Tuesday, June 2, 2020

উপকণ্ঠ প্রাত্যহিক ওয়েব ম্যাগাজিন-02/06/2020

      
          "উপকণ্ঠ প্রাত্যহিক বিভাগ"
                       (ওয়েব ম্যাগাজিন)     
        প্রকাশ কাল:-02/06/2020, মঙ্গলবার
                    সময় :- দুপুর 12 টা 

সভাপতি:- অরুণ কুমার ঘড়াই
সহঃ সভাপতি:- সেক আব্দুল মজিদ

সম্পাদক এবং
প্রকাশক:- সেক আসাদ আহমেদ
যুগ্ম সহঃ সম্পাদক :-
                  ১) ইমরান খাঁন 
                  ২) শেখ মণিরুল ইসলাম

সম্পাদকীয় দপ্তর ::-
গ্রাম:- গাংপুরা ডাকঘর:- সাগরেশ্বর
থানা:- রামনগর জেলা:- পূর্ব মেদিনীপুর
সূচক-৭২১৪৪৬ পশ্চিমবঙ্গ ভারত

মুঠোফোন:- 9593043577 

🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷

উপকণ্ঠ সাহিত্য পত্রিকা ফেসবুক আইডি লিঙ্কে ক্লিক করুন আর যুক্ত হন আমাদের সাথে
 Click here

উপকণ্ঠ সাহিত্য পত্রিকা এর হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপতে যুক্ত হন লিঙ্কে ক্লিক করে
Click here
🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷

আজকে উপকণ্ঠ প্রাত্যহিক বিভাগে যারা কলম ধরেছেন ✒✒✒✒✒✒✒✒✒✒✒ 👇👇👇

ছোটোগল্প:-
  • আব্দুল রাহাজ
গল্প:-
  • শ্যামাপ্রসাদ সরকার
   • সোহিনী শবনম
প্রবন্ধ:- 
 • রাজা দেব রায়
কবিতা:-
  • জুয়েল রূহানী
  • প্রনব রুদ্র
অনু কবিতা:-
  • রুকসানা পরভীন
  • প্রদীপ কুমার দে
কবিতা:-
  • কৌস্তভ  ঘোষ
  • আব্দুর রহমান
  •  দেবাশীষ সরখেল
স্মৃতি কথা:-
  • অগ্নিমিত্র
কবিতা:-
  • সমিত বিশ্বাস
  • সমীরণ বেরা
অনুকাব্য:-
• শ্রী কৃষ্ণ দে



🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷
গ্রাম বাংলা (ছোট গল্প)
      ✍✍✍ আব্দুল রাহাজ


