Wednesday, May 27, 2020

উপকণ্ঠ ঈদ সংখ্যা দ্বিতীয় পর্ব-2020



উপকণ্ঠ ঈদ সংখ্যা দ্বিতীয় পর্ব প্রকাশিত হল                                   2020
🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙

নতুন প্রতিভার সন্ধানে-
                          উপকণ্ঠ
...একটি সম্পূর্ণ গ্রামীণ সাহিত্য পত্রিকা।

            ঈদ সংখ্যা, মে-2020
প্রকাশ কাল:- 25 মে 2020, সোমবার
সভাপতি:- অরুণ কুমার ঘড়াই
সহঃ সভাপতি:- সেক আব্দুল মজিদ

সম্পাদক ও প্রকাশক:- সেক আসাদ আহমেদ
যুগ্ম সহঃ সম্পাদক:- ইমরান খাঁন 
                                শেখ মণিরুল ইসলাম
আমাদের ফেসবুক আইডি:- Upokontha Sahitya Patrika 
যোগাযোগ:- 9593043577, 81228 17680, 96097 57911

প্রচ্ছদ শিল্পী:-  অভিজিৎ গিরি

Upokontha Sahitya Patrika
Eid Edition, Web Megazine
25 May-2020, Eid-ul-fittar
Published by Sk Asad Ahamed

🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙

                         সূচি পত্র
অনুগল্প:-
১) ডাস্টার- গৌরব রায় চৌধুরী
২) পরম্পরা- কাশীনাথ সাহা
৩) একমেবাদ্বিতীয়ম - প্রনব রুদ্র

গল্প:-
১) সাধ- অগ্নিমিত্র ( ডঃ সায়ন ভট্টাচার্য
২) ক্ষুধার্ত শিশু - আব্দুল রাহাজ
৩) চণ্ডালিকা - কবিরুল

কবিতা:-
১) হাতটা বাড়াও- রাজর্ষি আদিত্য
২) নদীকান্না- তীর্থঙ্কর সুমিত
৩) বিবেক খোঁজে আশ্রয়- বটু কৃষ্ণ হালদার
৪)দুঃখের দিনলিপি-  মিঠুন রায়
৫) মানুষ- প্রদীপকুমার পাল
৬) একটা অভিজ্ঞতা- শুভঙ্কর দাস
৭) কাল বসন্ত হোক - দেবনাথ সাঁতরা
৮)  রবি কিরন - সৌভিক রাজ
৯) মা তুমি  - শুভময় মিশ্রি
১০) ভিজে যায় স্মৃতির উঠোন অনিল দাঁ
১১) শুধু প্রেম- কুশল মৈত্র
১২) ভাবতে ভাল লাগে - শংকর ব্রহ্ম
১৩) মাটি- পলাশ পাল
১৪) উদভ্রান্ত স্বপ্ন - শংকর হালদার
১৫) নীরবতার চাদরে মোড়া - তাপস বর্মন
১৬) ক্ষত -  শ্রীজা দত্ত
১৭) আম্ফান ঝড় - মিরাজুল সেখ
১৮) যোগসূত্র- সোহিনী মুখার্জী
১৯) ভাতে মরার ভয়- সমিত বিশ্বাস
২০) মেয়ের বিয়ে- মণিকাঞ্চন সিংহ
২১) আমাদের কথা- সুমন্ত মাজি
২২) বাঁচার তরে - আসমত আলী
২৩) বাস্তবতা- তপন বেরা
২৪) কফিন থেকে তোমাকে- শঙ্কর ভট্টাচার্য
২৫) পরিযায়ী- চিরঞ্জিত বেরা
২৬) বেমানান- দেবাশীষ সাহা
২৭) মহামারীর দাপটে- অর্পিতা ঘোষ
২৮) ফেরার গান- রাজীব কুমার নন্দী

গুচ্ছ কবিতা:-
            দিব্যেন্দু চ্যাটার্জী


🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙

বিভাগ -অণুগল্প-১

ডাস্টার
✍✍✍ গৌরব রায় চৌধুরী 

শান্তনু রাস্তা দিয়ে রোজকার মতই আনমনা হয়ে হেঁটে যাচ্ছিল।
দিঠি ওর আগে আগে হাঁটছিল।
দিঠির আর কোন কথা নেই শান্তনুর সাথে।
শান্তনু ভাবছে দিঠি কখন পিছন ফিরে তাকাবে?
দিঠি আজ একটা নীল রংয়ের সালোয়ার পড়ে এসেছে। ওকে দেখাচ্ছে একটা স্বচ্ছ নদীর মত স্নিগ্ধ।শান্তনু দিঠির পিছন পিছন হাঁটতে হাঁটতেই দেখে দিঠি আজ চুলে একটা নতুন ক্লিপ পড়ে এসেছে।ক্লিপটা ওরই কিনে দেওয়া।লাল রংয়ের দাঁত বসানো ক্লিপ দিঠির কোঁকড়ানো চুলগুলো কী অপূর্ব যত্নে আঁকড়ে রেখেছে।

হাঁটতে হাঁটতে ওরা রেলষ্টেশনে এসে পড়ল।দিঠি এখনও শান্তনুর আগে হাঁটছে।
শান্তনু পকেট থেকে রুমাল বার করে মুখের ঘাম মুছল।ওর হাতে লেগে থাকা কালি রুমালের একটা ফর্সা অংশকেও আর আস্ত রাখেনি।

