💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫
নতুন প্রতিভার সন্ধানে-
উপকণ্ঠ
...একটি সম্পূর্ণ গ্রামীণ সাহিত্য পত্রিকা।
ঈদ সংখ্যা, মে-2020
প্রকাশ কাল:- 25 মে 2020, সোমবার
সভাপতি:- অরুণ কুমার ঘড়াই
সহঃ সভাপতি:- সেক আব্দুল মজিদ
সম্পাদক ও প্রকাশক:- সেক আসাদ আহমেদ
যুগ্ম সহঃ সম্পাদক:- ইমরান খাঁন
শেখ মণিরুল ইসলাম
আমাদের ফেসবুক আইডি:- Upokontha Sahitya Patrika
যোগাযোগ:- 9593043577, 81228 17680, 96097 57911
প্রচ্ছদ শিল্পী:- অভিজিৎ গিরি
Upokontha Sahitya Patrika
Eid Edition, Web Megazine
25 May-2020, Eid-ul-fittar
Published by Sk Asad Ahamed
💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫
সূচিপত্র
প্রথম পর্ব
সম্পাদকীয়
নিবন্ধ
১•মাহে রমজান - আব্দুস সালাম
গল্প
১•ঈদের সিমাই- সুমন ভট্টাচার্য
২•জীবনের একটি মুহূর্ত- মোঃ শফিকুল মোল্লা
৩• ইস্কুল ব্যাগ- শ্যামাপ্রসাদ সরকার
৪• শাওয়ালের চাঁদ- কণিকা দাস
৫• খুশির ঈদ- শুভঙ্কর রায়
কবিতা
১) রমজানের চাঁদ - বদরুদ্দোজা শেখু
২) ঈদের চাঁদে মিলন বাঁধে- ডাঃ রমলা মুখার্জী
৩) রমজান মাস শেষে- জগদীশ মন্ডল
৪) বন্দীশালায় ঈদ- মৌমিতা পাঁজা
৫) ঈদ- সোনাক্ষী শবনম
৬) বুবুজান- সোহিনী শবনম
৭) ঈদের চাঁদেও তুমি- অরবিন্দ নাহা
৮) রমজান মাস- কৌশিক দে সরকার
৯) ঈদের চাঁদ- অলোক কুমার প্রামানিক
১০) ঈদের আহ্লাদ- ওয়াশিম সেখ
১১) খুশির ঈদ- তাপসী প্রামানিক
১২) খুশির পরবে- উৎপল কুমার ধারা
১৩) আতঙ্কিত ঈদ- সুজন চন্দ্র দীপ্ত
১৪) বাঁকা চাঁদ- ভাস্কর পাল
১৫) ঈদের খুশি- অষ্টপদ মালিক
১৬) মাহে রমজান-শেখ মণিরুল ইসলাম
১৭) ঈদ মোবারক-আজিবুর রহমান খাঁন
১৮) ঈদ আনন্দ - জুয়েল রূহানী
১৯) ঈদ মোবারক- বিপ্লব গোস্বামী 💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫
✍সম্পাদকীয় ✍
বিশ্বের দরবারে আজ ত্রাস রূপে অদৃশ্য অনুজীব করোনা - মারণ ব্যাধি, কেড়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ প্রান। শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলি ও এর বিরুদ্ধে লড়াই করতে দূর্বল। সঠিক প্রতিষোধক এখনও আধুনিক মানবের জ্ঞানের বাইরে। তবুও মানুষ চালিয়ে যাচ্ছে নিরলস প্রচেষ্টা, জানি একদিন না একদিন চরম শিখরে মানুষ পদার্পণ করবে। সেদিন বশ্যতা স্বীকার করতে হবে মহামারী ব্যাধিকে।
কর্মচঞ্চল ব্যস্তজীবিরা আজ হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে বন্দী জীবনের যাতনা।
যাই হোক প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে বিদ্যুতের বিভ্রান্তি তা সত্ত্বেও উপকণ্ঠ সাহিত্য পত্রিকা- এর ঈদ সংখ্যা ই-ম্যাগাজিন পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের দিনে প্রকাশিত হল। এপার ওপার দুই বাংলার কলমচি দের সৃষ্টি সম্ভার নিয়ে। মুলত ঈদ বিষয়ক লেখনীর মাধ্যমে ঈদ সংখ্যার প্রথম পর্ব সাজানো হয়েছে। দ্বিতীয় পর্ব ও খুব দ্রুত প্রকাশ করব ইনশাআল্লাহ। আপনারা ধৈর্য্যের সাথে অপেক্ষা করুন। প্রথম পর্ব কেমন লাগলো মতামত জানান নীচের কমেন্ট বক্সে। সবাই ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন। আর হ্যাঁ সবাই কে পবিত্র ঈদ মুবারক।
ধন্যবাদন্তে
সেক আসাদ আহমেদ
💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫
নিবন্ধ
মাহে রমজান
✍✍✍ আবদুস সালাম
রমজান শব্দটি বাংলাও নয় আবার আরবী ভাষাতেও এর কোনো অস্তিত্ব নেই । তবে এ শব্দ টি প্রাধান্য পেল কেমন করে সন্দেহ জাগে । তবে শব্দ টি ফার্সী কিংবা উর্দু ভাষা থেকে যে এর উৎপত্তি তাতে কোনো সন্দেহই নেই। আরবি রমাদান থেকেই মূলত রমজানের জন্ম। সমুচ্চারিত শব্দটি রূপ পাল্টে পাল্টে রমজানে রূপান্তরিত হয়েছে এটা নিশ্চিত রূপে বলা যেতে পারে। রমজানের আরবি শব্দ সিয়াম।আর সিয়াম মানে নিজেকে পোড়ানো , শুদ্ধ করা।এর সঙ্গে আরও একটা শব্দ এর সঙ্গে উচ্চারিত হয়,(মাহে রমজান)। মাহে শব্দের অর্থ মাস, অতএব মাহে রমজান হলো রমজান মাস।
রমজান শব্দটি এসেছে আরবী রময ধাতু থেকে ।রময অর্থ দহন বা পোড়ানো।এমাসে রোজা রাখলে মানুষের মাঝে যে সকল অমনুষ্যত্ব,পাপ আছে তাকে পুড়িয়ে শেষ করে দিতে পারি। নিষ্পাপ মানুষে পরিণত হওয়ার শিক্ষা এমাসের রোজা পালনে অর্জিত হয়। সারা মাসের উপবাস পালনকেই রোজা বলা হয়ে থাকে।এ মাসে রোজা রাখলে সৃষ্টিকর্তার নিকট থেকে অনেক অনেক বরকত আমাদের উপর নেমে আসে।
পুরো মুসলিম বিশ্বে একে যে নামেই ডাকি না কেন এটা অত্যন্ত বরকতের মাস ফজিলতের মাস ,সংযম ও ত্যাগের মাস, ইবাদতের মাস। সারা পৃথিবী জুড়ে পালিত হয় এই মাসের উৎসব।এই উৎসব একান্তে নিজের। লোক দেখানোর কোনো অবকাশ এখানে নাই। ঘরের ভেতরে ঢুকে খাবার খেয়ে নিলেও কেউ দেখার নাই, স্নানের সময় এক কুল্লী পানি গিলে নিলেও কেউ দেখার নাই। একান্তে ব্যাক্তিগত ভাবে আমরা সৃষ্টিকর্তার কাছে পরীক্ষা দিই।শতরকম অসুবিধা মাথায় নিয়ে রোজা পালন করি হাসিমুখে।
এমাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এই মাসে পবিত্র জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হয়, বন্ধ করে দেওয়া হয় জাহান্নামের দরজা। পবিত্র কোরআন এবং হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে এ মাসেই কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে পৃথিবীতে ,আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর। এই মাসেই রোজা আমাদের উপর অবশ্যই করনীয় বলে ফরমান জারি হয়েছে (ফরজ)। এমাসে একটি ভালো ( জনহিতকর) করলে সত্তরটি ভালো কাজের সমান নেকি পাওয়া যায়। বহু হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। মহান আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ (আয়াত পর পর ধাপে ধাপে ) এমাসের থেকেই অবতীর্ণ হওয়া শুরু হয়েছিল।
