Friday, June 5, 2020

উপকণ্ঠ প্রাত্যহিক ওয়েব ম্যাগাজিন-05/06/2020

             
                "উপকণ্ঠ প্রাত্যহিক বিভাগ"
                       (ওয়েব ম্যাগাজিন)   
        প্রকাশ কাল:-05/06/2020, শুক্রবার
                    সময় :- দুপুর 12 টা



সভাপতি:- অরুণ কুমার ঘড়াই
সহঃ সভাপতি:- সেক আব্দুল মজিদ

সম্পাদক এবং
প্রকাশক:- সেক আসাদ আহমেদ
যুগ্ম সহঃ সম্পাদক :-
                  ১) ইমরান খাঁন
                  ২) শেখ মণিরুল ইসলাম

সম্পাদকীয় দপ্তর ::-
গ্রাম:- গাংপুরা ডাকঘর:- সাগরেশ্বর
থানা:- রামনগর জেলা:- পূর্ব মেদিনীপুর
সূচক-৭২১৪৪৬ পশ্চিমবঙ্গ ভারত

মুঠোফোন:- 9593043577

🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷

উপকণ্ঠ সাহিত্য পত্রিকা ফেসবুক আইডি লিঙ্কে ক্লিক করুন আর যুক্ত হন আমাদের সাথে
 Click here

উপকণ্ঠ সাহিত্য পত্রিকা এর হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপতে যুক্ত হন লিঙ্কে ক্লিক করে
Click here
🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷

আজ বিশ্ব পরিবেশ দিবস 
                       5 ই  জুন
       একটি গাছ 🌴
                      একটি প্রাণ
            গাছ লাগান  প্রাণ বাঁচান
🎄🌲🌳🌴🌱🌿☘🍀🎋🍃🎄🌲🌳🌴🌱🌿🌵🎄🌲🌳🌴🌴🌱🌿☘🌵🎄🌲🌳🌴🌱🌿

আজকে উপকণ্ঠ প্রাত্যহিক বিভাগে যারা কলম ধরেছেন ✒✒✒✒✒✒✒✒✒✒✒ 👇👇👇
কবিতা:-
     1) মুহাম্মদ ইসমাইল
     2) সোহিনী শবনম
     3) তাপস কুমার বেরা
     4) প্রদীপ কুমার দে
অনু কবিতা:-
      5) শুভঙ্কর দাস
ছোটোগল্প:-
       6) আব্দুল রাহাজ
কবিতা:-
        7) অঙ্কিতা সরকার
         8) উমর ফারুক
          9) সমিত বিশ্বাস
🌴🌴🌴🌴🌴🌴🌴🌴🌴🌴🌴🌴🌴🌴🌴🌴🌴🌴🌴🌴🌴🌴🌴🌴🌴🌴🌴🌴🌴🌴
               বিশ্ব পরিবেশ দিবস

কোভিড-১৯ এর তাণ্ডবে সারাবিশ্বের মানুষ যখন বিপর্যস্ত তখন প্রকৃতিতে ফিরেছে প্রাণ। গত চার মাস ধরে পৃথিবীর মানুষ একপ্রকার ঘরবন্দি। প্রকৃতির ওপর চালানোর অবিচার কমে আসায় প্রকৃতি যেন নিজেকে মেলে ধরেছে। ফিরেছে স্বমহিমায়। এই বাস্তবতা থেকে নতুন করে শিখতে শুরু করেছে মানুষ। তবে সেই শিক্ষা করোনার পরও থাকবে কিনা এখন সেটিই দেখার বিষয়। চলতি বছর বিশ্ব পরিবেশ দিবসের মূল প্রতিপাদ্য টাইম ফর নেচার। অর্থাৎ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের এখনই সময়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জীববৈচিত্র্য রক্ষার যে তাগিদ দুনিয়াব্যাপি আলোচিত হচ্ছিলো মানুষের অতিপ্রয়োজনীয়তা তাতে বাঁধ সাধছিল। করোনা মানুষের সেই অতিপ্রয়োজনীতা কমিয়ে জীববৈচিত্র্য রক্ষা করছে। বিশ্ব পরিবেশ দিবসে ঢাকার বাতাসে যেমন কমেছে সিসার বিষ, তেমনি শব্দের দূষণও কমেছে।
এবার পরিবেশ দিবসের আয়োজক দেশ কলম্বিয়া। জার্মানির সহযোগিতায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে তারা। গত বছর ছিল চীন। সারা বিশ্বের জীববৈচিত্র্যের ১০ শতাংশই রয়েছে কলম্বিয়াতে। অ্যামাজন এর একটি বড় অংশ রয়েছেই কলম্বিয়াতে। এই অ্যামাজনেই বছরের পর বছর আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকার বনভূমিতেও গত বছর বড় রকমের আগুনের সূত্রপাত হয়।