গ্রাম বাংলার কথা মনে আসলে প্রথমেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে মাটির বাড়ি গাছপালা বাজার বাঁশঝাড় দিগন্ত বিস্তৃত মাঠ সূর্যের আলো পাড়ি দেয় অন্ধকার জগতে এইভাবে গ্রামবাংলায় সার্বিক চিত্র ফুটে উঠে। গ্রাম বাংলার প্রকৃতির দৃশ্য মনে করিয়ে দেয় যেন কোনো রূপকথার দেশ। গ্রামের অপরূপ সৌন্দর্য সবাইকে মন ভরিয়ে দেয়। যখন রাখাল ছেলে বেলা শেষে বাঁশি বাজিয়ে বাড়ি ফেরে তখন প্রকৃতি পায় সেই বাঁশির সুরের মাধুর্য। গ্রাম বাংলার মানুষ খুবই সহজ-সরল প্রকৃতির মাঠে চাষ করে জীবিকা উপার্জন করে। গ্রামের সেই সংস্কৃতি ভ্রাতৃত্ব মেলবন্ধন মনে করিয়ে দেয় এটাই গ্রামবাংলার সভ্যতা স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। গ্রামের পশ্চিম দিকে যখন অস্ত যায় সেই মুহূর্তে গ্রাম বাংলার পরিবেশ অন্যমাত্রা নিয়ে এক মনোরম দৃশ্যের সৃষ্টি করে। সবুজায়ন মোড়া 
গ্রাম বাংলার পরিবেশ দূর থেকে দেখলে মনে হয় সভ্যতার শুরু থেকে যুগে যুগে তার অপরূপ বাহার সবার সামনে ফুটে উঠেছে। এইভাবে গ্রাম বাংলার পরিবেশ নদীর মত দিগন্তের পথে চলমান হয়ে আছে। গ্রাম বাংলার উৎসব মনে করিয়ে দেয় সম্প্রীতির বার্তা মেলবন্ধন পারস্পরিক সম্পর্ক। গ্রামের মানুষ অভাব বোধ করলেও কোনদিন কাউকে ঘৃণা বোধ করত না এইভাবে সুখে শান্তিতে জীবন অতিবাহিত করত ‌ গ্রাম বাংলার পরিবেশ সামাজিক দিক প্রাকৃতিক মনোরম দৃশ্য ফুটে উঠত। একবার আমাদের পাশের গ্রামে ঘুরতে বেরিয়েছিলাম সম্ভবত রবিবার ছিল। গ্রামে প্রবেশ করতেই দেখলাম গ্রামটির চারিদিকে গাছপালায় ভরা আর একটি নদী দেখতে পায় নামটি তার বিদ্যাধরী তিনি যেন আপন বেগে চলে যায়। তার দুই পাশে সারি সারি গাছ আর তার দুই পাশে দুই গ্রাম এক গ্রামের নাম কমলাপুর আর একটি গ্রামের নাম হল ফতেপুর দুই গ্রামে বসবাস করতো হিন্দু ও মুসলিম ধর্মের মানুষ। তাদের মধ্যে কোন ভেদাভেদ নেই সব সময় মিলেমিশে থাকতেন। গ্রামের পূর্ব দিকে একটি হাট-বাজার ছিল নামটি তার ফুলের হাট এখানে বহু মানুষের আনাগোনা সব জায়গার মানুষ আসতো তাদের প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে ও ব্যবসা করতে হাট-বাজার টি খুবই বড় সব রকমের জিনিস পাওয়া যেত। গ্রামটির মানুষজন ছিল খুবই ভালো শান্ত নির্জন পরিবেশে মানুষ গুলো সুখে শান্তিতে বসবাস করত এইভাবে তারা দিনের পর দিন সম্প্রীতির মেলবন্ধন কে জড়িয়ে ধরে বসবাস করত।দুই গ্রামের সৌন্দর্যে মনমুগ্ধকর হয়ে যেত আমার গ্রামবাসী। তার যে সবুজায়ন দূর থেকে দেখলে মনে হয় রূপকথার দেশ।মনে হয় গ্রাম বাংলার সমাজ সংস্কৃতি বিনোদন একই সূত্রে গাঁথা বহন করে আসছে যুগ যুগ ধরে। গ্রামীন শেষ সীমানায় আছে ফাঁকা জায়গা মাছের ভেড়ি তে ভরা আশেপাশের ফাঁকা জায়গায়প্রকৃতির বাতাস যেন বয়ে চলেছে আপন বেগে। প্রকৃতির লীলাখেলায় তার মাধুর্যের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে উঠেছে ফলে সেই গ্রামের প্রাকৃতিক পরিবেশ অতীব সুন্দর এইভাবে গ্রামবাংলার পরিবেশের মাধুর্য প্রাকৃতিক পরিবেশের মনোরম দৃশ্য ফুটে উঠেছে। একটি ছেলে তার নাম আল-তালিব সে এক গ্রামে বসবাস করত নাম কি ছিল বড় পুকুর সে বলল এটা একটা ঐতিহ্যবাহী জায়গা। পুরানো পুরানো বাড়ির মিলিত স্থান দেখলে মনে হয় বাংলার প্রাচীনতম স্থান। গাছপালায় ভরা এই গ্রামটি ছিল এক শহর এলাকার পাশে তবুও কোথাও যেন শহর হারমান তো গ্রামবাংলার পরিবেশের সঙ্গে এইভাবে গ্রামটি বছরের পর বছর মাথা উঁচু করে অবস্থান করেছে। গ্রামের ভিতরে যতই যাওয়া যায় ততো ইতিহাসের হাতছানি সেখানকার পরিবেশ কতটা সৌন্দর্য মাধুর্য তা নিজের চোখে দেখে বিশ্বাস করা যায় না। গ্রামের মানুষগুলো বিভিন্ন পেশায় যুক্ত আর সহজ-সরল প্রকৃতির একে অপরকে সাহায্য করে সবাই মিলেমিশে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে। সবুজায়নে মোড়া এইগ্রাম ঐতিহ্যবাহী রূপে পরিচিতি ছিল সবার কাছে। সময়টা ছিল বর্ষাকাল গ্রাম বাংলার পরিবেশ যেন বর্ষার আবহে তার মনোরম দৃশ্য বসের সাথে ফুটিয়ে তুলেছে অবিরাম বৃষ্টির সাথে পরিবেশের উপর পতিত গাছগুলি যেন তাদের যৌবন পুনরায় ফিরে পেয়েছে। চারিদিকে ব্যাঙের কণ্ঠস্বর ভেসে আসে কানে আর পরিবেশ অন্যরকম মাত্রা নিয়ে বিরাজ করে। গ্রামের মানুষ দিন গুনতে থাকে রোদ ঝলমলে দিন আর প্রবীণ মানুষেরা ছোট বাচ্চাদের নিয়ে গল্প শোনাতে থাকে। এইসময় গ্রামবাংলার পরিবেশের চারিদিকে জল ধুধু করতে থাকে মনে হয় যেন কোন প্রকৃতির বুকে এক সাদা স্তর পড়েছে এইভাবে গ্রামবাংলার পরিবেশ তারাসহ মহিমা ফুটিয়ে তুলেছে। বাংলা ঋতু যখন ক্রমপর্যায়ে আসে তখন গ্রাম বাংলার পরিবেশ অন্যরকম মাত্রা নিয়ে সবার সামনে ফুটে ওঠে। গ্রামবাংলায় শীতের বর্ণনা এক আমেজের ব্যাপার। শীতের পরশে গ্রাম বাংলার মানুষ এক অন্যমাত্রার পরিবেশ পায়। শীতের দিনে গ্রাম বাংলার পরিবেশ ফুটে ওঠে মনোরম দৃশ্যে। আর শীতের আমেজে অনুষ্ঠানগুলি মানুষকে ছুঁয়ে দেয় এক অন্য মাত্রায় এইভাবে গ্রাম বাংলার কুয়াশাচ্ছন্ন শীতের দিনগুলি উৎসব বনভোজনের আমেজে গ্রাম বাংলার মানুষ। বুঝলে তাই প্রকৃতির মায়ারু মনোরম দৃশ্য যা গ্রাম বাংলার পরিবেশকে রূপকথা দেশে পরিণত হয়েছে। পর্যায় স্তরে গ্রামবাংলার গ্রীষ্মকাল অভূতপূর্ণ পরিবেশ বিস্তার করে। প্রকৃতির গাছপাল র হাওয়ায় গ্রাম বাংলার মানুষকে দায়ারাম গ্রীষ্মের আবহে গ্রামের রজনী হয়ে ওঠে গল্পখানার মহত্ত্ব পূর্ণ সর্বজনীন জায়গা। প্রকৃতির হাওয়ায় আবহে ভেসে ওঠে গ্রাম বাংলার নিজস্ব রূপ যেখানে মানুষ সচক্ষে উপভোগ করে আর গ্রাম বাংলার সবুজায়ন হয়ে ওঠে সৌন্দর্যের প্রতীক। গ্রাম বাংলার শরৎ ঋতুর আবহে হিন্দু-মুসলিম মাতে এক মেলবন্ধনে। এইসময় গ্রামবাংলার পরিবেশের সম্প্রীতির বার্তাবাহক। এই মাসে অনুষ্ঠিত হয় বাঙালির বড় উৎসব দুর্গাপূজা।গ্রামবাংলার সবুজায়ন ফুটিয়ে তোলে তার শরতের সৌন্দর্য। গ্রাম বাংলার মানুষ উপভোগ করলেও কোথাও যেন ভ্রাতৃত্বের মেলবন্ধনের পরিচয় ঘটে। এভাবেই গ্রাম বাংলার ঋতু গলি সময়ে সময়ে এসে প্রকৃতিকে মাতিয়ে দেয়।গ্রাম বাংলার মানুষ অতি সহজ সরলভাবে সুখে শান্তিতে বসবাস করে।গ্রাম বাংলার প্রকৃতির মাধুর্যের সঙ্গে সবাইকে মিলেমিশে সম্মিলিত মেলবন্ধনে রূপরেখা তৈরি করে। গ্রামের ছেলে মেয়েরা তাদের শৈশব বাল্যকাল কাটায় গ্রামের প্রকৃতির সৌন্দর্যের সাথে আর তাদের যৌবন পরিণত প্রাপ্তবয়স্ক ফুটে উঠে প্রকৃতির সাথে গ্রামের ছেলে-মেয়েরা বড় হয়ে ওঠে। গ্রামের মাটির বাড়ি গুলি যেন এক এক ঐতিহ্য নিয়ে অবস্থান করে। দূর থেকে দেখলে মনে হয় সোনার খাঁচায় বাধা তরী। গ্রামের মেঠোপথ বাঁশঝাড় সবই যেন গ্রামের মানুষের সঙ্গে পরিচিতি হয়ে হয়ে দিগন্তের পথে অবস্থান করছে। এইভাবে গ্রাম বাংলার মানুষ তাদের জীবন কাটায় এক অন্য মাত্রা নিয়ে। প্রকৃতির হওয়ায় মাটির গন্ধ হিন্দি ছড়িয়ে পড়ে মনোরম পরিবেশ সৃষ্টি করে। সকালবেলায় শান্ত পরিবেশে পূর্ব দিক থেকে সূর্য উদিত হওয়ার পর সূর্যের আলোয় গ্রামবাংলার পরিবেশে উজ্জ্বলতার প্রতীক আর পশ্চিম দিকে যখন সূর্য যখন অস্তমান সেই সময় গ্রাম বাংলার পরিবেশের পরিবেশের মনোরম দৃশ্যের প্রতীক। প্রকৃতির হাওয়ায় দোলায় গ্রামবাংলার বিকালটা ফুটে ওঠে এক আলাদা পরিবেশে। গাছপালায় মোড়া গ্রাম বাংলার মানুষ গুলো ভাইয়ে ভায়ে মিলে মিশে থাকে ছোট্ট ছেলে মেয়েরা গ্রাম বাংলার প্রকৃতি কে ভালবাসে আর খেলাধুলা পড়াশোনা করে কাটিয়ে দেয় সেই বাল্যকাল থেকে জীবনে প্রাপ্তবয়স্ক পর্যন্ত গ্রামের সেই মায়া দৃশ্য তারা ভুলতে পারে না। একবার পৌষ সংক্রান্তি মেলায় গিয়েছিলাম সেখানে গিয়ে দেখলাম গ্রাম বাংলার মানুষ কতটা আনন্দিত। হিন্দু মুসলিম মিলেমিশে ভ্রাতৃত্ব সংস্কৃতি সম্প্রীতির বার্তা অমিল বন্ধনকে সুদৃঢ় করে তুলেছে। গ্রাম বাংলার মেয়েদের হাতের কাজ খুবই সুন্দর কারণ মেলায় যেসব জিনিসপত্র বিক্রি হচ্ছিল তার পুরোটাই মাটির আর হাতের কাজ অতুলনীয় এইভাবে একটি মেলাকে কেন্দ্র করে বুঝা যায় গ্রাম বাংলার সংস্কৃতি ভ্রাতৃত্ব সম্প্রীতির মেলবন্ধন একটি গ্রাম ছিল নাম কি তার কুসুমতি সেখানে গ্রামের আশেপাশে বড়ো মাঠ মাঠ মনে হয় এখানকার মানুষেরা বেশিরভাগ কৃষিজীবী। গ্রামটিকে গাছপালার আধিক্য আছে। গ্রামটির মাটির বাড়িগুলো সারিবদ্ধ ভাবে আছে দূর থেকে দেখতে খুবই ভালো লাগে। গ্রামের পুকুর গুলো কতটা গভীর দেখে মনে হয় একটা গুহা। গ্রামের পূর্ব দিকে হাট-বাজার আর গ্রামের মাছ দিয়ে মেঠো পথ চলে গিয়েছে আর গ্রামের উত্তর দিকে একটি নদী নামটি ফুলেশ্বরী। নদী যেন ফুলের মত পড়ে আছে। আর গ্রামের দক্ষিনে সবুজে ভরা একটি অরণ্য সবাই মিলে গ্রাম বাংলার পরিবেশটা ভালো দিকের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। গ্রামটির ভিতরে বৈচিত্র অতুলনীয় একদিকে সারি সারি মাটির বাড়ি দেওয়ালে আঁকাআলপনা আলপনা গুলো দেখছি খুবই সুন্দর লাগছিল কোথাও যেন মনে হচ্ছিল বাংলা সংস্কৃতি গ্রাম বাংলার এই দৃশ্যের মাধ্যমে ফুটে উঠেছে। এরপর এরপর গ্রাম বাংলার মাঠ মাঠ গুলিতে চাষা মাটির গন্ধে ভরে ওঠে এক অন্যরকম পরিবেশ। সবুজায়নে মোড়াগ্রামের এই মানুষগুলি নিঃস্বার্থ পরায়তাকে ট্যাগ করে সুখে শান্তিতে বসবাসরত বসবাস করতো। একবার গ্রামে বিভিন্ন অনুষ্ঠান পার্বণে দেখা যায় তাদের মেলবন্ধনের সম্প্রীতির বার্তা এ যেন যুগ যুগ ধরে বয়ে আসছে এভাবেই গ্রামবাংলার পরিবেশের ব্যক্তিত্ব সংস্কৃতি মূল্যবোধ সৌন্দর্য মেলবন্ধন আজীবন ফুটে উঠেছে।

