"উপকণ্ঠ প্রাত্যহিক বিভাগ"
(ওয়েব ম্যাগাজিন )
প্রকাশ কাল:-14/05/2020, বৃহস্পতিবার
সম্পাদক
এবং
প্রকাশক:- সেক আসাদ আহমেদসম্পাদক
এবং
যুগ্ম সহঃ সম্পাদক :-
১) ইমরান খাঁন
২) শেখ মণিরুল ইসলাম
সম্পাদকীয় দপ্তর ::-
গ্রাম:- গাংপুরা ডাকঘর:- সাগরেশ্বর
থানা:- রামনগর জেলা:- পূর্ব মেদিনীপুর
সূচক- ৭২১৪৪৬ পশ্চিমবঙ্গ ভারত
আমাদের ফেসবুক আইডি:-
Upokontha Sahitya Patrika
Facebook link 🔗🔗🔗
https://www.facebook.com/upokonthasahitya.patrika
সম্পাদকের ফেসবুক আইডি :-
Sk Asad Ahamed
Facebook link 🔗🔗🔗
https://www.facebook.com/asat.sk
যোগাযোগ:- 9593043577 (What's app)
আজকে যারা উপকণ্ঠ প্রাত্যহিক বিভাগে কলম ধরেছেন ✒✒✒✒✒✒✒✒✒
১) আব্দুল রাহাজ
২) দেবনাথ সাঁতরা
৩) শ্রী কৃষ্ণ দে
৪) প্রশান্ত মাইতি
৫) সেখ সাবির মোল্লা
৬) দিব্যেন্দু চ্যাটার্জী ::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
উপকন্ঠ প্রাত্যহিক বিভাগ
ছোট গল্প
ও পাড়ার ইশানদের পুকুর পাড়
✒✒✒✒✒আব্দুল রাহাজ
চার জন বন্ধু হাসান নরেন সরেন
বাটুল এরা একই গ্ৰামে বসবাস করে এবং ভালো বন্ধু এবং একই স্কুলে পড়াশোনা করে
খেলাধূলাও একই সাথে করে।তাদের গ্ৰামটি ছিল খুবই বড়ো। দক্ষিণ পাড়ার ইশানদের পুকুর পাড় আর তার উপর আছে প্রচুর গাছপালা সেখানে ওখানে ওই চার জন বন্ধু খেলা করে। সেখানে আর কিছুদূর গেলে তাদের স্কুল প্রত্যেকদিন স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে সেখানে চুটিয়ে খেলা হয় আর সেই আনন্দ করে। এই ভাবে চলতে থাকে দিনের পর দিন কোথাও যেন এই চার জন বন্ধু আস্তে আস্তে দূরত্ব বাড়তে থাকে
কারন তারা যে বড়ো হচ্ছে সংসারের দায়িত্ব পড়েছে হাসানের কাঁধে সেজন্য এবার আর এন্ট্রাস সে আর দিতে পারবেনা হাসান এর বাবা চাষি সে বাবার সাথে মাঠে কাজ করছে এখন।আর সরেন নরেন বাটুল এই তিনজনের আর্থিক অবস্থা ভালো তাই তারা এন্ট্রাস পরীক্ষা দিয়েছে এবার তিনমাস পর রেজাল্ট তাই এখন ছুটি তারা ইশানদের পুকুর পাড়ে চুটিয়ে খেলা করে এদিকে বেশ কয়েকদিন হাসান এর খবর নেই তখন সন্ধ্যা হতে বেশ দেরি আছে পূর্ব আকাশে সূর্য দিগন্ত রেখায় তখন বাটুল চলতো হাসানদের বাড়ি কী খবর হ্যাঁ হ্যাঁ চল। হাঁটতে হাঁটতে একটা ছোট্ট সুন্দর বনের ধারে হাসানের বাড়ি হাসান হাসান বলে ডাকতে লাগলো ওর মা খুব ভালো মানুষ সে বলল কে ও তোরা দ্বারাও বাবা একটু বসো ও মাঠে কাজ করছে এখনিই এসে কী মাঠে কাজ করছে হ্যাঁ বাবা দিন আনা দিন খাওয়া চলছিল আমাদের তাই এন্ট্রাস পরীক্ষায় এবার আর বসতে পারলনা ও আচ্ছা। হয়তো আর ওর ভাগ্যে পড়াশোনা নেই।