শান্তনু জানে দিঠি রিটার্ন টিকিট কেটে এসেছে।ওকে আজ ফিরতেই হবে।শান্তনুর ইচ্ছে করছে ওকে বলে,দিঠি তুমি আজ যেও না।আমার সঙ্গে থাকো।

শান্তনু জানে দিঠিকে এইকথাটা বলা সম্ভব নয়।সম্ভব না হওয়ার অনেক কারণ আছে।তার কোনোটা নিয়েই মাথা ঘামাতে চায় না শান্তনু।এইসব কথাটা ভাবলেই মাথাটা এলোমেলো হয়ে যায় ওর।রাগ হয়।খুব রাগ হয়।নিজের উপর,নিজের অর্থনৈতিক অবস্থার উপর,এই গোটা পৃথিবীটার উপর রাগ হয় শান্তনুর।মাঝেমধ্যে ওর ইচ্ছে হয় এই রেলের লাইনে চলন্ত একটা ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিতে। দেবার আগে দিঠিকে একবার ডাকতে হবে। দিঠি ওকে দেখে চমকে যাবে।ভয় পাবে। হয়তো কেঁদেও উঠবে।হাত ধরে শান্তনুকে টেনে আনার চেষ্টা করবে। কিন্তু শান্তনু যাবে না।ও দিঠির দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বলবে, 'চললাম দিঠি।ভাল থেকো।আর তোমায় জ্বালাব না।তোমার পিছনে ঘুরঘুর করব না। তোমাকে কোনো মিথ্যে আশা দেব না।তোমায় আমি মুক্তি দিলাম।'

কিন্তু এসব কিছুই বাস্তবে হবে না।শান্তনু সেটা ভাল করে জানে।আর জানে বলেই খারাপ লাগাটা বেশি বেশি করে অনুভব করে শান্তনু।

একসময় দিঠির ট্রেনের এনাউন্সমেন্ট হয়।এবার দিঠির বাড়ি ফেরার পালা।শান্তনু ভয়ে ভয়েই এগিয়ে যায় ওর দিকে।
দিঠিও প্রায় একই সময়ে পিছনে ফেরে।শান্তনুকে দেখে ও। শান্তনুও দেখে দিঠিকে।দুজনে দুজনের দিকে চেয়ে থাকে।নিষ্পলক।

দূর থেকে দেখা যাচ্ছে সর্পিল গতিতে কানফাটানো ডাক ছাড়তে ছাড়তে ট্রেন ঢুকছে ষ্টেশনে।প্ল্যাটফর্ম জুড়ে হুড়োহুড়ি।এই ট্রেনটা মিস করলে আর আধাঘন্টায় কোনো ট্রেন পাওয়া যাবে না এই লাইনের।

দিঠি কাঁধের ব্যাগটা শক্ত করে ধরল।শান্তনু এগিয়ে এল ওর দিকে।দিঠির কপালে একটা চুমু খেতে ইচ্ছে করল শান্তনুর।কিন্তু উপায় নেই এই লোকভর্তি ষ্টেশনে তা সম্ভব নয়।লোকজন বড় ভয় পায় শান্তনু।

দিঠি মনে হয় ওর চোখের ভাবটা বুঝতে পারল।ও নিজে থেকেই হাত ধরল শান্তনুর।তারপর ফিসফিসিয়ে বলল, 'আগামী সপ্তাহে দেখা হবে।কাকবাবুর মলমগুলো আনিয়ে রেখো।অপারেশনের জায়গাটা অনেকটা শুকিয়ে এসেছে।' এটুকু বলে দিঠি থামল।

'আর?' দিঠির মুখ থেকে আরো কিছু কথা শুনতে চাইছিল শান্তনু।

দিঠি ওর দিকে তাকিয়ে ম্লান হেসে বলল, ' নিজের শরীরের যত্ন নিও।পরের সপ্তাহে এলে একটা হরলিক্স নিয়ে আসব।'

ট্রেন এসে দাঁড়িয়েছে ষ্টেশনে।দিঠির এখানে থাকার মেয়াদ আর ত্রিশ সেকেন্ড।

দিঠির কী আর কিছু বলার নেই? এটুকুই বলার ছিল শুধু? কান্না পেল শান্তনুর।

'এলাম' দিঠি চলে যাচ্ছে ট্রেনের ভিড়ে ঠাসা মহিলা কামরার দিকে।শান্তনু ভিড় ষ্টেশনে একদম একলা হয়ে দাঁড়িয়ে দেখতে লাগল একজন ড্রেসিং নার্স আর কারখানার শ্রমিকের প্রেম কিভাবে আস্তে আস্তে মুছে যাচ্ছে পৃথিবীর বুক থেকে।
💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫

বিভাগ:- অনুগল্প-২
পরম্পরা 
✍✍✍ কাশীনাথ সাহা 

দিব্যেন্দু ওর বাবাকে আজ বৃদ্ধাশ্রমে রেখে এলো। এই ছিমছাম ফ্ল্যাটে ক্রমশ বেমানান হয়ে পড়ছিল বাবা। তাছাড়া স্ত্রী তনু-র সাথেও আর বনিবনা হচ্ছিল না। প্রায় খিটিরমিটির। অবশ্য বেশির ভাগটাই একপেশে। তবু্ও .. । এখন শান্তি! বাড়ি ফিরতেই ছেলে ঋজু জিজ্ঞেস করলো, বাবা দাদুভাই কোথায়? দিব্যেন্দু প্রাথমিক অস্বস্তি কাটিয়ে বললো, তোমার দাদুভাইয়ের বয়স হয়েছিল তো তাই তাঁকে একটা সুন্দর জায়গায় রেখে এলাম। খুব ভালো জায়গা। সেখানে উনি ভালো থাকবেন।

দীর্ঘ পঁচিশ বছর পর ঋজু তাঁর বাবা দিব্যেন্দুকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসবার পরে সেই একই গল্প শোনাচ্ছিল তার চার বছরের ছেলেকে।
💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫
অণুগল্প-৩
একমেবাদ্বিতীয়ম
        ✍✍✍  প্রনব রুদ্র

        তলপেটে ব্যথায় ঘুম ভাঙল। ঘড়িতে রাত ২টো৪০। যাবো কিনা ভাবছি। এসময় হঠাৎ শব্দ। টয়লেটে জল পড়ছে, সাথে খসখস কাশিও। বিছানায় পাশ ফিরলাম। অগত্যা, একটু চেপেই রাখি! দরজার খচরমচর  শব্দে  বুঝলাম। হলো!

             কিন্তু কথাটা ভাবতেই, দৌড়ে ঘরের ছিটকিনিটা লাগালাম! বিছানায় বসতে মাথা ভোভো, গলাটা শুকিয়ে কাঠ! তলপেটে চাপ নিয়েও জল খেলাম - গোটা বাড়িতে আমি একা! টয়লেটে কে? দরজায় বাইরে যেন পায়চারীর আওয়াজ!  দশ মিনিট গেল। নাহ্ আর তো পারা যায় না, পেটে চাপ বাড়ছে! সাহস করে এগোলাম।
ছিটকিনিতে হাত  রাখতেই শরীর ভারী; গা ছমছম্  শুরু। এতোরাতে ওটা কি ভ...?   দেখবো? নাহ্! দেএএখি; যা থাক্ কপালে। পা ঠকাঠক। প্যান্টালুন যাবে বুঝি ভিজে! গেলো! একাআআ  আআআমি! ঝমঝম রাতে চিনচিন করছে মাথা! তবুও ডাইনিংয়ে এলাম...

কিন্তু এ কী! ছূঁচো ক্যারিব্যাগে আটকে, মুক্তির জন্য ছটফট করছে বলে খসখস্ খচরমচর শব্দ! এগিয়ে দেখি  বাথরুমের ছিটকিনি খোলা, কলটা ঠিকমতো আটকানো হয়নি। মহৎকর্মটি আমারই। আগেরবার আটকাইনি।

               ভূতে ভীতু নই মোটেও। খুব সাহসী। আমায় নিয়ে নো হাসাহাসি ।

🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙

গল্প অন্যান্য বিষয়ক
সাধ
 ✍✍✍ অগ্নিমিত্র ( ডঃ সায়ন ভট্টাচার্য)