বর্তমান সময়ে গ্রাম বাংলার পরিবেশ কোথাও যেন পাল্টাতে শুরু করেছে।আধুনিকতার মায়াজালে বর্তমান যখন সারাবিশ্বে সর্বশক্তি দিয়ে বিস্তার করছে তখনগ্রাম বাংলার পরিবেশ তার শোভা পরিবর্তনে অংশ নিয়েছে। শীতের ভোরে ঘাসের আগায় শিশির দেখা দিলেও মিষ্টি সূর্যের মতো অবস্থান করেছে। বর্তমান সময়ের ভয়াবহতা দূষণ মানুষের ভোগবিলাস আর নিঃশর্ত মানুষের মন মানসিকতাকে বর্তমান সময়ে কাজে লাগাচ্ছে ফলে বিশ্বের পরিবর্তনের সাথে সাথে গ্রাম বাংলার পরিবর্তন দেখা দিতে শুরু করেছে। তাহলে প্রশ্ন জাগে বর্তমান সময়ের গ্রাম বাংলার পরিবর্তন টা কোথায় হয়েছে? তাহলে এই প্রশ্নের উত্তরের আসবে ধ্বংস দূষণ জনসংখ্যা বৃদ্ধি আধুনিকতার ছোঁয়া ছাড়া আরও অনেক বিষয় ঘটছে যা গ্রামবাংলা পরিবেশকে পরিবর্তন না করলেও কিছু তো পরিবর্তন করেছে। আগের মত আর নেই মেঠোপথ হয়ে গেছে পাকা রাস্তা আর গাছপালার কথা বললে বললে গ্রাম বাংলার বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠে কিন্তু বর্তমান সময়ে গাছপালা অবস্থান করলেও সেগুলি রোগাগ্রস্ত। গ্রামের মেঠো বাড়ি হয়ে গিয়েছেপাকা বাড়ি এসেছে বিদ্যুতের আলো পরিবর্তন হয়েছে মানুষের জীবনযাত্রা আবার কোথাও জীবনযাত্রা সেই একই অবস্থানে আছে মোটামুটি ভাবে গ্রাম বাংলার পরিবেশ পরিবর্তন হয়েছে। গ্রাম-বাংলার যেন আধুনিকতার মায়াজালে জড়িয়ে পড়ে সেও যেন আধুনিক এর পথে কিন্তু গ্রাম বাংলার সংস্কৃতি কিছুটা হলেও পরিবর্তন যা আপামর বাঙালি স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করছে। যখন বিশ্ব এক ধ্বংসের মুখে চারিদিকে দূষণ হিংসা বিদ্বেষ মানুষের স্বার্থপরতা সম্পদের সংকট আধুনিকতার বিস্তার প্রকৃতির মায়াজালে মানুষটিকে সমাজ অঞ্চল থেকে গ্রাম বাংলা থেকে শহর থেকে দেশ থেকে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে সার্বিকভাবে পরিবর্তন করেছে যা সময়ের আহ্ণাদে প্রমাণ হয়ে উঠেছে। গ্রাম বাংলার খিচচা মাটির গন্ধে ভরে ওঠে এক মনোরম পরিবেশ পেলেও কোথাও যেন ঘাটতি থেকে যায় এর কারণ বর্তমান পরিস্থিতি। সময় যতই এগুচ্ছে বিশ্ব সমাজ দেশ আর যখন আধুনিকতার মায়াজাল কে কেন্দ্র করে সবাই যখন এগিয়ে যাচ্ছে তখনই গ্রামবাংলা পিছিয়ে না থেকে সেই পথে চালিত হয়েছে গ্রাম বাংলার পরিবেশ স্বাভাবিক হলেও কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। গ্রামবাংলায় গাছপালা থাকলেও তাতে যেন লেগে আছে দূষণের বীষ পাল্টেছে গ্রামবাংলার মানুষের জীবনযাত্রা চাচা মাটির গন্ধ বাজার কোথাও যেন আস্তে আস্তে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার মানুষ ব্যবহার করতে শিখেছেন মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে শিখেছে গাড়ি ধানের গন্ধ এসেছে মোটরসাইকেল এইসবের ফলে গ্রাম বাংলার মানুষ কিছুটা হলেও শহরের মানুষের মতো আচার ব্যবহার করতে শুরু করেছেন।পরিবর্তন সরলতা মেলবন্ধন কমেছে গ্রামের মানুষ বর্তমান সময়ে যেন অন্য এক রুমে অবস্থান করছে গ্রামবাংলা সার্বিক চিত্র কিছুটা পরিবর্তনের সাথে সাথে মানুষও পরিবর্তনের পথে হাঁটছে। সেই সরলতা মনে মন আর নেই হয়ে গেছে নিষ্ঠুর পাষাণ মন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মত মন মানসিকতা নেই হয়ে গেছে নিঃস্বার্থ মন আরামবিলাস ভোগ বিলাস। গ্রাম বাংলার যে শান্ত পরিবেশ ছিল তা ধীরে ধীরে অশান্তির আগুন জ্বলতে শুরু করেছেন ফলে দেখা দিতে শুরু করেছে হিংসা বিদ্বেষ মারামারি এক্ষেত্রে কোথাও যেন দায়ী করা হয় মানুষ তথা বর্তমান পরিস্থিতিকে। বর্তমান সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে গ্রাম বাংলা যেন যেন স্বাভাবিক পরিবেশকে ত্যাগ করে এক অস্বাভাবিক পরিবেশ এর দিকে ধাবিত হচ্ছে এরমধ্যে সময় যেন আদিতি গন্ধের মতো চলমান নদীর সঙ্গে তুলনা করা যায় না। গ্রামের সবুজ মাঠ হয়ে যাচ্ছে কল কারখানার যন্ত্রপাতি স্তুপ আস্তে আস্তে কোথাও যেন দিগন্ত মাঠ হারিয়ে যাচ্ছে হারিয়ে যাচ্ছে সেই মেলবন্ধন পরিণত হয়েছে হিংসায় দাঙ্গায় অশান্তির আগুন যেন ছড়িয়ে পড়েছে গ্রামবাংলা বিভিন্ন অঞ্চলে শান্তিময় পরিবেশ যেন বিলীন হয়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে। বর্তমান সময় গ্রামবাংলার পরিবেশে সেই মায়া ভরা দৃশ্য আর নেই থাকলেও সেটুকু বিষে ভরা এক জলাভূমি। গ্রামের দুই ধার দিয়ে সবুজ গাছপালায় যে আবৃত রাশি আর তার মাঝে দিয়ে মেঠো পথ বয়ে যায় ঋতু ক্রমানুসারে তার মায়া পরিবেশ যখন বিরাজ করেন তখন গ্রামবাংলা পরিবেশ সূর্যের আলোর মত হয়ে ওঠে মনোরম পরিবেশ কিন্তু বর্তমান সময়ে মিঠু রাস্তার বদলে পাকা রাস্তা সময়ের ক্রম অনুসারে বহু পরিবর্তনের পালাবদলের ফলে আধুনিকতার মায়াজালে আর প্রযুক্তির উন্নতির ফলে গাড়ির সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে সেই রাস্তা দিয়ে যখন এই গাড়িগুলো যায় তখন তার ধোয়া গ্রামবাংলা পরিবেশ গাছপালা কে বিষাক্ত রূপে পরিণত করেছে আর সেই মায়া পরিবেশ আমাদের থেকে চির বিদায় নিয়েছে নিয়ে যাচ্ছে এইভাবে গ্রামবাংলার পরিবেশ সংস্কৃতি ভ্রাতৃত্ব বর্তমান সময় বয়ে চলেছে
হে মানুষ তোমরা গ্রামবাংলার
পরিবেশকে বাঁচাও তাদের পাশে থাকো
তার উপকারিতা সম্পর্কে জানো
অপরকে সজাগ করো তাদেরকে বোঝাও।

🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷

উপকন্ঠ প্রাত‍্যহিক বিভাগ

বিভাগ- গল্প
কলমে- শ‍্যামাপ্রসাদ সরকার

অপ্রয়োজনীয় 
*************



মন্দিরা গাড়িতে উঠে চাবি দিয়ে স্টার্ট করতেই কাঁচে টোকা পড়লো। অরিন্দম এ সময় আবার কি বলতে চায়! অধৈর্য অরিন্দম আবার টোকা মারার আগেই একরাশ বিরক্তি নিয়ে দরজা খুললো মন্দিরা। 
' আমায় একটু লিফ্ট দাও তো ! দরকার আছে, জলদি করো! আমি না হয় স্টিয়ারিং এ বসছি! '

'তোমার তো আজ ব্যাঙ্গালোর যাওয়ার কথা ছিল তো! গেলে না?' 
মন্দিরা অবাকমিশ্রিত বিরক্তিতে জিজ্ঞাসা করে। 'গেলে তোমার সুবিধা খুব হত তাই না ! ইচ্ছে করেই গেলাম না ধরে নাও !' কুটিল গলায় অরিন্দম বলে। '

 'তোমার সাথে কথা আছে আমার!' 
হিস্ হিসে গলায় বলে সে। মন্দিরা ততক্ষণে স্টিয়ারিং ছেড়ে পাশের সিটে চলে এসেছে।
 ' কি বলার আছে বল ! আমার এক জায়গায় যাওয়ার আছে, দেরী হয়ে যাচ্ছে ! তুমি আমায় রাসবিহারী মোড়ে নামিয়ে দাও ! আই ক্যান হায়ার আ ক্যাব দেন !'  
মন্দিরার গলায় নিস্পৃহতা।
*********
 ফ্লাইওভার থেকে নামতেই একটা বাইকের সঙ্গে ধাক্কা লাগত একটু হলে। বড্ড রেকলেসলি ড্রাইভ করে অরিন্দম চিরদিন। 'তুমি তাহলে এবারও এ্যাবর্ট করবেই! ইউ সিলি বিচ্' ! হাউ ক্যুড এ‍্যন এক্সপেক্টিং মাদার ক্যান থিংক সাচ্?' 

মন্দিরা বলে একরাশ বিরক্তি গলায় এনে বলে,
 ' আবার সেই এক বোরিং প্রশ্ন অরি ! উত্তরটা তুমিও জান। ইটস্ নাউ জাস্ট টু উইকস্! এরপর দেরী হলে জাস্ট চাপ হয়ে যাবে। তাছাড়া রণ আর সুমি বড় হচ্ছে ! আই নেভার ট্রিট দেম লাইক টিপিক্যাল আ সৎমা। ওরা আমার কাছে গ্রেসফুলি ব্লেসড্। আমার নতুন করে কনসিভ্ করার কোনো ইচ্ছা নেই ! হলে কখনো তোমায় বলব না হয়।'
*********
 অরিন্দম চুপ করে সামনের রাস্তায় চোখ রাখে। তার প্রথম বিয়ের স্মৃতিটা একদম সুখকর নয়। আর্সিয়া বাচ্চা দুটোকে একরকম ফেলেই ফ্রান্স চলে যায়। বাধ্য হয়ে অরিন্দম আবার বিয়ে করে। প্রতিষ্ঠিত ফার্মা কোম্পানির মালিক যার গ্যারাজের দুটো গাড়ি র একটা অডি আর অন্যটা বি এম ডব্লু, তার কি আর পাত্রীর অভাব। মন্দিরা তখন দিল্লীতে। ফ্যাশান ডিজাইন কোর্স করে সবেমাত্র একটা অ্যাড এ্যাসাইনমেন্ট পেয়েছে। পেজ থ্রির পার্টিতে অরিন্দমের সঙ্গে আলাপ। একটু এজেড ম্যাচিওর্ড লুকের পুরুষমানুষের প্রতি ক্রাশ খাওয়া ওর অভ্যেস, ফলতঃ আলাপ থেকে ডেটিং তারপর বিয়ে। এই তিন বছরে দুবার প্রেগনেন্সিতে প্রথমবার মিসক‍্যারেজ হয়েছিল আর একবার নিজের সিদ্ধান্তে একা একাই মেরী স্টেপস্ এ গিয়ে এ্যাবরশান করিয়ে নিয়েছে মন্দিরা। কোনওমতেই আর একটা বাড়তি প্রাণের দায়িত্ব নিতে ও রাজী নয়।

******
অরিন্দম বাঁহাতে জোর করে মন্দিরা হাত চেপে ধরে। ককিয়ে ওঠে মন্দিরা। ' তুমি এবার আর বাচ্চাটা ফেলবে না মণি। আর দিস্ ইজ ফাইন্যাল নাউ ! ' আহত সর্পিনীর মত মন্দিরা বলে ' তোমার মতলব আমি জানি। ইউ আর জেলাস অফ মাই এ্যাডমেয়ারার্স। প্রেগনেন্সি আর টিপিক্যাল মাদারহুডের প্রেশারে আমার মডেলিং কেরিয়ার তুমি শেষ করে দিতে চাও ! বাচ্চা মানুষ করার মেশিন বানাতে চাও আমায়! তাই না ? ' 
*****
অরিন্দম ততক্ষণে লেক কালিবাড়ির সামনে গাড়ি পার্ক করে ফেলেছে। মন্দিরা বাধ্য হয় অরিন্দমের সঙ্গে নামতে। অরিন্দম ইমোশনাল ব্ল্যাকমেল করে মন্দিরাকে বলে ' প্লিজ এবার বল! উইথড্র ইওর ডিসিশন। ' মন্দিরা ধীর গলায় বলে 'তুমি আমায় বিশ্বাস করো তো?' অরিন্দম চাপা গলায় বলে 'ক্যারি অন!' মন্দিরা আরও শান্ত গলায় ব্রহ্মাস্ত্র নিক্ষেপ করে,
' দিস টাইম বস, দ্য বেবী ইজ নট ইওর্স!' 

******
ফেরার পথটা দুজনেই পাথর হয়ে বসে থাকে। ঝড়ের পূর্বাভাসের মত থমথমে। অরিন্দম অসম্ভব জোরে ড্রাইভ করে বাড়ি আসে। মন্দিরাও রোজকার মত বাচ্চাদের ঘরে ঢোকে নির্জনতার নির্মম আবর্ত বুকে চেপে।

ডিনার টেবিলে অরিন্দম টিপ্পনী ছোঁড়ে মন্দিরার উদ্দেশ্যে। আমি জানি দ্যাট কালপ্রিট ইজ 'মিলিন্দ' ! আদি' দের পার্টিতে যে তোমার সাথে ফ্লার্ট করছিল তো। ফেসবুকে যার পিকচার গ্লসারিতে তোমার ফোটো ভর্তি থাকে ! দ্যাট সান অফ আ হোর আমার লাইফটা বরবাদ করতে পারবে না জানু! আই উইল স্ক্রু হিজ অ্যাস নাউ!' চিকেন স্যুপটা শেষ করে একই রকম শীতল গলায় মন্দিরা বলে, ' আশাকরি! আমার সিদ্ধান্তে তুমি খুশী তো এবার ! গুডনাইট!' 

