"উপকণ্ঠ প্রাত্যহিক বিভাগ"
(ওয়েব ম্যাগাজিন )
প্রকাশ কাল:-15/05/2020, শুক্রবার
সম্পাদক এবং
প্রকাশক:- সেক আসাদ আহমেদ
যুগ্ম সহঃ সম্পাদক :-
১) ইমরান খাঁন
২) শেখ মণিরুল ইসলাম
সম্পাদকীয় দপ্তর ::-
গ্রাম:- গাংপুরা ডাকঘর:- সাগরেশ্বর
থানা:- রামনগর জেলা:- পূর্ব মেদিনীপুর
সূচক- ৭২১৪৪৬ পশ্চিমবঙ্গ ভারত
আমাদের ফেসবুক আইডি:-
Upokontha Sahitya Patrika
Facebook link 🔗🔗🔗
https://www.facebook.com/upokonthasahitya.patrika
সম্পাদকের ফেসবুক আইডি :-
Sk Asad Ahamed
Facebook link 🔗🔗🔗
https://www.facebook.com/asat.sk
যোগাযোগ:- 9593043577 (What's app)
শোক জ্ঞাপন
দেবেশ রায়
জন্ম:- 1936,17 ডিসেম্বর
মৃত্যু:- 2020, 14 মে
বাংলা সাহিত্যজগতে ইন্দ্রপতন। প্রয়াত কালজয়ী কথা সাহিত্যিক দেবেশ রায়। বৃহস্পতিবার রাত ১০.৫০ মিনিটে কলকাতার এক বেসরকারি নার্সিংহোমে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। তিনি দীর্ঘ দিন বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছিলেন।
১৯৩৬ সালের ১৭ ডিসেম্বর পূর্ব বঙ্গের পাবনা জেলার বাগমারা গ্রামে তাঁর জন্ম। শৈশবেই জন্মভূমি ছেড়ে উত্তরবঙ্গের বাসিন্দা হন তিনি। সেখানেই কেটেছে কৈশোর ও যৌবন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ার সময় প্রত্যক্ষ রাজনীতির সঙ্গে তিনি জড়িয়ে পড়েন। রাজবংশী ভাষায় তাঁর ছিল অনায়াস বিচরণ। কলকাতা শহরে ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনের সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন।
দেবেশ রায়ের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস যযাতি। অন্যান্য স্মরণীয় বইয়ের মধ্যে রয়েছে মানুষ খুন করে কেন (১৯৭৬), মফস্বলী বৃত্তান্ত (১৯৮০), সময় অসময়ের বৃত্তান্ত (১৯৯৩), তিস্তা পাড়ের বৃত্তান্ত (১৯৮৮), লগন গান্ধার (১৯৯৫) ইত্যাদি। এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সমাদৃত উপন্যাস তিস্তা পাড়ের বৃত্তান্তে উত্তরবঙ্গের ভূমিহীন মানুষের যাপন-প্রেক্ষিতে তাঁর রাজনৈতিক চিন্তাধারার সুস্পষ্ট ছাপ লক্ষ্য করা যায়। ১৯৯০ সালে এই উপন্যাসের সুবাদেই তিনি সাহিত্য অ্যাকাডেমি পুরস্কার পান।
বরাবরই ব্যতিক্রমী সাহিত্যকীর্তির জন্য দেবেশ রায় পাঠকের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে সমগ্র সাহিত্যসমাজে গভীর শোক নেমে এসেছে।উপকণ্ঠ সাহিত্য পরিবারের পক্ষ থেকে আমরা শোকাহত এবং উনার আত্মার শান্তি কামনা করি।
তথ্যসূত্র ও ঋণ স্বীকার:- Hindustan times বাংলা।
ছবি:- online সংগৃহীত
••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••
শোক জ্ঞাপন
ড. আনিসুজ্জামান
জন্ম:- 1936,18 ফেব্রুয়ারি
মৃত্যু:- 2020, 14 মে
জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।
বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা ৫৫ মিনিটে ঢাকায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। তিনি বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন।