জাতিসংঘ বলছে, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ না করাতে আমাদের পরিবেশের ভারসাম্যই শুধু নষ্ট হচ্ছে না আমরা এর মাধ্যমে আমাদের জীবনকে ধ্বংস করছি। কোভিড আমাদের সেই শিক্ষা দিচ্ছে উল্লেখ করে জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে আমরা জীববৈচিত্র্য রক্ষা করলে শুধু খাদ্যেরই যোগান পাব না বরং ওষুধসহ নির্মল পানি এবং বাতাস পাব। যা মানুষের সুস্থতার বড় অনুষঙ্গ হতে পারে।
আয়োজক কলম্বিয়া বলছে, এখন তাদের দেশে প্রায় ১০ লাখ জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের মুখে। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে এর থেকে গুরুত্বপূর্ণ সময় আর আসেনি। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ না করায় জলবায়ু পরিবর্তন হচ্ছে যার শিকার হচ্ছে বাংলাদেশও। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সঙ্গে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়াতে লবণাক্ত পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে বিস্তর এলাকা। এতে মানুষ গৃহহীন হয়ে ভাসমান জীবন যাপন করছে। শুধু বাড়িই নয় মানুষ হারাচ্ছে ফসলের মাঠ এবং তার কাজের জায়গাও।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিশ্বের বায়ুমান যাচাই বিষয়ক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘এয়ার ভিজ্যুয়াল’ এর বায়ুমান সূচকে (একিউআই) বাংলাদেশের অবস্থান প্রথম স্থান থেকে সরে ৭৩ তমতে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। সূচকের মান জানুয়ারি ফেব্রুয়ারি মাসে যেখানে ছিল ৩০০ এর উপরে। যা শুধু অস্বাস্থ্যকর নয়, দুর্যোগের পর্যায়ে বলে মনে করতেন বিশেষজ্ঞরা। সেখানে এখন সেই সূচক নেমে এসেছে ৫০ এর নিচে। গত দুইদিনের বৃষ্টিতে এখন তা নেমে দাঁড়িয়েছে ২৫ এ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বায়ুদূষণ বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান মজুমদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, লকডাউনের কারণে যানবাহন কম, ইট ভাটা বন্ধ, কনস্ট্রাকশন কাজ বন্ধ থাকায়  বায়ু দূষণের মাত্রা অনেক কমে গেছে। আমরা এক সময় যেখানে মাত্রার দিক থেকে প্রথম স্থানে ছিলাম এখন তা বেশিরভাগ দিনই ১০০ এর নিচে থাকে। গত দুইদিনের বৃষ্টিতে সেটি আরও কমে গেছে। এখন আমরা স্বাস্থ্যকর অবস্থায় আছি। যা আমাদের পরিবেশের জন্য খুবই ভাল খবর। তবে এখন আবার সব খুলতে শুরু করেছে। ফলে কী কী কারণে দূষণ হয় তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সরকারের উচিত এখন এসব বিষয়ে আরও কঠোর হওয়া। তাহলে আমরা সব সময় স্বাস্থ্যকর বায়ু পেতে পারি।
অন্যদিকে করোনার প্রভাবে গত দু’মাস ধরে চিরায়ত শব্দ দূষণের যন্ত্রণার হাত থেকে অনেকটাই মুক্ত রাজধানীবাসী। তবে একটু একটু করে জীবনযাত্রা সচল হওয়াতে শব্দ দূষণ কিছুটা বেড়েছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সদস্য আব্দুল মতিন বলেন, করোনারভাইরাসের কারণে সবাই ঘরে থাকায় শব্দ দূষণ অনেক কমেছে। তবে আবার সব খুলতে শুরু করায় বাড়তে শুরু করেছে। এখনই সময় এই বিষয়ে সরকারের উদ্যোগ নেওয়ার। প্রথম থেকে কঠোর হওয়া গেলে নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে বলে তিনি মনে করেন।
প্রসঙ্গত, ১৯৭৪ সাল থেকে জাতিসংঘের মানবিক পরিবেশ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির (ইউএনইপি) উদ্যোগে প্রতিবছর ৫ জুন ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়।


