটি জাতিগোষ্ঠীর অহংকার।এ ভাষাতেই কবি রচনা করে অনবদ্য সৃষ্টি,বাউল একতারা বাজিয়ে নতুন সুরে গান গায়।কবির ভাষায় - "বিনে স্বদেশী ভাষা /মিটে কি মনের আশা।"
মাতৃভাষাকে হাতিয়ার করেই চীন ও রাশিয়ার জনগণ যুগান্তকারী সমাজবিপ্লব ঘটিয়েছে।বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অর্জন করেছে অভাবনীয় সাফল্য।
আর একারণেই প্রয়োজন আত্মানুসন্ধানের।অমর একুশের মতো উনিশে মে ও আমাদের অন্তত বারবার এ কথাই মনে করিয়ে দেয়-পৃথিবীর সকল ভাষার প্রতি সম্মান প্রদর্শনও সকল ভাষার বিকাশের মধ্যেই নিহিত রয়েছে অসীমান্তিক চেতনার সুর।
∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆
আমরা জানি বাংলা ভাষার গড় আয়ূ আড়াই হাজার বছরের বেশি।লিপির বয়স তিন হাজার বছর।বাংলা ভাষা উদ্ভব সম্পর্কে নানা মত রয়েছে।মাতৃভাষা বাংলাকে রক্ষা করার জন্য বার বার দামাল সন্তানেরা আত্মবলিদান দিয়েছেন।ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের ঘটনা ঘটে ভারতবর্ষের আসাম প্রদেশের বরাক উপত্যকায়।
আসাম মূলত দুই নদের অববাহিকা অঞ্চল।ব্রক্ষ্মপুএ ও বরাক।১৯৪৭ সালে দেশ স্বাধীনতা লাভ করার পর শ্রীহটে্র করিমগঞ্জ,হাইলাকান্দি এবং এককালের স্বাধীন কাছাড় রাজ্য অসমের সাথে যুক্ত হয়।অথচ প্রাচীনকাল থেকেই এই অঞ্চল বাঙালি জনগণের স্বাভাবিক বাসভূমি ছিল।১৯৩১ এর জনগণনা অনুযায়ী এই অঞ্চলে বসবাসরত বাঙালির সংখ্যা ২৮,৪৮,৪৫৪ জন।আর অসমীয়াদের সংখ্যা ছিল ৩,৬৯২ জন।বরাকে বসবাসরত জনগণ কথা বলেন বাংলায়।খাদ্যাভাস ও সংস্কৃতিও বাঙালিদের মতোই।বরাকের বাঙালিরা প্রথম থেকেই সংখ্যালঘু অসমীয়াদের দাদাগিরির শিকার।সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালিদের সংখ্যা কমানোর জন্য ১৯৫০ সালে আসামে গড়ে উঠে বাঙাল খেদা আন্দোলন।বলার অপেক্ষা রাখেনা এ আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিল অসমীয়ারা।অবশ্য অসমীয়া জাতীয়তাবাদ সৃষ্টি এবং অসমীয়া ভাষাকে শিক্ষার মাধ্যমে ও সরকারি ভাষারূপে প্রতিষ্ঠা করার ইন্ধন জোগাতে ব্রিটিশ ও আমেরিকানদের যথেষ্ট ভূমিকা ছিল।১৯৬০ সালে অসম প্রদেশ কংগ্রেস সিদ্ধান্ত নেয় গোটা রাজ্যে শুধু অসমিয়া ভাষাই সরকারি স্বীকৃতি পাবে।অসমীয়ারা নিজেদের ভাষাকে রাজ্যের সরকারি ভাষা করার জন্য দাবি জানাতে থাকে এবং আন্দোলন শুরু করে।এই আন্দোলন পরিণত হয় বাঙালিদের গৃহদাহ,সম্পওি লুট ও নরহত্যায়।ঐ বছর ২৪ অক্টোবর আসাম বিধানসভায় পাশ হয় অসমিয়া ভাষা বিল।মুখ্যমন্ত্রী বিমলা প্রসাদ চালিহা অসমে বসবাসকারী ৪৩ লক্ষ মাতৃভাষা উপেক্ষা করে জোর করে অসমীয়া ভাষা চাপিয়ে দেয়।সরকারী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শুরু হয় প্রতিবাদ।ঐসময় ভাষা আন্দোলনের সুপ্তবীজ ছড়িয়ে পড়ে।অধ্যাপক শরৎ চন্দ্র নাথকে আহ্বায়ক করে প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হয়।পরবর্তী সময়ে ২-৩ জুন,শিলচরে চপলাকান্তের পৌরহিত্যে দু-দিনব্যাপী নিখিল আসাম বাংলা ভাষা সন্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।সন্মেলনে বাংলাকে সরকারি ভাষা হিসাবে প্রতিষ্ঠা করার দাবি জানানো হয়।এভাবেই বাংলা ভাষার স্বপক্ষে সরকারি ঘোষণার প্রতিবাদে আসামে চলতে থাকে নানা কর্মসূচি।সরকারী আইনের প্রতিবাদে ১৮-২০ নভেম্বর পন্ডিত রাজমোহন নাথের সভাপতিত্বে শিলচরে বিশাল সন্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।সন্মেলনে গৃহীত এক সিদ্ধান্তে বলা হয়,যদি এ আইন করে বাংলা ভাষাকে অসমীয়া ভাষার সমমর্যাদা দেওয়া না হয় তবে বাঙালি সমাজের মৌলিক অধিকার ও মাতৃভাষা রক্ষার্থে আসামের বাংলা ভাষা অধ্যুষিত অঞ্চল গুলোর বৃহত্তম আসাম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া অরিহার্য হয়ে পড়বে।