প্রতিটি রমজানের সূচনা হয় সেহেরী খাওয়া র মাধ্যমে আর শেষ হয় ইফতারের মাধ্যমে। সুরা বাকারার ১৮৭নম্বর আয়াতে বলা আছে আর (তোমরা পানাহার করো যতক্ষণ না কালো রেখা থেকে ভোরের সাদা রেখা পরিস্কার না দেখা যায় । অতঃপর রাত পর্যন্ত রোজা রাখো )।রোজা কে ইংরেজিতে বলে fasting করা। ইফতার কে বলে. Fasting break । এ মাসে আমরা দুটো কথার বেশ প্রচলন দেখি। একটা সাহরী বা সেহেরী অপরটি ইফতার বা এফ তার । সকালের (ফজরের) আজান শুরু হলেই সব রকমের পানাহার থেকে নিজেদেরকে বিরত রাখতে হয়, তার মানে সেহেরী খাওয়া আজকের মতো বন্ধ। মাগরিবের আজানের সাথে সাথেই শুরু হয় রোজা ভঙ্গের পালা মানে ইফতার করা। ইফতার করাটা বেশ মজার।সবাই, বিশেষ করে বাড়ির সকলের মিলে উপবাস ( রোজা) ভঙ্গ করে আবার ফিরে আসি নতুন ছন্দে। সারা রাত ধরে আর কোনো বাধা নিষেধ রইলো না স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে।
রোজা মানে সেহেরী তে পেটপুরে চব্যচষ্য করে , আর ইফতার এর সময় বিভিন্ন রকমের ফলমূল সহযোগে পেট পুরে খাওয়ার একটা উৎসব বলা যেতে পারে।এর নাম রোজা রাখা নয়। আমরা যদি নবী করীম সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়াসাল্লামের জামানায় রোজার সেহেরী দেখি তবে দুটো খেজুর খেয়ে সেহেরী সমাপ্ত করেছেন। কখনো কখনো একটি খেজুর কে দুজনে ভাগাভাগি করে খেয়ে পানি পান করে নিয়ে আলহামদুলিল্লাহ পড়েছেন ।এমাস হলো পুরোপুরি সংযমের মাস,ত্যাগের মাস। অথচ আমরা দেখি এমাসে খাওয়া দাওয়ার উপরই জোর দিচ্ছি বেশি বেশি করে। আমরা দিন দিন রোজা রাখার মূল স্পিরিট থেকে সরে যাচ্ছি। আসলে রোজা মানে দেহের রোজা, মনের রোজা, মাসব্যাপী কঠিন অনুশীলনে নিজেকে নিযুক্ত রাখা। বেশি বেশি করে ইবাদত করা, কোরআন পড়া,ধর্ম সম্পর্কে আলোচনা।কম কথা বলার অভ্যাস গড়ে তোলা, খারাপ কাজ করা থেকে বিরত থাকা,সারা বছরের অর্জিত পাপ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া (প্রার্থনা) করা, আগামী দিনগুলো যাতে নিস্পাপ হয়ে অতিবাহিত করতে পারি তার জন্য করজোড়ে সৃষ্টিকর্তার ( আল্লাহর) কাছে দোয়া করা। এমাসের আরও একটি জরুরি করনীয় বিষয় হলো তারাবীর নামায আদায় করা। ফিতরা আদায় করা । রমজানের শেষে সওয়ালের চাঁদ উঠলে ( ঈদের চাঁদ) ঈদগাহ ময়দানে জামায়াতের সঙ্গে নামাজ পড়া। ঈদ মোবারক জানানো।
💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫
ঈদ বিষয়ক গল্প
"জীবনের একটি মুহূর্ত"
মোঃ শফিক
ঈদ আসে নতুন আনন্দ নিয়ে,এক মাস ব্যাপী রমজানের রোজা রাখার পর আসে ঈদুল ফিতর উৎসব। ঈদ মুসলিম জাহানের জাতীয় উৎসব।ঈদুল ফিতর কথাটি এসেছে ওয়ুদ শব্দ থেকে অর্থাৎ বারে বারে ফিরে আসে নতুন আনন্দ নিয়ে।ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা এক মাস ব্যাপী রোজা রাখেন,তাদের ধৈর্য্য ও সংযম সাধনার পুরস্কার হচ্ছে ঈদ।ঈদ উৎসব এনে দেয় সবার মুখে হাসি ও স্বর্গীয় তৃপ্তি,ব্যাথিত হৃদয়ে সান্ত্বনা,মুছে দেয় দুঃখী জনের চোখের পানি।কিন্তু যে ছোট্ট মেয়েটির আব্বু শহীদ হয়ে গেছে যুদ্ধের ময়দানে।তার কিসের ঈদ। আহ্ আদর করে আব্বু নাম রেখে ছিল সালমা,কি ফুটফুটে চেহারা মনে হয় একটি ফুটন্ত গোলাপ । কিন্তু ভাগ্যের পরিহাস একবেলা পোড়া রুটি খেলে অন্য বেলা ভূখা থাকে , চাতক পাখির মতো তাকিয়ে থাকে অপরের দিকে।আজ খুশীর ঈদ,কে দিবে ছোট্ট সালমা কে নতুন জামা ,কে তুলে দিবে ছোট্ট মেয়েটির মুখে এক মুঠো সিমাই।খুশি খুশি রব দুঃখ নিওনা আজ।কিন্তু এই মেয়ে টি তো দুঃখ দিয়ে গড়া।সকলেই যাচ্ছে ঈদের মাঠে নতুন কাপড়ে খুশবু লাগিয়ে।দুঃখিনী সালমা ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদে পথের ধারে , তাকিয়ে থাকে আকাশ পানে। হয়ত আব্বু ফিরে আসবে ব্যাগ ভরা সীমাই আর নতুন জামা নিয়ে।কতই না আনন্দ করবে সে,পাড়ার শাহিদা,সবনম,নার্গিস সকলেই নতুন জামা পরেছে,কতই না ভালো লাগছে তাদের।সকলেই সালমার সহপাঠী,হাত ধরে টান দেই চল না আমাদের সঙ্গে ঐ পুকুর পারে এক সঙ্গে পুতুল খেলবো অনেক মজা হবে।তারা তো সকলেই ছোট্ট,কেও জানে না সালমার বুকে এক রাশ দুঃখ ভরা।তারা তো বোঝেনা পিতাহীন সন্তানের যন্ত্রণা কি! এটা তো স্বাভাবিক,কেননা তারা তো ঈদের দিন নতুন জামা পেয়েছে, মায়ের হাতে সিমায় খেয়েছে, ছোট থেকে বাপের ভালোবাসা, মায়ের স্নেহে বড় হয়েছে, তারা কি জানে গরীব হয়ে জন্মানো, এই পৃথিবীতে কতটা কষ্টকর।সালমা কোন কিছু না বলে কাঁদতে কাঁদতে মায়ের কোলে এসে পড়ে, মা কে বলে, মা বল না আব্বু কখন আসবে ? শাহিদা , সবনম, নার্গিস সবাই নতুন জামা পরেছে আমি কখন নতুন জামা পরবো,আমার কি নতুন জামা পরা হবে না। মা মুখে আঁচল চেপে কাঁদতে থাকে কি উত্তর দেবে অবুঝ মেয়েকে,কি করে বলবে তোর আব্বু আমাদের থেকে চিরতরে বিদায় নিয়েছে।
সে যে বহু দূরের সফর,সেই সফর থেকে কেও ফিরে না,সে তো এক অন্য জগতে পাড়ি দিয়েছে,কিন্তু কে বোঝাবে ছোট্ট সালমাকে।দিন শেষে রাত আসে,ভোরের পাখির ডাকে চোঁখ খুলে সালমার ভাবে হইতো আজ আব্বু বাড়ি আসবে।এই ভাবেই ঈদের পর ঈদ আসে,কেটে গেলো দীর্ঘ পনেরটি বছর।সালমা এখন অপূর্ব সুন্দরী যুবতী।পিঠের উপর দীর্ঘ কালো চুল,টানা টানা চোখ,ঠিক যেন মেঘ মুক্ত স্বচ্ছ আকাশের মাঝখানে এক খানা চাঁদ।ধর্মের দিকেও পিছিয়ে নেই সালমা নামায পড়া,কোরআন তিলাওয়াত সব কিছুই নিয়মিত করে।সালমার মা অন্যের বাড়ীতে টুকটাক কাজ করে যা কিছু আনে তাতেই দু জনের চলে যাই।বেশ সুখেই চলছিল সালমার সংসার। হঠাৎ সালমার মা বুকে ব্যাথা অনুভব করে,আস্তে আস্তে ব্যাথা তীব্র থেকে তীব্রতর হয়।কিছুক্ষন পর ব্যাথা কমে গেলে সে ঘুমিয়ে পড়ে।এভাবে মাঝেমধ্যেই ব্যাথা হতে থাকে,আজ অযুর প্রয়োজনে বাথরুমে গেলে, শরীর যেন অবশ হয়ে গেছে। হাঁটুর কাছে যেন ভেঙ্গে আসছে।শুধু হাঁটুই নয় সারা শরীরে ব্যাথা বিদুৎতের মত ছড়িয়ে পড়েছে।অনেক কষ্টে ফজরের নামাজ আদায় করে আবার শুয়ে পড়ে। ঘড়িতে দশটা বাজলে সালমা মাকে নিয়ে মেডিকেলে যায়, রিপোর্ট করার জন্য। কিছুক্ষন পর ডাক্তার বাবু গম্ভীর মুখে রিপোর্ট এগিয়ে দিয়ে বলে কত দিন হয়েছে ব্যাথা। ব্যগ্র কণ্ঠে সালমা জিজ্ঞাসা করে কি হয়েছে আমার মায়ের? ডাক্তার অনেকক্ষণ সালমার পাংশু চেহারার দিকে চেয়ে বলে বাড়ী চলে যান,আপনার মাকে নিয়ে।এই রোগের চিকিৎসা নেই,ঔষধ দিয়ে কিছু দিন বেঁচে থাকতে পারে।কিন্তু ক্যান্সার মানুষকে চিরতরে বিদায় করতে আসে।
