Sunday, May 17, 2020

উপকণ্ঠ প্রাত্যহিক ওয়েব ম্যাগাজিন 18/05/2020

   "উপকণ্ঠ প্রাত্যহিক বিভাগ"

                       (ওয়েব ম্যাগাজিন)      
        প্রকাশ কাল:-18/05/2020, সোমবার

সম্পাদক এবং
প্রকাশক:-    সেক আসাদ আহমেদ
যুগ্ম সহঃ সম্পাদক :-
                  ১) ইমরান খাঁন 
                  ২) শেখ মণিরুল ইসলাম

সম্পাদকীয় দপ্তর ::-
গ্রাম:- গাংপুরা ডাকঘর:- সাগরেশ্বর
থানা:- রামনগর জেলা:- পূর্ব মেদিনীপুর
সূচক- ৭২১৪৪৬ পশ্চিমবঙ্গ ভারত
••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••• 



আমাদের ফেসবুক আইডি:- 
           Upokontha Sahitya Patrika 

Facebook link 🔗🔗🔗
https://www.facebook.com/upokonthasahitya.patrika

সম্পাদকের ফেসবুক আইডি :-
         Sk Asad Ahamed

Facebook link 🔗🔗🔗
https://www.facebook.com/asat.sk

যোগাযোগ:- 9593043577 (What's app) 
••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••

                       কিছু কথা


উপকণ্ঠ সাহিত্য পত্রিকা নতুন প্রতিভার সন্ধান করে থাকে। নবীন প্রবীণ, খ্যাত অখ্যাত সকল প্রকার কবি সাহিত্যিকদের লেখনী তুলে ধরা হয় এই ব্লগের মাধ্যমে, অবশ্যই সাধুবাদ ও হৃদয়ের অন্তঃস্থল থেকে ভালোবাসা জানাই সেই সকল কলমচিদের যাদের লেখনী স্রষ্টায় সমৃদ্ধ হয়েছে আজকের উপকণ্ঠ প্রাত্যহিক বিভাগ। 

তাদের লেখনী সত্ত্বার আরও বিকাশ হোক এই কামনা করি। 
আজকে এই বিভাগে সমাজ ও সংস্কৃতি বিষয়ক দুটি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। সমসাময়িক পরিস্থিতির উপর রাজীব নন্দী ও বাংলার সংস্কৃতি নিয়ে আব্দুল রাহাজ এর প্রবন্ধ পড়ার অনুরোধ রইল। 
প্রিয় পাঠক বন্ধুরা উপকণ্ঠ প্রাত্যহিক বিভাগ সবার কেমন লাগছে, ভালো খারাপ, ভুল-ত্রুটি , ভালো পরামর্শ অবশ্যই নির্দ্বিধায় আপনার মতামত জানাবেন। যা আমাদের অনুপ্রেরণা ও উদ্যম বাড়াবে। 

সবাই ভালো থাকুন আর সুস্থ থাকুন। 


                                     ধন্যবাদান্তে
                            সেক আসাদ আহমেদ
••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••

উপকণ্ঠ প্রাত্যহিক বিভাগ


আজকে যারা কলম ধরেছেন ✒✒✒✒✒✒✒✒✒✒✒
১) রাজীব নন্দী (প্রবন্ধ) 
২) আব্দুল রাহাজ  (প্রবন্ধ) 
৩) অরবিন্দ নাহা   (কবিতা) 
৪) ডাঃ তারক মজুমদার (কবিতা) 
৫) বাপন দেব লাড়ু  (কবিতা) 
৬) সুব্রত সামন্ত (কবিতা) 
৭) শ্রী কৃষ্ণ দে (অনু কব্য) 
৮) প্রশান্ত মাইতি (কবিতা) 
৯) প্রদীপ কুমার দে (কবিতা) 
১০) দেবনাথ সাঁতরা  (কবিতা) 