ক্রমে ভাষা আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে করিমগঞ্জে,হাইলাকান্দি সহ বিস্তীর্ণ জনপদে।এ অবস্হায় ১৯৬১ এর ১৫ জানুয়ারি করিমগঞ্জ শহরে একটি সন্মেলন করা হয়।এই সন্মেলনে পৌরহিত্য করেন সাংসদ পন্ডিত শীলভদ্র মাঝি।রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে ওঠে দেশপ্রেমিক মানুষের ঐক্যমতের ভিত্তিতে এই সন্মেলনে গঠিত হয় গণসংগ্রাম পরিষদ।আইনজীবি আবদুল রহমান চৌধুরী পরিষদের সভাপতি ও নলিনীকান্ত দাস সম্পাদক মনোনীত হন।পরিষদের সভায় সিদ্ধান্ত হল-১৯ মে থেকে শুরু হবে শান্তিপূর্ণ,নিরস্ত্র আইন আমান্য আন্দোলন।১৯মের আগে থেকেই নিরাপত্তা বাহিনীতে ছেয়ে যায় বরাক উপত্যকা।১২ মে থেকেই সেনা কমান্ডে পরিচালিত আসাম রাইফেলস জওয়ানেরা শুরু করেন ফ্ল্যাগমার্চ।১৮ মে গ্রেফতার হন রবীন্দ্রনাথ সেন,নলিনীকান্ত দাশ,বিধুভূষণ চৌধুরী সহ ভাষা আন্দোলনের প্রথম সারির নেতারা।
১৯ মে সকাল ছয়টা।বরাকের সব কয়টি রাস্তায় উওাল জনস্রোত।সত্যাগ্রহীরা অহিংসভাবে হরতাল পালন করছিলেন।শিলচরেও শুরু হয় মহামিছিল।বরাকের ২০০ টির মতো স্হানে সত্যাগ্রহ হয়।প্রশাসন শিলচর জেলা কারাগার ছাড়াও আরও তিনটি অস্হায়ী কারাগার খোলে।একসময় আন্দোলন ভেস্তে দেওয়ার জন্য পুলিশ শিলচর রেলস্টেশনে কাঁদানে গ্যাস ছাড়ে।দুপুর ২টা ৩৫ মিনিট নাগাদ বিনা প্ররোচনায় সত্যাগ্রহীদের উপর পুলিশ গুলি ছুড়ে।এ ঘটনায় ১১ জন নিহত হন।আহত হন আরও ত্রিশ জন।নিহতরা হল-শচীন্দ্র মোহন পাল,হিতেশ বিশ্বাস,তরুণী দেবনাথ,চন্ডীচরণ সূত্রধর,কুমুদ রঞ্জন দাস,সুকোমল পুরকায়স্হ,কানাইলাল নিয়োগী,সুনীল সরকার,সত্যেন্দ্র কুমার দে ও বীরেন্দ্র সূত্রধর।সরকারী সান্ধ্য আইন তোয়াক্কা না করেই পরের দিন লক্ষ লক্ষ জনগণ বাংলাভাষার মর্যাদার দাবিতে রাস্তায় নামে।নারকীয় এ হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে টানা ২৮ দিন বধ্যভূমিতে সংগ্রাম চলে।কলকাতা থেকে বধ্যভূমিতে ছুটে আসেন প্রফুল্ল ঘোষ,ত্রিগুণা সেন,সিদ্ধার্থ শংকর রায়ের মতো নেতারা।এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে তৎকালীন মণিপুরী সম্প্রদায়ের বিধায়ক নন্দ কিশোর সিংহ আসাম বিধানসভার সদস্য পদ থেকে ইস্তফা দেন।শেষ পর্যন্ত আসাম সরকার বাংলাকে সরকারি ভাষার মর্যাদা দিলে আন্দোলন প্রত্যাহৃত হয়।যারা বুকের রক্ত দিয়ে মাতৃভাষাকে সন্মান জানাল,তাদের কি আমরা ভুলিতে পারি?যদিও নানা কারণে বরাকের ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস সম্পর্কে এই দেশের বৃহত্তর অংশের জনগণ ওয়াকিবহাল নন।একবিংশ শতকে ভাষা ও সংস্কৃতির বিপর্যয়ের মাঝেও প্রতিটি জাতিগোষ্ঠী তার নিজস্ব অস্তিত্বের জন্য সংগ্রাম করে চলছে।মাতৃভাষা প্রতিটি জাতিগোষ্ঠীর অহংকার।এ ভাষাতেই কবি রচনা করে অনবদ্য সৃষ্টি,বাউল একতারা বাজিয়ে নতুন সুরে গান গায়।কবির ভাষায় - "বিনে স্বদেশী ভাষা /মিটে কি মনের আশা।"
মাতৃভাষাকে হাতিয়ার করেই চীন ও রাশিয়ার জনগণ যুগান্তকারী সমাজবিপ্লব ঘটিয়েছে।বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অর্জন করেছে অভাবনীয় সাফল্য।
আর একারণেই প্রয়োজন আত্মানুসন্ধানের।অমর একুশের মতো উনিশে মে ও আমাদের অন্তত বারবার এ কথাই মনে করিয়ে দেয়-পৃথিবীর সকল ভাষার প্রতি সম্মান প্রদর্শনও সকল ভাষার বিকাশের মধ্যেই নিহিত রয়েছে অসীমান্তিক চেতনার সুর।
∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆
রাস্তার মোড়ে শুনতে পেলাম
পাগলিটা নাকি গর্ভবতী!