ও তো আসছে ওরা হাসান ওদের দেখতে পেয়ে বললো বন্ধু তোমরা কেমন আছো ওরা এক বাক্যে বললো ভালো আছি তোর শরীরের কী অবস্থা আমার কথা বাদ দেনা বল পরীক্ষা কেমন হয়েছে নরেন সরেন বাটুল বললো হ্যাঁ ভালো হয়েছে। হাসানের বাবা বলল কে এসেছে বাবা তখন হাসান বললো আমার বন্ধুরা এসেছে তখন ওর বাবা এসে বললো তোমরা ভালো ওরা বললো হ্যাঁ ওগো হাসানের মা এদের একটু সরবত খেতে দাও হ্যাঁ দিচ্ছি ওরা সরবত খেয়ে বললো হাসান আমরা চলি পরে দেখা হবে ঠিক আছে হাসান বললো কাল আমি দেখা করছি পাড়ে দুপুর বেলার দিকে আছিস ওরা বললো হ্যাঁ বলে চলে গেল। পরের দিন দিন দুপুর বেলা ওরা সবাই অনেক দিন পর হাজির ওরা বললো হাসান তোর হঠাৎ এরকম হল কেন আর বলিসনা ওই যেদিন আমরা খেলে এখান বাড়ি গেলাম তখন সবে খেতে বসেছি তখন বললো আমার আমি আর টানতে পারছিনা এই চোখের জল ছেড়ে দিয়ে বললো কাল আমার সঙ্গে মাঠে কাজ করবি হাসান তার বাবার মুখের দিকে চেয়ে হ্যাঁ বলে দিলো তারপর আবার কী এই চলছে তোদের সাথে পড়লে অনেক দূর যেতাম কিন্তু হাসান চোখের জল ছেড়ে দিয়ে বললো আমার দারিদ্রতা আমাকে পিছিয়ে গভীর খাদে ফেলে দিলোরে।এই কথা বলে ইশানদের পুকুর পাড় থেকে এক দৌড় দিয়ে বাবার সাথে কাজে যোগ দিলো তারপর থেকে তাদের আর দেখা নেই । ইশান পুকুর পাড় স্বাক্ষী রইলো চার বন্ধুর খেলার সেই আওয়াজ দৌড়োদৌড়ি কিন্তু সে যেন আস্তে আস্তে অতীত হয়ে গেল। এরপর কে কোথায় চার বন্ধু কে কোথায় চলে গেল তার আর খোঁজ পাওয়া গেল না এন্ট্রান্স পরীক্ষার রেজাল্ট পাওয়ার পর তাদের আর কারো সাথে দেখা নেই এদিকে হাসান বাবার সাথে কাজ করে দুটো পেটে ভাত জোগাড় করার জন্য নিরলস ভাবে খেটে যাচ্ছে । বহু বছর হয়ে গেল একবার হাসান ইশাণদের পুকুর পাড়ে গেল তারপর হাউ হাউ করে কাঁদতে লাগল তাদের সেই বন্ধুদের জন্য কিন্তু তারা যে কেউ আর এখন নেই তার কাছে ইশানদের
পুকুর পাড় সাক্ষী হয়ে রইল তাদের চার বন্ধুর সেই খেলায় দৃশ্যগুলি দেখে।
।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।। ।।।।। ।।।।
ভালোবাসার পরিনাম
✒✒✒✒ দেবনাথ সাঁতরা
কেমন আছিস তুই
নতুন সংসারে কেমন কাটছে দিনকাল।
নতুন মানুষের নতুন নতুন ছোঁয়ায়
কতোটা মধুর হয় তোর সকাল।
নিশ্চয়ই তুই আছিস খুব সুখে
অনেকটা শান্তি নারে নতুন মানুষের বুকে।
তোকে ছাড়া আমিও আছি বেশ ভালো
আগের মতোই বাড়িতে ইলেকট্রিকের আলো।
অবশ্য মাঝে মাঝে চাঁদের আলোও পড়ে
তখন শুধু বেশি করে তোকে মনে পড়ে।
মনে করে আর কী হবে বল