 অমৃতার অনেক রকম সাধ । আর সবই একটু বেশি মাত্রার ।
 ছোটবেলা থেকেই ও কিছু আলাদা করতে চাইতো । গরীব ঘরের মেয়ে, বাবা- মা ওকে যে স্কুলে ভর্তি করতে পেরেছিল এই অনেক ।
 তারপর ক্লাস নাইনে পড়া অবস্থায় আর পড়াতে পারলো না বাবা । জোর করে বিয়ে দিয়ে দিল অমৃতার ।
 ..স্বামী মাতাল, মারধরও করে  । প্রথমে তাকে একটু ভালোবাসার চেষ্টা করলেও পরে অমৃতার বিতৃষ্ণা এসে যায় । দু বছর যেতে না যেতেই সে বাপের বাড়ি ফিরে আসে । ..পাড়ার এক উকিল দিদির চেষ্টায় ডিভোর্সও হয়ে যায় ওর।
  এখন অমৃতা অ্যাপ ক্যাব চালায় । মাসে দশ হাজার টাকার মতো রোজগার ..; বাবা- মার গোমড়া মুখে হাসি ফোটাতে পারছে একটু একটু করে । এবার চাইছে করেসপন্ডেন্সে মাধ্যমিক পরীক্ষাটা দিয়ে দিতে ।..
 ইদানিং অমৃতা একটু মুশকিলে পড়েছে । মিষ্টি যন্ত্রণায় ভুগছে সে ।
  এক নতুন যাত্রীকে ওঠালেই অমৃতার বুক কেমন ধড়ফড় করে ওঠে। তবে ভয়ে নয়।
 লোকটা একটু উদাসীন ধরনের । অন্য পুরুষ যাত্রীরা তাকে জরিপ করে, শরীরের আনাচে কানাচে চোখ বোলায় ; চাইলে ভাড়া দেবার সময় একটু ছুঁয়ে দেয় ।
  এ কিন্তু তেমন সময় । কেমন সুন্দর, ভদ্র টাইপের ।..
 অমৃতা নিজের মনকে শান্ত করতে চেষ্টা করে, কিন্তু পারে না । এ তার কী যে হলো !
 ভাবে , এ যে হবার নয় । সে তো বিবাহবিচ্ছিন্না এক গরীব অর্ধশিক্ষিত  মেয়ে, আর ও ...!
 সেদিন ঐ লোকটাকেই অফিসে নামাতে গিয়ে এক কান্ড । গিয়ারে না কিসে লেগে অমৃতার হাতটাই ছড়ে গেল। রক্তও পড়ছিল ।
 লোকটা তাই দেখে তো হাত ধরে অমৃতাকে তার অফিসে নিয়ে গেল । তুলো দিয়ে রক্ত মুছিয়ে ব্যান্ডেজ বেঁধে দিল । বলল-
 ' আজ আর বেশি চালাবেন না । বিশ্রাম নিন ।'
 এই নিয়ে সাত বার লোকটির ট্রিপ হলো, অমৃতা ভাবে । সপ্তম বারেই ..... .।
  লোকটার অফিস খুব সুন্দর , ছিমছাম । আর অমৃতা এও দেখেছে , ওখানে একটা মেয়ে লোকটার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল । পছন্দ করে বোধহয় ।
 তা করতেই পারে । দিব্যেন্দু তো দেখতে খারাপ নয় ।..
 কেন, কেন অমৃতা নামটা ভুলতে পারছে না ?!
ওকে এড়িয়ে চলতে হবে, ভেবে অমৃতা দু বার ওর ট্রিপ খারিজ করলো।
 তার পর কাল বাড়ি ফিরতে গিয়ে দেখে, দিব্যেন্দু দাঁড়িয়ে আছে রাস্তায় ।
 তার রাস্তা আটকে দিব্যেন্দু বলে -' এতদিন কোথায় ছিলেন ?'
 ' না মানে...'
 ' হাত ভালো আছে?'
 ' হ্যাঁ ..'
 ' আপনি না আসাতে আমার কত অসুবিধা হচ্ছে! '
 ' মানে...কেন ,? আরো তো ড্রাইভার আছে..'
 ' আরো আছে ঠিকই , তবে আপনাকে ছাড়া ...'
 ' না না স্যর, ব্যাপারটা বোধহয় ঠিক নয় ।..আমি ..'
 ' জানি। '
 অবাক হয়ে বলে অমৃতা-' কী জানেন?'
 ' সব জানি । আমার কোন আপত্তি নেই । ..আপনি ভাবলেন না, বারবার আপনার ট্রিপই কেন নিই? বাকিদেরটা ক্যানসেল করি ...।'
 ' মানে ..?!'
 ' আমার সারা জীবনের ড্রাইভার হবেন ? আমাকে রাস্তা দেখাবেন .. ?!'
 এর পর কী যে হলো !
 অমৃতা ভাবে, সবই ওপরে লেখা!
 দুজনে এখন সুখেই আছে, বললে কেমন শোনায়, না ?
 আসলে দুজনে এখন সুখেদুখে মিলে ভালোই আছে ।।


🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙

ছোট গল্প
ক্ষুধার্ত শিশু  
✍✍✍ আব্দুল রাহাজ

একবার চৈত্রমাসের পড়ন্ত বিকেলে মুখার্জি বাবুর আম বাগানে খেলতে বেরিয়েছিল ভুবন চারিদিকে খাঁ খাঁ রৌদ্র চারিদিক থেকে দখিনি হাওয়া বয়ছিল খুব ভালোই লাগছিল। ভুবন ও তার পাঁচ জন বন্ধু বাড়ি থেকে পালিয়ে সোজা ছুট দিয়ে মুখার্জীবাবুর আম বাগানে। খেলা হবে ক্রিকেট টোটোন বাড়ি থেকে ব্যাট বল এনেছে হাউস সেল এনেছে উইকেট। যথারীতি খেলা শুরু হলো খেলার মাঝামাঝি সময়ে সৈকত একটা লম্বা ছয় মারলো গিয়ে পড়ল পাট বাগানের ওই পাশে ভুবন সাহস করে গেলো। তারপর দেখল একটা ছেলে আগে কখনো আমি দেখিনি এই প্রথম দেখছি তারপর সৈকত হাঁক দিয়ে বলল ভুবন পেয়েছিস বল ভুবন জোরে চিৎকারে বলল হ্যাঁ পেয়েছি তাহলে চলে আয় এদিকে দেরি হয়ে যাচ্ছে আর একটু পরেই সন্ধ্যা নামবে বাড়ি যেতে হবে। ভুবন সেই ছেলেটিকে দেখে মনে হল খুব অসহায় মনের মধ্যে কেমন যেন মায়া লাগলো ভুবন বাড়ি থেকে পাঁচ টাকা নিয়ে গিয়েছিল খেলা শেষে খাবার খেতে খেতে বাড়ি আসবে বলে তা কিছু না ভেবে তাকে পাঁচ টাকা দিয়ে দিল তারপর ভুবনটা কি বলল চললাম তখন যেন তার মুখে হাসি ফুটে উঠলো। এক ছুট দিয়ে খেলায় যোগ দিলাম ভুবনের বন্ধুরা জিজ্ঞাসা করল ভুবন এত দেরি হল আহা বলিস না বল একটু দূরে জলে পড়েছিল আমি আর কিছু বললাম না ওদের সঙ্গে। খেলার শেষে বাড়ি ফেরার সময় শুধু মনটা সেই দিকেই যাচ্ছিল সৈকত টোটন বলল ভুবন তোর মন খারাপ কেন রে ভুবন বলল কই না তো তারপর হৈ হৈ করতে করতে আমরা বাড়ির দিকে রওনা দিলাম টোটন বলে উঠল কাল কিন্তু রবিবার তোরা সবাই সকাল দশটার দিকে মাঠে আছিস কাল সারাদিন ভালো খেলা হবে এদিকে পশ্চিম আকাশে সূর্য দিগন্ত রেখায় নিস্তেজ হয়ে আছে কখন যে ডুবে যাবে তারপর বাবার ডাকলোপড়লো ভুবন ভুবন ভুবন বলল যাচ্ছি যাচ্ছি। তারপর সন্ধ্যাবেলা পড়তে পড়তে সেই ছেলেটির কথা মনে পড়ল বারে বারে আমার মনটা বড়ই বারে বারে কেঁদে উঠলো। রাতে খাবার সময় খেতে খেতে বাবার সঙ্গে বললাম বাবা আমি না বাবা মুখার্জীবাবুর বাগানে খেলতে গিয়ে আমাদের পাট ক্ষেতের ওপারে একটা অসহায় ছেলে পড়ে আছে বাবা মা চাপা গলায় বলে উঠলো তাই নাকি আমি আবার তার হাতে পাঁচ টাকা দিয়ে এলাম জানে কে সে কেমন আছে এখন ভুবনের বাবা মা বলল তাহলে তুই ওকে নিয়ে এলি না কেন আমার পাগল ছেলে। ভুবনের নের বাবা মা ছিল খুবই ভালো মানুষ। ভুবনের বাবা পেশায় চাষী সরল মন মাঝারি লম্বা গায়ের রং কালো মুখে খোঁচা খোঁচা দাড়ি একটু ছিপছিপে আর ভালো বাঁশি বাজাতে পারে। এর পরের দিন রবিবার ভুবন রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে সে ভেবেছিল সে কাল সারাদিন কি করবে এরপর ঘুমোতে চলে গেল বিছানায় শুয়ে শুয়ে ভুবন ভাবতে লাগলো আহারে ছেলে ছেলেটাকে শিয়াল ধরে নিয়ে যাবে না তো ভুবন একটু ভয় ভয় পেল এসব কথা ভাবতে ভাবতে ভুবনের মে কখন ঘুমিয়ে পড়লে তা জানেনা। ভোরের বেলা পাখির কলরব শুনে ভুবন উঠে পরলো। প্রত্যেকদিন ভোরবেলা উঠে দেখে প্রকৃতির দৃশ্য তার কাছে মনে হতো প্রকৃতির এই অপরূপ মায়াময় পরিবেশ মনোরম দৃশ্য তার কাছে অবাক করতো আর চেয়ে থাকতো সেই দিকের পথে কখন যে পূর্বাকাশে সূয্যিমামা জেগে উঠে তাদের লিঙ্গ আলো যেন চারিদিকে ছড়িয়ে বৈচিত্র্য শামিল করল ভুবন বুঝতে পারল না। এদিকে ভুবনের মা ডাকল ভুবন ভুবন নে কিছু খেয়ে নে দেখি বাবা তারপর পড়তে বস। বুবুনের মা অত্যন্ত সাদাসিধে মানুষ মাঝারি লম্বা গোলগাল চেহারা একটু ফর্সা আর ভুবনের মায়ের একটা খুব ভালো শখ ছিল গ্রামের ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের গল্প শোনান ও তাদের ভালোবাসা অপরের সাহায্য করা। এরপর ভুবন মায়ের কথা মত কিছু খেয়ে ঘন্টাখানেক পড়াশোনা করে বাড়িতে নুন লঙ্কা মরিচ আর এক থালা পান্তা ভাত কে মুখার্জি বাবুর আম বাগানে খেলতে গেল তখন ভুবনের বন্ধুরা আসেনি আস্তে আস্তে ভুবন পাটের ক্ষেতের দিকে গেল দেখলো ছোট ছেলেটা ঘুমিয়ে আছে আমি পাশের ডোবা থেকে জল এনে চোখে ছিটিয়ে দিতেই তার ঘুম ভেঙে গেল। তারপর সেই অসহায় ক্ষুধার্ত ছেলেটি বলল বন্ধু তুমি আবার এসেছো ভুবন তার দিকে ফিরে থাকলো