Friday, June 5, 2020

উপকণ্ঠ প্রাত্যহিক ওয়েব ম্যাগাজিন-04/06/2020

             "উপকণ্ঠ প্রাত্যহিক বিভাগ"
                       (ওয়েব ম্যাগাজিন)     
        প্রকাশ কাল:-04/06/2020, বৃহস্পতিবার
                    সময় :- দুপুর 12 টা 

সভাপতি:- অরুণ কুমার ঘড়াই
সহঃ সভাপতি:- সেক আব্দুল মজিদ

সম্পাদক এবং
প্রকাশক:- সেক আসাদ আহমেদ
যুগ্ম সহঃ সম্পাদক :-
                  ১) ইমরান খাঁন 
                  ২) শেখ মণিরুল ইসলাম

সম্পাদকীয় দপ্তর ::-
গ্রাম:- গাংপুরা ডাকঘর:- সাগরেশ্বর
থানা:- রামনগর জেলা:- পূর্ব মেদিনীপুর
সূচক-৭২১৪৪৬ পশ্চিমবঙ্গ ভারত

মুঠোফোন:- 9593043577 

🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷

উপকণ্ঠ সাহিত্য পত্রিকা ফেসবুক আইডি লিঙ্কে ক্লিক করুন আর যুক্ত হন আমাদের সাথে
 Click here

উপকণ্ঠ সাহিত্য পত্রিকা এর হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপতে যুক্ত হন লিঙ্কে ক্লিক করে
Click here
🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷

আজকে উপকণ্ঠ প্রাত্যহিক বিভাগে যারা কলম ধরেছেন ✒✒✒✒✒✒✒✒✒✒✒ 👇👇👇
ধারাবাহিক প্রবন্ধ:--
   • রাজা দেবরায়
ভ্রমণ কাহিনী:-
  • শুভঙ্কর রায়
প্রবন্ধ:-
  • আব্দুল রাহাজ
কবিতা:-
 1) স্বরূপ সান্যাল
2) সোহিনী শবনম
3) কাঞ্চন সরকার
4) প্রদীপ কুমার দে
5) ডঃ সায়ন ভট্টাচার্য
6) চিরশ্রী কুন্ডু
7) আব্দুর রহমান
8) সোহিনী মুখার্জী
9) শ্যামাপ্রসাদ সরকার
10) অনাদি মুখার্জী
11) জুয়েল রূহানী


🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾

মুখে মাখার ক্রিম সম্পর্কে আলোচনা !
(অন্তিম পর্ব)
~ রাজা দেবরায়


বিভিন্ন ভেষজসমৃদ্ধ মুখে মাখার ক্রিম বাজারে এসেছে । বরাবরই দাবি করা হয় - এগুলো প্রকৃতি থেকে আহরিত, তাই এর ব্যবহার 'স্বাভাবিক' চর্ম পরিচর্যার অঙ্গ হিসেবে গৃহীত হওয়া উচিত । মজার ব্যাপার হলো, প্রকৃতিতে তো অনেক ভেষজ রয়েছে, হঠাৎ এই কয়েক ধরনের ভেষজ চামড়ার কি উপকার সাধন করবে ? এর কোন যুক্তিসম্মত ব্যাখ্যা বা পরীক্ষা নিরীক্ষার কথা কোথাও জানা যায় নি !

এগুলোতে মূলত ক্রেতাদের আবেগকে ব্যবসার স্বার্থে বেশ ভালোভাবেই কাজে লাগানো হয় এবং সেই চেষ্টা খুবই বুদ্ধিমত্তার সাথে করা হচ্ছে । কারণ চামড়ার উজ্জ্বলতা বা সুস্থতা বাইরে থেকে কোন ক্রিম বা মলম ব্যবহার করে বজায় রাখা যায় না ।

আর সত্যিই যদি প্রকৃতির কাছাকাছি থাকার কথা ভাবা হয় তবে তো পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে থাকাটাই যুক্তিসঙ্গত । আমাদের দেশের হাজার হাজার মানুষ কোন ক্রিম বা মলম ব্যবহার করা ছাড়াই চামড়ার উজ্জ্বলতা ও সুস্থতা বজায় রেখেছে এবং রাখছে ।