তুইতো আর ফিরে আসবি না।
তাই শুধু চোখের জলে
তোকে নিয়ে আর ভাবিনা।
মনটা তো আর সব সময় আমার কথা শোনে না।
তাই আমি না চাইলেও
তোকে একেবারে ভুলে যেতে পারিনা।
তাই প্রতিদিন একটু একটু করে বিষ খাই
যেই বিষ মানুষকে মেরে ফেলেনা
তার হৃদয়কে ধ্বংস করে দেয়।
যেই বিষ খেলে মানুষ দুঃখ পায়না
যেই বিষ সব দুঃখ ভুলিয়ে দেয়।
সুখের বিষ,চরম সুখ আর সুখটান
আবার মাঝে মাঝে গানও গাই
মুক্তি পাওয়ার,মুক্ত হওয়ার, শেষ গান।
না না এতে তোর কোনো দোষ নেই
আমি আর কলঙ্কিত করবো না তোর নাম।
আমার অপরাধ হয়তো তোকে ভালোবাসাটাই
আমার মৃত্যুই হয়তো এই ভালোবাসার পরিনাম।
।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।
জঙ্গল কাব্য
✒✒✒ শ্রী কৃষ্ণ দে
(৪)
গত কয়েক দিনে যে কটি মাটির ঘোড়ার জন্ম হয়েছে
তাতে করে
বোনের প্রিয় বাঁশি,
মায়ের প্রিয় চুরি
বাবার প্রিয় ঝিলিবি হয়ে যাবে
আমার কথা থাক
আমার চোখ -মুখ-নাকে
হাত-পা -বুকে পরিবর্তন এসেছে
আমি এখন রোদ মেখে হাল চালাতে পারি
আড়ে বসে মুড়ি চিবোতে পারি
বাবুদের পাড়ে শামুক কুড়োতে পারি
(ক্রমশ)
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
কবি প্রশান্ত মাইতি এর গুচ্ছ কবিতা
অসুস্থ পৃথিবী
✒✒✒ প্রশান্ত মাইতি
ঘরবন্দি সুখগুলো বেড়ে ওঠে
ইতস্তত পরিসরে
মুক্তির আকাঙ্খায় জানলার পর্দা সরিয়ে
দেখি নতুন প্রভাতের সোনালী আলো
ঘুম ভুলে বারবার জেগে উঠি
নিরন্ন মুখে রাজনীতি ভুলে
বাঁচার লক্ষ্যে জমিয়ে রাখি কষ্ট
আজ পৃথিবীর কঠিন অসুখ
ভাগাড়ে জমছে লাশ পিঁপড়ের মত
কালোবাজারির মেঘ তবু জমছে আতঙ্ক ভুলে।
-----------------
মোবাইলে তুমি
✒✒✒ প্রশান্ত মাইতি
আর নেই রোদ্দুরের প্রখরতা
বাতাস বসে হাতে বিকেল উষ্ণতা
সন্ধ্যে আসছে ঘড়ির সময় পেরিয়ে
শিশুরা ফিরছে ঘরে খেলা ছেড়ে
সন্ধ্যা প্রদীপ হাতে প্রিয়াঙ্কা সহসা
ব্যস্ত মঙ্গলারতির আরাধনায়
ঘুম ভেঙে উঠছে রাত দিবস ছেড়ে
বিশ্রামহীন শরীরটাকে ধুয়ে নিই পুকুরজলে
তারপর সন্ধ্যায় ক্লান্তি ঝেড়ে ফেলি
তোমার সাথে মোবাইলের কথোপকথনে ।।
--------------
মিথ্যে প্রেম
✒✒✒ প্রশান্ত মাইতি
এতদিন এত বাক্যালাপের পর
এত প্রেম,ভালোবাসা,মিলন,এমনকি ---
বহু স্মৃতি বুকের ভেতর জমানোর
পরও বলছো এখন এসব মিথ্যে
এতদিনকি ছিল তোমার নির্বাক অভিনয়
তবেকি আমি সাজানো তোমার ডেমি
বিস্ময়ে রাত জেগে ওল্টাই স্মৃতিরপাতা ।
--------------
নিশ্চুপ নীরবতা
✒✒✒✒ প্রশান্ত মাইতি
আজ কেমন মুখ ভার বাতাসের
আকাশ কেমন নীরব হয়ে বসে
আছে মহাশূন্যের ঘর কোণে
কার শোকে এমন নীরবতার অঙ্গীকার...