অনেকক্ষণ তারপর ভাবল এই ছেলেটি হয়তো আমার বয়সে তারপর ভুবন কে বলল আমার একটু জল এনে দেবে নিশ্চয়ই এনে দেবো পাশের খেতে রহিম আলী ধানের ক্ষেতে জল দিচ্ছিল সেখান থেকে জল এনে তাকে খাইতে দিল ছেলেটি তখন বলল আমি এবার প্রাণ ফিরে পেয়েছি তখন ভুবন বলল তোমার নাম কি সেই ছেলেটি বলল আমার নাম আসমত আলী তারপর ভুবন বলল তোমার বাড়ি কোথায় তোমার বাবা মা কোথায় এসব প্রশ্ন করতেই চোখের জল ছেড়ে দিয়ে কাঁদে আসমত আর বলে বন্ধু সে অনেক কথা আর আমি আজ এই জায়গায় এসেছি অনেক ঘটনা ‌। এদিকে ভুবনের বন্ধুরা তাকে জোর বলে ডাকতে লাগল ভুবন ভুবন আমি বললাম যাচ্ছি তোরা খেল আমি যাচ্ছি এর ফাঁকে এসেই ছেলেটি বলল ওরা কারা ভুবন বললে ওরা আমার বন্ধুরা ওই বাগানে ক্রিকেট খেলা হয় তুমি কি খেলবে তখন ছেলেটি বলল আমি ভাত খাবো আজ অনেক দিন ভাত খাইনি এই কথা শোনা মাত্রই সেই ছেলেটিকে সঙ্গে করে বাড়িতে আনার পথে বন্ধুরা জিজ্ঞেস করল কে রে ভুবন এটা বলল এক অসহায় ছেলে ক্ষুধার্ত তাই বাড়ি নিয়ে যাচ্ছি ও আজ অনেকদিন খাইনি বাড়িতে এসে ভুবন মা মা বলে চিৎকার করল। মা ডাক শুনে আসমত এর বুকটা যেন কান্নায় ভেঙে পড়ল ভুবনের মা আসতেই ছেলেটি কে দেখে খুবই মায়া-মমতা হল তখন বলল তুমি ওকে আগে খেতে দাও দেখি অনেক দিন না খেয়ে আছে তারপর তার মা পান্তা ভাত পেঁয়াজ লঙ্কা মরিচ দিয়ে খেতে দিল দেখল ছেলেটি পেটপুরে খেলো আর একটা মুখে হাসি ফুটে উঠল। তারপর ভুবনের নের বাবা এল ছেলেটিকে দেখে তারও মায়া মমতা হলো তারপর বলো তোমার নাম কি আসমত আলী তোমার বাবা মা কোথায় তোমার বাড়ি কোথায় তোমার অবস্থা এরকম কেন তখন ছেলেটি বলল সে অনেক কথা কাকু আমি তোমাদের বলবো বলবো আমার খুব ঘুম পাচ্ছে মনের ঘরে গিয়ে আসমত ঘুমিয়ে পড়ল। এদিকে ভুবনের বন্ধুরা ডাকতে এল ভুবনের বাবা বলল দাঁড়াও বাবা সৈকত ও আসছে ভুবন এসে বলল সৈকত চল খেলতে যাবি না হ্যাঁ যাবো তো চল যাই এদিকে হাঁটতে হাঁটতে সৈকত বলল গরম পড়েছে তার বাঁচা যায় না মুখার্জি বাবুর বাগানে জোর কদমে খেলা চলছে এদিকে টোটন বলল হেডস্যার আসছে খেলা বন্ধ করে স্যারের দিকে গেল ওরা স্যার আপনি আমাদের গ্রামে স্যারের মুখে লম্বা হাসি দেখে সবাই হো হো করে হেসে উঠলো বলল একটা সুখবর আছে প্রচন্ড গরমের কারণে কাল থেকে তোমাদের স্কুল একমাস ছুটি এই কথা শুনে সবাই চিৎকার করে উঠলো সৈকত মাটিতে গড়াগড়ি খেলো হেডস্যার বলল তোরা বেশ আমোদ-প্রমোদ এই বলে হেডস্যার চলে গেল। তারা মহা আনন্দে সবাই খেলতে লাগলো পাশের গ্রাম রহমতপুর থেকে আযান ভেসে আসছে তা শুনে ভুবনের বন্ধু রহমান বললো আমি চললাম কাল আবার দেখা হবে এইবার সবাই একসাথে বাড়ি ফেরার পথে চাটুজ্জে পাড়ার ওখানে একটা বড় পুকুর ছিল সবাই সেখানে জল ছিটিয়ে সাঁতার কাটে ধরাধরি খেলা করে কেউ লাভ দেয় এইভাবে মহানন্দে স্নান সেরে বাড়ি ফেরার পথে সৈকত বলল ওই ছেলেটা কে রে ভুবন আজ তোর সাথে তোর বাড়ি গিয়েছিল ওর নাম আসমত আলী খুবই অসহায় ক্ষুধার্ত টোটন বলল ওর বাবা মা কোথায় আলাপান বলল ওর বাড়ি কোথায় এসব প্রশ্ন শুনে ভগবান বলল এখন ঘুমাচ্ছে সন্ধ্যেবেলায় ঘটনা সব বলবে ও আচ্ছা শোনা যাবে আর পরিচয় হয়ে যাবে ঠিক আছে যাবো। এরপর ভুবন বাড়ি ফিরে মাকে বলল মা যেন আমাদের স্কুলে একমাস ছুটি গরমের জন্য সে তো খুব ভালো কথা। হ্যাঁ মা আর আজ সন্ধ্যায় আলাপন টোটন আর সৈকত আসবে আসমতের কথা শুনতে তা আসুক না ভালো হবে তা আসমত কোথায় ও তোর ঘরে ভিতরে গেলো আর বললো কি করছিস আসমত বলল এই তোর বই পড়ছি আমি বললাম বাহ খুব ভালো তো। আসমত চল খেয়ে নিই তারপর লম্বা ঘুম দেবো কেমন। খেতে খেতে ভুবন বলল আসমত বলবি তো সেই ঘটনা তোর আরে বাবা হ্যাঁ হ্যাঁ ঠিক সন্ধ্যা বেলায় এরপর লম্বা ঘুম দেওয়ার পর দুজনের ঘুম ভাঙলো ঠিক সাড়ে পাঁচটায় তারপর ভুবন যেন তার দিকে ফিরে দেখে তার যেন একটু চিন্তিত লাগছে কেন তখন সে বলল কই না তো এরপর সন্ধ্যার একটু আগে আলাপন টোটন সৈকত এসে হাজির ভুবন বলে ডাক দিতেই ভুবন থেকে বেরিয়ে এসে বলল তোরা এলিআয় ঘরে আয় ভুবন আসমত কে বললো এই দেখো আমার বন্ধুরা তখন তিনজনে বলে উঠলো এ তো আমাদের বয়সে সবার সাথে পরিচয় হলো এরপর ভবনের বাবা-মা সবাই একটা ঘরে এসে বসলো তারপর