আনিসুজ্জামান ১৯৩৭ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটে জন্মেছিলেন। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পরপরই তাঁর পরিবার প্রথমে বাংলাদেশের খুলনায় আসেন। এরপর ঢাকাতেই স্থায়ী হয় তাঁর পরিবার। একদিকে মেধা, অন্যদিকে বাঙালিত্বের প্রতি দায়বদ্ধতা নিয়েই তাঁর বেড়ে ওঠা।
অধ্যাপক আনিসুজ্জামান ১৯৫৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অনার্স ও ১৯৫৭ সালে এম এ পাস করেন। তারপরে মাত্র ২২ বছর বয়সে সেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরই বাংলা বিভাগের শিক্ষক হিসাবে শুরু করেন কর্মজীবন, এরপরে ১৯৬৯ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে যোগ দেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে অধ্যাপক আনিসুজ্জামান মুজিবনগর সরকারের পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। দেশটির স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে প্রতিটি প্রগতি আন্দোলনের সম্মুখভাগেই ছিলেন আনিসুজ্জামান। সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের বাংলাদেশের সংবিধান বাংলাতে অনুবাদ কমিটির নেতৃত্বে ছিলেন তিনি। বাংলা অ্যাকাডেমির বাংলা বানান রীতির অভিধান-সহ বিভিন্ন কাজে তাঁর সীমাহীন অবদান ইতিহাসের অংশ হয়ে আছে। বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে ১৯৯১ সালের গণ আদালতের অন্যতম অভিযোগকারী ছিলেন অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।
তাঁর মৃত্যুতে উপকণ্ঠ পরিবার শোকাহত ও মর্মাহত। উনার আত্মার শান্তি কামনা করি
তথ্যসূত্র ও ঋণ স্বীকার:- আনন্দ বাজার পত্রিকা online সংগৃহীত
ছবি:- wikipedia থেকে গৃহীত
$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$
উপকণ্ঠ প্রাত্যহিক বিভাগ
আজকে যারা উপকণ্ঠ প্রাত্যহিক বিভাগে কলম ধরেছেন ✒✒✒✒✒✒✒✒✒✒
১) আব্দুল রাহাজ (ছোটোগল্প)
২) প্রদীপ কুমার দে (কবিতা)
৩) মিঠুন রায় ( কবিতা)
৪) দেবনাথ সাঁতরা (কবিতা)
৬) শ্রী কৃষ্ণ দে (অনু কাব্য)
ছোট গল্প
এক অদ্ভুত ক্লাসের কথা
✒✒✒ আব্দুল রাহাজ
সময়টা ছিল আলাপনের স্কুল জীবনের শেষ একটা বছর। আলাপনের মনে হচ্ছিল ফাইনাল পরীক্ষার পর স্কুলটা অতীত হয়ে যাবে এরকম অবস্থায় আলাপনের চোখে লাগে এক ঘটনা। ঘটনাটি অবশ্য শুরু হয় দ্বাদশ শ্রেণীতে ভর্তি হওয়ার পর চোখে পড়ে একটা ক্লাস আলাপান আর তার বন্ধু সিরাজের। তারা সেই ক্লাসটির অদ্ভুত রহস্য সূত্র দেখতে পায়। যখনই ক্লাস শেষ হয় একসঙ্গে বার হয়ে স্কুলটা পুরোটাই ঘুরে ফেলা সহমত হয়ে সেই ক্লাসের ছেলে মেয়ে স্কুলের বিভিন্ন কাজ করা অর্থাৎ সৃজনশীল কাজে একলা যেন সবার আগে এগিয়ে। তখন আলাপন সিরাজের সত্যিই পড়ার চাপ এদিকে গম্ভীর প্রধান শিক্ষকের আদেশ প্রত্যেকদিন ইস্কুলে আসতেই হবে তাই আলাপন ও তার বন্ধু সিরাজ রহস্যটা খুঁজে