তোমার নীরবতা মনে পড়লো আজ
যেভাবে ভালোবাসা ভুলে নীরব থাকতে
দিনের পর দিন বাক্য বিহীন
ভেসে উঠলো চোখের তারায় সেই
সব দিন নীরব আকাশে চেয়ে
বেশ ভালোও লাগতো আমার
তোমার নীরবতার সৌন্দর্য অবগাহনে,ভুলে
যেতাম যাবতীয় আমার সুখ উল্লাস
মনে হয় বাতাসে ভাসছে আজও
তোমার নিশ্চুপ নীরবতা ।।
----------
বেদনা
✒ প্রশান্ত মাইতি
চারিদিকে শুধু জল আর জল
নিথর শুয়ে থাকা লুকানো পাথর
কুড়িয়ে নিচ্ছি খুঁজে নদীর থেকে
যেভাবে বাবা চিনিয়েছিল মাইলস্টোন
সেভাবেই চিনে নেই তোমায়
যেভাবে ব্যথা ভোলাত মা
পূর্ণিমার রুপোলি চাঁদ দেখিয়ে
ঠিক সেভাবেই আমি হতাশা ভুলি
ভালোবাসার স্মৃতি চাঁদ দেখে
মানসিক চিন্তার ভাঁজ ধুয়েছি
আছরে পড়া ঢেউ নদীতে
অবোধ শিশুর মতো কুড়ানো দুঃখ
পাথর জমিয়ে রাখি পকেট বুকে
শুধুই চোখ খুলে থাকি বসে
শিশুর মত অতীত বেদনা ভুলে ।।
------------
মা
✒✒✒ প্রশান্ত মাইতি
প্রতিটি অমাবস্যার ভেতর জ্যোৎস্নার
আলো হয়ে জ্বলে ওঠে মা
সমস্ত শক্তির আধার হয়ে
সৌভাগ্যের প্রতীক রূপে দাঁড়িয়ে সর্বদা
কত ঝঞ্ঝা,বন্যা,যন্ত্রনা,ক্ষুধা,
কাটে তারই আশির্বাদী স্পর্শে
হাসতে হাসতে কত যন্ত্রনা লুকিয়ে
রাখে সংগোপনে আঁচল তলে
গভীর হতে গভীরতর ব্যথার ক্ষত
ঢাকা পড়ে যায় স্নেহের চাদরে
স্বর্গানুভূতির এক জ্বলন্ত প্রতীক --- মা ।।
---------------
।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।
এখানে_বসন্ত_নামে_না
✒✒✒ সেখ সাবির মোল্লা।
এখানে বসন্ত নামেনা,
কোনদিন নামেনি মায়াবী ছন্দে।
এখানে প্রেমিকের গল্পগুলো অসার,
পাখিদের ভগ্ন আওয়াজে নশ্বরতার চিৎকার।
এখানে বসন্ত নামেনা।
প্রতিনিয়ত মৃত্যুর ফাঁদ,
রাতের অন্ধকারেও চিক চিক করে ধারালো অস্ত্র ,
একটার পর একটা গলাকাটা মানুষ,
মাঠে মাঠে চাপ চাপ রক্ত কুকুরে চেঁটে চেঁটে খায়।
কচি কচি মেয়েদের মুখ আর দেহে নখের আঁচর কাটা ,
কোন এক হিংস্র বাঘ লুটেপুটে খেয়েছে আপাদমস্তক।
এখানে বসন্ত নামে না।
এখানে গোলাপ-রজনীর পচাগন্ধ,
মানুষ পচার গন্ধ।
বাসর রাতেই বিধবা হয় নারী।
সতীচ্ছেদের অতৃপ্ত যৌন উন্মাদ গোপন ডেরায়।
সদ্যোজাত নাড়িকাটা শিশু পড়ে থাকে ডাস্টবিনে,
এখানে বসন্ত নামে না।
হীমশীতল শুস্কতার পরেও বসন্তের বন্ধ্যাত্বতা,
অনাবৃত স্তনযুগলে বিস্ফারিত অভিশাপ,
এখানে বসন্ত নামে না।
এখানে কবিতায় প্রেম আসে না।
স্বেচ্ছা
✒ দিব্যেন্দু চ্যাটার্জী
কবিতারা আজ হারিয়ে গেছে