মা হতে চলেছে!নিষ্পাপ মা!
চায়ের ঠেক থেকে শুরু করে হাটে বাজারে
খবরটা বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে।
আমাদের সতী পাগলী,
বয়স তিরিশোর্ধ, গায়ের রঙ বেশ পরিষ্কার,
রোগা ছিপছিপে গড়ন, কালো কুঁচকানো চুল,
মুখে সর্বদা এক চিলতে হাঁসি লেগে আছে,
মাঝে মধ্যে আপনমনে গুনগুনিয়ে গান করে,
আর খিদে পেলে পাশের হোটেলের সামনে।
হোটেল মালিক মহাদশয় বটে,
সতী পাগলীর দুইবেলার
অন্ন সংস্থান তিনিই করেন,
দোকানদারেরাও চা বিস্কুট দেন।
উদরপূর্তি হলে আস্তানার কোনে বসে
অপলক দৃষ্টিতে সভ্য সমাজের
চালচিত্র দেখতে থাকে আপন মনে,
আর মনে মনে কি সব ভাবতে থাকে।
দৈনিক যাত্রী হিসাবে আমরা কয়েকজন
কখনো কখনো পাঁচ দশটাকা দিয়ে থাকি
পুণ্য অর্জনের সদিচ্ছা নিয়ে।
সে কিন্তু যত্ন সহকারে মমতাময়ী আঁচলে
পরিশুদ্ধ সম্পর্কের বন্ধনে গিঁট দিয়ে আবদ্ধ রাখে।
সতী নামটা আমাদের দেওয়া,
কারন তার ব্যবহার মাধুর্যতায় আমরা মুগ্ধ,
পাগলিটা যেন আমাদের একজন।
ফেসবুকে ছবি তুলে দিয়েছি,
যদি রানু মন্ডলের মতো চমৎকার ঘটে
বাড়ীর লোকজন ফিরে পায় সতী।
কয়েকটা সহানুভূতিশীল কমেন্ট
আর কয়েকটা শেয়ার জুটলো কপালে।
বেশ কয়েক মাস আগে
হঠাৎ কালবৈশাখীর অকাল দেখা,
ঝড়ের তান্ডবে সব লন্ডভন্ড,পড়লো বাজ,
আর কপাল পুড়লো অভাগীটার।
অন্ধকারে সভ্য সমাজের কোন এক পিশাচের
খাদ্য হয়ে গেল আমাদের সতী।
আজ তার শরীরে মাতৃত্বের সূচনা,
কয়েক মাস বাদে সে হয়ে উঠবে
মমতাময়ী জননী।
পোড়ামুখী নিজেই বোঝেনা
সতীত্ব বিসর্জন কাকে বলে?
জানেনা কলঙ্ক কাকে বলে?
অন্ধকার কাকে বলে?
কিন্তু, কেন?
সতীকে কেন সতীত্ব বিসর্জন দিতে হবে
সভ্য সমাজের মদ্যপ লাম্পট্যের কাছে?
সতীকে কেন হার মানবে বারংবার
তার পাষানী জীবনের কাছে?
ভারতীয় সংবিধানে তার জন্য কোন আইন নেই,
তার জন্য কোন বিচার,কোন ধারা নেই,
তার জন্য কারুর অনুশোচনা নেই,
আছে শুধু উপহাস আর রসিকতা,
কারন সে রক্ত মাংসে গড়া পাগলী বলে?
পাগলিটা নাকি গর্ভবতী!
মা হতে চলেছে!নিষ্পাপ মা!
