Tuesday, May 19, 2020

উপকণ্ঠ প্রাত্যহিক ওয়েব ম্যাগাজিন-20/05/2020

"উপকণ্ঠ প্রাত্যহিক বিভাগ"

                       (ওয়েব ম্যাগাজিন)      
        প্রকাশ কাল:-20/05/2020, বুধবার
                    সময় :- সকাল 6 টা 

সম্পাদক এবং
প্রকাশক:-    সেক আসাদ আহমেদ
যুগ্ম সহঃ সম্পাদক :-
                  ১) ইমরান খাঁন 
                  ২) শেখ মণিরুল ইসলাম

সম্পাদকীয় দপ্তর ::-
গ্রাম:- গাংপুরা ডাকঘর:- সাগরেশ্বর
থানা:- রামনগর জেলা:- পূর্ব মেদিনীপুর
সূচক-৭২১৪৪৬ পশ্চিমবঙ্গ ভারত
✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍

আমাদের ফেসবুক আইডি:- 
           Upokontha Sahitya Patrika 

Facebook link 🔗🔗🔗
https://www.facebook.com/upokonthasahitya.patrika

সম্পাদকের ফেসবুক আইডি :-
         Sk Asad Ahamed

Facebook link 🔗🔗🔗
https://www.facebook.com/asat.sk

যোগাযোগ:- 9593043577 (What's app)
                     8122817680 (মণিরুল) 

বিশেষ দ্রষ্টব্য:-

আগামী কাল থেকে অর্থাৎ 21/05/2020 , বৃহস্পতিবার থেকে 24/05/2020, রবিবার পর্যন্ত উপকণ্ঠের  "ঈদ সংখ্যা " প্রকাশনার কাজ চলবে তাই প্রাত্যহিক ওয়েব ম্যাগাজিনের " উপকণ্ঠ প্রাত্যহিক বিভাগ" প্রকাশিত হবে না। 
আগামী 25/05/2020 , সোমবার থেকে উপকণ্ঠ প্রাত্যহিক বিভাগ নিয়মিত প্রকাশিত হবে। ইনশাআল্লাহ। 
                           ধন্যবাদান্তে
                        ইমরান খাঁন 
                 শেখ মণিরুল ইসলাম
    যুগ্ম সহঃ সম্পাদক, উপকণ্ঠ সাহিত্য পত্রিকা। 🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻

                       কিছু কথা


উপকণ্ঠ সাহিত্য পত্রিকা নতুন প্রতিভার সন্ধান করে থাকে। নবীন প্রবীণ, খ্যাত অখ্যাত সকল প্রকার কবি সাহিত্যিকদের লেখনী তুলে ধরা হয় এই ব্লগের মাধ্যমে, অবশ্যই সাধুবাদ ও হৃদয়ের অন্তঃস্থল থেকে ভালোবাসা জানাই সেই সকল কলমচিদের যাদের লেখনী স্রষ্টায় সমৃদ্ধ হয়েছে আজকের উপকণ্ঠ প্রাত্যহিক বিভাগ। 

তাদের লেখনী সত্ত্বার আরও বিকাশ হোক এই কামনা করি। 
আজকে এই বিভাগে সমসাময়িক কালীন বিষয়ে  উপর সুমন ভট্টাচার্য  এর প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।
সবাই কে পড়ার অনুরোধ রইল। 
প্রিয় পাঠক বন্ধুরা উপকণ্ঠ প্রাত্যহিক বিভাগ সবার কেমন লাগছে, ভালো খারাপ, ভুল-ত্রুটি , ভালো পরামর্শ অবশ্যই নির্দ্বিধায় আপনার মতামত জানাবেন। যা আমাদের অনুপ্রেরণা ও উদ্যম বাড়াবে। 

সবাই ভালো থাকুন আর সুস্থ থাকুন। 


                                     ধন্যবাদান্তে
                            সেক আসাদ আহমেদ
🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻


উপকণ্ঠ প্রাত্যহিক বিভাগ


আজকে যারা কলম ধরেছেন ✒✒✒✒✒✒✒✒✒✒✒
কবিতা:-
১) জুয়েল রুহানি 
২)সম্রাজ্ঞী কোনার
৩)ঋদেনদিক মিত্রো
৪)বদরুদ্দোজা শেখু
৫) রমলা মুখার্জী
৬)কৌস্তভ ঘোষ
 ৭) তীর্থঙ্কর সুমিত
৮) বিশ্বজিৎ কর
৯) আব্দুল রাহাজ
১০) সোহিনী শবনম
১১) অগ্নিমিত্র ( ডঃ সায়ন ভট্টাচার্য)
১১) প্রদীপ কুমার দে
১২) প্রশান্ত মাইতি
১৩) দেবনাথ সাঁতরা
নিবন্ধ:-
  ১৪) সুমন ভট্টাচার্য

🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻


"উপকন্ঠ প্রাত্যহিক বিভাগ"
 "প্রলাপ"
✍✍✍ জুয়েল রূহানী


এই দুনিয়ায় মন্দ ভালো
সাদার চেয়ে কালো ভালো
আলোক ভরা ঘরের চেয়ে
আঁধার ঘেরা ঘরই ভালো!

মিথ্যা কথা শুনতে ভালো
সত্য কথায় কান ঝাঁঝালো!
পরিপাটির চেয়ে যেন-
ভালো লাগে এলো-মেলো!

নিজের চেয়ে পরই ভালো
আপন মানুষ পথ হারালো,
সহজ থেকে কঠিন ভালো
কাছের চেয়ে দূরেই ভালো!

সুন্দরে না মন বসালো!
অসুন্দরই যেন ভালো,
মায়ের চেয়ে মাসি ভালো-
নেশাতে সব গা ভাসালো!

বন্ধু তো নয় শত্রু ভালো
শিক্ষত নয় মূর্খ ভালো,
সাধুর চেয়ে চোরই ভালো
কর্মী সে নয় অলস ভালো!

পাগল তো সব বকে গেলো
আপন মনে; প্রলাপ গুলো,
এসব মেনে ভেঙ্গ না কেউ -
জীবনেরই স্বপ্ন গুলো!

✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍

বিশ্বাস

✍✍✍ সম্রাজ্ঞী কোনার

রাজা মরে যায় ,
রাজত্ব চলে যায় ,
রাজপ্রাসাদ ধসে যায় ,
মন্দির ভেঙে যায় ,
সময় বয়ে যায় ,
তবু মানুষের
ঈশ্বরে বিশ্বাস মরে না !
✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍

গ্রাম নিয়ে একটি কবিতা   
✍✍✍ ঋদেনদিক মিত্রো 

গ্রাম নিয়ে  কবিতা---
লেখা যায় যদি তা, 
লিখে ফেলো দেখি খাল-বিল,
লিখে ফেলো নদী-নালা- বক-গাঙ চিল,
লিখে ফেলো নৌকোয় মাঝি গাহে গান,
বাতাসেতে ভেসে আসে, শুনে ভরে প্রাণ!
                   এই হলো গ্রাম !

লিখে ফেলো ভোরে পাখি কিচির মিচির,
ঘাসের ওপর রোদ সঙ্গে শিশির,
লিখে ফেলো পুকুরেতে ঝাঁপ দিয়ে স্নান,
লিখে ফেলো গুরুজনে  নম্র প্রণাম,
লিখে ফেলো ইস্কুল--গাছ ঘেরা ঘর,
ওপরেতে কিছু টালী,  কিছু টিন,  খড়,
ভিতরেতে শিক্ষক গন  বই নিয়ে---
কোথায় ভাসিয়ে দেন পড়া বুঝিয়ে,
জানালাটা দিয়ে দেখো গরু বা ছাগল,
দূরে মাঠে চোরে যায়,  ছায়া তরু-তল,
কোথাও বা মেলা,  খেলা,  যাত্রা পালা,
কারো বাড়ি উৎসব,  খাও প্রাণ-ঢালা,
অলি গলি রোদ -ছায়া,  হাঁটি কী আরাম,
                   এই হলো গ্রাম !