জীবনে ধরেছে নষ্টামি,
বেহিসাবী ভালবাসা আজ আনমনা
ঘোরে রাস্তায় রাস্তায়।
শহরটা আলোর মাঝে হয়েছে গোলক ধাঁধা ।
তোমার জন্য রইলো, একটুকরো মেঘ
ফিরে আসুক তোমার জীবনে বারংবার ।।
$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$
© সেক আসাদ আহমেদ
সম্পাদক, উপকণ্ঠ
14/05/2020, গাংপুরা
📞📲 9593043577
৬) দিব্যেন্দু চ্যাটার্জী ::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
উপকন্ঠ প্রাত্যহিক বিভাগ
ছোট গল্প
ও পাড়ার ইশানদের পুকুর পাড়
✒✒✒✒✒আব্দুল রাহাজ
চার জন বন্ধু হাসান নরেন সরেন
বাটুল এরা একই গ্ৰামে বসবাস করে এবং ভালো বন্ধু এবং একই স্কুলে পড়াশোনা করে
খেলাধূলাও একই সাথে করে।তাদের গ্ৰামটি ছিল খুবই বড়ো। দক্ষিণ পাড়ার ইশানদের পুকুর পাড় আর তার উপর আছে প্রচুর গাছপালা সেখানে ওখানে ওই চার জন বন্ধু খেলা করে। সেখানে আর কিছুদূর গেলে তাদের স্কুল প্রত্যেকদিন স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে সেখানে চুটিয়ে খেলা হয় আর সেই আনন্দ করে। এই ভাবে চলতে থাকে দিনের পর দিন কোথাও যেন এই চার জন বন্ধু আস্তে আস্তে দূরত্ব বাড়তে থাকে
কারন তারা যে বড়ো হচ্ছে সংসারের দায়িত্ব পড়েছে হাসানের কাঁধে সেজন্য এবার আর এন্ট্রাস সে আর দিতে পারবেনা হাসান এর বাবা চাষি সে বাবার সাথে মাঠে কাজ করছে এখন।আর সরেন নরেন বাটুল এই তিনজনের আর্থিক অবস্থা ভালো তাই তারা এন্ট্রাস পরীক্ষা দিয়েছে এবার তিনমাস পর রেজাল্ট তাই এখন ছুটি তারা ইশানদের পুকুর পাড়ে চুটিয়ে খেলা করে এদিকে বেশ কয়েকদিন হাসান এর খবর নেই তখন সন্ধ্যা হতে বেশ দেরি আছে পূর্ব আকাশে সূর্য দিগন্ত রেখায় তখন বাটুল চলতো হাসানদের বাড়ি কী খবর হ্যাঁ হ্যাঁ চল। হাঁটতে হাঁটতে একটা ছোট্ট সুন্দর বনের ধারে হাসানের বাড়ি হাসান হাসান বলে ডাকতে লাগলো ওর মা খুব ভালো মানুষ সে বলল কে ও তোরা দ্বারাও বাবা একটু বসো ও মাঠে কাজ করছে এখনিই এসে কী মাঠে কাজ করছে হ্যাঁ বাবা দিন আনা দিন খাওয়া চলছিল আমাদের তাই এন্ট্রাস পরীক্ষায় এবার আর বসতে পারলনা ও আচ্ছা। হয়তো আর ওর ভাগ্যে পড়াশোনা নেই।