ক্যান্সার! সালমা যেন আর্তনাদ করে উঠে।মুহূর্তের মধ্যে সমস্ত স্বপ্ন গুলো মুছে যায়।চোখের সামনে আলোগুলো দপ করে নিভে যায়।সত্যিই ভাবতে কষ্ট হয়।হতভাগিনী মায়ের পাশে সুখ যাকে জড়িয়ে রাখত,শান্তি যাকে স্বাগতম জানাতো,আদর, যত্ন, স্নেহ, মায়া, মমতা, প্রেম প্রীতি ভালোবাসা সব একত্রিত করে যে মা তাকে লালন পালন করে ছিল।সোনালী রূপালী জীবনটাকে হাসি খুশি আনন্দ ফুর্তি সযত্নে যে মা সাজিয়ে রেখেছিল।ভাগ্যের কি পরিহাস! কি করুণ পরিস্থিতি সেই মা ও আজ বিদায় নিতে চলেছে। আজ সকাল থেকেই সালমার মায়ের অবস্থার বেশি অবনতি হয়েছে। সারাদিন কিছু খেতে পারেনি।দাঁতে দাঁত চেপে শরীরের যন্ত্রণা সহ্য করার চেষ্টা করছে। বিছানায় শায়িত সালমার মাকে মনে হচ্ছে একটি জীবন্ত কঙ্কাল। সালমা মায়ের কাছে যেতেই বোবা দৃষ্টিতে ওর দিকে তাকায়। দুর্বল হাতটা মেয়ের দিকে বাড়াতে গেলে নেতিয়ে পড়ে যায়। সেই সাথে মাথাটাও হেলে পড়ে। ঠোঁট দুটো কাঁপছে- কালমা পাঠের কম্পন। সালমা মায়ের উপর আছড়ে পড়ে।বলতে থাকে আমাকে ছেড়ে যেওনা মা। কথা বলো - কথা বলো। একটি বার আমাকে ডাকো একটু আদর কর। নীরব স্পন্দন হীন হয়ে গেল সালমার বিরহ কাতর শরীর। আকাশের চাঁদের দিকে সজল চোখে তাকিয়ে রইল। একখন্ড ঘন কালো মেঘ কোথা থেকে এসে পূর্ণিমার পূর্ণ চাঁদের উপর আবরণ টেনে দিল।সালমার পৃথিবী শুধু অন্ধকার শুধুই অন্ধকার।
💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫
‘ঈদের সিমাই
✍✍✍ সুমন ভট্টাচার্য
স্কুলে শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরুর পর প্রথম যেদিন ক্লাস ফাইভে গেলাম, সেদিনই পুঁচকেগুলো আমাকে বন্ধু ভেবে নিল। যত চেষ্টা করি ‘স্যার’ ‘স্যার’ ভাবটাকে ফুটিয়ে তোলার , ওরা ততই গায়ের কাছে আসে, ‘তুমি’ করে কথা বলে , আর গুচ্ছের নালিশ শোনায় একে অপরের নামে। এদের মধ্যে গোল গোল চোখ আর ভোঁতা নাকের একটা ছেলে আমাকে দেখে মুখ ভেংচায়। প্রথমে আমি ভাবি ওর মুখটাই ঐরকম, কিন্তু না; পরে বুঝলাম ও আমাকে দেখেই মুখ ভেংচি করছে! আমিও ছাড়ার পাত্র নই। অন্য ছেলেরা দেখতে পাবেনা এমনভাবে ওর দিকে তাকিয়ে মুখটা ভেংচে দিই। সেই থেকে ওর সাথে আমার বন্ধুত্ব ঘনিষ্ঠ হল। যতক্ষণে জানতে পারলাম ওর নাম নাজির, ততক্ষণে আমার আর কিছুই করার নেই। মুখখানা দেখে আমি ভেবেছিলাম ওর নাম ‘ রাম’ কিম্বা ‘মহাদেব’ হবে, কিন্তু হল কিনা নাজির!
সত্যি কথা বলতে কি, স্কুলে বা কলেজে আমার কোন মুসলমান বন্ধু ছিলনা। আবাল্য পারিবারিক ব্রাহ্মণ্য আবহে বড় হয়েছি, বন্ধু করার আগেই টাইটেল জেনে নেওয়ার অভ্যেস ছিল, আর সেক্ষেত্রে আলি কিংবা মোহম্মদ যুক্ত নাম হলে তো কথাই নেই; আমি শত হাত দূরে।
টিফিন টাইমে নাজির মিড-ডে মিল খেয়ে গেটের কাছে দাঁড়িয়ে থাকে রোজ। আমি চা খেতে বেরবো , সে সময় সকলের অলক্ষে আবার আমাকে মুখ ভেংচাবে বলে। আমি ভয় পাই, পাছে অন্য স্যারেরা দেখে চিৎকার করে ওঠেন-‘ গোল্লায় গেল, স্কুলের মান-সম্মান এই নতুন ছোকরা সুমন স্যারের জন্য সব গোল্লায় গেল!’
কাউকেই গোল্লায় পাঠানো আমার উদ্দেশ্য নয়, তাই গোল্লা গোল্লা চোখ করে নাজিরের দিকে তাকাই।
আমার জন্মদিনে স্কুলের বাচ্ছাদের লজেন্স খাওয়াবো বলে কয়েক প্যাকেট লজেন্স নিয়ে যাই। সকল ছাত্রদের দুটো করে চকোলেট দি। ওরাও চিৎকার করে আমাকে –‘হ্যাপি বার্থডে স্যার’ – বলে। নাজিরও বলে, সোল্লাসে চেঁচিয়ে। তারপর আবার হাত পাতে। আবার আমার লুকোচুরি খেলা শুরু। সব ছাত্রদের তীক্ষ্ণ নজরদারি এড়িয়ে আরও দুটো এক্সট্রা লজেন্স গুঁজে দি নাজিরের হাতের মুঠোয়।
সকালে বাড়িতে নিত্য পূজা সেরে স্কুলে যাই; কোন কোনদিন আমার কপালে একটা চন্দনের টিকা থেকেই যায়। নাজির ক্লাসের শেষে জিজ্ঞেস করে- ‘স্যার, ওটা কি তোমার কপালে?’ আমি বলি-‘ওটা চন্দনের ফোঁটা, পুজোর সময় লাগায়।’
নাজির বলে-‘স্যার কালকে স্কুলে আসব না। কাল শুক্রবার। শুক্রবারের নামাজে মসজিদে যেতেই হবে।’—বলে আমার মুখের দিকে তাকায়।
আমি আমার সমস্ত অস্তিত্ব দিয়ে নাজিরকে দূরে সরানোর চেষ্টা করি, মনে মনে বলি- ‘থাক তুই তোর শুক্রবারের নামাজ, ফেজ টুপি , রমজানের রোজা এসব নিয়ে। আমি হিন্দু ব্রাহ্মণ বাড়ির ছেলে, তোর সাথে আমার কি?’ নাজির আমার মিইয়ে যাওয়া চোখের দিকে একদৃষ্টিতে তকিয়ে থাকে। ঐটুকুন পুচকে ছেলে আমার পরীক্ষা নেয়, মাষ্টার হয়েও ওর কাছে ডাহা ফেল করি আমি।
ঈদের আগে নাজিরের বাবা-মা আমাকে ফোন করে নিমন্ত্রণ দেন। আমি ‘না’ বলতে চেষ্টা করি , পারিনা। ঈদ-এর চাঁদ আমার বাড়ির ছাদ ছুঁয়ে নাজিরের পাড়ায় যায়। আমি যাইনা নাজিরের বাড়ি।
পরেরদিন নাজির স্কুলে এসেই আমাকে একটা বড় টিফিন কৌটো হাতে ধরিয়ে দেয়, বলে- ‘স্যার, তুমি তো কাল গেলে না। তাই তোমার জন্য ঈদের সিমাই নিয়ে এসেছি। খেয়ো কিন্তু।’
সন্তর্পনে কাঁধের ঝোলা-ব্যাগে ঢুকিয়ে নি কৌটোটা। ভাবি রাস্তায় সুযোগ মতন ফেলে দেবো সিমাইটা।
সেদিন স্কুলের পর সোজা কলেজ স্ট্রীট যেতে হল, আমার নতুন বই প্রকাশের ব্যাপারে প্রকাশকের জরুরী তলব। চরম চা-খোর আমার সামনে বসে ‘আপনি তো আবার চা খাননা সুমনবাবু!’- বলে হাসতে হাসতে প্রকাশক দিব্যি গরম-চায়ে চুমুক দিতে লাগলেন। তার সাথে কথা শেষ করে বাড়ি ফিরে মা-কে নিয়ে আবার ডাক্তার দেখাতে যেতে হবে। ছুটে গিয়ে বনগাঁ লোকালে উঠে একটা বসার জায়গাও পেয়ে গেলাম শিয়ালদা থেকে। সেই সকাল দশটায় বাড়ি থেকে খেয়ে বেড়িয়েছি, তারপর স্কুলের টিফিনে এক কাপ চা ছাড়া আর কিচ্ছুটি পেটে পড়েনি। ক্ষিদেতে পেট একেবারে চোঁ চোঁ করছে। হঠাৎ মনে পড়ল নাজিরের দেওয়া সিমাইটার কথা। ব্যাগটা খুলে টিফিন কৌটোটা বের করলাম। আহ! কী মিষ্টি গন্ধ। নাজিরের মা’র এক মাসের উপোস, নাজিরের বাবার কড়া রোদে সারাদিন মাঠে কাজ সেরে বাড়ি ফিরেই মসজিদে সন্ধ্যের নামাজে যাওয়া, ছোট্ট নাজিরের একরাশ ভালোবাসা সব, সব যেন মিশে আছে ঐ মিষ্টি গন্ধটায়।
জীবনে এই প্রথমবার আমার ছোঁয়াছুঁয়ি মানার অভ্যেসটা হেরে গেল আমার কাছে। এই প্রথমবার নাজিরকে মুসলমান কি হিন্দু সেসব ভুলে গিয়ে ‘আমার প্রিয় ছাত্র’, আমার সন্তান ভেবে বুকে জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছে গেল।
চলন্ত ট্রেনের ভীড় আর কোলাহলের মাঝে বসেও আমার কানে প্রতিধ্বনিত হতে থাকে নাজিরের সেই আব্দার-‘ খেয়ো কিন্তু স্যার!’