চায়ের ঠেক থেকে শুরু করে হাটে বাজারে
খবরটা বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে।
আমাদের সতী পাগলী,
বয়স তিরিশোর্ধ, গায়ের রঙ বেশ পরিষ্কার,
রোগা ছিপছিপে গড়ন, কালো কুঁচকানো চুল,
মুখে সর্বদা এক চিলতে হাঁসি লেগে আছে,
মাঝে মধ্যে আপনমনে গুনগুনিয়ে গান করে,
আর খিদে পেলে পাশের হোটেলের সামনে।
হোটেল মালিক মহাদশয় বটে,
সতী পাগলীর দুইবেলার
অন্ন সংস্থান তিনিই করেন,
দোকানদারেরাও চা বিস্কুট দেন।
উদরপূর্তি হলে আস্তানার কোনে বসে
অপলক দৃষ্টিতে সভ্য সমাজের
চালচিত্র দেখতে থাকে আপন মনে,
আর মনে মনে কি সব ভাবতে থাকে।
দৈনিক যাত্রী হিসাবে আমরা কয়েকজন
কখনো কখনো পাঁচ দশটাকা দিয়ে থাকি
পুণ্য অর্জনের সদিচ্ছা নিয়ে।
সে কিন্তু যত্ন সহকারে মমতাময়ী আঁচলে
পরিশুদ্ধ সম্পর্কের বন্ধনে গিঁট দিয়ে আবদ্ধ রাখে।
সতী নামটা আমাদের দেওয়া,
কারন তার ব্যবহার মাধুর্যতায় আমরা মুগ্ধ,
পাগলিটা যেন আমাদের একজন।
ফেসবুকে ছবি তুলে দিয়েছি,
যদি রানু মন্ডলের মতো চমৎকার ঘটে
বাড়ীর লোকজন ফিরে পায় সতী।
কয়েকটা সহানুভূতিশীল কমেন্ট
আর কয়েকটা শেয়ার জুটলো কপালে।
বেশ কয়েক মাস আগে
হঠাৎ কালবৈশাখীর অকাল দেখা,
ঝড়ের তান্ডবে সব লন্ডভন্ড,পড়লো বাজ,
আর কপাল পুড়লো অভাগীটার।
অন্ধকারে সভ্য সমাজের কোন এক পিশাচের
খাদ্য হয়ে গেল আমাদের সতী।
আজ তার শরীরে মাতৃত্বের সূচনা,
কয়েক মাস বাদে সে হয়ে উঠবে
মমতাময়ী জননী।
পোড়ামুখী নিজেই বোঝেনা
সতীত্ব বিসর্জন কাকে বলে?
জানেনা কলঙ্ক কাকে বলে?
অন্ধকার কাকে বলে?
কিন্তু, কেন?
সতীকে কেন সতীত্ব বিসর্জন দিতে হবে
সভ্য সমাজের মদ্যপ লাম্পট্যের কাছে?
সতীকে কেন হার মানবে বারংবার
তার পাষানী জীবনের কাছে?
ভারতীয় সংবিধানে তার জন্য কোন আইন নেই,
তার জন্য কোন বিচার,কোন ধারা নেই,
তার জন্য কারুর অনুশোচনা নেই,
কারন সে রক্ত মাংসে গড়া পাগলী বলে?
∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆
রোগ হলেই মনে পড়ে তারে,
অন্যথায় তার কথা রয়,ভাবনার অগোচরে।
একদা হয় সে ভগবান, কখনো বা যম,
ভগবান বা যম - সে তো আধ্যাত্মিক কথা!
ছোঁয়া যায় না তাদের,
একটু ভুল হলেই পড়ে মানুষ তারে ধরে মারে।
চিকিৎসা করে বাঁচালে পরে,
ধন্যবাদ জোটে থরে থরে।
অন্যথায় তার কথা রয়,ভাবনার অগোচরে।
একদা হয় সে ভগবান, কখনো বা যম,
ভগবান বা যম - সে তো আধ্যাত্মিক কথা!
ছোঁয়া যায় না তাদের,
একটু ভুল হলেই পড়ে মানুষ তারে ধরে মারে।
চিকিৎসা করে বাঁচালে পরে,
ধন্যবাদ জোটে থরে থরে।
এই করোনা শেখালো মোদের
তাদের আসল গুরুত্ব,
নিজের জীবন তুচ্ছ করে
তারা ঠেকাচ্ছেন মরত্ব।
তারাও মানুষ, ভুলে যেও না মোটে
দিনের শেষে তাদের চোখেও ঘুমটি এসে জোটে।
তাদের আসল গুরুত্ব,
নিজের জীবন তুচ্ছ করে
তারা ঠেকাচ্ছেন মরত্ব।
তারাও মানুষ, ভুলে যেও না মোটে
দিনের শেষে তাদের চোখেও ঘুমটি এসে জোটে।
সহোদরা নাই বা হল,সিস্টার বলেই ডাকো;
তাদেরকেও একটু সুরক্ষা দিয়ে আগলে তোমরা রাখো...
মাথার ঘাম পায়ে ফেলে তারা,খাটছে দিবারাত্র
তোমরা তাদের জীবনটাকে বানিও না দয়ার পাত্র।
তাদেরও তো সংসার আছে, ফিরতে হবে বাড়িতেই,
কোয়ারেন্টাইনে সুস্থ থাকো নিজের দায়িত্বেই।।
তাদেরকেও একটু সুরক্ষা দিয়ে আগলে তোমরা রাখো...
মাথার ঘাম পায়ে ফেলে তারা,খাটছে দিবারাত্র
তোমরা তাদের জীবনটাকে বানিও না দয়ার পাত্র।
তাদেরও তো সংসার আছে, ফিরতে হবে বাড়িতেই,
কোয়ারেন্টাইনে সুস্থ থাকো নিজের দায়িত্বেই।।
বিঃদ্রঃ-(Stay home and save your life)
∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆
এক গাঁয়ে এক রাখাল ছিল
বারেক যে তার নাম,
গরু-মহিষ চড়াতো সে-
ঝড়িয়ে দেহের ঘাম।
বারেক যে তার নাম,
গরু-মহিষ চড়াতো সে-
ঝড়িয়ে দেহের ঘাম।
মহিষ-গরুর পাল নিয়ে সে
নিত্য মাঠে যায়,
মহিষ-গরুর পেট উঁচিয়ে
ফিরতো সে সন্ধায়।
নিত্য মাঠে যায়,
মহিষ-গরুর পেট উঁচিয়ে
ফিরতো সে সন্ধায়।
এমন করে বারেক মিয়া'র
দিন কেটে যায় বেশ,
দিনের পরে দিন কেটে যায়
সুখের নেইকো শেষ!