আসলে নরম 'তুলতুলে' বা 'ফর্সা'র গুরুত্বটি তুলনামূলকভাবে সৌন্দর্য বিচারের মানদণ্ডে জাঁকিয়ে না বসলে এমনটি হতো না বলেই বোধ হয় ।।
🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾

ভ্রমণ কাহিনী
ভারতের বিরল শিবলিঙ্গ:- পঞ্চমুন্ডি বাণলিঙ্গ

        ✍✍✍ শুভঙ্কর রায়


কুশ অর্থে তৃণাচ্ছাদিত গৃহ। মুন্ডি অর্থ মুন্ডনকারী, যাদের দ্বারা নেড়ামুড়া বা মাথা মোড়ানো হয়। পুন্ড্রদেশের মানুষেরা এই অঞ্চলে মাথা নেড়া-মুন্ডন করে কুশ তৃণ কে মাটিতে বিছিয়ে পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে যজ্ঞ ও শ্রাদ্ধক্রিয়াদি সম্পন্ন করতেন বলে এই অঞ্চলের নাম হয় কুশমন্ডি।
কথিত আছে, মহাভারতের বাণ রাজার প্রধান সেনাপতি "কুশমন্ত" এই অঞ্চলে বসবাস করতেন।তার ই স্মৃতি স্মরণে স্থানটির নাম হয়েছে কুশমন্ডি।

দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কুশমন্ডী  থানা গঠিত হয় ১৮৭২ খ্রিস্টাব্দে। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার অন্যান্য অঞ্চলের মতো এই অঞ্চলেও ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বেশ কয়েকটি পর্যটন কেন্দ্র। চৌষা-বেতাহাড় নড়বড়িয়া শিব ধাম, আয়রা ফরেস্ট, মহিপাল দিঘি ও নীলকুঠি, করঞ্জি ভীম দেউল, মহিষবাথান মুখা শিল্প, ছ’ঘটি দিঘি, একডালা দুর্গ, চান্দোল ফরেস্ট।এই সমস্ত স্থানগুলোর মধ্যে প্রচারের আড়ালে থাকা একটি স্থান আমিনপুরের মা মাটিয়া কালী ও পঞ্চমুন্ডির বাণলিঙ্গ।


দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কুশমন্ডি ব্লকের আমিনপুর গ্রামের মাটিয়া কালী পূজা ৩০০ বছরেরও পুরনো। দিনাজপুর রাজ প্রাণনাথ রায়ের সমকালীন ছিলেন রাজা রাঘবেন্দ্র রায়। দিল্লি বাদশা সম্রাট ঔরঙ্গজেব এর কাছ থেকে চৌধুরী উপাধি লাভ করেন মোগল আনুগত্যের জন্য। হরিপুর ইস্টেটের বড় তরফ জমিদার রাঘবেন্দ্র রায়চৌধুরী সপ্তদশ শতকের শেষের দিকে মা মাটিয়া কালীর স্বপ্নাদেশ পেয়ে পূজা শুরু করেন। আমিনপুরে ছিল জমিদারের কাছারিবাড়ি।এই কাছারিবাড়ির মধ্যবর্তী স্থানে পঞ্চ বৃক্ষের নীচে পূজা হয় মা মাটিয়া কালীর। কোন মন্দির নেই। সমতল ভূমি থেকে কুড়ি /কুড়ি হাত বর্গক্ষেত্রের একহাত উচ্চ বেদীর উপর তিন হাত উচ্চ বেদি ই  মায়ের থান। মায়ের নির্দেশেই কোন মন্দির নির্মাণ হয়নি। সম্পূর্ণ মণ্ডপটি মাটি দিয়ে তৈরি। শোনা যায় যে রাঘবেন্দ্র রায়চৌধুরীর বংশধর রবীন্দ্র নারায়ণ রায় চৌধুরী আসনের উপর পাকা মন্দির নির্মাণের আয়োজন করেছিলেন। কিন্তু তিনি স্বপ্নাদেশ পান ওই স্থানে পাকা মন্দির বা ঘর নির্মাণ করলে তিনি সবংশে নিধন হবেন। এজন্য উৎসবের স্থানে কোনো ঘর বা মন্দির নির্মাণ হয়নি।  পূজোর সময় প্রতিমার উপরে চাদোয়া বা কাপড় টাঙিয়ে দেওয়া হয়।  শুধু পাকা মন্দির বা ঘর নয় । মাটি ছাড়া অন্য কোন প্রকার জিনিসের ব্যবহারও বোধহয় নিষিদ্ধ ছিল । কারণ শোনা যায় বেদির চারপাশের ১০/১২ বিঘা জমির মধ্যে কোন রকম কাঠের আসনের ব্যবহার নিষিদ্ধ ছিল।  জমিদারের কাছারিবাড়ির ঘরেও কাঠের আসনে বসতে বা শুতে পারতো না । এমনকি জমিদার স্বয়ং কাছারিবাড়িতে এলে তিনিও কাঠের উপরে বসতে বা শুতে পারতেন না।  কারণ একবার জোর করে উক্ত সীমানার মধ্যে কাঠের উপরে বসতে গিয়ে জমিদার দৈব শক্তির প্রভাবে ভূপতিত হয়েছিলেন।