চামচে করে একটু একটু করে খেয়ে ফেললাম পুরো সিমাইটা।
পরেরদিন স্কুলে গিয়ে যখন ক্লাসরুমে ঢুকলাম, দেখলাম এখন আর আমি রফিক, ইয়ানুর এর থেকে অনির্বান, গোপালকে আলাদা করতে পারছিনা। ক্লাসের সবকটা ছেলের এখন একটাই পরিচয় আমার কাছে- ওরা সবাই আমার ছাত্র, আর আমি ওদের স্যার।’
ক্লাস চলাকালীন আমি মাঝে মাঝেই খেয়াল করছিলাম নাজির আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আমি যতটা সম্ভব ওর দিকে না তাকিয়ে ক্লাস নিচ্ছি, কারণ নাহলেই ও আমাকে মুখ ভেংচাবে।।। আর আমি ছাত্রদের সাথে মুখ ভেংচাই, এইসব করি শুনলে আর রক্ষে থাকবে না!!!
💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫
ইস্কুল ব্যাগ
✍✍✍ শ্যামাপ্রসাদ সরকার
বাজারে আসলে নিত্যনতুন বায়না আফসানার। কখনো পুতুল,কখনো খেলনাবাটি এসবের অপর্যাপ্ত সম্রাজ্ঞী হয়েও তার আশ মেটে না। হিমসিম খায় নাজিয়া মাঝে মধ্যে। সামনে ঈদ তার জন্য ভালো সিমাই কিনতে নবাবগঞ্জের হাটে আজ আসা। আফসানা সিমাই খেতে ভাল বাসে খুব।ওর বাবা রাজমিস্ত্রীর কাজ করে সুরাটে। ছ'মাসে একবার বাড়ী আসে আব্বাস। বেটী খুবই বাপ সোহাগী। আব্বু বাড়ীতে আসলে তার মজা দেখে কে। নাজিয়াও আব্বাসের নয়নের মণি। তাদের গরীবের সংসারে হাসি আর অভাব আলো হয়ে জ্বলে থাকে মলিনতা উপেক্ষা করেই।
এবার একটা ইস্কুল ব্যাগের বায়না তার। ভারী সুন্দর দেখতে অনেক কটা খোপওয়ালা। দামটা বেশী তিনশ টাকা। নাজিয়ার সংসারে তা বড্ড বেশীই সেটা কি আর আফসানাকে বোঝানো যায় !
কোনওমতে সিমাই কিনে ঘরমুখী হয় তারা।এবারে ঈদের দুদিন আগে জন্মদিন পড়েছে আফসানার। এতে সে ডবল খুশী। সিমাই এর সাথে জামাও হবে একটা বেশী,সেটা জন্মদিন বলেই। গোটা রমজান মাসের পর ঈদ আসছে মহল্লায় নখের ফালির মত চাঁদের আনন্দ আর আল্লাহের রহমৎ কে সঙ্গে করেই।
আফসানা ইস্কুল চলে গেলে নাজিয়া ঘর থেকে বাজারে যায়। মেয়েকে চমক দিতেই ওই ইস্কুল ব্যাগটা কিনে আনে। শেষ পর্যন্ত আড়াই'শতেই হাতে আসে খুশী আর চমকের সমারোহে।
ঘুম থেকে উঠে মাথার কাছে রাখা মোড়ক খোলে আফসানা। রেশমী বুটিদার ফ্রকের সাথে সেই সাধের ব্যাগখানা। আব্বুর ফোন আসে সাথে সাথেই। আদরে আর আনন্দে গলে যায় সে। নাজিয়া দোয়া চায় অফুরন্ত আয়ু আর সুস্হতার। খুশীর ঝলক চলকে ওঠে ছোট্ট সংসারের গৃহস্থী জুড়ে।
নতুন ব্যাগ নিয়ে ইস্কুলে চলে যায় আফসানা। আজ বন্ধুরা অবাক হয়ে যাবে ওর ব্যাগখানা দেখে !
যথাসময়ে শুরু হয় প্রার্থনাসঙ্গীত। এরমধ্যে হঠাৎই প্রকৃতি বিরূপ হয় সহসা। বহুযুগের আলোড়ন উঠে আসে মাটির ভিতর থেকে। বন্দী দৈত্যের যেন ঘুম ভাঙে তীব্র ভূকম্পনে। প্রাইমারী স্কুলের বাড়ীটিও ধ্বসে পড়ে যাওয়ায় ইস্কুলের বাচ্চাগুলোর হদিস মেলা কঠিন হয়ে যায় ধ্বংসস্তুপের ভিতর থেকে। অসংখ্য শিশুর আর্তনাদ চাপা পড়ে যায় ইট কাঠ কংক্রিটের তলায়।
উদ্ধারকারীর দল এসে কাজ শুরু করতে করতে অর্ধেক শিশুই ততোক্ষণে শান্ত হয়ে গেছে প্রকৃতির রিরংসায়। নাজিয়াদের বাড়ীর একটা দিকও ধ্বসে গেছে এই কম্পনে। কোনও মতে সে যখন ইস্কুলবাড়ীর পথে দৌড়ায় তখন তাকে দেখতে পেয়ে আটকায় করিমচাচা। ওনার সঙ্গে মিলিটারী পোশাকের একটা লোক। নাজিয়ার হাতে অফিসারটি ধরিয়ে দেয় আফসানার সেই নতুন ইস্কুল ব্যাগখানা, রক্তমাখা আর শতচ্ছিন্ন সেটি। ওখানেই পাথর হয়ে যায় নাজিয়া, কথা যোগায় না মুখে। বুকের ভিতরটা কেঁপে ওঠে শুধু, দুটি চোখ রয়ে যায় শুকনো। নাজিয়া কাঁদতেও ভুলে যায় তখন!
আজ ঈদ। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে উৎসবের মেজাজ স্তিমিত। তবুও ইতিউতি নিশান আর টুনিবাল্ব জ্বলছে কারো কারো ঘরে।
রাতের আকাশেও একফালি চাঁদ যদিও রয়েছে নিয়ম রক্ষায় , তবে রূপোলী নয় এইবার প্রথম ঈদের চাঁদের আলোর রঙ লালচে।
💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫
শাওয়ালের চাঁদ
✍✍✍ কণিকা দাস
আর মাত্র দুদিন পর ঈদ। হায়দারপড়ার সবচেয়ে রাজকীয় বাড়িটায় আলোর রোশনাই। আগামীকাল চাঁদ দেখা যাবে।সবাই মিলে একসাথে বাড়ির ছাদে চাঁদ দেখার আনন্দই আলাদা।তাই আত্মীয়পরিজনের ভীড় বাড়তে লাগল। বাড়ির মালিক মারুফ হাসান সাহেব শিল্পপতি। অনেক দানধ্যান করেন বলে তার বেশ সুনাম আছে।তবে পাড়াপড়শি অন্য কথা বলে। যে যা বলে বলুক তাতে হাসান সাহেবের কিই বা আসে যায়?