*****
তিনদিন অফিস যায়নি অরিন্দম। খালি ড্রিঙ্ক করেছে একলা ! এক তীব্র যন্ত্রণা ওকে আহত করছে বারবার। হি ইজ আ মিলিয়নিয়ার ! শেষে কিনা একটা পাতি ফ্যাশন ফোটোগ্রাফার এসে মাঝখানে ক্ষীর খেয়ে চলে যাবে। এটা হতে দেওয়া যায়না। টলতে টলতে মন্দিরার সাজঘরে ঢোকে সে। 

মোলায়েম জঙ্ঘা ছুঁয়ে মন্দিরার হাত তখন বডিলোশন মাখা পেলব মসৃণ পা দুটোকে ম্যাসেজ করছিল পরম যত্নে। রাজহংসের ডানার মতো নিয়মিত পেডিকিওর করা পা দুটি সত্যি মনোরম।হঠাৎ অরিন্দমের ছায়া পড়ে ড্রেসিংটেবিলের বেলজিয়ান গ্লাসের আয়নায়। ঈষৎ বিস্রস্ত পোশাক সামলে মন্দিরা স্বাভাবিক স্বরে বলে 'বলো!'

অরিন্দম বসে পড়ে মাটিতে। 'মণি ! আই ক্যান নট টেক দিস এনি মোর! তুমি বল ! ইটস্ আ লাই ! জাস্ট আ প্র‍্যাকটিক্যাল জোক ! প্লিজ মণি, আমি আর সত্যি পারছি না ! '

এই তিনদিনেই আর একটু বয়েস বেড়ে গেছে অরিন্দমের। একটা ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যাওয়া পাহাড়ের অবশেষ যেন। মন্দিরা অবাক হয়, এই মানুষটার একাকীত্ব তাকে কখনো স্পর্শ করেছিল।আরও অবাক করে যে সেই স্পর্শ এই তিনটি বছরে সেটা সম্পূর্ণভাব মিলিয়ে যেতে গিয়েও বেশ খানিকটা রয়ে গেছে। অরিন্দমের মাথাটা কোলের ওপর রাখে মন্দিরা। 
' আমি আর মা হতে চাইনা অরি। যারা আছে ওদের নিয়ে তো আমার কোনও প্রবলেম নেই। আর ছিল ওনা। মেয়েরা যে শুধু মা হবার জন্যই পৃথিবীতে আসে না ! একটা জীবনে একবুক নিঃশ্বাস নিয়ে বাঁচার জন্যেও আসে ! সেটা তুমি বুঝতে এত সময় লাগালে ! আমার প্রতি তোমার বিশ্বাসটুকুও এতো ঠুনকো ! '
******
অরিন্দম কোল থেকে মন্দিরাকে যেন নতুন দেখে। কি অপার জ্যোৎস্নার মায়া যেন মন্দিরার মুখে এসে জমেছে আজ। সে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে শুধু। তার করুণ মুষ্ঠি শিশুর মত আঁকড়ে থাকে মন্দিরার আঙুল গুলো। পরম নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়ার আগে সে অস্ফূটে বলে 'উই আর ফ্রেন্ডস ! ইয়েস উই আর !' কাঁচাপাকা চুলের শিশুটিকে একবার বুকে জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছা করে মন্দিরার,ভীষণই।

*******

# কিছু কথা : ছোটগল্পের সম্রাট মঁপাসার Useless Beauty পড়ে মোহিত হয়ে গিয়েছিলাম একসময়ে। মানবচরিত্র চিত্রণে তাঁর কলমের জাদু আমায় প্রলুব্ধ করেছে গল্পটিকে ভাবান্তরে। স্হান,কাল পাত্র বদলে গেলেও কাহিনীটির মূল সুরটিকে বজায় রাখার প্রয়াস আমার। যুগ বদলেছে, মাতৃত্বের সংজ্ঞাও! অ‍্যাডাপশানটি কোনওভাবে প্রশংসনীয় হলে তার প্রশংসাটিও সেই মহাজনেরই প্রাপ্য। নিন্দনীয় হলে তা নেহাতই বামনের চন্দ্রাস্পর্শাভিলাষ হেতু ক্ষমার্হ।

🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷
উপকন্ঠ প্রাত্যহিক বিভাগ
গল্প