মা এতটাই জাগ্রত যে আশেপাশের কেউ খাট বা চেয়ারে বসতে বা শুতে পারতেন না। এর অন্যথায় কুপ্রভাব অনুভব করতেন। তাই সে সময় সকলেই মাটিতে ঘুমোতেন সেই নিয়ম মেনে আজও শুধুমাত্র পুজার দিন গ্রামের সকলেই মাটিতে ঘুমান।

মায়ের পূজা শুরু সম্বন্ধে অন্য একটি কিংবদন্তী আছে মাটিয়া কালীর বেদি মন্ডপ যে স্থানে অবস্থিত, সেই স্থানে বহু পূর্বে জনৈক সিদ্ধপুরুষ এর পঞ্চমুন্ডির আসন ছিল এবং তিনি সেই স্থানেই সিদ্ধিলাভ করেন । জমিদার রাঘবেন্দ্র রায় কে প্রতি কার্তিক মাসের অমাবস্যা তিথিতে ঐ স্থানে পূজা দেওয়ার জন্য তিনি স্বপ্নাদেশ করেন ।  সেই থেকেই ঐ স্থানে অমাবস্যা তিথিতে মহাসমারোহে মায়ের পুজা হয়ে আসছে।

পূজা শুরুর দুটো ভিন্নমত থাকলেও স্বপ্নাদেশে জমিদার পুজার প্রচলন করেন তার মিল রয়েছে । স্বপ্নাদেশে প্রচলিত পুজা সেই থেকে প্রতি দীপাবলি অমাবস্যা তিথিতে মা মাটিয়া কা লীর বার্ষিকী পুজা হয়। বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধেও দীপাবলি অমাবস্যায় ও রটন্তী চতুর্দশীতে মায়ের পুজা হতো । বর্তমানে রটন্তী চতুর্দশীর পুজা বন্ধ হয়ে গেছে । যদিও এতে মূর্তিপুজা হতো না । মূর্তিপুজা শুধু দীপাবলীর অমাবস্যা তিথিতে মায়ের পুজা হয়।  মায়ের প্রতি প্রবল ভক্তি শ্রদ্ধায় অগণিত ভক্তরা আসেন মায়ের পুজায়।  মনের আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য মায়ের চরণে পাঠা নিবেদন করেন । দুইশতাধিক পাঠা বলি হয়।  জমিদারবাড়ির চার পাঁচটি পাঠা বলি দেওয়া হয় । পুজা শুরুর সময় থেকেই পাঠা ,পায়রা বলি দেওয়ার প্রচলন ছিল।