ষড়ঋতু খেলে যায় যে-যার নিয়ম,
প্রকৃতির রূপ দেখো একা নির্জন,
কতো কী পুরানো বই নিয়ে আলোচনা,
প্রবাদ বাক্য আর কতো উপমা,
রাতের দাওয়ায় খেলে জোৎস্না -হাওয়া,
দিদার মুখেতে রূপ কথা,  ভেসে যাওয়া,
ছেড়ে দাও বিদ্যুৎ, হেরিকেন আনো,
লম্ফো ও লণ্ঠন,  গ্রাম মানে জানো !
কতো কী যে পিঠে পুলি,  ভাজা, চচ্চড়ি,
মুড়ি,  ছিঁড়ে, খই,  চালভাজা,  ভাজা বড়ি, 
প্রতিবেশি-প্রতিবেশী-- কী মধুর যোগ,
ঝগড়া ভুলেই ডাকে এলে উৎসব,
সুস্থ জীবন বড়,  নহে যস,  নাম,
                   এই হলো গ্রাম !
✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍

বোগেনভেলিয়া 
✍✍✍ বদরুদ্দোজা শেখু


জানালা খুলেই পাশের বাড়ি, বোগেনভেলিয়ায় ঢাকা
ফুলে ফুলে দেখতে দূরের ছবির মতো আঁকা----
শাখা প্রশাখা শীতল হাওয়ায় দোল খায় দোল খায়
দুলতে থাকে পুষ্পলতা গুচ্ছ-থোকা থোকায়,
আনন্দ ছায় মনন -সভায় যেন হৃদয়-কানন
সুন্দরের সংকীর্তনে উপচায় উচ্চারণ
দোয়েল শ্যামা স্বপ্ন দ্যাখে ফাঁকফোকরে ব'সে
উড়ে আসে কি উড়ে যায় কেউ আপনার হরষে,
চড়ুই পাখি গেরস্থ বেশ--- সরেস খুনসুটি
করে দুজন মগ্ন মোহন শাখায় লুটোপুটি
চাগিয়ে উঠি দেখতে দেখতে সেই আনন্দলোক
ধন্য মানি, ভোরের আলোয় ধন্য হলো চোখ,
মর্ত্যলোকে কি অমর্ত্যধাম এই ফুলদাম গড়ে ?
দাঁড়িয়ে থাকি বিহ্বল হিয়ায় অমল অবসরে
থরে থরে থোকা থোকা বোগেনভেলিয়া ফুলে
হৃদয় আমার দুলতে থাকে রাতবিরেতেও দুলে ;
দৃশ্যদূষণ মোচন করে , সেচন করে সুধায়
আঁখির তারায়, পাড়ায় পাড়ায় বিপন্ন বসুধায় !!
✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍

বিরিয়ানির রেসিপি, ফ্যানা-ভাত ও লক-ডাউন’
         ✍✍✍ সুমন ভট্টাচার্য

সকাল ছ’টায় মোবাইল বেজে উঠল।
‘হ্যালো কে?’-ঘুম জড়ানো গলায় বলে উঠলাম। ‘হ্যা, সুমন।আমাকে একটু বিরিয়ানি বানানোর রেসিপি টা বলবে ভাই? তোমার বউদিকে করে খাওয়াবো।না, মানে তুমি তো খুব ভালো রান্না-টান্না করো, তাই...’--আমাদের স্কুলের অঞ্জনদা ফোনের ওপারে। কি আর করি, বলে দিলাম। খুব কম মানুষেরই ক্ষমতা থাকে প্রশংসাকে উপেক্ষা করার।আমার তো একেবারেই নেই। অঞ্জনদার উদ্গ্রীব কন্ঠ শুনে বুঝলাম যে উনি বাজারের ব্যাগ হাতে এখনই বেরোবেন।
সকালের চা-টা খেয়ে সবে ছাদের বাগানে এসেছি, অমনি আবার ফোন বেজে উঠল সোনা কাকিমার- ‘ বলছি শোন্‌না, রসগোল্লা বানাবো ভাবছি। প্রসেসটা একবার বলে দে তো। ইউ টিউবে দেখেছি, কিন্তু কেমন যেন গুলিয়ে যাচ্ছে ব্যাপারটা। পাঁচ লিটার দুধ নিয়ে রেখেছি কাল থেকে, বাড়িতে মেম্বার তো তিন জন, একটু বেশী করে যাতে খেতে পারি...’।
গাছের কাজ সেরে নিচে এলাম যখন ,তখন ঘড়িতে দশটা বাজে। এবার ফোনটা করল আমার স্কুলের ক্লাস টেনের ছাত্র রণজিৎ। গত বছর ওদের ক্লাসে সব থেকে বেশী নম্বর পেয়ে পাস করেছিল রণজিৎ। গতবছর পুজোর ছুটির আগে আমিই ফোন নম্বরটা দিয়েছিলাম ওকে। বলেছিলাম- ‘রণজিৎ, তুই তো কোথাও প্রাইভেট টিউশন পড়িস না, তাই তোকে নম্বরটা দিলাম। যদি পড়ার ব্যাপারে কোন দরকার হয়, কিছু অসুবিধা থাকে, ফোন করিস’।
রণজিৎ বলেছিল- ‘স্যার, আমাদের তো ফোন নেই। আমি বরং একদিন আপনার বাড়ি যাবো’।
কালীপুজোর আগের দিন রণজিৎ এসেছিল আমার বাড়ি। বই-খাতা নিয়ে। একটু পড়াশোনা হল। তারপর ওর বাড়ির কথা জানতে চাইলাম। স্কুলে তো এসবের সুযোগ পাইনা সব-সময়। জানলাম ওর বাবা উড়িষ্যায় একটা কারখানায় কাজ করে। ৩-৪ মাস অন্তর কিছু কিছু টাকা পাঠায় বাড়িতে। তাতেই খাবার খরচ চলে ওর মা, ভাই আর ওর, সঙ্গে বাড়ি ভাড়া, ওষুধ-পত্তর। স্কুল থেকে বই-খাতা পায়। স্কুল থেকে যে খাতা পায়, সেটায় পেন্সিল দিয়ে লেখে, পরে রাবার দিয়ে মুছে আবার লেখে। বাবা যে সামান্য টাকা পাঠায়, তাতে প্রাইভেট-টিউশন পড়ার কথা ভাবতেও পারেনা রণজিৎ। রণজিৎ মুখ ফুটে বলে না কাউকে এসব কথা। আসলে রণজিৎ-রা কখনই চায় না কারোর কাছে, যা জোটে তাই দিয়েই কাজ চালায়। আমরা দূর থেকে বুঝিনা ওদের। রণজিৎ- আমাকে বুঝিয়ে দেয়। ওর আত্মসম্মানবোধ আমাকে গর্বিত করে। ঐ একই খাতা বারবার ব্যবহার করে, ঐ না-খেয়ে স্কুলে এসে, ঐ নিরন্তর বাড়ি-ওয়ালার বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি হজম করেও রণজিৎ ক্লাসে ভালো রেজাল্ট করে। আমি সাময়িক দাক্ষিণ্য দেখিয়ে ওর আত্মসম্মান বোধকে আঘাত করিনা, ছোট করিনা ওর সংগ্রামকে। বরং, একজন শিক্ষক হিসেবে ওর এই একার লড়াই আমাকেও উজ্জীবিত করে। বলতে ইচ্ছে করে- ‘ফাইট রণজিৎ, ফাইট’।
আজ সকালে রণজিৎ- এর ফোন-‘স্যার, কেমন আছেন?’ ‘হ্যাঁ রে, ভালো আছি। তোদের খবর কি? বাবা কি টাকা পাঠিয়েছে?’ – জিজ্ঞেস করি আমি।
-‘নাহ্‌ স্যার। বাবা ২ মাস হল কিছু পাঠাতে পারেনি। ওখানেও তো সব বন্ধ। তবে রেশনে চাল পাচ্ছি তো স্যার, আমাদের চলে যাচ্ছে কোনরকমে।’
- ‘হ্যা, কে জানে কবে উঠবে এই লক-ডাউন?’-হতাশ গলায় আমি বলি।
রণজিৎ বলে- ‘ না স্যার, এখন লক-ডাউন থাকলেই তো ভালো। নইলে যে বহু মানুষ মারা যাবে। তাই, এখন আমাদের এভাবেই কষ্ট করে চালাতে হবে।কি বলুন স্যার? আমরা কিন্তু একদম বাইরে বেরচ্ছি না স্যার, আপনারাও ঘরে থাকুন। সব ঠিক হয়ে যাবে দেখবেন স্যার।’—কী এক ভীষণ প্রাণ ধ্বনিত হয় রণজিতের কথায়। কী গভীর প্রত্যয়! আমি চমকে উঠি।
কিছুক্ষণ পর আমি ফোন করি অঞ্জনদাকে। ‘কি অঞ্জনদা, বিরিয়ানি হোল?’- ‘ আর বোল না ভাই, চারবার বাজারে যেতে হোল। দই আনি তো বিরিয়ানি মসলা ভুলে যাই, কেওরার জল পাইনা কোত্থাও, আমিও ছাড়বার পাত্র নই। এই দুঘণ্টা লাইন দিয়ে ‘মোর’-থেকে সংগ্রহ করে আনলাম কেওরা। এইবার শুরু করব রান্না। বিরিয়ানি সঙ্গে কষা মাংস। লক-ডাউনে একেবারে জমে যাবে কি বল ভাই!!’
আমার নাকে দূর থেকে গন্ধ ভেসে আসে, ফ্যানা-ভাত আর লবনের গন্ধ। তারপর কেওরার জল আর বিরিয়ানি মসলার মিশ্রিত উগ্র গন্ধে চাপা পড়ে যায় সেই গন্ধ। আমি হাঁসফাঁস করি। কিন্তু বেরোতে পারিনা সেই দম আটকানো গন্ধ থেকে। লক-ডাউনের সব যন্ত্রণা, সব আর্তনাদ চাপা পড়ে যায় বিরিয়ানি, রসগোল্লা, ডালগোনা-কফির উল্লাসে।
✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍

একটা প্রলয়ের প্রতীক্ষায়
✍✍✍ ডাঃ রমলা মুখার্জী

একটা বড় ঝড় নামুক পৃথিবীর বুকে-
উড়ে যাক নাশকতা, সন্ত্রাস।
হানাহানির হাজিরা খাতায়
   অনুপস্থিতির নীরবতায়
    জীবন-মৃত জীব-কূল
        শান্তিতে বাঁচুক।
       লাল রক্তের বদলে
       সবুজ বনের ছায়া নামুক.....
প্রচন্ড বেগে একটা প্রলয় আসুক
   ওলট-পালট করে দিক সব
       পৃথিবীর জ্বর কমে
         শীতলতা ঘিরুক.....
     মহাকাশের ময়লা যত
         হয়ে যাক সাফ।
ওজনের সব ছ্যাঁদা রিপু হয়ে
      লুপ্ত-প্রায় জীবেদের
            জীবন জাগাক।
চরম পরিব্যক্তি একটা ঘটুক....
     মানুষের জীবন থেকে
            লোভ যাক বাদ।
          নতুন সে প্রজাতি
     পৃথিবীর সব কান্না মুছিয়ে
       দ্বিধা,দ্বন্দ্ব,ভয় ঘুচিয়ে
      ভালবাসার অক্সিজেনে
      প্রতিটা ফুসফুস ভরাক।
✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍

প্রতারিত 
✍✍✍ কৌস্তভ ঘোষ

দলিত হৃয়া ক্ষুব্ধ পাষাণ সম জেগে ওঠে,
বিষম আর্তনাদ!
অনতি কালে হয় না স্তব্ধ
অমাবস্যার রাতে যেন চাঁদ।

মরমিয়া প্রাণ মরিয়া প্রায়
জুড়েছে বুঝি দ্বন্দ্ব,
এতদিন ছিল প্রিয়ার কাছে
কেটেছে অধুনা ছন্দ।

জীবনের প্রতি পদে মনে হয়
"কিসের এত পিছুটান?"
নিঃসঙ্গতার উপমা জুড়ে
চলিল সঁপিতে জান।

হাতের কাছে পেল না কিছুই
প্রাক আত্মহননকারী,
পারিলনা বাঁধিতে সঠিক নকশা
তাই,বিধির সাথে আড়ি।

মৃত‍্যু পথে প্রতারিত হয়ে
সে ফিরে চলে আসে বাড়ি;
শুধু ফেলে চলে আসে পথের ধূলায়
বিগত প্রিয়ার জন্য কেনা 'লাল শাড়ি'।।
✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍

হিসেব
✍✍✍ তীর্থঙ্কর সুমিত


নদীতে বাঁধানো ঘাট
তার ধাপে বসে শোভা দেখতে দেখতে
হারিয়ে যাই আমার ফেলে আসা অতীতে
অমাবস্যার অন্ধকারে
একাকি ঢেউয়ের নিস্তব্ধতা
আমায় নিয়ে যায়
বৈষ্ণবীদের গানে
আর পূর্ণিমার আলো
যখন নদীতে পড়ে
চিকন লাগা জলে
যেনো কত ...
এভাবে কত রাত কাটিয়েছি
নদী পাড়ে বসে
কেউ হিসেব রাখেনি।
✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍

প্রেম পাহাড়
✍✍✍তীর্থঙ্কর সুমিত


জানলার ফাঁক দিয়ে দেখছি
কটা তারা আর একফালি চাঁদ
মাঝে মাঝে ঝিরঝিরে হাওয়া
আমায় নিয়ে যাচ্ছে
এক অন্য জগতে
যেখানে বাস্তবতা নেই
শুধুই রূপকথা
আমি হেঁটে চলেছি
অন্য পৃথিবীর দিকে
জোনাকিরা সঙ্গ দেয় রাতকথায়
আমি কবিতা লিখি একটা দুটো

আমায় ঘিরে রাখে প্রেমের পাহাড়।
✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍

ওরা হাঁটছে 
✍✍✍বিশ্বজিৎ কর 

সফদর হাসমি কিংবা বাদল সরকার, কত পথনাটিকার আলাপন!
এখন শাসকের পথনাটিকা -"মৃত্যুমিছিল"!
একেবারে লাইভ টেলিকাস্ট -
হাঁটছে তো হাঁটছেই, কাঁধে সন্তান, মাথায় বোঝা, পথে মাতৃত্ব!
 পথের সব নবজাতক -"পথিক"!
রেললাইনে ওদের রক্ত, ঝলসানো রুটি!
না, ওরা আত্মনির্ভর হতে পারেনি!
✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍

পরিযায়ী শ্রমিক 
✍✍✍আব্দুল রাহাজ

ওরা যেন অসহায়
ওরা যেন ক্ষুধার্ত।
দুবেলা দুমুঠো ভাতের আশায় ছুটে চলে দেশের একপ্রান্ত থেকে ও প্রান্ত ।
ওদের হাতে তৈরি করা রাস্তা, সৌধ, বিল্ডিং, নিয়ে মাতামাতি করে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা
এই অসহায় দিনে পাশে না দাড়িয়ে করছে বঞ্চনা।
নিজের জন্মভিটায় আসার জন্য মাইল এর পর মাইল হাঁটছে ওরা।
কেউ বা প্রান দিচ্ছে ক্ষুধায় কেউ বা ট্রেনে কাটা পড়ে আবার কেউ বা গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে দেখা আর হচ্ছেনা আর তাদের আর জন্মভিটা।
এ প্রভু ওদের তুমি বাঁচা ও
ওরা যে তোমার ই সৃষ্টি।
 ✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍

সঠিক সময়
✍✍✍ সোহিনী শবনম

ছোটবেলায় ভাবে,বড় হব কবে?
বড় হওয়ার সাথে সাথেই ভুলটি তাহার ভাঙে।

স্কুল জীবন বড্ড বোরিং,
কলেজে হবে মস্তি;
চাকরিটা না বাগাতে পারলে,
পায় না যে স্বস্তি।

পরিবারের দায়িত্ব আসে কাঁধে,
হয়ে ওঠে কর্তা।
সন্তানের ভবিষ্যৎটা গড়ে দেওয়ার চিন্তা,
তারই হয় খানিকটা।

স্বপ্নের পিছনে ছুটতে গিয়ে,
ভুলছ বর্তমান,
সময় একবার পেরিয়ে গেলে
তা হয় চির বিলীনমান।

আজ যাহা বর্তমান,
তাই একদিন জোগাবে তোমার,
 স্মৃতিচারণার উপাদান।
সঠিক সময়ে বানাও সুন্দর মুহূর্ত,
আনন্দ করে কাটাব জীবন
-এটাই হোক একমাত্র শর্ত।।

✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍

বাংলা ভাষা 
 ✍✍✍অগ্নিমিত্র ( ডঃ সায়ন ভট্টাচার্য)

বাংলা ভাষার জয় হে,
বাংলা ভাষার জয় ।
বাংলা আমার প্রাণের ভাষা,
থাকুক সে অক্ষয় ...
কোন ভাষাতে এমন মধুর
মিষ্টি কথা বলা ?
বাংলা ভাষায় শুরু হয়েছিল
জীবনপথে চলা ...।
ভাষা শহীদ তুমি অমর;
বাংলা ভাষার জয় ...
এই ভাষা যে সদাই আমার
হৃদয় জুড়ে রয় ।।
✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍

 আমার কবিতায়
✍✍✍ প্রদীপ কুমার দে

তুমি বসে আছো সামনে,
তোমার চোখে মুখে
খুঁজে বেড়াই-
আমার বৃষ্টিভেজা শহর।

তোমার নির্লিপ্ত ঠোঁট,
আমার না বলা কথা।
তোমার মনের অলিগলি পেরিয়ে
আমার ভাবনারা;
কালির গন্ধ মেখে
কবিতায়।

তোমার এলোকেশী
গোধূলি বেলায়,
আমার ক্লান্ত অবসরের
সময়যাপন।

তোমার স্পর্শ,
শুস্ক নদীর বুকে স্রোতের চুম্বন।
তোমার স্বপ্ন ছুঁয়ে,
আমার শব্দরা
বড়ই আদুরে;
কবিতায়।
✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍

মৃত গোলাপ  
✍✍✍ প্রশান্ত মাইতি

যে পথে ফিরতে চেয়েছ তুমি
সেই পথে বিছিয়ে রেখেছি অতীত
               #
ভালোবাসার চিহ্ন পথের বাঁকে বাঁকে
রেখেছি অতি সংগোপনে সাদৃশ্যহিন
কিছু মেঘ ফিরে যায় মনখারাপে
ব্যালকনির রোদ হাত ধরে
আনে উষ্ণ বিকেল
যে বন্ধুর পথে চেয়েছো ফিরতে
           #
সেই পথে বিছিয়েছি মৃত গোলাপের ডানা ।
✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍

খোঁজ খবর
                ✍✍✍ দেবনাথ সাঁতরা

ওহে বাবু কেমন আছেন আপনি
কেমন কাটছে আপনার দিনকাল
খুব একটা ভালো যে নেই তা আমি জানি
খবর রাখেন তো দেশের কি হালচাল।
পাড়ার রকে, চায়ের দোকানে আড্ডাটা তো বন্ধ
আপনার অবস্থাও তো এখন বন্দি পাখির মতো
বাড়ির লোকের সাথে নিশ্চয়ই মিটে গেছে সব দ্বন্দ্ব
আপনার গিন্নীও তো দেখি এখন অনেক শান্ত।
আপনার অফিস যাওয়ার তাড়াটা তো আর নেই
তবু ঘুম থেকে উঠে পড়েছেন এই সাতসকালেই
সত্যিই তো ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে দিন কাটাবেন কতো
আচ্ছা কোথায় গেল আপনার আলসেমি ছিল যত।
এখন নিশ্চয়ই সময় করে একটু নিজের কথাও ভাবেন
মনে আছে আপনার প্রিয় বন্ধু ছিল পাশের পাড়ার রমেন
আজ কি খুব ইচ্ছে করছে যেতে তেপান্তরের মাঠে
এখনো কি রাগ দেখাবেন যদি যেতে বলা হয় হাটে।
আজকাল নিশ্চয়ই অফিস যেতে খুব ইচ্ছে করে
ইচ্ছে করে বন্ধুদের সাথে মিথ্যে আড্ডা মারতে
জানি তো আপনার মন বসছেনা আর ঘরে
আপনিও চাইছেন আগের ব্যস্ততায় ফিরে যেতে।
আজ আপনার ইচ্ছে গুলোকে একটু তুলে রাখুন
আর কটা দিন কষ্ট করে বাড়ির মধ্যে থাকুন
নিজের জন্য একটু খানি ত্যাগকে স্বীকার করুন
নইলে কিন্তু চোখের সামনে জ্বলবে চিতার আগুন।
বাবু আপনি ভয় পেলেন নাকি, ভয় পাবেনা মোটে
শুধু জীবনটাকে নিয়ম দিয়ে বেঁধে নিন একটু এঁটে
এখন আপনার জীবন খানি রাখা আপনার হাতে
আমি রোজ আপনার খোঁজ নেবো দিনে কিম্বা রাতে।
✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍

©সেক আসাদ আহমেদ
সম্পাদক , উপকণ্ঠ
তাং- 20/05/2020, বুধবার







4 comments:

  1. খুব ভালো উদ্যোগ

    ReplyDelete
    Replies
    1. অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন

      Delete
  2. অনেক ধন‍্যবাদ আমার অনুকবিতা " বিশ্বাস " প্রকাশের জন‍্য 💐💐💐💐
    আপনাদের চলার পথে অনেক শুভেচ্ছা 💐💐💐💐

    ReplyDelete
    Replies
    1. অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন

      Delete