পায়। এইভাবে ক্লাসটি ছেলেমেয়েরা কোথাও যেন মেলবন্ধন সৃষ্টি করে দেখতে বড়ই ভালো লাগতো সকলকে। সেটা আর কোন ক্লাস নয় আলাপন দের স্কুলে যারা অষ্টম শ্রেণীতে ভর্তি হয়েছে তারা। কোথাও যেন এই স্মৃতি মনে করিয়ে দেয় আলাপন ও সিরাজরা তখন অষ্টম শ্রেণীতে পড়তো সেই সব দিনগুলির কথা বর্তমান সময়ে আলাপন এর কাছে স্মৃতি বা অতীত। এই খেলেছে একটাই অদ্ভুত সূত্র একসাথে মিলেমিশে থাকা এটাই ছিল তাদের আনন্দ অন্যদিকে যাই হোক অর্থাৎ পড়াশোনার বাইরে এরকম সহমত একসঙ্গে থাকা খুবই অদ্ভুত লাগতো আলাপন সিরাজের। একদিন তাদের ক্লাসে আসতে দেরি করছে তখন দেখা যায় সবাই মিলে তারা যেন অপেক্ষায় আছে সে কখন আসবে তখন নিচের তলায় প্রার্থনা লাইনে দাঁড়িয়ে দেখে তাদের সেই প্রিয় বন্ধু বান্ধবী আসছে তারপর যা দেখলাম সেটা বলাই যায় না। এতোটাই উচ্ছ্বাস আবেগ যা আলাপন সিরাজের অতীতকে ক্লাসকে উৎসর্গ করতো এতটাই মেলবন্ধন সবক্ষেত্রে দেখা যায় না এ মনে হয় ক্লাসটা যেন এক ভাই বোনের সম্মিলিত মেলবন্ধন। অবশ্য এই ক্লাস টা সত্যিই আলাপন সিরাজের পুরানো অতীতকে চোখের সামনে উৎসর্গ করতো। ক্লাস টির সমস্ত ছেলে মেয়েদের দেখা যায় একই পরিবারের সদস্য এতটাই মিল ভাবাই যায় না এরকম অবস্থায় আলাপন সিরাজ এই সূত্রটা খুঁজে পায় কিভাবে মিলেমিশে একসাথে খাওয়া ঘোরা পড়াশুনা সবই চলে তবে একটাই কথা বলা যেতে পারে তাদের মধ্যে যে মেলবন্ধন মনে হয় চির সুন্দর হয়ে থাকবে। এই ক্লাস কে কে দেখে আলাপন এর মনে হয় সুন্দর পৃথিবীর মায়া ভরা কোলে চির সবুজের মাঝে একটি স্কুল তার ভিতরে একটি ক্লাস যেখানে সূর্যের আলোর মতো ভেসে বেড়ায় একদল পাখি প্রকৃতির মায়া কোলে। এরকমভাবে আলাপন ভাবতো এরকম যদি প্রত্যেকের পাশে থেকে সাহায্য করা পরস্পর মেলবন্ধন থাকা যেত তবে কোন ভেদাভেদ হানাহানি হতো না সুন্দর পৃথিবী শান্ত থাকতো এই ভাবে আলাপন এবং সিরাজ অদ্ভুত রহস্য খুঁজে পেয়েছিল স্কুল জীবনের আগ পর্যন্ত যা তাদের কাছে উজ্জ্বল স্মৃতি হয়ে থাকবে বলে মনে করেছিল ওরা।
_________________________
ইচ্ছেতরী
✒✒✒ প্রদীপ কুমার দে
তোর ইচ্ছেগুলো ডাইরির পাতায়
আঁকিবুঁকি কাটে।
ভাবি, শব্দগুলোকে আদর মাখিয়ে
সোহাগী করে তুলবো,
একটা প্রেমের কাব্য লিখব।
পরিস্থিতি আমায়
ভাবুক করে তোলে।
অভিমানী শব্দরা বিরহী আজ-
ইচ্ছে হয় একটু মানিয়ে
আলিঙ্গনে মেতে উঠি।
সীমাহীন সুখ পেরিয়ে
অভিসারি পাল তুলে দিই,
অথৈ শব্দসাগরে।
ভাবনারা যেখানে ইচ্ছেতরী হয়ে
ভেসে যাবে
স্রোতের অনুকূলে।
_________________
মৃত্যু
✒✒✒মিঠুন রায়

সময়কে পেছনে ফেলে এগিয়ে যায় মৃত্যু,
কখনও গোঙাতে গোঙাতে লীন হয়ে যায়,
হারানো সন্ধ্যায় মুখ লুকোয় স্বপ্নরাশি।
মৃত্যুর কোলে বড় হয়েছি আমি,
কাঁথা মুড়ি দিয়ে না ফেরার দেশে বিলিয়ে দিয়েছি স্বপ্নসমূহ।
হৃদয় মাঝে সঞ্চিত প্রেম বারবার কেন মৃত্যুকে আলিঙ্গনে করতে চায়?
কেন অক্টোপেডের সুরের অপেক্ষা করে মৃত্যু?
তার সঙ্গে কি আর আছে বৈরিতা!