================================================

লকডাউন কি পারিবারিক কলহ বৃদ্ধি করছে?
     ✍✍✍✍✍  রাজীব নন্দী
     


আজ তোরা যাসনে ঘরের বাহিরে...এই সুরেই আজ প্রথমবার বিস্বাদ লেগেছে মনে।শত্রু আজ মেঘের আড়ালে লুকিয়ে যেনো অপ্রতিরোধ্য।চাণক্য এর কথায়:-শত্রু যখন অদৃশ্য তখন নিজেকে লুকিয়ে রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।......
    মানুষ আজ এক অজানা বিপদের সম্মুখীন..যে বিপদ পৃথিবী এর আগে হয়ত পায়নি..করোনা ভাইরাসের প্রকোপ গৃহবন্দী দশাতেই আটকানো সম্ভন।সমস্যা হচ্ছে দীর্ঘদিন পরিবারের সাথেই আমরা আছি কিন্তূ ছিলাম না সর্বক্ষণ।এটাই এখন সমস্যার মূল।সবার ভাবনা মানসিকতায় এনেছে উদ্বেগ ও সমস্যা যা পারিবারিক কলহের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।বাবা মা ভাই বোন থেকে শুরু করে স্বামী স্ত্রীর সম্পর্কে এখন সিঁদুরে মেঘ।
মানুষের মানসিকতাই মানুষের ভাবনার বিকাশ ঘটায়।মানুষ আজ বড্ড বেশি খিট খিটে হয়ে পড়ছে একাকিত্বের যন্ত্রনায়।পরিবারের মাঝে থেকেও সে বেশী করেই যেনো একা।মানুষ মানেই তার শুধু পরিবার নয়, সে বেঁচে থাকে সামাজিক মেলবন্ধন এর মধ্যে।যা অবশ্যই পারিবারিক কলহের কারণ সৃষ্টি করতে বাধ্য।
সমাজের বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ রয়েছে।যদি আমরা আর্থিক ভাবে দেখি..                                 উচ্চবিত্ত/ধনী
মধ্যবিত্ত
গরীব
আপাত ভাবে তিন ধরনের মানুষের ভাবনা চাহিদার মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে।একদিকে গরীব যেমন পেটের অন্ন যোগাবে বলে ব্যাস্ত।দিন আনি দিন খাইর সংসারে না খেতে পাওয়াটাই সমস্যা।
মধ্যবিত্ত তাদের ও রোজগার বন্ধ ,জমানো টাকায় ও ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তায় তারাও খুব মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত।ইচ্ছে না থাকলেও তারা পারিবারিক কলহে জড়িয়ে পড়ছেন।আর ধনী দের কথা ..তাদের ও সেই একই অবস্থা না হলেও পারিবারিক কলহ কমবেশি ধরা পড়ছে।তাদের ভাবনায় ইচ্ছাশক্তি তে আজ যেনো লাগাম পড়েছে।আধুনিকতার রূপসাগরের হাতছানি আজ ড্রইং রুমে বন্দী।সাথে পারিবারিক কলহের তিক্ত সুর।
আজ পৃথিবীর প্রত্যেকটি পরিবার কিছু না কিছু সমস্যায় জর্জরিত বর্তমান করোনা পরিস্তিতি তে।কেউ হারিয়েছে প্রিয়জন,কেউ হারিয়েছে কফিহাউসের আড্ডা,কেউ হারিয়েছে রোজগার,কেই হারিয়েছে মাথার ওপর ছাদ, কেউ হারিয়েছে শিক্ষার দিশা।হারানোর মাঝে মানুষ আজ হারিয়েছে তার স্বভাব বোধ।যা প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে সমাজে পারিবারিক জীবনে।
বিভিন্ন মনস্তাত্ত্বিক দের মতে গৃহবন্দী হতে গিয়ে হারিয়ে ফেলছে জীবনের মানে।ভালোথাকতে গিয়ে ভালো থাকছে না অনেকেই।
স্বামী স্ত্রীর মধ্যে শুরু হয়েছে এক মানসিক তর্জা যা থামার অবকাশ নেই।সেই যুদ্ধ কোনো আইনজীবী জিতবে বলে আমার মনে হয় না।
"ভেঙ্গেছো দুয়ার এসেছো জ্যোতির্ময় তোমারই হউক জয়"
পারিবারিক কলহে নয় সব পরিবারকে মানসিক ভাবে সুস্থ স্বাভাবিক সুসম্পর্কের মধ্যে জয় করতে হবে করণাকে।.....
আর মনে মনেই হোক বা মুখে গাইতে হবে গান.....উই সেল ওভার কাম সাম ডে..... আমরা করবো জয় নিশ্চয়
সাথে বিকেলের রোধ মেখে নচিকেতার গান:-এক দিন ঝড় থেমে যাবে,পৃথিবী আবার শান্ত হবে...শুনলে মন্দ হয় না....
ভালো থাকুন,সুস্থ থাকুন,ঘরে থাকুন।
=========================================