প্রদীপের তলায় অন্ধকারের মতোই হাসান সাহেবের বাড়ি ঘেষে রয়েছে রহিম চাচার বাড়ি। চাচা আগে রিক্সা চালাতেন। এখন বয়সের ভাড়েই হোক বা হাঁপানির টানেই হোক রিক্সা আর চালাতে পারেন না। তাঁর দুই ছেলে ছিল।বড় ছেলে গত বছর চার ছেলেমেয়ে আর বউকে অথৈ সাগরে ভাসিয়ে দিয়ে ডেঙ্গুতে মারা গেছেন আর ছোট ছেলে মুম্বাইতে কাজ করতে যাই বলে বেরিয়ে আর কোন খবর নেই। এখন ছেলের বউ অন্যের বাড়ি কাজ করে যা পায় তা দিয়ে সংসার চালায়।তাই ঈদের চাঁদ ওদের ভাঙা ঘরের ফাঁকা দিয়ে উঁকি দিবে এই সম্ভাবনাও নাই। সকাল থেকে তাই দুই নাতি দীপন আর ছোটন মনমরা হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আর ছোট বোন দুটি মায়ের কাছে নতুন জামার জন্য ঘ্যানর ঘ্যানর করেই যাচ্ছে। আর মা বারবার আঁচলে চোখ মুছছে। কাজ করে যে টাকা পেয়েছে তা দিয়ে শ্বশুরের জন্য একটা লুঙ্গী, আর সেমাই, দুধ, চিনি কিনতে পেরেছে। চাচা যদিও তার জন্য বউমাকে বকেছেন। বলেছেন- কেন বাচ্চাদের জন্য না এনে বুড়োর জন্য কিনেছ? বউমা কিছু না বলে চুপ করে থেকেছে।
হাসান সাহেব দেশের বাড়িতে ফিতরা দেন-- শাড়ি,লুঙ্গী। এখানেও যে দুয়েকজন পায় না তা নয় কিন্তু রহিম চাচার বাড়িতে একটাও আসেনা।কারন হাসান সাহেব কারখানা করার জন্য রহিম চাচার বাড়িটা কিনে নিতে চেয়েছিলেন। রহিম চাচা রাজী হননি। যে লোক মাটি আঁকড়ে পড়ে থাকতে চায় তাকে তিনি সাহায্য করবেন কেন?
দীপন ছোটন যখন মনমরা হয়ে মাঠের এক কোণে বসেছিল তখন সেখানে ফুটবল খেলছিল শিমুল আর তার বন্ধুরা।সবাই দীপনের সমবয়সী। শিমুল দীপনকে ডেকে বলে--
কীরে এভাবে বসে আছিস কেন?কী হয়েছে? দীপন কিছু না বললেও ছোটন সব খুলে বলে।
‘ও এই কথা! চল আমার সাথে।আমার মামা আমেরিকা থেকে এসেছিল আমাকে দুটাে শার্ট দিয়ে গেছে। সেগুলো তোদের দিয়ে দিব।’--- শিমুল বলে।
দীপন আপত্তি করতে থাকলে শিমুল বলে--- আরে আমাদের পূজার তো এখনো অনেক দেরি।তখন মামাকে বলে আরো দুটো জামা আনিয়ে নিব। আমি নতুন জামা পরবো আর তুই ঈদের দিনে পুরনো জামা পরবি?
রমজান বলে--- এবার ঈদে আমার তিনটা প্যান্ট হয়েছে।আমি একটা তোকে দিব।
আবীর সায়নকে বলে -- চল আমার কাছে যে টাকা আছে আর তোর টাকা মিলিয়ে ছোটনকে প্যান্ট কিনে দিই।
সায়নের বাবার রেডিমেড গার্মেন্টসএর দোকান। ওখানে আজ প্রচন্ড ভীড়। সবাই কেনাকাটায় ব্যস্ত। ছোটনের চোখে জল।বলে আমার প্যান্ট লাগবে না। বোনদের জামা নেই।ওদের জামা কিনে দে। দোকানে একজন মহিলা বসে বসে ওদের কথা শুনছিলেন। একটা বাচ্চা ছেলেকে কাঁদতে দেখে তিনি কী হয়েছে জিজ্ঞেস করেন। শিমুলের মুখে সব কথা শুনে মহিলার খুব দয়া হয়। তিনি ছোটনকে দুটো মেয়েদের জামা পছন্দ করতে বলেন। তারপর দামটা নিজে দিতে দিতে সায়নের বাবাকে বলেন-- দেখলেন তো ওদের মুখে কী সুন্দর হাসি ফুটেছে। আগামীকাল যে চাঁদ উঠবে তার চেয়ে এ হাসি বেশি উজ্জ্বল।
বন্ধুরা সবাই মিলে জামাকাপড় কিনে রমজানের বাড়ি গেল। রমজানের মা বলেন-- তোমরা সব ভাইবোন ঈদের দিন আমার বাড়িতে খাবে। শিমুল বলে--- কাকী আমরা আসব না? রমজানের মা বলেন--হ্যাঁ সবাইকেই বলছি।সবাই আনন্দে হাততালি দিতে থাকে।
সায়ন বলে-- আসবো কাকী সবাই আসবো।
ঈদের দিন সায়নের মা রহিম চাচার পরিবারের জন্য পোলাও আর মাংস রান্না করে পাঠায়। ঈদের খুশির আলো ছড়িয়ে পড়ে রহিম চাচার ছোট্ট কুঁড়েঘরে। সবকিছু দেখে আনন্দে জল আসে দীপনের মায়ের আর রহিম চাচার চোখে। চাচা আকাশের দিকে দুহাত তুলে বলেন-- “এখনো মানবতা শেষ হয়ে যায়নি আল্লাহ। তুমি ওদের মানুষ করো।”
💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫
খুশির ঈদ
✍✍✍ শুভঙ্কর রায়
রমজান আলী স্ত্রী - সন্তানকে নিয়ে শহরে থাকে বড় চাকরির সুবাদে। গ্রামের বাড়িতে একা বৃদ্ধা মা। ছেলে বার বার বলেছে তাদের সঙ্গে থাকতে। মা রাজি হয়নি স্বামী শ্বশুরের ভিটে বাড়ি ছেড়ে থাকতে। তাছাড়া শহুরে গৃহবন্দি জীবন পছন্দ নয়। এবারের খবর ওবাড়ি জানেনা, ও বাড়ির খবর এবাড়ি। ছেলে বাধ্য করায় একবার দিন কয়েক ছিল। দমবন্ধ হয়ে মরবার উপক্রম। তাই তিনি আর শহর মুখো হননি। ছেলেকে বলেন-বছরে অন্তত একবার ঈদের সময় ছেলে বউকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি আসতে। প্রতিবছর ঈদের সময় গ্রামের বাড়িতে ঈদ পালন করে রমজান। এবার বোধহয় আর যাওয়া হবে না, সংকটকালীন পরিস্থিতির জন্য। মাকে ফোন করে জানিয়ে দিয়েছে রমজান, না যেতে পারলে মন খারাপ করো না। তুমি ঈদ পালন করে নিও।
ফোনে কথা বলার পর থেকে মা মন খারাপ করে বসে আছে। বছরে একবারই বাড়িতে আসার সুযোগ হয়। করোনার জন্য আসতে পারবেনা। আবার এক বছর পর চেয়ে থাকতে হবে। এমন সময় বিভূতি আসে-চাচি ঈদে তোমার কি কি লাগবে বলে দাও, আমি গঞ্জে যাচ্ছি। রমজান তো আসতে পারবেনা। ও আসবে না বলে কি ঈদ পালন করবে না? আর এই ছেলেটার সিমাই খাবার কিভাবে? বিভূতির কথা শুনে মায়ের চোখ থেকে খুশির জল গড়িয়ে পড়ে।
💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫
ঈদ বিষয়ক কবিতা
রমজানের চাঁদ
✍✍✍ বদরুদ্দোজা শেখু
ফিরে যায় ওই রমজানের চাঁদ , কাঁদো মানুষ কাঁদো।
রমজানের সব রহমতকে আজ মনে প্রাণে সাধো ।।
এসেছে আল্লার পূণ্য দাওয়াৎ
রোজা করো আর মাগো মাগফেরাত,
দান খয়রাত যেমন সাধ্য তেমন করেই সাধো ।।
এসেছে নিজেকে শুধরাবার সুযোগ
করো করো তার সদুপযোগ- ---
ভোগ লালসা ত্যাগ করো আজ , ধনের আত্ম-প্রসাদও ।।
যারা আজ তোমার পড়শী উপবাসী রয়
তাদের প্রতি হও হও সহৃদয় ---
কেউ ছোট নয় কেউ বড়ো নয় , হৃদয়ে সেই বোধ বাঁধো ।।
দুনিয়া জাহান আজ পেরেশান
করোনা-দানব কাড়ছে লাখো প্রাণ,
শক্তি দাও হে দয়াল প্রভু , ভাগাতে এই প্রমাদও।।
রমজান আসে, রমজান চ'লে যায়
আমরা প'ড়ে থাকি স্বার্থ-নর্দমায়,
নিজেকে বিলাও যেমন বিলায় রমজানের ওই চাঁদও ।।
💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫
ঈদের চাঁদে মিলন বাঁধে
✍✍✍ রমলা মুখার্জী
কি সুর বাঁধে ঈদের চাঁদে
প্রাণে খুশির দোল....