মায়ের মূর্তি গড়ার বিষয় নিয়ে অন্য একটি প্রথা আদিকাল থেকে প্রচলিত আছে।  মূর্তি গড়ার জন্য যে খড়ের প্রয়োজন হয় । তা আসে মুসলিম বাড়ি থেকে।  বংশ পরম্পরায় সেই বাড়ি থেকে খড় আসে।  এমনকি মূর্তি গড়ার কারিগর ,পূজোর পুরোহিত সকলেই বংশ পরম্পরায় পুজো করে আসছেন । মায়ের থানে পুরোহিতরা নিত্য পুজার প্রথা এখন আর নেই । এই পুজায় খড় দেওয়া মুসলিম পরিবার অংশগ্রহণ করে।

জমিদারের কাছারিবাড়িও এখন আর নেই।  ভেঙ্গে যাওয়ার পর টিনের ঘর ব্যবহারের জন্য করা হয়েছিল।  সেটিও এখন প্রায় ধ্বংসের মুখে । জমিদারের বর্তমান প্রজন্ম বিজয়েন্দ্র নারায়ণ রায়চৌধুরী কর্মসূত্রে মালদা নিবাসী।  বার্ধক্যজনিত কারণে পুজার দায়িত্ব নিজের কাছে না রেখে গ্রামবাসীর হাতে তুলে দিয়েছেন । বার্ষিকী পুজার দিন সপরিবারে এসে সকলের সাথে পুজার আনন্দ ভাগ করে নেন।


পঞ্চমুন্ডি বাণলিঙ্গঃ
ভারতবর্ষের মধ্যে বিরল শিবলিঙ্গ রয়েছে আমিনপুর গ্রামে । কালো  কষ্টিপাথরের পঞ্চমুন্ডি শিবলিঙ্গ।  শিব লিঙ্গের উপরে বৃত্তাকারে চারটি শিবের মুখ এবং এর উপর ভাগে একটি শিবের মুখ রয়েছে । এই কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গের দুই পাশে দুটি শ্বেত পাথরের শিবলিঙ্গ স্থাপন করা রয়েছে।  পঞ্চমুন্ডির আসন অর্থাৎ মা মাটিয়া কালির উপর মন্দির নির্মাণ ব্যর্থ হলেও অনতিদূরে জমিদারের কাছারিবাড়ির পুকুরধারে কষ্টি পাথরের শিবলিঙ্গ ও মন্দির স্থাপন করেন। এটি পঞ্চমুন্ডি বাণলিঙ্গ নামে পরিচিত।  ১২১১ বঙ্গাব্দে ৭ই জ্যৈষ্ঠ ভূপশ্রী গৌরী প্রসাদ কর্তৃক মন্দির এবং মূর্তি স্থাপন করা হয় । কালক্রমে মন্দিরটি ভগ্ন হলে জমিদারের পরবর্তী প্রজন্ম বিপ্লবেন্দ্র নারায়ন চৌধুরী কর্তৃক মন্দিরের পুনঃসংস্কার করা হয় ১৪০৯ বঙ্গাব্দে । ভগ্ন মন্দিরের কাঠামোকে কেন্দ্র করে নতুনের ঢালাই দেওয়া হয় । বাইরে থেকে দেখে সহজেই অনুমিত হয় মন্দিরটি নবনির্মিত।  মন্দিরের ভেতরে প্রবেশ পথে পুরনো মন্দির এর ছাপ পরিলক্ষিত হয়।  শিবরাত্রি ছাড়াও শ্রাবণ মাসের প্রতি সোমবার অসংখ্য ভক্ত এখানে আসেন পুজো দিতে।  মন্দিরটি তত্ত্বাবধানে রয়েছেন স্থানীয় বিশু সিং।

আমরা মোটামুটি ঘন্টা দুই/তিন মন্দির মূর্তি দর্শন করলাম।আর শতাব্দীপ্রাচীন গাব গাছের ছায়া শীতল কংক্রিট বাঁধানো বেদিতে বসে স্থানীয় লোকজনের মুখে গল্প শুনতে শুনতে কখন যে বেলা গড়িয়ে গেল পশ্চিম আকাশে বুঝতেই পারিনি। অবশেষে টোটোই চেপে বেরিয়ে পড়লাম বুনিয়াদপুর এর উদ্দেশ্যে।