বাংলার সংস্কৃতি অতীত ও ঐতিহ্য 
(প্রবন্ধ)
✍✍✍✍✍ আব্দুল রাহাজ


বাংলার সংস্কৃতি অতীত ও ঐতিহ্য যেন উজ্জ্বলতার প্রতীক। বহুকাল ধরে বাংলার ইতিহাস সংস্কৃতি বহমান হয়ে আছে সকলের মাঝে। বাংলার বুকে মানুষে মানুষে মানুষ যে মিলন পারস্পারিক সম্পর্ক মেলবন্ধন তা চোখে পড়ার মত যা সংস্কৃতি অতীত ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করে বেঁচে আছে এখনো। বাংলা নৃত্য শিল্পকলা গান খেলাধুলা সবদিক থেকে যেন বাংলা বিশ্বের কাছে জগৎজোড়া সুনাম নিয়ে আজ সবার মনে বিরাজ করছে। বাংলা মায়ের জগৎ জোড়া ইতিহাস সুনাম নিয়ে বর্তমান বাংলা মা আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে। বাংলা সবুজ ভরা মাঠ চষা মাটির গন্ধ আহা কী ভালোই না লাগে। বাঁশঝাড় শান বাঁধানো পুকুর দিগন্ত বিস্তৃত মাঠ সমগ্র চিত্র ফুটে ওঠে বাংলার বুকে। বাংলার মানুষের প্রান্তিক জীবন যাপন মেলবন্ধন সব যেন চোখে পড়ার মতো। দিগন্ত বিস্তৃত মাঠ মাটির দেওয়াল খড়ের বিচালীর চাল কিংবা খোলা দিয়ে ছায়া ঘর দূর থেকে দেখলে মনে হয় ছোট ছোট কুটিরে ঘেরা এক অনন্য প্রতীক। সূর্যের দীপ্ত রাশির আভায় বাংলার পরিবেশ হয়ে ওঠে মনমুগ্ধকর মনোরম সৌন্দর্য আচ্ছাদিত গ্রামের মানুষ তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করে। বাংলার ইতিহাস যেন আজীবন সত্য তার পরিবেশ মহময়তা জীবনযাপন প্রভৃতি তার উপর ভিত্তি করে বর্তমান সময়ে বাংলা তথা সবার মাআজও সবার কাছে চিরঞ্জিত অবস্থায় আছে। বাংলার এই মায়াভরা দৃশ্য তার অতীত থেকে বর্তমান আজি চির ধারায় বয়ে চলেছে নদীর মতো চলমান অবস্থায়। বাংলার প্রাচীন ঐতিহাসিক স্থান সৌধ মনে করিয়ে দেয় তার সভ্যতার ইতিহাস সমস্ত বিষয় বাংলাকে দেখিয়ে দেয় বাংলার উপর তাদের প্রভাব আর তার ঐতিহ্য। বাংলা মায়ের কোলে গড়ে ওঠে কতশত জাতির ভবিষ্যৎ যা বাংলা কে টেনে নিয়ে যায় এক অন্য মাত্রায়। বাংলার এই মায়াভরা দৃশ্য এবং বিশিষ্ট স্থান জানতে সারা বিশ্ব বাংলার অতীব সুন্দর পরিবেশ নিয়ে ভাবতে থাকে তৈরি হয় বাংলার উপর আলাদা টান  বাংলার অতীত ঐতিহ্যকে সুদূঢ় করে আজও বহমান হয়ে আছে সবার মাঝে। বাংলা হয়ে ওঠে বিবিধের মাঝে মিলন মহান একথা বাংলা কে দিয়েছে নতুন স্বাদ পেয়েছে ভালোবাসা। বাংলার সেই ঐতিহ্য আবেগ ঘন ময় পরিস্থিতি আর গ্রামীণ মেলা কে কেন্দ্র করে উৎসব আমেজ সৃষ্টি হয়। গ্রাম বাংলার লোক উৎসব বয়ে আনে সংস্কৃতির মেলবন্ধন মানুষে মানুষে মিলিত হয় সর্ব ধর্ম নির্বিশেষে যা হয়ে ওঠে এক কোন রকম পরিবেশ। বাংলার বিভিন্ন পট দৃশ্য আর বিভিন্ন কাজে দিছি সৌন্দর্য তা  প্রোজ্জ্বল হয়ে ওঠে। বাংলার মানুষের সেই উৎসব আদান-প্রদান মেলবন্ধন আজও যেন সংস্কৃতি-ঐতিহ্য কে পদে পদে মনে করিয়ে দেয় সবার চোখে। বাংলা মায়ের কোলে শস্য শ্যামলা মাঠকে ঘিরে আনন্দ উত্তেজনা সব বহন করে বাংলার মানুষ যা এরকম দৃশ্য আর কোথাও ছাপ দিতে পারেনি। মনে হয় সুন্দর পৃথিবীর একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র অবস্থান করছে সুদূর সাম্রাজ্য ধরে আর বহন করে নিয়ে যাচ্ছে তার স্বয়ং মহিমা আর পরিচিত ঘটাচ্ছেন বিশ্বের দরবারে যা দেখে আপ্লুত হচ্ছেন বাংলা তথা বিশ্ববাসী। বাংলার খাবার পোশাক-পরিচ্ছেদ তার পরিবেশ সংস্কৃতি মানুষের মেলবন্ধন সবকিছু যেন আলাদা মাত্রা নিয়ে সবার মনকে জয় করে সবার মাঝে বেঁচে আছেন। বর্তমানে আধুনিক যুগের যে মায়াজাল তা যেন বাংলা সংস্কৃতির অতীত ঐতিহ্যকে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলছে সুদুরপ্রসারি করে তুলছে যা বাংলার প্রতিটি মানুষ উপভোগ করে যাচ্ছে। আহা বাংলার প্রকৃতি পরিবেশ সবুজে ভরা গাছপালা আর তাদের যে ঠান্ডা বাতাস যেন শরীরকে শিহরণ করে তোলে। পূর্ব আকাশে সকালের সূর্য উদয়ন হাওয়া থেকে পশ্চিম আকাশে সূর্য অস্ত মান হওয়া পর্যন্ত আগ মুহূর্তে বাংলার পরিবেশের যে লুকোচুরি খেলা তা যেন আদি দিগন্তের পথে বয়ে চলেছে আর সেই বাঁশ ঝাড় চাষা মাটির গন্ধ বাংলা ঋতু গুলির জেক্রম পর্যায়ের পরিবেশ তা যেন তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করে বাংলার সাধারণমানুষ এই সব মিলিয়ে বাংলা সংস্কৃতির অতীত ঐতিহ্য সবার মধ্য দিয়ে বহমান এবং বাংলায় যে সৌন্দর্যতা যা সবার মনকে আকর্ষণ আকৃষ্ট চিরনজিৎ নায়ক হিসেবে জড়িয়ে আছে।