ও তো আসছে ওরা হাসান ওদের দেখতে পেয়ে বললো বন্ধু তোমরা কেমন আছো ওরা এক বাক্যে বললো ভালো আছি তোর শরীরের কী অবস্থা আমার কথা বাদ দেনা বল পরীক্ষা কেমন হয়েছে নরেন সরেন বাটুল বললো হ্যাঁ ভালো হয়েছে। হাসানের বাবা বলল কে এসেছে বাবা তখন হাসান বললো আমার বন্ধুরা এসেছে তখন ওর বাবা এসে বললো তোমরা ভালো ওরা বললো হ্যাঁ ওগো হাসানের মা এদের একটু সরবত খেতে দাও হ্যাঁ দিচ্ছি ওরা সরবত খেয়ে বললো হাসান আমরা চলি পরে দেখা হবে ঠিক আছে হাসান বললো কাল আমি দেখা করছি পাড়ে দুপুর বেলার দিকে আছিস ওরা বললো হ্যাঁ বলে চলে গেল। পরের দিন দিন দুপুর বেলা ওরা সবাই অনেক দিন পর হাজির ওরা বললো হাসান তোর হঠাৎ এরকম হল কেন আর বলিসনা ওই যেদিন আমরা খেলে এখান বাড়ি গেলাম তখন সবে খেতে বসেছি তখন বললো আমার আমি আর টানতে পারছিনা এই চোখের জল ছেড়ে দিয়ে বললো কাল আমার সঙ্গে মাঠে কাজ করবি হাসান তার বাবার মুখের দিকে চেয়ে হ্যাঁ বলে দিলো তারপর আবার কী এই চলছে তোদের সাথে পড়লে অনেক দূর যেতাম কিন্তু হাসান চোখের জল ছেড়ে দিয়ে বললো আমার দারিদ্রতা আমাকে পিছিয়ে গভীর খাদে ফেলে দিলোরে।এই কথা বলে ইশানদের পুকুর পাড় থেকে এক দৌড় দিয়ে বাবার সাথে কাজে যোগ দিলো তারপর থেকে তাদের আর দেখা নেই । ইশান পুকুর পাড় স্বাক্ষী রইলো চার বন্ধুর খেলার সেই আওয়াজ দৌড়োদৌড়ি কিন্তু সে যেন আস্তে আস্তে অতীত হয়ে গেল। এরপর কে কোথায় চার বন্ধু কে কোথায় চলে গেল তার আর খোঁজ পাওয়া গেল না এন্ট্রান্স পরীক্ষার রেজাল্ট পাওয়ার পর তাদের আর কারো সাথে দেখা নেই এদিকে হাসান বাবার সাথে কাজ করে দুটো পেটে ভাত জোগাড় করার জন্য নিরলস ভাবে খেটে যাচ্ছে । বহু বছর হয়ে গেল একবার হাসান ইশাণদের পুকুর পাড়ে গেল তারপর হাউ হাউ করে কাঁদতে লাগল তাদের সেই বন্ধুদের জন্য কিন্তু তারা যে কেউ আর এখন নেই তার কাছে ইশানদের
পুকুর পাড় সাক্ষী হয়ে রইল তাদের চার বন্ধুর সেই খেলায় দৃশ্যগুলি দেখে।
।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।। ।।।।। ।।।।
ভালোবাসার পরিনাম
✒✒✒✒ দেবনাথ সাঁতরা
কেমন আছিস তুই
নতুন সংসারে কেমন কাটছে দিনকাল।
নতুন মানুষের নতুন নতুন ছোঁয়ায়
কতোটা মধুর হয় তোর সকাল।
নিশ্চয়ই তুই আছিস খুব সুখে
অনেকটা শান্তি নারে নতুন মানুষের বুকে।
তোকে ছাড়া আমিও আছি বেশ ভালো
আগের মতোই বাড়িতে ইলেকট্রিকের আলো।
অবশ্য মাঝে মাঝে চাঁদের আলোও পড়ে
তখন শুধু বেশি করে তোকে মনে পড়ে।
মনে করে আর কী হবে বল
তুইতো আর ফিরে আসবি না।
তাই শুধু চোখের জলে
তোকে নিয়ে আর ভাবিনা।
মনটা তো আর সব সময় আমার কথা শোনে না।
তাই আমি না চাইলেও