জেনে নিন ঃ

দক্ষিণবঙ্গ থেকে গৌড় এক্সপ্রেস, হাওড়া-বালুরঘাট এক্সপ্রেস, তেভাগা এক্সপ্রেসে বুনিয়াদপুর শহর নেমে টোটোয় পৌঁছে যেতে পারেন আমিনপুর পঞ্চমুন্ডি বাণলিঙ্গ মন্দির দর্শনে। রাত্রিবাসের জন্য বুনিয়াদপুর শহরের ছোট-বড় কয়েকটি হোটেল রয়েছে। অনায়াসেই বিশ্রাম নিতে পারেন।আর বুনিয়াদপুর শহর থেকে মাত্র কুড়ি পঁচিশ মিনিট এই পৌঁছে যেতে পারেন পঞ্চমুন্ডি বাণলিঙ্গ মন্দিরে।

🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾

বর্তমান সময় 
(প্রবন্ধ)
✍✍✍ আব্দুল রাহাজ


বর্তমান সময় বিভিন্ন দিক থেকে এক কঠিন অবস্থার মধ্য দিয়ে বয়ে চলেছে। বর্তমানে পরিবেশ, সমাজ, জীববৈচিত্র্য, পৃথিবী, কোথাও যেন ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে। মানুষ হয়ে গেছে ভোগবিলাসী, আরামবিলাসী, স্বার্থপর। মানুষকে সাহায্য করার মতো মানসিকতা আর নেই হয়ে গেছে নিকৃষ্ট মন।পরিবর্তন ও পালাবদলের মাঝে সময় কঠিনের মধ্য দিয়ে বয়ে চলেছে। হিংসা, দ্বন্দ, মারামারি, বিদ্বেষ, প্রতিনিয়ত লেগেই আছে সেই শান্ত পরিবেশ আর নেই হয়ে গেছে অশান্ত সাধারণ মানুষ প্রতিদিন হচ্ছে অত্যাচারিত এই বর্তমান সময় এগিয়ে যাচ্ছে। চারিদিকে দূষন অশান্তি বর্তমান সময়কে করে তুলেছে আগুনের পিন্ড।এই সুন্দর পৃথিবী হয়ে যাচ্ছে বিষে ভরা কালো পিন্ড রূপে সবুজের আধিক্য কোথাও যেন হারিয়ে যেতে শুরু করেছে ফলে বর্তমান সময় ভয়াবহ অবস্থার মধ্য দিয়ে বয়ে চলেছে। বর্তমান সময় উন্নতি হলেও ছাএ,যুব সমাজের যে সামাজিক দায়িত্ব তার আর দেখা যাচ্ছে না কোথাও যেন কোনঠাসা হয়ে পড়েছে। বর্তমানে মানুষের মানবতা আর নেই হয়ে গেছে নিকৃষ্ট মন। সবমিলে বর্তমান সময় খুবই ভয়াবহ অবস্থার মধ্য দিয়ে চলছে যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে অসনী সংঙ্কেত।

🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾

উপকণ্ঠ প্রাত্যহিক ওয়েব ম্যাগাজিন
কবিতা বিভাগ


মৃন্ময়ী মা
✍✍✍ স্বরূপ সান্যাল


সূর্যের উত্তরণ অস্তাচলে
বদ্ধ ঘরে আলো খুঁজি
অজানা শত্রুর হামলা
খবরের শিরোনামে
রাজপথ মাঠ ঘাট বাকরুদ্ধ
বাতাসের ভাঁজে ভাঁজে শোকস্তব্ধ
জানালার পাশে
বসে ভাবি
আনন্দ ধারায় সোনালী আলোয়
শিশিরে ভেজা
পৃথিবীর বুকে
মৃন্ময়ী মায়ের
প্রাণ প্রতিষ্ঠা হবে তো সাদরে।
🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾

মূল্য
  ✍✍✍ সোহিনী শবনম

চোখে যা দেখা যায়
ছোঁয়া যায় অহরহ,
সেটাই বেশি অপ্রয়োজনীয়
মনে বিরক্ত করে সরবরাহ।
বেড়ে চলেছে আকাঙ্খার রেশ,
বন্ধ হচ্ছে প্রাণের উন্মেষ।
অপ্রাপ্তির প্রতি চরম টান,
প্রাপ্তিকে করে বিলীনমান।
শান্তি নেই মনে,
অশান্তির অবাঞ্ছিত আগমনে।