=====================================
কথোপকথন   

    ✍✍✍✍ ✍ অরবিন্দ নাহা  





আপনার ছেলে ঘুড়ি উড়িয়েছে কখনো?
-না -না, ওতো ছোটলোকেরা ওড়ায় ।
ফুটবল খেলেছে নিশ্চিয়?
-পাগল, যদি হাত- পা ভাঙে ।
বন্ধুর সাথে সরস্বতী পুজোয় রাত জাগা?
-ঠান্ডা বাঁধিয়ে মরুক আর কি।
রক্তদান শিবিরে সেবচ্ছায় রক্তদান?
-আমার ছেলে অত বোকা নয়।
ভিখারিকে পয়সা দেয়?
-একজন না দিলে কিছু কম পড়বে না।
অনধ কিংবা বৃদ্ধকে রাস্তা পার করেছে কখনো?
-শেষে যদি নিজেরইএকসিডেন্ট হয়।
প্রতিবেশীর জন্য হাসপাতালে  রাত্রিবাস?
-সম্ভব নয় ,পর দিন অফিস আছে না। 
নিজেরা মঞ্চ বেধে পঁচিশে বৈশাখ পালন?
-ফালতু কাজ, বাজে সময় নষ্ট্ ।
তাহলে?!
-অবাক হচ্ছেন ,ছেলেবেলা থেকে
ওগুলো করতে দিইনি বলেই আজ সে
মালিটমিলিয়ান কোম্পানির এক্সিকিউটিভ
গাড়ি-ফ্ল‍্যাট,প্লেনের টিকিট,সব-সব'ফ্রি।
আর কি চাই জীবনে?
এইতো পনের‌ই আগষ্ট পাড়ায়
যে সম্বর্ধনা অনুষ্ঠান
সেখানে 'ও' সভাপতি,ছেলেও আমার
অনেক টাকা ডোনেট করেছে।আচ্ছা,-
আপনার ছেলের খবর কি?
এক সময় তো ডাকাবুকো হিসেবে
খুব নাম ছিল পাড়ায়।
তা এখন কি করে -টরে সে?
-তেমন কিছু না, তবে
আপনি যা-যা করতে দেননি ছেলেকে
আমি তার সবগুলোই করতে বলেছিলাম
ছেলেবেলা থেকে । তাই -আজ
আপনার ছেলে যে অনুষ্ঠানের সভাপতি,
সেখানে সম্বর্ধনা জানানো হবে যাকে,-
"সে"আমার‌ই ছেলে।    