তোকে একেবারে ভুলে যেতে পারিনা।
তাই প্রতিদিন একটু একটু করে বিষ খাই
যেই বিষ মানুষকে মেরে ফেলেনা
তার হৃদয়কে ধ্বংস করে দেয়।
যেই বিষ খেলে মানুষ দুঃখ পায়না
যেই বিষ সব দুঃখ ভুলিয়ে দেয়।
সুখের বিষ,চরম সুখ আর সুখটান
আবার মাঝে মাঝে গানও গাই
মুক্তি পাওয়ার,মুক্ত হওয়ার, শেষ গান।
না না এতে তোর কোনো দোষ নেই
আমি আর কলঙ্কিত করবো না তোর নাম।
আমার অপরাধ হয়তো তোকে ভালোবাসাটাই
আমার মৃত্যুই হয়তো এই ভালোবাসার পরিনাম।
।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।
জঙ্গল কাব্য
✒✒✒ শ্রী কৃষ্ণ দে
(৪)
গত কয়েক দিনে যে কটি মাটির ঘোড়ার জন্ম হয়েছে
তাতে করে
বোনের প্রিয় বাঁশি,
মায়ের প্রিয় চুরি
বাবার প্রিয় ঝিলিবি হয়ে যাবে
আমার কথা থাক
আমার চোখ -মুখ-নাকে
হাত-পা -বুকে পরিবর্তন এসেছে
আমি এখন রোদ মেখে হাল চালাতে পারি
আড়ে বসে মুড়ি চিবোতে পারি
বাবুদের পাড়ে শামুক কুড়োতে পারি
(ক্রমশ)
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
কবি প্রশান্ত মাইতি এর গুচ্ছ কবিতা
অসুস্থ পৃথিবী
✒✒✒ প্রশান্ত মাইতি
ঘরবন্দি সুখগুলো বেড়ে ওঠে
ইতস্তত পরিসরে
মুক্তির আকাঙ্খায় জানলার পর্দা সরিয়ে
দেখি নতুন প্রভাতের সোনালী আলো
ঘুম ভুলে বারবার জেগে উঠি
নিরন্ন মুখে রাজনীতি ভুলে
বাঁচার লক্ষ্যে জমিয়ে রাখি কষ্ট
আজ পৃথিবীর কঠিন অসুখ
ভাগাড়ে জমছে লাশ পিঁপড়ের মত
কালোবাজারির মেঘ তবু জমছে আতঙ্ক ভুলে।
-----------------
মোবাইলে তুমি
✒✒✒ প্রশান্ত মাইতি
আর নেই রোদ্দুরের প্রখরতা
বাতাস বসে হাতে বিকেল উষ্ণতা
সন্ধ্যে আসছে ঘড়ির সময় পেরিয়ে
শিশুরা ফিরছে ঘরে খেলা ছেড়ে
সন্ধ্যা প্রদীপ হাতে প্রিয়াঙ্কা সহসা
ব্যস্ত মঙ্গলারতির আরাধনায়
ঘুম ভেঙে উঠছে রাত দিবস ছেড়ে
বিশ্রামহীন শরীরটাকে ধুয়ে নিই পুকুরজলে
তারপর সন্ধ্যায় ক্লান্তি ঝেড়ে ফেলি
তোমার সাথে মোবাইলের কথোপকথনে ।।
--------------
মিথ্যে প্রেম
✒✒✒ প্রশান্ত মাইতি
এতদিন এত বাক্যালাপের পর
এত প্রেম,ভালোবাসা,মিলন,এমনকি ---
বহু স্মৃতি বুকের ভেতর জমানোর
পরও বলছো এখন এসব মিথ্যে
এতদিনকি ছিল তোমার নির্বাক অভিনয়
তবেকি আমি সাজানো তোমার ডেমি
বিস্ময়ে রাত জেগে ওল্টাই স্মৃতিরপাতা ।
--------------
নিশ্চুপ নীরবতা
✒✒✒✒ প্রশান্ত মাইতি
আজ কেমন মুখ ভার বাতাসের
আকাশ কেমন নীরব হয়ে বসে
আছে মহাশূন্যের ঘর কোণে
কার শোকে এমন নীরবতার অঙ্গীকার...