তথ্য সংগ্রহীত ও ঋণস্বীকার
 বাংলা ট্রিবিউন
ইন্টারনেট, উইকিপেডিয়া
🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌱🌱🌱🌱🌱🌱🌱🌱🌱🌱🌱🌱🌱🌱🌱



প্রকৃতির ঋণ
     ----মুহাম্মদ ইসমাইল


পোড়া গন্ধের রোদনে ভারি বিশ্বচরাচর
 ওরে ধ্বংস নয়, এসো রক্ষা করি প্রকৃতি সবার!     
যার ছায়ায়, যার মায়ায় পুষ্ট হলে এতোদিন
জীবন দিয়েও পারবে কি মেটাতে তাহার ঋণ?
বিশুদ্ধ হাওয়ায় বইছে তোমার জীবন তরী খানা
 পূর্ণ উদর জল, ফল, হাজারো শস্য দানা
অসুস্থ হলে ঔষধ পেলে বৃক্ষ লতা পাতায়
 যখন তীব্র খরায় প্রাণ যায় যায়
রুক্ষ মাটি ফাটাফুটি জলের হদিস নাই,
সারি সারি মেঘের আঁচল আনলো শীতল ছায়া
ঝমঝমাঝম বৃষ্টি এসে ভরলো আঙিনায়।
নদীর ধারে শিকড় পুঁতে বাঁধলে চারিধার
বন্যা ভাঙন রুখে দিয়ে রাখলে
অটুট ভার
 আপন মুখে বিষ ধোঁয়া গিলে
 ফিরিয়ে দিলে জীবন উপহার। 
   চন্দ্র তারার আলোক আভায় জ্বলছে জীবন বাতি   
  অজ্ঞ হয়ে হানলে আঘাত
আসবে আঁধার রাতি।
পরিবেশ সবার চাই সুস্থতার
 অবহেলা আর নয় রে নয়
প্রকৃতির মায়া আদর ছায়া
সবার জীবনে কাম্য তাই।
  বৈচিত্র্য ভরা জগৎ মাঝে
 এসো, বৈচিত্র্য রক্ষা করি সবাই
সুস্থ শীতল প্রকৃতির ছায়ায়
 সুস্থভাবে বেঁচে রই।
🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷
আমার প্রেম
      সোহিনী শবনম

ভালোবাসার জিনিসগুলো,
চোখ বুজলে আসে সামনে,
দেখা হয়, গল্প হয়,
নিজের মনের এক কোণে।

গঙ্গার হাওয়া, গাছের ছাওয়া-
এসব তোমার জন্যই স্পেশাল,
তুমি না থাকলে আমার
ভ্যাপসা লাগে বিশাল।

তোমাকে যে বড্ড ভালোবাসি
ফুচকা আর চুরমুরে মনটা যায় ভাসি।
দেখা হয় নি টানা তিন মাস,
মনে পড়ে খুব টোটোর লাইন আর ষ্টেশন রোডের বাস।

তোমার রাস্তা ভরবে আবার নানান গাড়ি ঘোড়ায়
আবার তুমি জড়িয়ে পড়বে তীব্র ব্যস্ততায়।
ক'দিন না হয় বিশ্রাম নাও, চিন্তা কোরো না মোটে
সদর শহর চুঁচুড়া, তুমি আমার একমাত্র প্রেমও বটে।

বিনা হর্ন আর ধুলোয় পরিষ্কার হচ্ছ যদিও
তোমার নিস্তব্ধতা কষ্ট দিচ্ছে তবুও।
মানিয়ে নিচ্ছি ক'দিন আমি, তুমিও‌ নাও মানিয়ে,
রোগ বালাই সব দূর হলেই, গল্প করব চুটিয়ে।

ঘড়ির মোড় আর মনজিনিস টানে আমায় প্রচন্ড,
নিস্তব্ধতা যাবে কেটে,বদ্ধ অবসর হবে খন্ড।
দেখা হবে ঠিকই, ধৈর্য হারিওনা
তোমার ছিলাম, তোমার আছি, নেই কোনো দোনামনা।।

🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷
স্বপ্নিল
      তাপস কুমার বেরা

স্বপ্নিল -
ইংরিজিতে এম .এ . , বি .এড . |
না -
চাকরী পায় নি
কোথাও কোন |
তবে -
অনেক ছাত্র ছাত্রী পড়াতো |
বাবা মার
এক মাত্র সন্তান |
বয়স -
তিরিশ কি ,
বত্রিশ হবে |
হঠাৎ এক দিন
সবাইকে অদ্ভুতভাবে
বিমূঢ় করে দিয়ে
আত্মহত্যা করল
পুরনো বাড়ীর
পাশ্চাতে |
গাছের ডালে
গলায় দড়ি দিয়ে
ঝুলতে দেখা গেল
মৃত্যুকে বরণ করে |
পড়ে রইল
অসুম্পূর্ণ নতুন পাকা বাড়ী |
কিন্তু -
কেন সে মারা গেল ?
আত্মহত্যা ?
না কি ষড়যন্ত্র ?
কার উপর
এত বেহিসাবী অভিমান ?
আচ্ছা -
সমাজ হয়তো
ওর জন্য বেশী কিছু করতে পারে নি |
তবু -
ওর কি
কোন দায়িত্ব ছিল না ?
ওর এই মৃত্যুতে
ওর কি লাভ হল ?
বাবা মার কি থাকবে ? -
এক বুক শুন্যতা
আর
সামনে অজানা অন্ধকার |
যারা পড়তে আসত দলে দলে ,
তারা কি শিক্ষা পাবে
জীবন গড়ার ?
🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷
উপকণ্ঠ প্রাত্যহিক বিভাগ
 জীবন্ত সিগন্যাল
       প্রদীপ কুমার দে


উসকো খুসকো লাল চুল
চেহারাটা রোগা,
পরনে তার সাদা জামা
কালোপ্যান্ট ধূলিমাখা।

আস্ত লাল রুমাল
গলায় তার রাখা,
মুখে জ্বলন্ত সিগারেট
পায়ে কালো জুতা।

রাস্তার মাঝে সে এক
মূর্তিমান ট্রাফিক,
রাশি রাশি যানবাহন
মানুষের ভিড়।

হঠাৎ এই দ্রুততার মাঝে
স্তব্ধতা নামে,
গাড়ি সব থেমে যায়, তার
লাল সিগন্যালে।       
                               (সত্যঘটনা অবলম্বনে)
🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷
উপকণ্ঠ প্রাত‍্যহিক বিভাগ
বিভাগ : অণুকবিতা
কলমে : শুভঙ্কর দাস


এমন একটা ভোর আসুক যেখানে থাকবে না কোনো ভয়,
যেখানে হিংসা ভুলে শান্তির বাণী করবে মুক্ত পরিবেশ জয়।
সমাজের প্রতিটি মানুষ পাবে সমান অধিকার,
কে বুর্জোয়া, কে আমলা, কে হতদরিদ্র সবাই হবে স্বাধীনাকার।
জাতি বিদ্বেষ ভুলে মানুষ দেখবে নতুন সূর্যোদয়।
 সকল মানবজাতির কাছে রাখি এই দূঢ় প্রত্যয়।
🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷

ও পাড়ার মুক্তিবাড়ি (ছোট্ট গল্প)
      আব্দুল রাহাজ


সময়টা ছিল প্রকৃতির মায়ের কোলে এক সৌন্দর্য পূর্ণ মিলন স্থল ঠিক সেই সময় আহসান , আলি ,আর তুহীন গ্ৰামের পশ্চিম দিকে একটা মাঠে ঘুড়ি আকাশে ঘুড়ি ওড়াচ্ছিল ঠিক সেই সময় আরিফ বললো মুক্তি বাড়ির লোকেরা শহর থেকে এসেছে তোরা কী দেখতে যাবি হ্যাঁ তোরা যা আমরা যাচ্ছি। এর মধ্যে তুহীন গ্ৰামে নতুন এসেছে সে বললো আহসান কী ব্যাপার রে মুক্তি বাড়ি কোথায় ওই তো পূর্ব পাড়ায় চল যায় ।আলি বললো এই বাড়ির একটা ইতিহাস আছে তোকে পড়ে বলবো তাই হবে।তুহীনরা এসেছে ওপার বাংলা থেকে ওদিকে বন্যার হওয়ার দরুন জন্মভিটা ছেড়ে এসেছে ওদের গ্ৰামে। ওরা সবাই একই বয়সে এখন ওদের গরমের ছুটি চলছে তাই ওদের আনন্দে এখন দিন কাটছে। এদিকে ওদের গ্ৰামটা ছিল খুবই সুন্দর চারিদিকে বন নদী আর মাঠ বাঁশঝাড় দিয়ে ঘেরা গ্ৰামের মানুষ খুবই ভালো সবাই মিলেমিশে মিশে বসবাস করে বিপদের দিনে পাশে দাঁড়ায় এইভাবে ওরা বসবাস করছে চিরকাল ধরে। এদিকে ওরা মুক্তি বাড়ির দিকে রওনা দিল তখন সন্ধ্যা নামতে ঢের দিয়ে ওরা পৌনে পাঁচটার দিকে পৌঁছলো মুক্তি বাড়ির চাকর আদ্যনাথ বললো তোরা এলি আয় ভিতরে আয় মুক্তি বাড়ির কর্তা হারাধন বললো কে এসেছে তখন আদ্যনাথ বললো এই গ্রামের ক'জন বাচ্চা ছেলে এসেছে ও আচ্ছা পাঠিয়ে দাও ওপরের ঘরে। ওরা যেতেই হা হা হা করে এসে উঠলো হারাধন বললো এসো এসো বাছারা বসো চাকরকে হাঁক মেরে বললো আদ্যনাথ খাবারের ব্যবস্থা করো আমাদের জন্য এরপর আমাদের সাথে বললো তোমরা কী মুক্তি বাড়ির ইতিহাস শুনবে আমরা বললাম হ্যাঁ বা তাহলে তো বেশ ভালো আচ্ছা এক কাজ করি কাল তোমরা সকাল বেলায় চলে এসো এই কথা বলতেই চাকর আদ্যনাথ খাবার নিয়ে এলো আরে বাছা খাও খাও লজ্জা করোনা সন্দেশটা খাও খুব ভালো খেতে ওরা সবাই খেতে খেতে বললো আচ্ছা দাদু আজ আমরা যাই কাল সকালে আসবো হ্যাঁ হ্যাঁ এসো কিন্তু সন্ধ্যা নেমে এসেছে ভালো ভাবে যাবে কিন্তু আচ্ছা দাদু। ওরা জোরে জোরে পা চালিয়ে হাঁটতে লাগলো আরফিন কী ভালো মানুষ সত্যিই তাই ওরা বলে উঠলো আচ্ছা আমি চললাম কাল দেখা হচ্ছে ওই ফাঁকা মাঠে ওখান থেকে একসাথে যাবো আচ্ছা তাই হবে ওরা যে যার বাড়ি চলে গেল।

পরেরদিন সকাল বেলায় ওরা সবাই ফাঁকা মাঠে একজায়গায় হয়ে একসাথে চলে গেল মুক্তিবাড়ি যেতেই খিড়কির কড়া নাড়তেই চাকর আদ্যনাথ বললো ও তোমরা এসেছো এসো এসো ওরা উপরে উঠে চলে গেল কর্তা বাবুর ঘরে বললো কে ওরা বললো আমরা ও হ্যাঁ এসো এসো বসো আমি গল্প বলা শুরু করি অনেক কাল আগে মুক্তি বাড়িতে সদস্য সংখ্যা ছিল দশ জন আমি আমার বাবার আট নম্বর সন্তান আমাদের বাড়ির লোকেরা ছিল খুবই দয়ালু গ্ৰামের মানুষ দের সাহায্য করতেন একবার গ্ৰামে বন্যা দেখা দিল গ্ৰামের মানুষের খুবই অনাহারে দিন কাটছিল দু বেলা দু মুঠো ভাত খেতে পারছিলনা ওরা খুব মন দিয়ে শুনতে লাগলো।এরপর গ্ৰামের কয়েকজন লোক বললো বাবু আমাদের একটু সাহায্য করুন না হলে আমরা না খেতে পেয়ে মারা পরে যাবো এর পর আমাদের বাড়ি থেকে সব খাবার দাবার দেওয়া হতো তাই খেয়ে গ্ৰামের মানুষ বেঁচে ছিলো সেই থেকে আমাদের বাড়ির নাম হয় মুক্তি বাড়ি ।তারপর একদিন এক দুর্ঘটনায় আমি বাদে সবাই পরলোকে পাড়ি দেন এই ভাবে আদি দিগন্তের পথ ধরে আমাদের বাড়ি প্রকৃতির মায়ের কোলে আজও সম্ভ্রান্তের মতো দাঁড়িয়ে আছে। এই ছিলো মুক্তি বাড়ির ইতিহাস। গল্প শুনতে শুনতে ঘড়ির কাঁটায় তখন বেলা দুটো ওরা দাদুকে বলে তাড়াতাড়ি দৌড় দিয়ে সবাই বাড়ি চলে গেল। বিকাল বেলায় ওরা খেলার জন্য এসেছিল আরিফ বললো ওই তোরা জানিস আজ তিনটের দিকে মুক্তি বাড়ির কর্তা মারা গেছে ওরা তো অবাক হয়ে গেলো। এরপর দিন যায় দিন আসে মুক্তি বাড়ি ওদের কাছে চিরদিন স্মৃতি হয়ে রইলো।
🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷
 দূর্যোগের করাল ছায়া
      অঙ্কিতা সরকার