তাকে নিয়েই যেতে হবে অনেক দূরে-
যেখানে নেই কোন সীমাহীন দ্বন্দ্ব।
-----------
সব মিথ্যে
✒✒✒ দেবনাথ সাঁতরা
আজ তোর কথা খুব মনে পড়ছে
রাত জেগে তোর সঙ্গে চ্যাট করার মুহূর্তরা
আমায় আবার পিছু ডাকছে।
আচ্ছা কোনো ভাবেই কি সবকিছু
আবার আগের মতো করা যায় না
জানি রে তুই সেটা চাস না।
আজ আমি তোর কাছে বড্ড পুরনো হয়ে গেছি
তোর নতুন স্রোতের উজানে নিজেকে ভাসাতে পারিনি
কিন্তু বিশ্বাস কর তোকে আজও আমি খুব ভালোবাসি।
তাইতো তোকে আজও ভুলতে পারিনি
এখনো তোর উপর রাগটাও ঠিক আছে না
ভালোবাসা নয় তোর তো প্রাপ্য ছিল ঘেন্না।
তবুও দেখ আমি আজও তোকেই কাছে চাই
একবার ফিরে আয় না প্লিজ
আমাদের হারানো স্বপ্নগুলো আবার সাজাই।
তোর নিশ্চয়ই আজও মনে আছে
কখনো আমায় ছেড়ে যাবি না বলেছিলি
তবু কত সহজেই দেখ আজ আমায় ভুলে গেলি।
তবে কি আমাদের সব কিছুই মিথ্যে ছিল
প্রতিশ্রুতি, রাত জাগা, কাছে আসা সবই মিথ্যে
শুধু আমার ভালোবাসাটাই সত্যি হয়ে রয়ে গেল।
তোর মতোই আমার ভালোবাসা মিথ্যে হতে
পারত
তবে টাইমপাস বলে সবকিছুই উড়িয়ে দিতাম
তখন আমার মনটা আরও কিছুদিন বাঁচত।।
____________
গল্প
রাঙামাটি
✒✒✒অগ্নিমিত্র ( ডঃ সায়ন ভট্টাচার্য)

শহরের জীবন আর ভালো লাগছে না ।..তাই একটু অবসর নিয়ে চণ্ডীতলা গেলাম । বছর ষোলো আগে ওটা
গ্রামই ছিল।
আমার এক আত্মীয়ের বাড়ি ছিল ওখানে । খালিই পড়ে ছিল, তাই গিয়ে একটু থাকতে গেলাম।
আমার সুবিধার জন্য একটি কাজের মেয়েকে সে বলে রেখেছিল। নাম কমলি, বাচ্চাই বয়সে ।
সারাদিন খেতের মাঝে ঐ বাড়িতে হুহু করে হাওয়া আসতো, আর বসে গল্প- কবিতার প্লট ভাবতাম । লিখেও ফেললাম কয়েকটা ।...
কমলি এসে খাওয়া দিয়ে যেত, আর ঘরদোর মুছে দিত । ভারী মিষ্টি স্বভাব । ...
একদিন বলে -' দা' বাবু, ছিনেমা দেখবে?'
' সে কী রে, এখানেও সিনেমা হয় নাকি ?'
' ওমা সেকী গো, ছিনেমা, যাত্তা, সব হয় । ...এই তো কালকেই দেখলুম। কী ছোন্দর নাম, মামলা জিতে মা হয়েচি ।..'
ওর কান্ড দেখে হাসি পেত ।
সন্ধ্যায় প্রায়শই কারেন্ট চলে যেত, আর সেই উতরোল হাওয়ায় বসে থাকতাম। ..
কমলির কথামতো ' ছিনেমা' দেখে এলাম। কাঠের পাটাতনে বসার ব্যবস্থা, ভালোই । বেশ অনাড়ম্বর ।
কমলি বলে, কারা যেন ওকে আর ওর বাবা- মাকে জ্বালাতন করছে।...একদিন আমাকে দেখিয়েও দিল।
হারাণ মন্ডল, আগে ডাকাত ছিল। আমি তাকে কমলিকে বিরক্ত করতে বারণ করলাম।
তারপর একদিন বিকেলে তারা আমায় ঘিরে ধরল খালের ধারে।
' কলকেতার বাবু, বেশি কেরদানি না ?! ঘুরতে এসচো, ঘোরো। ..নিজের চরকায় তেল দাও; নাহলে এই হেঁসো দিয়ে ফালাফালা করে দেবো ! '
আমার মুখ দিয়ে বেরিয়ে গেল-' ঐ দেখো হারাণ, খালটির ধারে কী সুন্দর বকগুলো উড়ে যাচ্ছে । কালচে মেঘের পাশ দিয়ে ...। কী সুন্দর না ..?'
ওরা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায় ।
' প্রকৃতি কত সুন্দর, হারাণ। নারীও তো প্রকৃতি, তাকে এমন উত্যক্ত করবে ? ভালোবাসলে ছেড়ে দাও, তোমার হলে তোমার কাছেই ফিরে আসবে।..'