দিন কেটে যায় বেশ,
দিনের পরে দিন কেটে যায়
সুখের নেইকো শেষ!
কিন্তু হঠাৎ ফিরে আসে-
এমনি এক দিন,
যে দিনে সে হারিয়ে ছিল-
স্বপ্ন যে রঙ্গীন!
এমনি এক দিন,
যে দিনে সে হারিয়ে ছিল-
স্বপ্ন যে রঙ্গীন!
প্রতিদিনের মত সে দিন
গিয়েছিল মাঠে,
না জানে কোন কালনাগিনী
তাহার পা কাটে!
গিয়েছিল মাঠে,
না জানে কোন কালনাগিনী
তাহার পা কাটে!
নিথর দেহে রইলো পরে-
বারেক মিয়া গাঁয়,
পাথর হল গাঁয়ের মানুষ-
শোকেরি ছাঁয়ায়!
বারেক মিয়া গাঁয়,
পাথর হল গাঁয়ের মানুষ-
শোকেরি ছাঁয়ায়!
সেদিন হতে সে গাঁয়ে আর
নেইকো হাসির ঢল,
গাঁয়ের লোকের অশ্রুবিন্দু
চোঁখে ছলো ছল!
নেইকো হাসির ঢল,
গাঁয়ের লোকের অশ্রুবিন্দু
চোঁখে ছলো ছল!
∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆
দেশটা আমার অনেক বড়
সমুদ্র,পাহাড় পর্বত দিয়ে ঘেরা।
হৃদয়টিও যে বিশাল মাপের
তবে পরিযায়ীরা কেন দিশেহারা?
সমুদ্র,পাহাড় পর্বত দিয়ে ঘেরা।
হৃদয়টিও যে বিশাল মাপের
তবে পরিযায়ীরা কেন দিশেহারা?
বিচিত্র এই গৌরবময় দেশে
খাদ্যের কোন অভাব নাই।
শতকোটি প্রাণের ভূ- ভারতে
তাদের অন্ন তুলে দিও ভাই।।
খাদ্যের কোন অভাব নাই।
শতকোটি প্রাণের ভূ- ভারতে
তাদের অন্ন তুলে দিও ভাই।।
পাড়ায় অাবার দেয়না ঢুকতে
নিজেকে লাগছে বড় অসহায়।
চিকিৎসা কেন পাবো না তারা?
এই মহান শ্রেষ্ঠ ভারত সভায়!
নিজেকে লাগছে বড় অসহায়।
চিকিৎসা কেন পাবো না তারা?
এই মহান শ্রেষ্ঠ ভারত সভায়!
তোমরা কেউ রাজার পক্ষে
কেউ বা শুধুই বিরোরীতায় মগ্ন।
জাঁতা কলের অত্যাচারে অার-
চাপাচাপিতে পরিযায়ী হয়েছে রুগ্ন।।
কেউ বা শুধুই বিরোরীতায় মগ্ন।
জাঁতা কলের অত্যাচারে অার-
চাপাচাপিতে পরিযায়ী হয়েছে রুগ্ন।।
পরিযায়ী তাই,নিতান্ত ক্ষুদ্র ভেবে
কেন খোলা চোখে হয়েছো অন্ধ?
দিল্লি,মুম্বাই, গুজরাট,হে বঙ্গ!
টের পাবে ঢের কাজ হলে বন্ধ।।
কেন খোলা চোখে হয়েছো অন্ধ?
দিল্লি,মুম্বাই, গুজরাট,হে বঙ্গ!
টের পাবে ঢের কাজ হলে বন্ধ।।
তোমরা যেটা ব্যবহার করো
যারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কয়।
পরিযায়ীর রক্ত জলে তৈরি সেটা,
তবে,সহানুভূতি কেন প্রাপ্য নয়?
∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆
যারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কয়।
পরিযায়ীর রক্ত জলে তৈরি সেটা,
তবে,সহানুভূতি কেন প্রাপ্য নয়?
∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆
রণক্ষেত্রে সে আজকের নারী
থাকবে কি চুপ করে....?
দুঃখ-সুখে সুখ নেবে খুঁজে।
বদ্ধ উঠোনে রবেনা বন্দী
দেখবে ঘুরে বিশ্বপ্রকৃতি।
অন্যের রঙে রাঙবেনা যে,
রঙের ফুলঝুড়ি সে।
থাকবে কি চুপ করে....?