রমজান মাসের শেষে
হৃদয়ে হিল্লোল।
বিভেদ ভুলে ছন্দে দুলে
আনন্দে আজ মাতি
মুসলমান ভায়ের সাথে
হিন্দু ভাইও সাথি।
যিনি খোদা তিনি দেবতা
বুদ্ধ-যীশুও তিনি
পানি-জল-ওয়াটারকে
জীবন বলেই চিনি।
মা আমিনা, মেরী,যশোদা
সবার বিশ্ব-মাতা।
গর্ভ তাঁদের গর্বে ভরা
জন্ম লভেন ত্রাতা।
অবক্ষয়ের পাপের তাপে
সমাজ মরে ভুগে...
পৃথিবীর পরিত্রাতা
আসেন যগে যুগে।
আবার হজরত-চৈতন্য এসো
এই ভারতের বুকে
হিংসা-হানাহানির শেষে
দেশকে ভাসাও সুখে।
💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫
রমজান মাস শেষে
✍✍✍ জগদীশ মন্ডল
রমজান মাসের উপোষ শেষে
ফোটে ভোরের আলো
লাগে সবার ভালো,
রোজার সময় নিষ্ঠা ভরে
পালন করে ব্রত
নবী চাঁদের মতো।
নতুন পোশাক গায়ে দিয়ে
কাটছে সারা বেলা
ঈদে খুশির মেলা,
নমাজ পড়ে খুব আদরে
করছে কোলাকুলি
সকল বিরোধ ভুলি।
খুদে আমজাদ, রফিক আলী
মিলে হাতে হাতে
আনন্দেতে মাতে,
এমন দিনে সকল জাতি
হাসি খুশি মন
হৃদয় উত্তরন।
💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫
বন্দী শালায় ঈদ
✍✍✍ মৌমিতা পাঁজা
দুর্দিনেরই বন্দী ঘরে
মসজিদে নেই সওয়ার,
নিয়মমাফিক পড়ছে নামাজ
সাজছে যে মন দরবার।
ভাত রুটি তে দিন কাটছে
মূল্য ফলের দ্বিগুণ
পরিযায়ীরা রোজা করেই
মাখলো গায়ে আগুন,
বিষন্নতায় থমথমে আজ
নেই শিশুদের আনন্দ,
কঠিন রোগে হানছে থাবা
আলিঙ্গন যে বন্ধ।
বিরিয়ানি আর শিমুই হাতে
ঈদের শুরু ইফতিহা,
নতুন পোশাক জুটবে না যে
কর্ম দিয়েছে ইস্তফা।
ধর্ম নয়, জাতি ও নয়
আল্লা তোমার মেহেরবানী
নেই যে আলো, নেই সমাগম
দিল দরিয়ায় কুরবানী।
বন্দী শালায় সফল হোক
পবিত্রতার রমজান,
উৎসবে মাতো দুয়ার মেলায়
ঈদ মুবারক ভাইজান
💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫
ঈদ
সোনাক্ষী শবনম (চতুর্থ শ্রেণী)
ঈদ মানেই নতুন জামা
ঈদ মানেই ছুটি,
ঈদ মানেই লাচ্ছা সিমুই
খেয়ে লুটোপুটি।
ঈদেতে যে আনন্দ,
পায় কে পুরোপুরি?
তখন তো সবার শুধু
কাজের হুড়োহুড়ি।
ঈদেতে আনন্দ করো
পূরণ হোক সব ইচ্ছা,
তার জন্য রইল আমার
ঈদের অনেক শুভেচ্ছা।।
💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫
বুবুজান
✍✍✍ সোহিনী শবনম
সারাটা বছর বন্দী তারা
সামলান হেঁশেল, গোয়াল,অন্দর মহলের গন্ডী,
ঈদের চাঁদ দেখার অজুহাতে ঘটে
বহির্জগতের সাথে একাত্মতার ফন্দি।
ষ্টেশনারী দোকানে যান,
কিনতে চুরী মেহেন্দী আরও জিনিস অন্য
বিটিয়া রানি সাজবে বলে,
নয় তো নিজের জন্য।
ঈদের দিনে ঘরটা গোছায়
স্নান করে নামাজ সারে,
বাকি সময়টা রান্নাঘরেই কাটে
রাঁধতে বিরিয়ানি, কাবাব আর সিমাই এর সম্ভারে।
তাদেরও কিছু ইচ্ছা ছিল
ভাইজানেরা, খোঁজ নিলে পাবে জানতে,
ঈদ মোবারক বার্তার সাথে
বুবুজানদের দাও একান্তে একটু চিন্তাভাবনা করতে।
ঈদ মোবারক
💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫
ঈদের চাঁদেও - তুমি
✍✍✍ অরবিন্দ নাহা
গ্রীষ্মের কাঠ ফাঁটা রোদ্দুরে
বর্ষা'র ভরা পুকুরের টলটলে জলে
শরতের নীল আকাশে
হেমন্তের বাতাসে, ফুলের সুবাসে
শীতের রাতে লেপের তলে
বসন্তের কোকিলের ডাকেও-তুমি ,
-আমার মাতৃভূমি।
মায়ের স্নেহের আঁচলে
বাবার আশী'বাদে
বোনের রাখী-বন্ধনে
ভাইয়ের অকৃপণ ভালোবাসায়
প্রিয়ার বিলোল কটাক্ষে
শিশুর নিটোল হাসিতেও-তুমি ,
-আমার মাতভূমি ।
মন্দিরের কাঁসর ঘন্টায়
তুলসী তলায় প্রদীপের শিখায়
সন্ধ্যায় শঙ্খধ্বনিতে
ক্যাথিড্রা্ল চাচে'র প্রেয়ারে
মসজিদের আজানে
খুশির ঈদের চাঁদেও-তুমি ,
-আমার মাতৃভূমি ।
💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫
রমজান মাস
✍✍✍ কৌশিক দে সরকার।
তোমার প্রিয় ঋতু কি ?
কিম্বা, বড় হয়ে তুমি কি হতে চাও ?
পন্ডিতজীর এমন প্রশ্নে
না হয় মোহবুল চিন্তা করে
কিছু একটা উত্তর দিত ।
কিন্তু , তোমার প্রিয় মাস কি ?
এর উত্তরে – মোহবুল কিছু না ভেবেই জানায়
তার প্রিয় মাস – রমজান মাস।
শীত নয় ,গ্রীষ্ম নয়, রমজান মাস !
সহপাঠীদের ন্যায় তার পাশের সমস্ত পৃথিবী
দাঁত বের করে হাসছে।
কোথাও কি সুধীজন নেই !
সহজাত উত্তরের পাশে ?
দু এক ঘন্টা আগে আর পরে-
নিয়মিত সকালে পান্তা খেয়ে ,
প্রতিষ্ঠিত ঠিকাদারের করা
গ্রামীণ ভাঙ্গা রাস্তা ধরে
মোহবুলকে আসতে হয়
সাহিত্য, গনিত, ভূগোল, ইতিহাসের মাঝে।
সারাদিনের নিরম্বু উপবাস ভাঙ্গে
বাড়ি ফিরে রোজাভাঙ্গা সময়ে ।
তাই রমজান মাসের সারাদিন
মোহবুলের রোজ নামতার
কোনো বিশেষ সংখ্যা নয়।
তবু প্রিয় মাস – রমজান মাস।
চোখ যায়না আর ক্যান্টিনের টেবিলে,
থাকতে হয়না আর
টিফিন শেষের ঘন্টার প্রতীক্ষায়,
চনমনে চাঁদনীকেও
ক্লান্ত , বিষন্ন, নিজের বলে মনে হয়।
চাঁদনীর আতর গায়ে মেখে
কত চাঁদ আর রাত ঈদ হয়ে গেছে।
সম্পদেই স্বাস্থ্য , নাকি
স্বাস্থ্যই সম্পদ, একথা ভেবে
কত রাত কেটে গেছে।
রমজান মাসে লাগানো ফসল
এনে দেবে প্রতিক্ষিত সমৃদ্ধি।
হলেও হতে পারে – নতুন পোষাক!