কী যে হলো ওদের, কেমন উন্মনা হয়ে চলে গেল।
পরদিন সকালে কমলি আমায় বকে -' কী দরকার ছিল, দা বাবু, ওদের সাথে লাগবার ? যদি কিছু হয়ে যেত ?!'
তাকে আশ্বস্ত করি।
দিনদুয়েক পর শুনতে পাই, হারাণ এখন কোথায় কাজ নিয়েছে ।.. আর সে কমলিকে বিরক্ত করে না । কেমন পালটে গিয়েছে! ..
যাবার সময় ঘনিয়ে এল ।..কমলিকে একটা শাড়ি কিনে দিলাম, আর ওর বাবার জন্য কিছু ওষুধ দিলাম।
কমলি ছলছলে চোখে বলে -' দা বাবু, আবার আসবে তো ?'
' সে তো আসবোই রে, তোর বিয়ে তে আসবো। ..আমায় ঠেকাতে পারবি না । ..হারাণের ওপর আর তোর অত রাগ নেই, না রে ?'
কমলি লজ্জায় ছুটে পালায়।
¤৹¤৹¤৹¤৹¤৹
শ্রী কৃষ্ণ দে এর অনু কাব্য
১)
রোদ মেখে পথের অনু পরমানু আরও ভুতুড়ে হয়ে উঠে। রক্ত জল হওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা।
আমি পায়ে জুতো গলিয়ে নিয়েছি
চোখে কালো চশমা
মনে কালো পর্দা।
২)
খোঁজ নিয়ে দেখলাম
পথ বড় হতে হতে
বন ছোটো হয়ে গেছে। এত ছোটো, অণুবীক্ষণের ডাক পড়েছে। দ্বিধা আছে, অলৌকিক কিছু ঘটবে কিনা।
বনের ডানা,পালক,হাত -পা সব এখন বইয়ের পাতায়।
৩)
তাজা রক্ত জেগে রয়েছে পথের শুকনো ঘাসে পথের শুকনো পাতায়।আমার ঘৃণা জাগে না।আমার রাগও হয় না।আমি চোখ অন্ধ করে পেরিয়ে যায়।পথ হেটেই যায়।নিজের পরিচয়ের খোঁজে।
৪)
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের রহস্য ভেদ করতে গিয়ে, "না" এর খোঁজ পায়।সত্যিই তো,
এই এক "না" এর কারনেই
কুরুক্ষেত্র ভাইদের রক্ত পান করেছিল।
৫)
মায়ের হাতে মাটি পেয়ে, জল পেয়ে ছোটো বালক এখন পূর্ণ পুরুষ। সে এখন ছায়া দেয়। ফুল দেয়, ফল দেয়।হারানো সুর, হারানো গান দেয়। আর দেয় অশেষ শান্তি।
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
কিছু কথা
উপকণ্ঠ সাহিত্য পত্রিকা নতুন প্রতিভার সন্ধান করে থাকে। নবীন প্রবীণ, খ্যাত অখ্যাত সকল প্রকার কবি সাহিত্যিক দের লেখনী তুলে ধরা হয় এই ব্লগের মাধ্যমে, অবশ্যই সাধুবাদ ও হৃদয়ের অন্তঃস্থল থেকে ভালোবাসা জানাই সেই সকল কলমচি দের যাদের লেখনী স্রষ্টায় সমৃদ্ধ হয়েছে আজকের উপকণ্ঠ প্রাত্যহিক বিভাগ।
তাদের লেখনী সত্ত্বার আরও বিকাশ হোক এই কামনা করি।
প্রিয় পাঠক বন্ধুরা উপকণ্ঠ প্রাত্যহিক বিভাগ সবার কেমন লাগছে, ভালো খারাপ, ভুল-ত্রুটি , ভালো পরামর্শ অবশ্যই নির্দ্বিধায় আপনার মতামত জানাবেন। যা আমাদের অনুপ্রেরণা ও উদ্যম বাড়াবে।
সবাই ভালো থাকুন আর সুস্থ থাকুন।
ধন্যবাদান্তে
সেক আসাদ আহমেদ
সম্পাদক, উপকণ্ঠ
© সেক আসাদ আহমেদ
📞 9593043577
তাং-15/05/2020
স্থান- গাংপুরা









সকল কবি-সাহিত্যিক ও পাঠকদের অসংখ্য ধন্যবাদ
ReplyDeleteবেশ ভালো লাগলো। ধন্যবাদ।
ReplyDelete