দুঃখ-সুখে সুখ নেবে খুঁজে।
বদ্ধ উঠোনে রবেনা বন্দী
দেখবে ঘুরে বিশ্বপ্রকৃতি।
অন্যের রঙে রাঙবেনা যে,
রঙের ফুলঝুড়ি সে।
মা-র স্নেহে স্নেহময়ী
প্রয়োজন সংহার মূর্তি মাতঙ্গিনী।
শিক্ষিত হয়ে গড়বে ভারত
অসীম নদী, সাগর, ইমারত।
গুণীর গুণী, দুস্তের দোস্ত।
রণক্ষেত্রে সে আজকের নারী
থাকবে কি চুপ করে....?
প্রয়োজন সংহার মূর্তি মাতঙ্গিনী।
শিক্ষিত হয়ে গড়বে ভারত
অসীম নদী, সাগর, ইমারত।
গুণীর গুণী, দুস্তের দোস্ত।
রণক্ষেত্রে সে আজকের নারী
থাকবে কি চুপ করে....?
স্বপ্নেরি রং সাদা হয়
স্বপ্নের রং সাদা !
সাদা কালোয় ধূসর হলো
রং দাও আধা আধা ;
মনের রঙে রাঙাতে যে চাই
বেরঙ দুনিয়াটা,
মরুর বুকে শুধু দেখা যায়
ঊষর এ চোরকাঁটা!
ময়লা সবই, এটাই বোধহয়
আজকালকার ধাঁধা;
স্বপ্নের রং সাদা রে ভাই
স্বপ্নেরই রং সাদা !!
স্বপ্নের রং সাদা !
সাদা কালোয় ধূসর হলো
রং দাও আধা আধা ;
মনের রঙে রাঙাতে যে চাই
বেরঙ দুনিয়াটা,
মরুর বুকে শুধু দেখা যায়
ঊষর এ চোরকাঁটা!
ময়লা সবই, এটাই বোধহয়
আজকালকার ধাঁধা;
স্বপ্নের রং সাদা রে ভাই
স্বপ্নেরই রং সাদা !!
∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆
যে ভাষা দিয়েছে বাঙালি চলার পথ।
যে ভাষা বাঙালির কাছে আত্ম প্রাণ।
যে ভাষা বাংলা মায়ের কাছে হয়ে উঠেছে প্রোজ্জ্বল
সেই ভাষাইএলো মাতৃভাষা।
যে ভাষার অধিকারী ঢাকার রাজপথে সালাম রফিক বরকত দিয়েছে প্রাণ হয়েছে শহীদ।
আহামরি মাতৃভাষা
এই হল আমার বাংলা ভাষা
এই হলো আমার প্রানের ভাষা।
∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆
যে ভাষা বাঙালির কাছে আত্ম প্রাণ।
যে ভাষা বাংলা মায়ের কাছে হয়ে উঠেছে প্রোজ্জ্বল
সেই ভাষাইএলো মাতৃভাষা।
যে ভাষার অধিকারী ঢাকার রাজপথে সালাম রফিক বরকত দিয়েছে প্রাণ হয়েছে শহীদ।
আহামরি মাতৃভাষা
এই হল আমার বাংলা ভাষা
এই হলো আমার প্রানের ভাষা।
∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆
তোর সাথে ছড়ানো দূরত্বে,
কেটে যাচ্ছে দিন,
তেল রঙা কাঠ পালঙ্কে, চতুরাশ্রমের ক্ষানিকটা সময়।
চেলি সিঁদুরে, বিলিকাটা
বিচ্ছেদ দূরত্ব ; এঁকেছে
বিছানার এপাশ - ওপাশ।
খরগোশ আর কচ্ছপের দূরত্বে,
'কর্পোরেট গ্লোবালে' জীবিকা জীবনের
ক্যারিয়ার দৌড়।
গার্হস্থের 'সিন্ডিকেট' লাইনে
ছোঁয়া-ছুঁয়ি দূরত্বে,
আমরা রৌদ্র মাখি অজান্তে,
বানপ্রস্থের মালবাহী বগি
এখন আমাদের ঠিক মাঝ খানে;
স্টেশন যাত্রী সবাই,
বসে আছি ছড়ানো দূরত্বে।
∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆
কেটে যাচ্ছে দিন,
তেল রঙা কাঠ পালঙ্কে, চতুরাশ্রমের ক্ষানিকটা সময়।
চেলি সিঁদুরে, বিলিকাটা
বিচ্ছেদ দূরত্ব ; এঁকেছে
বিছানার এপাশ - ওপাশ।
খরগোশ আর কচ্ছপের দূরত্বে,
'কর্পোরেট গ্লোবালে' জীবিকা জীবনের
ক্যারিয়ার দৌড়।
গার্হস্থের 'সিন্ডিকেট' লাইনে
ছোঁয়া-ছুঁয়ি দূরত্বে,
আমরা রৌদ্র মাখি অজান্তে,
বানপ্রস্থের মালবাহী বগি
এখন আমাদের ঠিক মাঝ খানে;
স্টেশন যাত্রী সবাই,
বসে আছি ছড়ানো দূরত্বে।
∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆
আমার চেতনায় তোমার ভালবাসা ভোরের প্রথম আলো দেখায়,
আমার ভাবনায় তোমার জড়তা ভরে দেয় কামনায়,
আমার ক্যানভাসে তোমার হাসি স্বস্তির ছবি আঁকে,
আমার মননে তোমার নজর সুখপাখিকে ডাকে,
আমার হৃদয়ে তোমার কবিতা সৃষ্টি করে ছন্দ,
আমার আলিঙ্গনে তোমার আতঙ্ক জাগায় ভাল-মন্দ,
আমার নিঃশ্বাস তোমার শরীরে তোলে এক কম্পন,
আমার আদরে তোমার মননে অদ্ভুত এক শিহরণ,
আমার কাছে যাওয়া তোমার কাছে হয়তো না -মানা,
আমার ভালবাসায় তোমার ভালবাসা সত্যিই কি বেদনা?