            *************
           **************


নেগেটিভ ভালো
✍✍✍✍✍ ডাঃ তারক মজুমদার





চোখ বুজলেই ভালো থাকি
চোখ খূললেই মন্দ
বাতাসে আজ বারুদ গন্ধ 
সম্পর্ক ভাঙার শব্দ। 

জ্ঞান  বুদ্ধি বিবেকহীন
শুধু আকৃতি মানুষ
সাইক্লোন টর্ণেডো ফুসছে ওই
ভাসছে দেখো ফানুষ । 

এখন শুধু ওভারটেক
প্রবণতা  ল্যাং মারা
আত্মমর্যাদা বিসর্জনে
শুধুই দিশেহারা  । 

========================================

বেঁচে থাকার সংজ্ঞা

✍✍✍✍✍ বাপন দেব লাড়ু


মাথার ওপর ভেঙে  পড়লো আকাশ! 
বিড়ালে কেটেছে পথ.... 
অমঙ্গলের ফানুসটা ফেটে যায় শব্দে,
রিংটোনে রেখেছি হনুমান চল্লিশা,
জেব্রা ক্রসিং এ দাঁড়িয়ে আছি, 
মনে ও শরীরে ব্যস্ত সবাই।
ভবিষ্যতকে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে জনম কুন্ডলী,
শরীর ঝুলছে পাথরের ভারসাম্যে ;

এটাই কি পথ? 
এটাই কি বেঁচে থাকার সংজ্ঞা?

=====================================
জীবনের রেলগাড়ি 

      ✍✍✍✍ ✍ সুব্রত সামন্ত 



জীবনের রেলগাড়ি গড়িয়ে চলেছি আমি
শুধু চালক হিসেবে কখনো থামাইনি
ব্যস্ত থেকে ব্যস্ততর স্টেশনগুলোতে। 
অতিব্যস্ত স্টেশনের মাঝে প্লাটফর্মগুলো খুঁজেছে আমায় বারে বারে।
থামানোর ইচ্ছে হলেও কখনো থামাইনি! ক্লান্তিগুলো ব্যস্ততার রেখা অতিক্রম করে রঙিন সিগনাল গুলি এঁকে চলে... ।
দেখি জীবনের এক নাম না জানা স্টেশন 
ইচ্ছে হলো না থামানোর।
এ যেন সভ্যতার কালো আকাশে
কারা যেন প্লাস্টার লাগিয়ে চলছে!!
আশ্চর্য হয়ে প্লাটফর্মে তাকিয়ে আমি...
এ কি! কেউ নেই যে ?
জীবনের হল্ট স্টেশনগুলোয় থামিনা যদিও
তবু এ জীবন মাঝে মাঝে হল্টের মতোই হয়; ঐতিহ্যগুলো কালো গ্রানাইটে আছে লুকিয়ে.. 
আর চায়না ওরা হলুদ বিকেলে---
ইতিহাসকে সাথে নিয়ে লড়তে।
জীবনের কামরা গুলো শুধু আজ ছিন্ন-ভিন্ন!
তবুএকাকী চালক আমি---
জীবনের শেষ স্টেশনে পৌছাবো বলে।।

======================================


জঙ্গল কাব্য 

    ✍✍✍✍✍শ্রী কৃষ্ণ দে


৫)

বর্গি আসে
বর্গি ওরা বার বার ফিরে আসে!

দিনের আলো মেখে 
রাতের কালো মেখে 
ভারি ভারি পায়ে 

নদীর ওই পিঠে হারিয়ে উঠা গভীর বন
নদীর এই পিঠে ঘাম মাখানো সোনার ফসল 

ওই বনের পথ ওদের খুব চেনা
ওই বনের পথেই

যতদূর চোখ  যায়, শুধু আগুন জ্বলে 
          দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে! 