কিম্বা – নাই বা হলো ।
মোহবুলের কাছে
প্রতি মাসই তো- রমজান মাস।
প্রতি রাতের বাঁকা চাঁদই তো
আতর মাখা আলিঙ্গন , শুভ ইচ্ছা।
আর চাঁদনীর আঁচল ছুঁয়ে আসা
বাতাস বলে যায়-
মুবারক মোহবুল
ঈদ মুবারক ।।
💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫
ঈদের চাঁদ
✍✍✍ অলোক কুমার প্রামাণিক,
চাঁদ রাতেই কাটলো আঁধার
আলোর এলো বেলা,
অঙ্গে সবার নূতন পোশাক
মহা মিলন মেলা।
হাসছে আকাশ হাসছে বাতাস
নাচছে ছোট্ট ছেলে,
ফুল কুঁড়িরা দুলছে হাওয়ায়
পাপড়ি পরাগ মেলে।
একটা মাস উপোস শেষে
পরব টাকে পাওয়া
সিমাই থেকে পরোটা পোলাও
পেটটি পুরে খাওয়া।
ধনী গরীব সবাই সমান
মেলাই কাঁধে কাঁধ,
খুশির রাশি ছড়িয়ে দিয়ে
উঠলো ঈদের চাঁদ।
💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫
ঈদের আহ্লাদ
✍✍✍ ওয়াসিম সেখ
প্রতিবছরের ন্যায় আমাদের কাটে বারো মাসে।
রমাজান তার শ্রেষ্ঠ বলে আমাদের কাছে আসে।
এগারো মাস যায় চলে সবাই কে করি রুষ্ট ।
নীতি-নিয়মের অন্তরালে এই মাসে সবাই সুষ্ঠ।
পাপ-পূণ্য যতই হোক আল্লাহর তরে ।
দু-হাত তুলে মাফ্ চাই ক্রন্দন করে ।
ঈদের আগমনে ছোটদের কতই না উল্লাস।
বাজার গেলে পাবে তারা জামা-প্যান্ট আর সানগ্লাস।
ঈদগাহ গিয়ে সবার মধ্যে চলে কোলা-কুলি।
তাই দেখে ছোটদের নানান মিষ্টি বুলি।
পাপড়, ডিম,ফুচকা, কতই না চলে খাওয়া-দাওয়া।
তার পরে অন্তীমে আল্লাহর কাছে চাওয়া।
বিধি-নিষেধের নীতির আদলে চলি বাড়ির পথে।
রাস্তাতে আদান-প্রদান চলে সবার সাথে!
দিকে দিকে হাজির হয় কবর যিয়ারতে।
পূর্ব-পুরুষ চলে গেছেন তাদের উদ্দেশ্যে।
💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫
খুশির ঈদ
✍✍✍ তাপসী প্রামানিক
রমজান মাসের রোজার শেষে
আসে খুশির ঈদ
সবাই মিলে গাই আমরা
আনন্দেরই গীত।
আসে খুশির ঈদ
সবাই মিলে গাই আমরা
আনন্দেরই গীত।
আল্লাহ আর ঈশ্বরেতে
নেই যে কোন তফাৎ
মানুষের সৃষ্টি এসব
নিষ্ঠুর যত জাতপাত।
নেই যে কোন তফাৎ
মানুষের সৃষ্টি এসব
নিষ্ঠুর যত জাতপাত।
মন্দির আর মসজিদে
নেই যে কোন বিভেদ
হিন্দু মুসলিম ভাই ভাই
হবে না তাই বিচ্ছেদ।
নেই যে কোন বিভেদ
হিন্দু মুসলিম ভাই ভাই
হবে না তাই বিচ্ছেদ।
জল ও পানি উভয়েতেই
হয় রে তেষ্টা নিবারণ
রাম-রহিমের ফারাক তাই
সংস্কার-ই কারণ।
হয় রে তেষ্টা নিবারণ
রাম-রহিমের ফারাক তাই
সংস্কার-ই কারণ।
ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়
করো ঢেলে সবার মন
ঈদ -উল-ফিতর উৎসব
হল মানুষের মহামিলন।
💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫
করো ঢেলে সবার মন
ঈদ -উল-ফিতর উৎসব
হল মানুষের মহামিলন।
💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫
খুশির পরবে
✍✍✍ উৎপলকুমার ধারা
পুরো একমাস হয়ে গেলে সারা
পবিত্র উপবাস
তখনই তো জানি শেষ হয়ে যায়
একটা রোজার মাস ।
পবিত্র উপবাস
তখনই তো জানি শেষ হয়ে যায়
একটা রোজার মাস ।
যতো কষ্টরা দূরে সরে যায়
আকাশে উঠলে চাঁদ
ঝরে পড়ে কতো হাসিখুশি আর
কতো কিছু আহ্লাদ ।
আকাশে উঠলে চাঁদ
ঝরে পড়ে কতো হাসিখুশি আর
কতো কিছু আহ্লাদ ।
এসে যায় ঈদ যে দিনটার-ই
থাকি যে অপেক্ষাতে
দুটি হাত মেলে সবাই যে দিনে
খুশির বুকটা পাতে ।
থাকি যে অপেক্ষাতে
দুটি হাত মেলে সবাই যে দিনে
খুশির বুকটা পাতে ।
ঈদ মানে জানি দূর করে দেওয়া
বিদ্বেষ - হানাহানি
মুছে দেওয়া সব মনের ভেতরে
জমে থাকা যতো গ্লানি ।
বিদ্বেষ - হানাহানি
মুছে দেওয়া সব মনের ভেতরে
জমে থাকা যতো গ্লানি ।
খুশির পরবে সব একসাথে
হিংসে বিবাদ ভুলে
মানবিকতার সুর খুঁজে নেওয়া
রবীন্দ্র - নজরুলে ।।
💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫
হিংসে বিবাদ ভুলে
মানবিকতার সুর খুঁজে নেওয়া
রবীন্দ্র - নজরুলে ।।
💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫
আতঙ্কিত ঈদ
✍✍✍ সুজন চন্দ্র দীপ্ত
ঈদ এসেছে ঈদ এসেছে
সবাই নাচছি খুশিতে
বাড়ি ফিরে দেখি আমি
বাবা আছে না খেয়ে
আর মায়ের চোখে জল ভাসে
কেউ রাখেনা কারো খরব
কেউ বা থাকে লুকিয়ে
বুকের কষ্ট চেপে রেখে
হাসি দিয়ে বলে ওই
ঈদ এসেছে ঈদ এসেছে
চারিদিকে হাহাকার আর
আতঙ্কিত হয়ে আজ
ঈদের খুশি মাটি হয়ে
বাইরে দেখি নানান ফাঁদ
সবাই বলে ওই আকাশে
উঠছে যে এক নতুন চাঁদ
দুঃখের সময় একটু খুঁজি
বেঁচে থাকার নতুন স্বাদ।।
💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫
সবাই নাচছি খুশিতে
বাড়ি ফিরে দেখি আমি
বাবা আছে না খেয়ে
আর মায়ের চোখে জল ভাসে
কেউ রাখেনা কারো খরব
কেউ বা থাকে লুকিয়ে
বুকের কষ্ট চেপে রেখে
হাসি দিয়ে বলে ওই
ঈদ এসেছে ঈদ এসেছে
চারিদিকে হাহাকার আর
আতঙ্কিত হয়ে আজ
ঈদের খুশি মাটি হয়ে
বাইরে দেখি নানান ফাঁদ
সবাই বলে ওই আকাশে
উঠছে যে এক নতুন চাঁদ
দুঃখের সময় একটু খুঁজি
বেঁচে থাকার নতুন স্বাদ।।
💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫
বাঁকা চাঁদ
✍✍✍ ভাস্কর পাল
✍✍✍ ভাস্কর পাল
চিত্রপটের চিত্র আঁকে
পূর্ণিমার ঐ চন্দ্র,
চাঁদকে নিয়ে রোমাঞ্চকর
কত না লেখা গল্প।
পূর্ণিমার ঐ চন্দ্র,
চাঁদকে নিয়ে রোমাঞ্চকর
কত না লেখা গল্প।
পূর্ণিমার সেই পূর্ণ চন্দ্র
তাকে নিয়ে ওঠে কত কল্প,
চিহ্নিত সৌন্দর্যের প্রতীক
কারো কাছে ঝলসানো রুটি।
তাকে নিয়ে ওঠে কত কল্প,
চিহ্নিত সৌন্দর্যের প্রতীক
কারো কাছে ঝলসানো রুটি।
অমাবস্যার গভীর অন্ধকারে
চন্দ্র সেদিন লুকিয়ে পরে,
কিছু দিনের প্রতীক্ষাতে
বাঁকাচাঁদ আসে পূর্ণ রূপে।
চন্দ্র সেদিন লুকিয়ে পরে,
কিছু দিনের প্রতীক্ষাতে
বাঁকাচাঁদ আসে পূর্ণ রূপে।
কারো কল্পনার রাত কাহিনী
কারো চোখে সে কলঙ্কিনী,
অসহায় আকাশের বুকে
বাঁকাচাঁদ চিহ্নিত নিশাসূর্যি রূপে।
💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫
কারো চোখে সে কলঙ্কিনী,
অসহায় আকাশের বুকে
বাঁকাচাঁদ চিহ্নিত নিশাসূর্যি রূপে।
💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫
ঈদের খুশি
✍✍✍ অষ্টপদ মালিক
✍✍✍ অষ্টপদ মালিক
পশ্চিম আকাশে ওই বাঁকা চাঁদ হাসে
খুশি যেন ঝরে পড়ে রমজান মাসে ।
মসজিদে নামাজ পড়ে ফারুক আর ইরফান
পবিত্রতা ও ত্যাগ ব্রতে কবুল করে জান-প্রাণ ।
মন মালিন্য ত্যাগ করে শান্তি সবাই চাই
ঈদ এলে সবাই মিলে মানবতার গান গাই ।
💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫
খুশি যেন ঝরে পড়ে রমজান মাসে ।
মসজিদে নামাজ পড়ে ফারুক আর ইরফান
পবিত্রতা ও ত্যাগ ব্রতে কবুল করে জান-প্রাণ ।
মন মালিন্য ত্যাগ করে শান্তি সবাই চাই
ঈদ এলে সবাই মিলে মানবতার গান গাই ।
💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫
মাহে রমজান
✍✍✍ শেখ মণিরুল ইসলাম
জানিস ভাই..... !