করোনার তান্ডবে ত্রস্ত এ বিশ্ব,
মানুষ দেখবে বুঝি তার অন্তিম দৃশ্য।
ধেয়ে এলো বাংলায় ঝড়, নাম তার আমফান,
ভেঙেচুরে সবকিছু দিলো করে খানখান।
এদিকে পঙ্গপাল দিলো হানা কিছু অংশে,
মাতবে এবার তারা শস্যের ধ্বংসে।
দাবানল বা আমফান নাম যাই হোক-
গরীবের কপালে জুটবে শুধুই কি দূর্দশা আর শোক?
একদিন তান্ডব থেমে যাবে, সরে যাবে মেঘ,
ওদের মনেও জাগবে আশার আলো ও আবেগ।

🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷

প্রকৃতি ও মানুষ
         উমর ফারুক


আজ থেকে তোমার মুক্তি চায়
তোমার নিশ্বাস পর্যন্ত আমাদের জীবন।
তোমার কাছে অভিশপ্ত মানুষ
চাহিদার মগডালে চড়ে বসে।
কিন্তু অনেকগুলো গাছ
একটি গাছের মুক্তির দাবী করে।।
গাছেদের সর্দার পাথরের মতো
নীরব মৃত্যু সহ্য করে চলেছিল এতদিন।

কিন্ত তাদের পরিবার এখন বিপন্ন
চারিদিকে আধারের ঘনঘটা
চারিদিকে কান্নার ওরকম বৃষ্টি
সারা প্রকৃতি কে সিক্ত করে।
তাদের দুরবস্থার ছত্রছায়ায়
মানুষ কতটুক উপকারী..!
এখনো জিজ্ঞাসার শেষ নেয়!!?
🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷
প্রাতহিক বিভাগ

হাট
      আজ
              রূপান্তরে

    সমিত বিশ্বাস

শহর ওপাড়ায় ন্যানো গাড়ি
বোঝাই করা ফ্রিজ, স্টিল আলমারী ৷
গাড়ি চালায় পিন্টু ডাইভার
বামে বসে মন্টু খালাসি তার ৷হাট বসেনা শুক্রবারে
বিকায় জিনিস মোবাইলে অর্ডার করে ৷
জিনিস পত্র ব্যাগে নিয়ে
দেয় সে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ৷
মোবাইল,ননস্টিক,ক্রিম,পিলো
বিকায় বৈদ্যূতিক মিক্সার গুলো ৷
সর্ষে ইলিশ চিকেন কষা
ব্ল্যাক ডগ আর ককটেলে নেশা ৷
কাঁটা চামচ আর আসবাব যত
সাজানো কিচেনে কত প
শহর থেকে গ্রামের অন্ত
চলছে যে একই মন্ত্র ৷
শাড়ি ও কাঁখে কলসী নিয়ে
ঘাটে আসে না বধূ ও মেয়ে ৷
ছোট্টো ছোট্টো ছেলে মেয়ে
খেলে না আর মাঠে গিয়ে ৷
পাড়ার ছেলে পুকুর পারে
পাবজীও ফ্রীফায়ারের ঘোরে ৷
🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷


© সেক আসাদ আহমেদ
  সম্পাদক, উপকণ্ঠ
গাংপুরা, পূর্ব মেদিনীপুর






No comments:

Post a Comment