৬)

জন্মদিনের উপহার বলতে-
মায়ের হাতের আতপ চালের পায়েশ
বাবার দেওয়া হলুদ প্রিয় ফুল। 

দুপুরের খাবারে 
সেই পুরোনো শামুক, কলমি, কুঁদরি 
আর কাঁচাকলার ঝোল

বিকেল গড়াতেই 
তুলে রাখা নতুন জামা গলিয়ে 
দাদার কাঁধে নতুন পৃথিবী দেখা 

"ওই পাখি,
ওই পাখি 
এই দেখো, আমি তোমার মতো 
ডানা ছাড়িয়ে উড়চ্ছি! 
শুধুই  উড়চ্ছি! "

=============================================     শ্রাবণ   

     ✍✍✍✍✍ প্রশান্ত মাইতি

খসে পড়ছে পাতা বাতাসের গা বেয়ে
প্রিয়াঙ্কার সন্ধারতির মঞ্চপ্রদীপ নিভেছে বাতাসে
          #
রাত্রির নিঃসঙ্গ শূন্য আকাশে
চাঁদ আর খেলা করেনা
আমার কবিতা আসেনি আজ কাছে
 অভিমানে যেনো চলে গেছে বাড়ি
              #
তবুও হন্যে হয়ে থাকি বসে
চাতকের মত ঘরের উঠোনে
               #
কখন আসবে সে ভেজা শ্রাবণে ।।

==============================================
কবিতা
 অস্পর্শের বৈভব

✍✍✍✍✍ প্রদীপ কুমার দে


বর্ণমালার অক্ষরজুড়ে রাত নামে;
সিক্ত বালিশ জুড়ে এলোমেলো,
মুখ গুঁজে ইতস্তত পড়ে থাকি।
তোমার ভালোবাসার কিছু ঋণ
এখনও কাঁটার মত বিঁধে।
অশ্রু ছুঁয়ে অব্যক্ত শব্দগুলো
এখনও তার কাছে বাক্যহীন।
নিতান্তই অভ্যাসের বশে,
দুর্বোধ্য রাতগুলির গভীরতা
খুঁজতে থাকি নিঃশব্দে।
বুকের গহনে বয়ে চলে
তীব্র হাহাকারের স্রোত।
একদিন বাস্তবকে কটাক্ষ করেছিলাম-
বৈভবের জোয়ারে ভেসে;
এখন,জলকনাহীন রিক্ত মেঘ আমি,
অতৃপ্ত পৃথিবীতে অনাবৃষ্টির মত।
ক্ষয়রোগে বধির বর্ণমালা নিয়ে
অস্পর্শ রাত্রিযাপন।
অতীতের স্মৃতির দহনজালা,
স্বপ্নসমূহকে পরিণত করেছে
দাহ্য পদার্থে।
যে চাহনির অনাবিল কারুকার্যমুখর
মুহূর্তগুলি ছিল আনন্দদায়ক-
আজ তা কাব্য লেখার পক্ষে যথেষ্ট।
সে কাব্য জুড়ে ফুটে উঠবে,
শুধুই স্পর্শহীন অশরীরী আলিঙ্গন।
এলোমেলো বর্ণমালায় সাজানো থাকবে,
অস্পর্শের বৈভব। 

============================================

          চলো পাল্টাই
 ✍✍✍✍✍দেবনাথ সাঁতরা





চাই না লড়াই, চাই না বড়াই
চাই একটু বাঁচতে
সবকিছু থেকে মুক্ত হয়ে
সুখের হাসি হাসতে।
একটা চাই নতুন দেশ
যে দেবে সত্যতার আলো
সেই আলোতে মুছে যাবে
সকলের মনে জমা কালো।
সেই দেশেতে থাকবে দুঃখ
আর থাকবে হাসির মেলা
ভালোবাসা সেথায় করবে খেলা
সোনার সকাল বেলা।
হিংসা সেথায় থাকবে নাকো
কেউ করবেনা বেইমানি
মানুষের মনে থাকবেনা কোনো
আতঙ্কের হাতছানি।
মানুষ থাকবে বন্ধু হয়ে
পরস্পরের সাথে
আজ সবাই মিলে একজোট হয়ে
চলো যাই সবকিছু পাল্টাবার মহাপথে।

   ======================================================================
© সেক আসাদ আহমেদ 
সম্পাদক, উপকণ্ঠ
তাং-  18/05/2020
গাংপুরা, পূর্ব মেদিনীপুর
   

2 comments:

  1. Amar bhalo laga kobita beche thakar sanga,jibaner relgari,bhalo

    ReplyDelete
    Replies
    1. অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে মন্তব্য করার জন্য
      এই পাশে থেকো

      Delete