  নন্দিনী
সোহিনী শবনম


  চৌত্রিশ বছরের নন্দিনী অসংখ্য অভিজ্ঞতা কুড়িয়ে হাজারও যুদ্ধ করে পেরিয়ে এসেছে অনেকটা পথ। মডার্ন ডেকোরেটিভ ফ্ল্যাটে কর্মব্যস্ত স্বামী এবং সদ্য টিন এজে পা দেওয়া মেয়ে, স্মৃতি-কে ঘিরেই তার সমস্ত পৃথিবীটা। পড়াশোনা শেষ না করেই ‌বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিল সে, কিছুটা ‌নিজের ভুলের জন্যই।
  স্মৃতি পড়াশোনায় বেশ ভালো, চেহারাতে বেশ সুন্দর। কিন্তু আজকাল বড্ড অন্যমনস্ক ও মন মরা হয়ে থাকে। ব্যস্ততা দূরে ফেলে মেয়ের খোঁজ খবর রাখার মতো অবসর সুজনের হয়ে ওঠেনি এখনও। তাই মেয়ের মন খারাপটা নন্দিনীই প্রথম লক্ষ্য করল। স্মৃতি আজকাল খাওয়া দাওয়াতেও বড্ড গাফিলতি করছে, এভাবে তো চলতে দেয়া যায় না।গ্ৰীষ্মের ছুটির একদিন দুপুরে নন্দিনী , স্মৃতি-কে জিজ্ঞাসা করেই ফেলল,"মণি, কি হয়েছে তোর?"প্রতুত্তরে নন্দিনী আশা করেছিল স্মৃতি সত্যি বলবে। কিন্তু তা হল না, স্মৃতি উত্তর দিল,"কই কিছু হয়নি তো!"
   মায়ের চোখে তো সবই ধরা পড়ে। নন্দিনী বুঝল মেয়ে তার কোনো এক ছেলের প্রেমে পড়েছে, উঁহু এই বয়সে এই অনুভূতিকে ঠিক প্রেম বলে চলে না,এটা একটা বয়সের তাড়নায় করা ভুল। নন্দিনীর ফোনের ব্যালান্স আজকাল অকারণেই কমে যায়। স্মৃতি মিথ্যে বলাটা বেশ ভালোই শুরু করেছে। নন্দিনী সবই বুঝতে পারে কিন্তু কিছু বলে না, একটি মাত্র আদরের মেয়ে তার। স্মৃতির কান্না সে একদমই সহ্য করতে পারে না। তার মেয়ের মন খুব নরম, সেটা সে জানে। 
ছোটবেলা থেকে শুধু মাত্র বই এর মধ্যে মাথা গুঁজে থাকা টপারদের এই বয়সে এসে ভালোবাসার জন্য আকুতিটা হঠাৎ বেড়ে যায়, এই সমস্যাটা প্রায়শই দেখা যায়, নন্দিনীর সে অভিজ্ঞতা আছে। পড়ুয়া ছাত্র ছাত্রীদের কাছে নম্বর পাওয়া যেমন চ্যালেঞ্জের বিষয় যাকে তার পছন্দ হয়েছে তাকে জিতে নেওয়াটাও তার কাছে একই বিষয়। সেই মানুষটি কেমন, কি করে, কেন সে তার কাছে যেতে চায় এসব প্রশ্ন সে কখনো নিজেকে করে না। তার একটাই কথা আমি ওকে ভালবাসি আমার ওকে চাই। এযুগের মেয়েরা একটু স্পোর্টিং টাইপের,প্রপজাল পাওয়ার অপেক্ষা করে তারা সময় নষ্ট করতে নারাজ। স্মৃতি ও তেমনি একটি মেয়ে।২১ বছর বয়সী একটি মুসলিম ছেলেকে তার খুব পছন্দ এবং সে তাকেই বিয়ে করতে চায়। নন্দিনী জানে এই বয়সে বারণ করা ঠিক চলে না,একই সাথে মেয়ের ক্ষতিও তো হতে দেয়া যায় না। নন্দিনী ভালো করে খবর নেয়, তারপর যা জানতে পারে তা মোটেও ভালো খবর নয়। ছেলেটি বাপের টাকায় খায়, চরিত্রটাও সুবিধার নয়। মানুষ চেনার বয়স স্মৃতির এখনও হয়নি,তাই সে ভুল মানুষের কাছে নিজেকে সমর্পণ করে ফেলেছে।না চাইতেই অমন‌ ভালো ঘরের মেয়ে পেয়ে ছেলেটিও তার মন‌ নিয়ে দিব্যি খেলা করার পরিকল্পনা করে ফেলেছে।
  মেয়ের নরম মন‌ যাতে না ভাঙে তার প্রাণপন চেষ্টা নন্দিনী করে। মেয়েকে ভালো করে বোঝানোর চেষ্টা করে,এসব ভুল। প্রাপ্তবয়স্ক হলে সে নিজেই ঠিক ভুল বিচার করতে পারবে, স্মৃতির উচিত নিজেকে অন্তত সেই ‌সময়টুকু দেওয়া এবং এই মূল্যবান সময় নষ্ট না করা। স্মৃতি বোঝেনি। নন্দিনীর একনাগাড়ে চেষ্টার কোনো ফল যখন‌ সে পেল না তখন হঠাৎই তার একটা কথা মনে পড়ে গেল, হামাগুড়ি দিতে শেখা ছোট বাচ্চাকে যখন জ্বলন্ত হ্যারিকেন থেকে বারবার সরিয়ে আনা হয় যাতে সে ছ্যাঁকা না খায়, শিশু কিন্তু ঐ অজানা উজ্জ্বলতার মোহের বশবর্তী হয়ে সেই দিকেই ছুটে যায়, তখন শিশুটিকে গরম কাঁচে হাত দেওয়া থেকে না আটকে উল্টে তাতে হাত দিতে দেওয়া উচিত, একবার সেই নৃশংস উত্তাপের ছ্যাঁকা খেলে দ্বিতীয় বার সে সেই দিকে কখনো অগ্ৰসর হয় না। নন্দিনী বুঝল তার জেদি মেয়েকে বারণ করে সে পারবে না, নিজের মেয়ের কষ্ট দেখতে না পারার কষ্টটা ভুলে সে স্মৃতিকে আগুনের দিকে এগিয়ে দিল।
  একবছর যেতে না যেতেই স্মৃতি জানতে পারল তার পরম ভালোবাসার মানুষ ,সাহেব একটি মুসলিম মেয়েকে বিয়ে করে ঘর সংসার করতে শুরু করে দিয়েছে। কান্নাকাটি করার মেয়ে সে নয়। মনে মনে ক্ষতবিক্ষত হয়েছিল ঠিকই‌ কিন্তু তা প্রকাশ করেনি। এখন সে নিজের ভুলটা বুঝতে পেরেছে। মায়ের প্রতি কোনো রাগ আর নেই তার। মায়ের কাছে তার স্বীকারোক্তি,"এই‌জন্য মা তুমি আমায় বলতে, প্রেমে পড়া বারণ, কারণে অকারণ‌"।।

🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷


প্রবন্ধ


মুখে মাখার ক্রিম সম্পর্কে আলোচনা !
(তৃতীয় পর্ব)
~ রাজা দেবরায়



মুখে মাখার ক্রিম বিক্রেতাদের সবথেকে বড় ও চমকপ্রদ দাবিটি হলো - মুখের রঙ ফর্সা করে দেওয়া ! ফর্সা হওয়ার প্রতি আমাদের রয়েছে এক অসাধারণ মোহ । তাই স্বভাবতই ওদের বিজ্ঞাপনের প্রতি আমরা সহজেই আকৃষ্ট হই এবং ওদের কথাগুলোকেই ধ্রুব সত্য বলে মেনে নিই । আমাদের নিজস্ব ভাবনাচিন্তা, যুক্তি কোনটাই কাজে লাগাই না । বিজ্ঞাপনে নিজস্ব প্রোডাক্টটির শুধুমাত্র গুণগান গাওয়াটাই যে স্বাভাবিক ব্যাপার, সেটা আমরা বুদ্ধিমান হয়েও ভুলে যাই । বিজ্ঞাপনে কি বলবে যে তাদের জিনিসটা আসলে কোন কাজেরই না ? আমরা কি এটা আশাও করতে পারি ?

কিন্তু বিজ্ঞাপনে যাই বলুক, মজার ব্যাপার হলো - ক্রিমগুলোতে যেসব রাসায়নিক সাধারণভাবে রয়েছে তাদের কোন ক্ষমতাই নেই মুখের রঙ ফর্সা করার ।

চামড়ার ঠিক ওপরের স্তর যাকে বলা হয় এপিডারমিস, তাতে এক ধরনের কোষ থাকে যাকে বলে মেলানোসাইট - এরা তৈরি করে মেলানিন । এই মেলানিনের ওপরই নির্ভর করে শরীরের রঙ কতখানি কালো বা ফর্সা হবে । মেলানিন বেশি হলে রঙ তুলনায় কালো হবে আর মেলানিন কম হলে রঙ তুলনায় বেশি সাদা হবে । তেমনি রোদে বেশি ঘোরাঘুরি করলে যে শরীরের রঙ তামাটে হয়ে যায় তার কারণও এই মেলানিন ।

সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মি চামড়ার ওপর পড়লে কোষগুলো উত্তেজিত হয় এবং মেলানিনের আধিক্য ঘটে । তাই ইওরোপের বহু মানুষই শরীরে একটু তামাটে ছাপ আনার উদ্দেশ্যে সূর্যস্নান করেন । কিন্তু এই রঙও দীর্ঘস্থায়ী হয় না । কারণ আমাদের শরীরে মেলানিন যেমন একদিকে তৈরি হচ্ছে, তেমনি স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় কারণে তা ভেঙেও যাচ্ছে ক্রমাগত । পুরনো মেলানিন ভেঙে নতুন মেলানিন তার জায়গায় স্থান নিচ্ছে । এভাবেই শরীরের পূর্বের রঙ কিছুদিন পরেই ফিরে আসে । এই কারণটির জন্য আমাদের শরীরে কাটা ছেঁড়া ইত্যাদি সেরে ওঠার পর কিংবা ব্রণের জন্য যে কালো দাগ পড়ে তাও কিছুদিনের মধ্যেই মুছে যায় এবং এটা কোন ক্রিম বা মলম ব্যবহার করা ছাড়াই সম্ভব হয় ।

অবশ্য কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই কালো দাগ দীর্ঘস্থায়ী হয় । সেক্ষেত্রে দেখা যায়, চামড়ার এই মেলানিন যা সাধারণত চামড়ার ওপরের স্তর এপিডারমিসে থাকে তা যখন নীচের স্তর ডারমিসে চলে যায় তখন এই রঙ দীর্ঘস্থায়ী হয় । এসব ক্ষেত্রে কোন ক্রিমই তা সে যত নামীদামি কোম্পানিরই হোক না কেনো, কোন কাজ করতে পারে না । এছাড়াও ডাল বাটা, ডাবের জল, মাখন, সর ইত্যাদি কোন কিছুরই কোন রকম ক্ষমতা নেই এই কালো রঙ তুলে দেবার । তবে এগুলো দিয়ে মুখে ম্যাসাজ করার জন্য মুখের রক্ত সঞ্চালন কিছুটা বৃদ্ধি পেতে পারে । যদিও সাধারণভাবে মুখে রক্ত সঞ্চালন যথেষ্টই, সেখানে ম্যাসাজের বাড়তি কোন প্রয়োজন নেই ।

তবে খরচে পোষালে কেউ সর-মাখন ইত্যাদি দিয়ে মুখ পরিষ্কার করতে চাইলে কোন অসুবিধা বা আপত্তি নেই !!