আমার এই কবিতা তোমার কাছে স্বীকৃতি পাওয়ার নয়,
আমার চাহিদায় হবেই হবে প্রকৃত ভালবাসার জয়!
আমার ভাবনায় তোমার জড়তা ভরে দেয় কামনায়,
আমার ক্যানভাসে তোমার হাসি স্বস্তির ছবি আঁকে,
আমার মননে তোমার নজর সুখপাখিকে ডাকে,
আমার হৃদয়ে তোমার কবিতা সৃষ্টি করে ছন্দ,
আমার আলিঙ্গনে তোমার আতঙ্ক জাগায় ভাল-মন্দ,
আমার নিঃশ্বাস তোমার শরীরে তোলে এক কম্পন,
আমার আদরে তোমার মননে অদ্ভুত এক শিহরণ,
আমার কাছে যাওয়া তোমার কাছে হয়তো না -মানা,
আমার ভালবাসায় তোমার ভালবাসা সত্যিই কি বেদনা?
আমার এই কবিতা তোমার কাছে স্বীকৃতি পাওয়ার নয়,
আমার চাহিদায় হবেই হবে প্রকৃত ভালবাসার জয়!
∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆
প্রবন্ধ
মুখে মাখার ক্রিম সম্পর্কে আলোচনা !
(দ্বিতীয় পর্ব)
✍✍✍✍✍ রাজা দেবরায়
প্রবন্ধ
মুখে মাখার ক্রিম সম্পর্কে আলোচনা !
(দ্বিতীয় পর্ব)
✍✍✍✍✍ রাজা দেবরায়
মুখে মাখার ক্রিমগুলো বিশেষত ক্লিনজিং ক্রিমগুলো মুখের ময়লা পরিষ্কার করতে সাহায্য করে মূলত মিনারেল তেলটির উপস্থিতির জন্য । কিন্তু এর বেশি ব্যবহার মুখের চামড়ায় থাকা চর্বি গলিয়ে দেয় । তাই সাবধানতা অবশ্যই প্রয়োজন । অনেকেই ক্রিম দিয়ে মুখটি পরিষ্কার করার পর দ্বিতীয়বার এটি ব্যবহার করে যাতে মুখের তৈলাক্ত ভাবটি বজায় থাকে । কিন্তু শরীরের চর্বি, যা কিছুটা নষ্ট হয়ে যায় এই ধরনের ক্রিম ব্যবহারের ফলে, তা কিন্তু এভাবে ফেরানো যায় না । কারণ এই ক্রিমগুলোতে ব্যবহৃত তেল মানুষের শরীরের চর্বি থেকে গুণগতভাবে আলাদা । তাছাড়া এই ক্রিমগুলোর আরো একটা অসুবিধা হলো যে, মুখের তেলতেলে ভাবটা কখনোই পুরোপুরি মুছে ফেলা যায় না । অথচ খুব সহজেই মুখের ময়লা মুছে ফেলা যায় কোন সাবান ব্যবহার করে । এতে খরচ অনেক কম হয় । অবশ্য অনেকের ক্ষেত্রে মুখের চামড়ায় খসখসে ভাব আসে । সেক্ষেত্রে মুখ ভালো করে সাবান দিয়ে ধোয়ার পর যেকোন ভেষজ তেল ব্যবহার করা যেতে পারে এবং সেটাই হবে শরীরের পক্ষে অনেক স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া ।
অবশ্য ক্রিম ব্যবহারের অন্য যে কারণগুলো রয়েছে তা হলো - বাইরের ধুলোময়লা, রোদ বা শুষ্কতার হাত থেকে বাঁচানো । এটা ঠিকই, এতে ব্যবহৃত তেল বা চর্বি মুখের ওপর একটি আবরণ গড়ে তোলে এবং চামড়ার থেকে জলীয় বাষ্প দূরীকরণে বাধা দেয় । ফলে বিশেষত শীতকালে চামড়া ফাটা বন্ধ হয় । রোদের খুব প্রকোপকে কিছুটা আড়াল দিয়ে রাখে এই আবরণ । কিন্তু অধিকাংশ ক্রিমের তৈলাক্ত ভাব কার্যত ধুলোময়লাকে আটকে রাখতেই সাহায্য করে বিশেষত ধুলোবালি অধ্যুষিত শহরাঞ্চলে । এখানে আর একটা কথা বলে নিই, কোল্ড ক্রিমগুলোরও তেমন কোন বিশেষত্ব নেই (অনেকে দাবি করেন যে, এতে ল্যানোলিন ব্যবহৃত হচ্ছে যা শরীরের নিজস্ব চর্বির কাছাকাছি) । আর ভ্যানিশিং ক্রিমগুলো সম্পর্কেও একটা কথা বলার আছে - এগুলো বেশি ব্যবহার করলে চামড়ায় জ্বালা জ্বালা ভাব অনুভূত হতে পারে কারণ এগুলো আবার চামড়া থেকে জলীয় পদার্থ শোষণ করে ।