তোমার নীরবতা মনে পড়লো আজ
যেভাবে ভালোবাসা ভুলে নীরব থাকতে
দিনের পর দিন বাক্য বিহীন
ভেসে উঠলো চোখের তারায় সেই
সব দিন নীরব আকাশে চেয়ে
বেশ ভালোও লাগতো আমার
তোমার নীরবতার সৌন্দর্য অবগাহনে,ভুলে
যেতাম যাবতীয় আমার সুখ উল্লাস
মনে হয় বাতাসে ভাসছে আজও
তোমার নিশ্চুপ নীরবতা ।।
----------
বেদনা
✒ প্রশান্ত মাইতি
চারিদিকে শুধু জল আর জল
নিথর শুয়ে থাকা লুকানো পাথর
কুড়িয়ে নিচ্ছি খুঁজে নদীর থেকে
যেভাবে বাবা চিনিয়েছিল মাইলস্টোন
সেভাবেই চিনে নেই তোমায়
যেভাবে ব্যথা ভোলাত মা
পূর্ণিমার রুপোলি চাঁদ দেখিয়ে
ঠিক সেভাবেই আমি হতাশা ভুলি
ভালোবাসার স্মৃতি চাঁদ দেখে
মানসিক চিন্তার ভাঁজ ধুয়েছি
আছরে পড়া ঢেউ নদীতে
অবোধ শিশুর মতো কুড়ানো দুঃখ
পাথর জমিয়ে রাখি পকেট বুকে
শুধুই চোখ খুলে থাকি বসে
শিশুর মত অতীত বেদনা ভুলে ।।
------------
মা
✒✒✒ প্রশান্ত মাইতি
প্রতিটি অমাবস্যার ভেতর জ্যোৎস্নার
আলো হয়ে জ্বলে ওঠে মা
সমস্ত শক্তির আধার হয়ে
সৌভাগ্যের প্রতীক রূপে দাঁড়িয়ে সর্বদা
কত ঝঞ্ঝা,বন্যা,যন্ত্রনা,ক্ষুধা,
কাটে তারই আশির্বাদী স্পর্শে
হাসতে হাসতে কত যন্ত্রনা লুকিয়ে
রাখে সংগোপনে আঁচল তলে
গভীর হতে গভীরতর ব্যথার ক্ষত
ঢাকা পড়ে যায় স্নেহের চাদরে
স্বর্গানুভূতির এক জ্বলন্ত প্রতীক --- মা ।।
---------------
।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।
এখানে_বসন্ত_নামে_না
✒✒✒ সেখ সাবির মোল্লা।
এখানে বসন্ত নামেনা,
কোনদিন নামেনি মায়াবী ছন্দে।
এখানে প্রেমিকের গল্পগুলো অসার,
পাখিদের ভগ্ন আওয়াজে নশ্বরতার চিৎকার।
এখানে বসন্ত নামেনা।
প্রতিনিয়ত মৃত্যুর ফাঁদ,
রাতের অন্ধকারেও চিক চিক করে ধারালো অস্ত্র ,
একটার পর একটা গলাকাটা মানুষ,
মাঠে মাঠে চাপ চাপ রক্ত কুকুরে চেঁটে চেঁটে খায়।
কচি কচি মেয়েদের মুখ আর দেহে নখের আঁচর কাটা ,
কোন এক হিংস্র বাঘ লুটেপুটে খেয়েছে আপাদমস্তক।
এখানে বসন্ত নামে না।
এখানে গোলাপ-রজনীর পচাগন্ধ,
মানুষ পচার গন্ধ।
বাসর রাতেই বিধবা হয় নারী।
সতীচ্ছেদের অতৃপ্ত যৌন উন্মাদ গোপন ডেরায়।
সদ্যোজাত নাড়িকাটা শিশু পড়ে থাকে ডাস্টবিনে,
এখানে বসন্ত নামে না।
হীমশীতল শুস্কতার পরেও বসন্তের বন্ধ্যাত্বতা,
অনাবৃত স্তনযুগলে বিস্ফারিত অভিশাপ,
এখানে বসন্ত নামে না।
এখানে কবিতায় প্রেম আসে না।
স্বেচ্ছা
✒ দিব্যেন্দু চ্যাটার্জী
কবিতারা আজ হারিয়ে গেছে
জীবনে ধরেছে নষ্টামি,
বেহিসাবী ভালবাসা আজ আনমনা
ঘোরে রাস্তায় রাস্তায়।
শহরটা আলোর মাঝে হয়েছে গোলক ধাঁধা ।
তোমার জন্য রইলো, একটুকরো মেঘ
ফিরে আসুক তোমার জীবনে বারংবার ।।
$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$
© সেক আসাদ আহমেদ
সম্পাদক, উপকণ্ঠ
14/05/2020, গাংপুরা
📞📲 9593043577








No comments:
Post a Comment