(চলবে)
🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷


"উপকন্ঠ প্রাত্যহিক বিভাগ"

কবিতাঃ বাস্তবতা
লেখকঃ জুয়েল রূহানী

    
স্বপ্ন রঙ্গীন এই দুনিয়ায় ব্যস্ত সবে যে যার মত,
কেউ করে পার অলস সময় কেউ করে কাজ অবিরত!

কেউ করে গান মনের টানে- অশ্রু রোদন সংগোপনে,
অনন্তহীন সুখ যাপনে- কেউ বা ঘুরে উদাস মনে!

অর্থ-বিত্ত প্রাচুর্যতায়-সময় কাটায় বিলাসীতায়,
দেহের ঘামে জর্জরিত- কেউ বা ক'টি টাকার আশায়!

কেউ বা নেশায় মাতাল হয়ে- বেড়ায় ঘুরে পথে পথে
কেউ বা আবার প্রভূর রাহে- ঝড়ায় পানি মোনাজাতে।

রাজনীতিতে বুক ফুলিয়ে- কারো মুখে হাজার কথা,
কেউ বা কথার ধার ধারে না- মুখ লুকিয়ে রাখে ব্যাথা!

কেউ বা অফিস আদালতে-প্যান্ট,শার্ট,কোট,টাই পড়ে রয়,
কেউ বা আবার পথে-ঘাটে কষ্টে অতি জীবন কাটায়!

কেউ বা আবার অর্থ লোভে-রক্ত নেশায় মত্ত থাকে,
কেউ বা আবার দানশীলতায়-সাজায় আপন জীবন টাকে।

মিথ্যা কথার ফুল ঝুড়িতে কেউ বা আবার স্বার্থ লুটে,
কেউ বা আবার সত্য বলে-অন্যায় যা দেয় কো টুটে।

কেউ বা আবার হিংসে পুষে আপন মনের মণিকোঠায়,

কেউ করে ঠাই মানব মনে-আদর-স্নেহ, ভালোবাসায়!

বাস্তবতা বড়ই কঠিন-বুঝা যে দায় তাঁর ইশারা,
যা আছে তার বদৌলতে-ভিন্ন রূপে ভূবন ভরা!
🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷

প্রনব রুদ্র দুটি  কবিতা

১।অন্য কোণ

পাখি উড়ে যায়
ফেলে যায় পালক
মানুষ চলে যায়
রেখে যায় স্মৃতি

ঝরা পালক জাগে
স্মৃতির অ্যালবামে

মাঝে মাঝে বৃষ্টি হয়
বুকে অনাসৃষ্টি হয়।


২।মুখোমুখি 

ক্লিশে বড়ো দীর্ণ সময়
বিরক্তিকর প্রতিটি শ্বাস
হাঁপধরা সিঁড়ির প্রতি ধাপ।

হঠাৎ মঠাৎ আলো সাদা আবার কালো
পথ তো সর্পিল; হৃদয় নুপুর কোনদিকে?

সন্ধ্যার আলো মরে যাবার আশায়
শেষবার চুমু খাচ্ছে মাটির বুকে
নাড়িনক্ষত্রের বিজ্ঞান তুকতাক
আমাকে বাধ্য করছে লিখতে
কবিতা ছাড়া যে কোন সত্য এখন নেই

কবি  কোথায়,আমি কবি হতে চাই!
প্রতিষ্ঠান প্রেমী নয় ক্ষমতালোভী নয় 
পদ লেহন কবি নয়  কোন পক্ষপাতী নয়
সাত্ত্বিক নিজের মুখোমুখি সত্যের কবি।



🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷
উপকণ্ঠ প্রাত্যহিক বিভাগ
--------------------
*অনুকবিতা* 
*কলমে- রুকসানা পারভিন* 

চিন্তারা আজ ধর্মঘটে জীবন গিয়েছে থেমে,
ভাবনারা আজ পাখা মেলে উড়ছে মনের খামে ,
চলমান পৃথিবী হারিয়ে গিয়েছে আতঙ্কের দেশে,
সময় কাটাচ্ছে মানুষ এখন নিজেকে ভালোবেসে।

🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷 

পুনর্জন্ম
 প্রদীপ কুমার দে


নির্জীব শব্দের সহিত ভাবনার প্রণয়
পুনর্জন্ম কবিতার।
আলিঙ্গনের উত্তাপে অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যৎ
মিলেমিশে একাকার । 

🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷

প্রেয়সী

 কৌস্তভ ঘোষ


ভেবেছিলাম কথা দেব না,
ভেবেছিলাম ফিরে চাইব না,
তবু , তোমার ঐ আঁকা ভুরু
আর বাঁকা ঠোঁটের খেলা!
দোলা দিয়ে যায় আমার হৃদয় দোলায়।

থাক,নাই বা হল প্রেম
শুধু বন্ধু হয়ে থাকব না হয়
তোমার চোখের তারায় চেয়ে।

দিন পেরিয়ে কাটবে গো মাস,
মাসের শেষে বৎসর
সাজবে তুমি কোনের সাজে
উঠবে মাথায় টোপর।

আমি থাকব তোমার পাশে
রঙিন চাঁদোয়ার উপর সন্ধ্যা তারায়
তোমার বাসর রাতে।

আমার চোখে স্নেহের পরশ
থাকবে লেগেই, তোমার তরে
জীবনের বার বেলাতেও,
তোমার দেওয়া কলম খানি
বহমান,স্পর্শসুখ এনে দেবে।।
🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷


উপকণ্ঠ সাহিত্য পত্রিকা এর পক্ষ 
থেকে সবাই অভিনন্দন
🎉🎊🎉🎊🎉🎊🎉🎊



🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷
স্বাধহীন নারীত্ব
       আব্দুর রহমান


এ রাত কত পুরোনো, আঁধারের যাত্রী 
কত বেদনার বীণা বুকে চেপে বসে আছে 
বার বার এ রাত দেখা দেয় অতর্কিত 
রিরংসা মোড়ানো সবজি বাগানে
ছলনার মোড়া ভালবাসার রঙ্গমঞ্চে 
হোটেলের ঘরে বাসর পাতা সমুদ্রের ঢেউয়ে 
পথ চলার সঙ্গী, গ্রীষ্মের রোদ্দুর ছায়া , শীতের আলোয়ান ।
এ রাত বড়ো বুকের ওপর ঝরে পড়া পাহাড়ি শিলা
আঁধারের যাত্রী, ছাউনী তুলে করে হত্যা বিশ্বাস 
এর থেকে ভালো পথে ঘাটে নারীত্বের স্বাদ হীন রমণ 
আঁধারের রাত্রি এ রাত, রক্তক্ষরণ ভালবাসার রঙ্গমঞ্চে ।
রাবনের সীতা হরণ, দ্রৌপদী ক্লিয়পেট্রা হেলেন 
দেখেছে এ রাত , বিবর্ণ পুরুষের বৈকালিক ঝাঁপ ।
এ রাতের নেই মৃত্যু যতকাল সোকেসে সাজানো পৌরুষ ! 
অহংকারী জবা গাছের তলায় আপেলের গন্ধ রয়ে যায় জিনে ।

🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷

দুর্যোগ পর্ব ২

দেবাশীষ সরখেল


পুকুরের পাঁকে চুয়াকাটা জল তালপাতার বাতাস।
গ্রামীণ ছিলাম,
ছিল আম বট ও সিরিস ।
অর্জুন কেন্দু গাছের কাছে ঝড়ের তান্ডব -
শীস মিথ্যে হয়ে যেত ।
কংক্রিটের জঙ্গলে সেই স্বাধিকার নাই ।
আম্ পান বলে, এসো মজা করি বগল বাজাই।
কংক্রিটের পাশে সুশোভন আভা।
আমপান্ তুচ্ছ করে দিয়ে যায় সমস্ত প্রতিভা ।
চোখে দেখা যায় না ।
কানে শোনা যায় না, হাজার হায়না তাদের রোষ!
সন্তোষপুরে ওরাই প্রকৃত পরিযায়ী, আছেন বহুতলে,