ভ্যানিশিং ক্রিম মেকআপ আমাদের দেশে বহুল প্রচলিত হলেও বাইরের দেশে মেকআপের জন্য অন্য অনেক কিছু (যেখানে ভ্যানিশিং ক্রিম মেখে মুখে একটি আবরণী ফেলে মেকআপ করার দরকার হয় না) মার্কেটে চলে এসছে যা সরাসরি মুখে লাগানো যায় ।
ভালোবাসা আজ যুদ্ধে নেমেছে।
দুরুদুরু বুকে আতঙ্কের অভিযান,
প্রসবিত হয় বিষাদ,জাহেলিয়াতের অন্ধকার।
দুরুদুরু বুকে আতঙ্কের অভিযান,
প্রসবিত হয় বিষাদ,জাহেলিয়াতের অন্ধকার।
বেদনা সুদীপ্ত সূর্য হয়ে জ্বলে ওঠে মাথার উপরে।
কে যেন লাঠি,ছুরি দিয়ে আঘাত করে মানবতায়।
গলে গলে রক্ত পড়ে মায়ের আঁচলে,
শূন্য,বিদীর্ণ হয়ে নিথর পড়ে থাকে সম্প্রীতির মাটি।
কে যেন লাঠি,ছুরি দিয়ে আঘাত করে মানবতায়।
গলে গলে রক্ত পড়ে মায়ের আঁচলে,
শূন্য,বিদীর্ণ হয়ে নিথর পড়ে থাকে সম্প্রীতির মাটি।
মন ভালো নেই,
মন ভালো নেই।
মন ভালো নেই।
দমবন্ধ হয়ে আসে বিষবাস্পে,
শহর জুড়ে দাঙ্গার দূষণ
অথচ অনাদিকাল ধরেই শঙ্খ,আজানের আওয়াজে বিমোহিত হয় গোধূলিবেলা।
শহর জুড়ে দাঙ্গার দূষণ
অথচ অনাদিকাল ধরেই শঙ্খ,আজানের আওয়াজে বিমোহিত হয় গোধূলিবেলা।
এবার শান্তি দাও,ভালোবাসা দাও আমাকে।
একরাশ ভীড় ঠেলে নীরবে
খুঁজবে যেদিন-
শেষ শ্রদ্ধাজ্ঞাপন হেতু
পুষ্পস্তবক হাতে।
শত কোলাহলে বিদীর্ণ আকাশ-বাতাস
সুগন্ধি ধূপে মুখরিত হবে।
নিজেকে একলা লাগবে তোমার-
তবে যেন তোমার চাহনিতে,
আমার টলমল স্বপ্নগুলো;
ছলছল না করে ওঠে।
সামলে রেখো তুমি-
ছিঁড়ে যাওয়া মেঘের মত
বিধ্বস্ত স্বপ্নগুলো,
দমকা হাওয়ায় আর
জোড়া লাগবে না জেনেও,
সময়ের জাল বুনে
বৃথা চেষ্টা করো না।
অনেকটা সময় অতিক্রান্ত-
চিমনির কালো ধোঁয়ায়
স্বপ্নগুলো পুঞ্জীভূত হয়ে,
আকাশের বুক চিরে
নিজের পরিধি বিস্তার করেছে।
মুক্ত বিহঙ্গের ন্যায় তুমিও
স্বপ্নগুলোকে ডানা মেলতে দাও-
আগামীর আকাশে।
🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻
খুঁজবে যেদিন-
শেষ শ্রদ্ধাজ্ঞাপন হেতু
পুষ্পস্তবক হাতে।
শত কোলাহলে বিদীর্ণ আকাশ-বাতাস
সুগন্ধি ধূপে মুখরিত হবে।
নিজেকে একলা লাগবে তোমার-
তবে যেন তোমার চাহনিতে,
আমার টলমল স্বপ্নগুলো;
ছলছল না করে ওঠে।
সামলে রেখো তুমি-
ছিঁড়ে যাওয়া মেঘের মত
বিধ্বস্ত স্বপ্নগুলো,
দমকা হাওয়ায় আর
জোড়া লাগবে না জেনেও,
সময়ের জাল বুনে
বৃথা চেষ্টা করো না।
অনেকটা সময় অতিক্রান্ত-
চিমনির কালো ধোঁয়ায়
স্বপ্নগুলো পুঞ্জীভূত হয়ে,
আকাশের বুক চিরে
নিজের পরিধি বিস্তার করেছে।
মুক্ত বিহঙ্গের ন্যায় তুমিও
স্বপ্নগুলোকে ডানা মেলতে দাও-
আগামীর আকাশে।
🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻
©সেক আসাদ আহমেদসম্পাদক, উপকণ্ঠতাং- 19/05/2020, মঙ্গলবার
স্থান:- গাংপুরা, পূর্ব মেদিনীপুর















বাহ, খুব ভালো লাগলো। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
ReplyDeleteবাহ্ সুন্দর আয়োজন
ReplyDelete