বারো মাসে এক মাস, মাহে রমজান
বাঁধা রয়েছে সকল শয়তান।
পেটে ভরা জল, ভোরের ঐ আজানে
দিন কাটে নামাজ আর কোরানে।
সারাদিন শুধু, টল মল করে মাথা,
সাঁঝের বেলায় বুকে আসে ব্যাথা।
মুখে ভরা ফল আজান শেষে
ভরে ওঠে মন আনন্দে নামাজে এসে
ঘরের বাঁধা সব শয়তান
ভয় নেই কোনো আর।
রমজান শেষে নতুন পোশাকে
রঙ বে-রঙে সবাই সাজে
মাথায় টুপি গাঁয়ে ধুতি দিয়ে,
যাচ্ছে দলে দল বেঁধে
খোদার দরবারে চলে।
সেজদায় মাথা
হাত জোড় করা কাবার দিশা,
ক্ষমা করো আমায় তুমি
সকল গুনাহ হতে যদি।
মিলবো গলায় গলা
ঈদের খুশি
সকল গুনাহ হয়েছে ক্ষমা
এই মাহে রমজানে।
💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫
বারো মাসে এক মাস, মাহে রমজান
বাঁধা রয়েছে সকল শয়তান।
পেটে ভরা জল, ভোরের ঐ আজানে
দিন কাটে নামাজ আর কোরানে।
সারাদিন শুধু, টল মল করে মাথা,
সাঁঝের বেলায় বুকে আসে ব্যাথা।
মুখে ভরা ফল আজান শেষে
ভরে ওঠে মন আনন্দে নামাজে এসে
ঘরের বাঁধা সব শয়তান
ভয় নেই কোনো আর।
রমজান শেষে নতুন পোশাকে
রঙ বে-রঙে সবাই সাজে
মাথায় টুপি গাঁয়ে ধুতি দিয়ে,
যাচ্ছে দলে দল বেঁধে
খোদার দরবারে চলে।
সেজদায় মাথা
হাত জোড় করা কাবার দিশা,
ক্ষমা করো আমায় তুমি
সকল গুনাহ হতে যদি।
মিলবো গলায় গলা
ঈদের খুশি
সকল গুনাহ হয়েছে ক্ষমা
এই মাহে রমজানে।
💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫
ঈদ মোবারক
✍✍✍ আজিবুর রহমান খাঁন
নিবেদিত প্রাণ মাহে রমজান
রাখিনু ত্রিশ রোজা,
দিল তনুমন খুশি অনুক্ষন
কমিল মোদের বোঝা।
রাখিনু ত্রিশ রোজা,
দিল তনুমন খুশি অনুক্ষন
কমিল মোদের বোঝা।
ভোরের সেহরী সাঁঝের ইফতারী
নির্জলা উপবাস,
সারিসারি বসি মোরা পাশাপাশি
মিলিমিশি তুলি গ্ৰাস।
নির্জলা উপবাস,
সারিসারি বসি মোরা পাশাপাশি
মিলিমিশি তুলি গ্ৰাস।
রেখেছি উপোস মন রিপু পেট
এবাদতে কাটে দিন,
রাতের তারাবি কঠোর সাধনা
ঈদুল ফেতরে লীন।
এবাদতে কাটে দিন,
রাতের তারাবি কঠোর সাধনা
ঈদুল ফেতরে লীন।
ব্যথির বেদনা ভুখার যাতনা
অনুভব মাতোয়ারা,
সমবেদনায় অনুবিক্ষন
হৃদয় করুনা ভরা।
অনুভব মাতোয়ারা,
সমবেদনায় অনুবিক্ষন
হৃদয় করুনা ভরা।
যোগ-ব্যায়ামের সকল শিক্ষা
দীক্ষা যে ততোধিক,
মিতব্যয়ীতা অনুশাসনের
নিষ্ঠা আন্তরিক।
দীক্ষা যে ততোধিক,
মিতব্যয়ীতা অনুশাসনের
নিষ্ঠা আন্তরিক।
ইসলামি জমে কমিউনিজমে
তাপসের সীমা নাই,
আবাল বৃদ্ধ ধনী গরীবের
ভেদা ভেদ কিছু নাই।
💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫
তাপসের সীমা নাই,
আবাল বৃদ্ধ ধনী গরীবের
ভেদা ভেদ কিছু নাই।
💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫
ঈদ আনন্দ
✍✍✍ জুয়েল রূহানী
✍✍✍ জুয়েল রূহানী
ঈদ এলো খুশী নিয়ে
মুসলমানের ঘরে,
হাসি ভরা উৎসবে-
মায়া রূপ সৌরভে!
মুসলমানের ঘরে,
হাসি ভরা উৎসবে-
মায়া রূপ সৌরভে!
ভেদাভেদ ভূলে স'বে
কাঁধে রেখে কাঁধ,
মমতারি বন্ধনে-
ভূলে হিংসা বিবাদ।
কাঁধে রেখে কাঁধ,
মমতারি বন্ধনে-
ভূলে হিংসা বিবাদ।
শিশুদের মুখে হাসি
সাজে রং বাহারে,
ফিরনি পায়েশ নিয়ে-
হেথা সেথা ছুটেরে।
সাজে রং বাহারে,
ফিরনি পায়েশ নিয়ে-
হেথা সেথা ছুটেরে।
ঈদ এসে কেরে নেয়
শিশুদের চোখে নিদ,
মিলনের উৎসবে-
গড়ে মমতার ভিত।
💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫
ঈদ মোবারক
✍✍✍বিপ্লব গোস্বামী
রমজান শেষে বছর ঘুরে
ঈদ এসেছে ফিরে,
নূতন জাম নূতন কাপড়
সবার ঘরে ঘরে।
পাখী সব আজ করছে কূজন
বাগে ফুটেছে ফুল,
আনন্দে আজ জেগেছে মোমিন
সুদিন দিয়েছেন রসুল।
আজ স্নান করে সবে
আতর মেখে গায়,
ইসলামী তাজ ঈদের নামাজ
কায়েম করেতে যায়।
হিংসা,বিবাদ,ঝড়গা,বিদ্ধেষ
হানাহানি সহ ভুলি,
ধনী গরীবের ভেদাভেদ ভুলি
হাতপরশন,সেলাম,কোলাকুলি।
নিঃস্ব,অনাথ,দীন,দুঃখী
ভিখারী,দুঃস্থ জনে
বিলাও আজি সিন্নী,সেমাই
ঈদের পবিত্র ক্ষণে।
💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫
উপকণ্ঠ ঈদ সংখ্যা প্রথম পর্ব Pdf সংগ্রহ করুন
নীচের লিঙ্কে ক্লিক করে ⬇⬇⬇
শিশুদের চোখে নিদ,
মিলনের উৎসবে-
গড়ে মমতার ভিত।
💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫
ঈদ মোবারক
✍✍✍বিপ্লব গোস্বামী
রমজান শেষে বছর ঘুরে
ঈদ এসেছে ফিরে,
নূতন জাম নূতন কাপড়
সবার ঘরে ঘরে।
পাখী সব আজ করছে কূজন
বাগে ফুটেছে ফুল,
আনন্দে আজ জেগেছে মোমিন
সুদিন দিয়েছেন রসুল।
আজ স্নান করে সবে
আতর মেখে গায়,
ইসলামী তাজ ঈদের নামাজ
কায়েম করেতে যায়।
হিংসা,বিবাদ,ঝড়গা,বিদ্ধেষ
হানাহানি সহ ভুলি,
ধনী গরীবের ভেদাভেদ ভুলি
হাতপরশন,সেলাম,কোলাকুলি।
নিঃস্ব,অনাথ,দীন,দুঃখী
ভিখারী,দুঃস্থ জনে
বিলাও আজি সিন্নী,সেমাই
ঈদের পবিত্র ক্ষণে।
💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫
উপকণ্ঠ ঈদ সংখ্যা প্রথম পর্ব Pdf সংগ্রহ করুন
নীচের লিঙ্কে ক্লিক করে ⬇⬇⬇
https://drive.google.com/file/d/10ljDpzGZWnjLAYRQPWrO76e99zv9057Q/view?usp=drivesdk
দ্বিতীয় পর্ব প্রকাশিত হবে খুব দ্রুত অপেক্ষা করুন
© সেক আসাদ আহমেদ
সম্পাদক, উপকণ্ঠ
তাং- 25/05/2020
স্থান:- গাংপুরা, পূর্ব মেদিনীপুর


No comments:
Post a Comment