মাঝে মাঝে অপ্রত্যাশিতের আগমনে,
মন উৎফুল্ল হয় আনন্দের প্রবহনে।
সহজলভ্যকে দাও মূল্য,
সুখ পাবে শুধু জীবনের জন্য।

🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾

আত্মহত্যা মুক্তি নয় যন্ত্রনা
   ✍✍✍ কাঞ্চন সরকার


স্বামী স্ত্রীর আজ মিলন হয়েছে।
ঘুমের মাঝে, দূরে স্বপ্নের জগতে॥
স্বামী,
তোমার আমার জগৎটা নাহয় বড্ড ছোট্ট ছিল।
তাই বলে সব স্বপ্ন আজি ধুলোয় মিশে গেল॥
যেদিন তোমায় প্রথম দেখি, স্বপ্ন বাসা বাঁধে।
দুজনের মিলনে,স্বপ্নগুলো স্বপ্নের ডালি সাজে॥
তুমি বড্ড বোকা,বড্ড রাগী-জেদি,বড্ড অভিমানী।
বৃথা চিন্তা সাত জন্মের সুখ-দুঃখের ভাগাভাগি॥
সাত জন্মের পথ একজন্মের মাঝখানে তেই শেষ।
আজ তুমি নাবলে চলে গেলে! তা যা করলে বেশ॥
আজ তুমি বুঝলে না এটা রাগ না অভিমান।
নাকি ভেবেছিলে অনেক দুঃখ পকেটে যে টান?
আজ বুকের ভেতরটা বড্ড ফাঁকা নেই বলার ভাষা।
বুঝলেনা ঔষধ একটাই তোমার আদর ও ভালোবাসা॥
স্ত্রী,

চারিদিকটা অন্ধকার ছিল, ছিল দ্বার বন্ধ।
তোমার ডাকেতে কিছুটা জ্বালা হলো আজ মুক্ত॥
এতো ভুল নয় শুধু , মহাভুল করেছি আমি।
হঠাৎ হয়ে উঠেছিলাম, বড্ড অভিমানী॥
আবেগ সাগরে পাড়ি দিয়ে যে ক্রমে ডুবছি আমি।
খুঁজে চলেছি,খুঁজে চলেছি তোমাকেই শুধু আমি॥
যতদিন যাচ্ছে শ্বাসরুদ্ধ হচ্ছে বেদনার পাহাড়ে।
বুঝেছি মরেও হাজারবার মরতে হবে আমারে॥
সুখ-দুঃখ নিয়ে জীবন এটা আমি হঠাৎ ভুলেছি।
চক্রাকারে দুঃখ শেষে সুখ আসে এটাও ভুলেছি॥
বাস্তবকে ভয় না করে, তাকেই সাজাতে হতো।
তুমি আমায় ক্ষমা করো,ছোট্ট সোনাকে নিয়েই বাঁচো॥
হে ঈশ্বর ওদের তুমি যত্ন নিও, ওদের ভালো রেখো।
পারলে প্রভু তুমিও আমায় ক্ষমা করো,ক্ষমা করো॥
বিধাতা, 
আত্মহত্যা মহাপাপ এটা নিশ্চয় তুমি জানতে।
নিজে হাতে সব শেষ করে, আমায় মনে পড়েছে॥
দেখবে তাকিয়ে সব, কিচ্ছুটি করতে পারবে না।
বুঝবে তুমি প্রাণসাগরে তোমার নৌকা আর চলবেনা॥
সৃষ্টি তোমাদের আবার মিলাবে জীবিত যে ভালোবাসা।
ভবিষ্যৎটা সময়ের হাতে করো এখন দীর্ঘ অপেক্ষা॥
আবার মিলিবে তোমরা দীর্ঘ অন্তরালের পরে।
সময়কে তোমরা সম্মান করো,সময় ঠিক মিলাবে॥
তাকিয়ে দেখো এই বেদনাময় কবিতা লিখতে।
কবির অশ্রুজলে তার লেখনীও আজ ভেঙ্গেছে॥
জানি বুঝি আজ তুমি বড্ড অনুতপ্ত।
কিন্তু অনুতাপ যে আংশিক প্রায়শ্চিত্ত॥
তুমি যে আজ মহাপাপী সৃষ্টির বিরুদ্ধে হেঁটেছো।
তোমরা দুজন এখন নাহয় অনুশোচনায় বাঁচো॥
🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾

🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾
উপকণ্ঠ প্রাত্যহিক বিভাগ

কাস্তে হাতুড়ি
✍✍✍ প্রদীপ কুমার দে


 বাবুরা! তোমরা কি দেখছনা, পুব আকাশে সূর্য উঠেছে
            চাষিরা কাস্তে হাতে যায় মাঠে,
            শ্রমিকেরা যায় কারখানা।
            তবু বাবুরা, তোমাদের চেতনা হয় না-
            তোমরা শুধু ঠান্ডা ঘরে জিরাতে জানো,
            তোমরা গরীবের মর্ম বোঝো না।

বাবুরা! তোমরা কি একটি বারও ভাববে না-
            ওদের আত্মবেদনা,
            তোমরা কি একটি বারও ভাববে না-
            ওদের হাহাকারের যন্ত্রণা।
            তবে আমরা তোমাদের প্রতি হানব আঘাত,
            এ আমাদের তীব্র প্রতিবাদ।
            চাষী ও শ্রমিকের চিরসাথী,
            আমরা ওদের কাস্তে-হাতুড়ি।

🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾
বৃষ্টির নামে তানকা
 ডঃ সায়ন ভট্টাচার্য


আশায় আশায় থাকি ...
আজ আকাশে মেঘ করেছে
বৃষ্টি হবে নাকি?
তপ্ত হৃদয় শান্ত হবে,
বৃষ্টি বলো, আসবে কবে ?!

🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾

"""" উপকণ্ঠ প্রাত্যহিক বিভাগ"" 

    ***, পড়ন্ত বিকেল ***
       ✍✍✍  - চিরশ্রী কুণ্ডু ( অবন্তিকা )



বেলা শেষে পড়ন্ত বিকেলে , 
            শান্ত স্নিগ্ধ মায়ার খেলা
     সূর্যি ডুবি ডুবি লাল আভা 
                হাসিটা যেন রং মাখানো ,
ফিরতি পথে চোরাবালি 
                হাসির আড়ালে কান্নার ঝলক ,
জমির খেতে জমছে দেখো 
                কৃষক খেতের ভিন্ন ফসল ,
রংবেরং এর স্নিগ্ধ মায়া 
               চোখের কোণে মলিন আলো ,
ক্লান্তি শেষে পাখির কুজনে 
                দুর্বিষহ আকাশ প্রাঙ্গণ ,
প্রাণের পরের মিষ্টি আবেগ 
                আবেগ ভরা প্রাণ শহরে ,
কতো কথা লিখে যায় সুখের আলিঙ্গনে 
              মনের হদিস কেই বা রাখে এই পড়ন্ত বিকেলে।।
🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾

সে
    ✍✍✍ আব্দুর রহমান


ভুলে যাই 
সব ঈশ্বরের , বাইরে নেই কিছু 
থাকতে নেই , বিরুদ্ধেও নেই 
এ দেশ তোমার 
আমি তুমি একটা সংখ্যা ।
' সে ' 
ঈশ্বর নিরপেক্ষ কণা
না ধনাত্মক না ঋণাত্মক
আবার সব কিছু
মেনে চলো বিধান 
জীবনের আয়ু বাড়াতে নেই
তোমাদের ধ্বজা পৎ পৎ করবে শুধু
তুমি ঘাম দাও 
উৎসর্গ কর 
মাটির জীবন 
শিশুটিকে ঘুমিয়ে রাখ
সে বোঝেনা ঈশ্বর ।

🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾
নিকৃষ্ট জীব
✍✍✍ সোহিনী মুখার্জী