চৌদ্দ আনা সুখ যায় বিফলে ।
আগডুম বাগডুম বকুনি মোচ্ছব যায় বিফলে।
ডাঙ্গায় ডুবিছে তরী ।
হুংকার ডুবিতেছে অনন্ত সলিলে ।
🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷

স্মৃতি 
 - অগ্নিমিত্র 




ছোটবেলায় আমরা কিছুদিন ঢাকুরিয়ার একটা বাড়িতে ভাড়া ছিলাম । একটা দোতলা বাড়ির একতলার একদিকে ভাড়া ছিলাম আমরা । আরেকদিকে আর এক পরিবার ।
 দোতলায় এক বুড়িমা থাকতেন । তিনিই বাড়িওয়ালি ।
 সেটা ১৯৮৬ সালের কথা । সবকিছুই তখন একটা পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে । টিভি এসেছে কিন্তু সবার কাছে নেই; রেডিও ঘরে ঘরে । হিন্দি সিনেমার একচ্ছত্র অধিপতি মিঠুনদা । সময়টাই ছিল অন্যরকম । বন্ধুত্ব করার, আত্মীয়দের বাড়ি যাওয়ার, ঝগড়া করার অনেক সময় ও সুযোগ পাওয়া যেত! ..
  আমাদের পাশাপাশি দুই পরিবারের মধ্যে ছিল একটা তার দেওয়া রেলিং । সেটাই যেন পার্টিশন! 
  রেলিং এর ওপারে আমার বয়সী এক বাচ্চা মেয়েকে দেখতাম । সে রেলিং ধরে ঝুলতে ও আমাকে দেখে হাসতো । আমিও একটু সলজ্জ হাসতাম ।
 পরে তাদের বাড়ি গিয়েছিলাম কয়েকবার । টিভি দেখতে; ওদের রঙিন টিভি ছিল! অবাঙালি পরিবার; অনেকজন মিলে থাকতো সেই তিনটি ঘরে ।..পরে আমরাও টিভি কিনলাম । যদিও সেটা সাদাকালো । 
  বৃষ্টির দিনে আমি, আমার বোনকে আর টিনা মিলে বৃষ্টি দেখতাম । টিনা কাগজের নৌকা বানিয়ে উঠোনের জমা জলে ভাসিয়ে দিত । ..সেই দেখে আমিও শিখলাম কাগজের নৌকা বানাতে ।...
  তারপর চলে গেলাম অন্য পাড়ায় , একটু দূরে । টিনাদের সাথে যোগাযোগ থাকলো না।
 অনেকদিন পর আবার কিছুদিন আগে তার সাথে ফের দেখা । দেখি, টিনা অনেকটা একই রকম আছে! আমাকে চিনতে পারল। বলল, পুরনো দিনের কথা, সেই ঢাকুরিয়ার বাড়ি, ওরও মনে পড়ে খুব । ও এখন এখানেই কোথায় চাকরি করে ।
 ছোটবেলার কথাগুলো এইরকমই । ভুলে গিয়েও যেন ভোলা যায় না। কেন এমন হয় কে জানে!
 মনে মনে টিনার মঙ্গল কামনা করলাম!!

🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷

প্রাতহিক বিভাগ

আমি সেই মেয়ে

                    সমিত বিশ্বাস




আমি সেই মেয়ে 
                      যার আঙ্গুল কেউ ধরেনি
                      যার পেট ভোরে খাবার জোটেনি ৷
                    লম্পটরা যার পিছনে আসতো ধেয়ে ৷
আমি সেই মেয়ে 
                 যার মা এ বাড়ি ঔই বাড়ি কাজ করত
                 খাবার নিয়ে সন্ধে হলে বাড়ি ফিরত ৷   
                  ঘুমাতাম আমি তা খেয়ে ৷

আমি সেই মেয়ে 
                পাড়ার মোরে খেলতে যে পায়নি          
                স্কুলে পড়া যার সুযোগ হয়নি ৷
               সুখের স্রোত আসত আমায় ধেয়ে ৷

আমি সেই মেয়ে 
                 দিন কাটতো যার নেচে গেয়ে
                 খুশি হতো মা কে কাছে পেয়ে ৷
                   গল্প শুনতাম মায়ের আঁচলে শুয়ে ৷

আমি সেই মেয়ে 
                   যার জীবন উপন্যাসে ঘেরা
                    লিখেছে কত উপন্যাসিকরা ৷
                 তা পড়ি গগণ পানে চেয়ে ৷

আমি সেই মেয়ে 
                  যে বাড়িতে করে পড়াশোনা
                 যার ডিগ্রির নেই আনাগোনা ৷            
               সুখে আছি এই নিয়ে ৷

                 তবু স্বপ্নে আসে স্বপ্ন 
               মানুষ গড়ার কারিগরে হবে সে মগ্ন৷
🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷
ধারাবাহিক
অনু কাব্য

 শ্রী কৃষ্ণ দে

জঙ্গল কাব্য -৮

পৃথিবীর সংঙগা জানতে চাও?

জিজ্ঞেস করো 
যে পাতার খবর রাখে
যে ফুলের খবর রাখে
যে ফলের খবর রাখে 

যে জানে সুরের ঠিকানা
যে জানে ধূলোর পরিচয় 

আমরা তো শুধু চিনি 
বইয়ের পাতা
ছড়ানো কিছু অক্ষর
আর রঙ মেশানো কিছু কাহিনি। 



জঙ্গল কাব্য -৯

দেখে দেখে বয়স্ক পাতাগুলোয় হাত দেয়। 

ওরা জানে-
পাতা বেঁধে 
পাতায় রোদ মাখিয়ে 
এক -দুটো শনিবার ঠিক পেরিয়ে যাবে

কচি পাতারও একদিন বয়স হবে

জল খেয়ে 
বাতাস খেয়ে 
আলো খেয়ে 
কচি ডালও একদিন যুবক হবে

ফল দিবে
ধূনো দিবে
প্রতি শীতে বস্তা বস্তা শুকনো পাতা দিবে
আবারও অনেক অনেক শনিবার পেরিয়ে যাবে।
🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷

শেষ থেকে শুরু
সমীরণ বেরা


পৃথিবী একই ভাবে আবর্তিত হচ্ছে 
দুই গতির বার্ষিক ফলে সময়ান্তে
নূতন বছরের সমাগমে চেতনায় ফিরুক
দু চোখে নূতন আলো
অন্ধকার জয়ী নূতন ভোরের আলো
শেষ থেকেই শুরু করা যাক 
ভেবেছ? তুমি কি বলো?

আমার পৃথিবীর যত রঙ লেগে আছে
গাছের পাতায় আকাশের নীলিমায় 
তবু মাটি শুষ্ক কেন বলতে পারো?
কখনো কখনো উর্বর মাটি অপেক্ষা জল ভালো
বীজ অঙ্কুরিত পল্লবিত না হলেও
অন্ততঃ কোন কূল ধরে ভেসে যাব ।

রাতের অন্ধকারে তারার মত স্থির তুমি
তোমার অনির্দেশ্য সাঙ্কেতিক ভাষায় 
শেষ থেকে শুরু হল এই তো সেদিন
আবর্তিত হতে হতে নূতন কক্ষপথে খুঁজেছি 
কোন পুরাতনকে বিদায় না দিয়ে 
শুধু শিখেছি পরম যত্নে আর পিছন ফিরে মাঝে মাঝে দেখি।

এক অন্য আমি হয়ে ওঠার স্বপ্ন দেখি
আমার স্বপ্নে রঙের ছোঁয়ায় তাকে তুমি
নূতন সজীব করে তুলতে পারো?
আমি সব ভুলেছি কেননা অন্ধকার থেকে আলোর দিকে 
যিনি নিয়ে চলেছেন তিনিই তো গুরু
হয়তো আবার একদিন শেষ তারপর নূতন শুরু....


🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷



© সেক আসাদ আহমেদ 
সম্পাদক , উপকণ্ঠ
02/06/2020
গাংপুরা, রামনগর, পূর্ব মেদিনীপুর

No comments:

Post a Comment