ধ্বংস হোক পৃথিবী নিপাত যাক এ সমাজ
সময় নেবে প্রতিশোধ প্রতি ফোঁটা রক্তের আজ,
আবার যখন সৃষ্টি হবে নতুন করে সবে
নিকৃষ্ট তম জীব হিসেবে মানুষকে ধরা হবে,
মা শুধু কোনো শব্দ নয় মা হলো অনুভূতি
যারা পারেনা মা বলতে তারা মা হয়না বুঝি?
কেরলের ওই হস্তী সাবক ও মা হতে চেয়েছিলো
বিশ্বাস করে তোমার দেওয়া বিষপান করেছিলো।।
                                     
🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾

উপকন্ঠ প্রাত‍্যহিক বিভাগ
 কবিতা
 ✍✍✍ শ‍্যামাপ্রসাদ সরকার

হে অরণ‍্য!হে বিষাদ অগ্নি

অরণ‍্যের আগুনে পুড়িও,
বিষাদের শালবৃক্ষ আমার!
এ দেহটুকুই তো আছে,
অনির্বাণ হুতাশনকে দেব বলে
অনন্তকাল সুগন্ধী কস্তুরীঘ্রাণ মেখে শুয়ে আছি,
অনাঘ্রাত নাভীমূলে, গোপনে..
অন্তিমদহনের আগে যদি চোখের ওপর
রেখে দাও লালাসিক্ত চুম্বনদাগ
অথবা অগুন্তি শবের ওপর যেমন,
দীঘল ছায়ার মত প্রোজ্জ্বল অগ্নি..
সম্মোহিত করে চিতাকাষ্ঠের পৌরুষকে.....

বেঁচে থাকার চেয়েও মৃত‍্যু জরুরী তাই,
খরশান হাওয়ায় এনেছ ছাতিমের বন‍্য আঘ‍্রাণ,
যেমন তর্জনী তুলে একদা শাসন করেছ
তেমনই তিলাঞ্জলি দিতে বদ্ধ করেছ মুঠি....

অরণ‍্যের আগুনে পুড়িও আমায়,
বিষাদের শালবৃক্ষ দেহখানি,
এরপর যত স্থাবর অস্থাবর প্রেমজ অঙ্গীকার,
ফুৎকারে উড়িয়ে দিও ধূসর ছাই এর মত,
একদা নৈঃশব্দ প্রেমে দিয়েছিলে নতজানু হওয়া
সুতীব্র কামনার আহবানটুকু! যেমন পুড়ে যেতে যেতে!

🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾

যদি তোমাকে পাই 
✍✍✍ অনাদি মুখার্জি

যদি তোমাকে কোনোদিন পাই,
 একান্ত আপন করে ,
ভাসবো আমি মেঘ হয়ে ,
তুমি বৃষ্টি হয়ে ভেজাবে!
হাসি ফুটবে মুখে তেমন
যেমন কৃষক হাসে নব্বানের সুখে!
মনের আনন্দে হেসে পড়ব
কাশ ফুলের মতোন বাতাসে!
ঝরনার মতোন ঝরে পড়ব,
দুই জনে পাহাড় থেকে !
জোসনা রাতের হাটবো দুই জনে,
পাশাপাশি তোমার হাত টি ধরে !
আজ সব উপমা অর্থহীন হয়েছে,
তোমার একান্ত আভাসে।

🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾
উপকন্ঠ প্রাত্যহিক বিভাগ

      যাপিত জীবন
✍✍✍ জুয়েল রূহানী

যাপিত জীবন নিরহংকার-
        কর হে পূর্ণ,
যত পাপ-তাপ মোচন কর হে-
জীর্ণতা হোক চূর্ণ!
আশা-নিরাশার মহাকাব্যে-
ঝঙ্কিত সুরলংকার,
হৃদয়ে উথিত সুর; আনন্দ-বেদনার!
🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾

©সেক  আসাদ আহমেদ 
সম্পাদক, উপকণ্ঠ
তাং-04/06/2020
গাংপুরা পূর্ব মেদিনীপুর



No comments:

Post a Comment