আসমত তার এই অবস্থা সেই ঘটনা বলতে শুরু করল আমাদের বাড়ি ছিল উন্মতপুর গ্রামে। আমার বাবা দাদুরা খুবই প্রভাবশালী ব্যক্তি ছিলেন আমি যখন ছোট তখন আমার মায়ের মৃত্যু হয় আমি হয়ে গেলাম জনম দুঃখিনী মা হারা আমার মানুষ করলেন আমার বাবার বড় বোন। আমার বয়স যখন সাত তখন আমি গ্রামের পাঠশালায় ভর্তি হয় পড়াশোনা ভালোই চলছিল গ্রামের পাঠশালা শেষ করার পর ভর্তি হলাম রসুলপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা ভালোই চলতে থাকে। বছরের মাঝামাঝি সময়ে গ্রামে প্রচন্ড ডাকাত পড়তে থাকে এরপর একদিন রাতের বেলা আমাদের বাড়িতে ডাকাতের হানা পরল আমি তখন বাথরুমে ছিলাম বাথরুমের জানালা দিয়ে দেখি বাড়ির সবাইকে মেরে দিয়ে লুটপাট করলেন তারপর আমাকে কোন একটা ডাকাত দেখতে পেল আমি ব্যাপারটা বুঝতে পারলাম তারপর কোন কিছু না ভেবে এক ছুট দিলাম ডাকাতদল আমার পিছনে রাতের অন্ধকারে নদীতে ঝাপ দিলাম জানতাম না যে নদীতে স্রোত ছিল ভাসতে ভাসতে তোমাদের পাশের গ্রামে একটা নদী আছে টোটন বলল ফুলেশ্বরী নদী হ্যাঁ বোধ হয় আমি নাম জানিনা আমি তখন প্রায় অচেতন অবস্থায় নদীর তীরে একটা গাছে বেঁধে ছিলাম তারপর কোনরকমে পাট ক্ষেতের ধারে আশ্রয় নিয়। ক্ষুধার্তের জ্বালায় পাট গাছের পাতা চিবিয়ে খেয়েছি জানিনা আমাদের বাড়ি আছে কিনা জ্বালিয়ে দিয়েছে ওরা আমি নিঃস্ব আমি এখন ক্ষুধার্ত শিশুর কাঙ্গাল বাবা মা হারা সন্তান এরপর আজমতের চোখে পানি ছেড়ে দিয়ে কাঁদে ভুবন তাকে শান্ত করার চেষ্টা করে প্রায় সকলের চোখে জল এসে গিয়েছিলো তারা এই ঘটনা শুনে। তারপর আজমতকে সবাই জড়িয়ে ধরে বলল আজ থেকে তুমি আমাদের সঙ্গে থাকবে আচ্ছা তাই হবে। এদিকে গল্প বলতে বলতে রাত নটা
 বেজে গেল এদিকে টোটন সৈকত আলাপনের বাবা হাঁক দিলেন সবাই ভুবনকে আসি বলে এক ছুট দিলেন বন্ধুরা সবাই যে যার বাড়ি চলে গেল তাদেরকে আজমতের আগের কথা মনে পরল দেখে খুব হাসি পেল। এরপর রাতে খাওয়া দাওয়ার পর ভুবন আসমত ঘুমাতে চলে গেল। এরপর ঘুমোনোর আগে আসমত এর বাবা ও মায়ের কথা ও বাড়ির কথা খুবই মনে পড়ছিল এরপর আসমত সেই কথা মনে করতে করতে ঘুমিয়ে পড়ে। ঘুমের মধ্যে কখন যে চিরঘুমের দেশে পাড়ি দিলেও তা ভবন জানতো না এরপর সকালবেলা ভুবনের একটু সন্দেহ হল আসমতের উঠতে দেরি হলে বলে ভুবন বারবার ডাকতে শুরু করে কিন্তু আসমত উঠলো না। এরপর সেই সময় ভুবন নিজের বাবা মাকে এক ছুট দিয়ে মাঠ থেকে ডেকে আনলেন তারপর তার বাবা-মা বুঝতে পারে আর বেঁচে নেই আসমত চলে গেলেন পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে গেছে বহু দূরে। আসমত এর বাবা মা হারা কষ্ট ক্ষুধার জ্বালায় কাতর অবস্থা ছেলেটি শোকস্তব্ধ এবং মনের কষ্ট যন্ত্রণাকে চেপে রেখে ডাকাতের ভয়ে নদীর স্রোতে ভেসে ভেসে ত্রিদেব এতে কোনো রকমের পাট ক্ষেতের ধারে আশ্রয় নেওয়া তারপর ভুবনের মত সহৃদয় সমবয়সী কে পেয়ে কিছুটা ক্ষুধার জ্বালা মিটলেও কোথাও কষ্টকে বেদনাকে অসহায় তাকে নাড়া দিতেই বারে বারে জ্ঞানশূন্য হওয়া কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে আর সহ্য করতে হলো না চলে গেল এই মানব সভ্যতার পরের জগতে যেখানে তার বাবা-মা আছে শান্তির জায়গা জায়গাতে। "তীরে এসে বাধিলাম মোর ঘরে সেটাও হলো না যে সহে চলে গেলাম চিরঘুমের দেশে"
💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫


 গল্প:- চণ্ডালিকা 
    ✍✍✍কবিরুল

                " সংকোচের বিহ্বলতা .....
                  ....... ........ ..... ম্রিয়মাণ
                   মূক্ত করো ভয়
                   আপনা মাঝে শক্তি ধর
                  নিজেরে করো জয়......."
             " সকাল থেকেই গান ধরেছিস। আর কতক্ষণ হারমোনিয়াম নিয়ে বসে থাকবি। এবার একটু মুখে কিছু দিয়ে নে। " রান্না ঘর থেকে চৌধুরী বাড়ির বড় বৌ কথা গুলো বলল মণিকাকে।
              " মা আর একটু রেওয়াজ করেনি। আর কদিন পরেই তো রবি ঠাকুরের জন্মদিন। অনুষ্ঠানের দুদিন আগে থেকে তেমন কোন সময় পাওয়া যাবে না। তাই এখন যতটুকু সময় পাওয়া যায় কাজ তুলে রাখছি ।"
       " বেশ মা , তুই যা ভাল বুঝিস কর। তবে এই একটা বছর সাবধানে থাকতে হবে কিন্তু। দেখতেই তো পারছ চারিদিকে কেমন অতিমারি রাজত্ব করছে। আমার তো শুনে গা হাত পা ভয়ে কাঁপছে। তোর স্বামীটাকে ভগবান অকালে....... " কথা শেষ না করেই শাড়ির খুঁট দিয়ে চৌধুরী গিন্নী চোখের জলটা মুছল।
" মা , আবার তুমি শুরু করলে। এখন আমাদের সকলকে মন চাঙ্গা করে এগোতে হবে। সামনে আরো লড়াই বাকি আছে। আমি জানি আমার স্বামী আর কোনদিন ফিরবে না। তবু আমার মতন সকলের যাতে এই বৈধব্য দশা না হয় , কেউ যাতে বেঘোরে প্রাণে মারা না যায় , সবাই যাতে সুস্থ থাকে , স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারে তার জন্যে আমাদের সকলকে করণীয় যা যা বিধি তা পালন করতে হবে। দেখছ না খবরে , সংবাদ পত্রে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার কথা বলছে। আমরা যত সোস্যাল ডিসপ্যান্স মেনে চলব ততই আমাদের মঙ্গল। এই জন্যেই তো আমাদের এবারের রবীন্দ্র জয়ন্তীর থিম " মুক্ত কর ভয় "। যার মাধ্যমে রবি ঠাকুরের কথায় , কবিতায় , গানে সকলকে সামাজিক বিধি , সামাজিক ব্যবধান মেনে চলার কথা আমরা বলব। আমাদের স্লোগান - " মানতে হবে সামাজিক ব্যবধান , / এটাই এখন সরকারের বিধান । " মণিকা বড় গিন্নীকে বেশ ভাল করে পুরো ব্যাপারটা বুঝিয়ে ছাড়ল।
       পঁচিশে বৈশাখ যত কাছে আসছে , মণিকার গলার সুর তত চড়ছে। ওকে সেনাপতির মতন সব কিছু পর্যবেক্ষণ , তদারকি করতে হচ্ছে। ওর পাশে সবাই এগিয়ে এসেছে। খালপাড়ের কাছে একটা নিষিদ্ধ পল্লী আছে। সেখানকার দেহ পসারিণীরাও মণিকার কাজে এগিয়ে এসে যথেচ্ছভাবে পরিষেবা দিচ্ছে। ওদের নিয়ে মণিকা একটা নৃত্যনাট্য করতে চাই। যার নাম " চণ্ডালিকা "।
         হুগলীর পাণ্ডুয়ার মেয়ে মণিকা মালদার সামসির ছেলে আসাদকে ভালবেসে বিয়ে করেছিল। আসাদ ভিন্ন সম্প্রদায় বলে দুই পরিবারের তরফ থেকে অনেক বাধা আসে। তবু ওদের ভালবাসাতে ফাটল ধরেনি। ওদের দুজনের বিয়ে হয়েছিল। তবে মণিকাকে বিয়ে করার জন্যে আসাদকে গ্রাম ছাড়তে হয়। নিজের জেলা ছাড়তে হয়।
        বিয়ের তিনমাস পরেই আসাদ চলে যায় দিল্লীত। ওখানে প্লাম্বিংয়ের কাজ করছিল। লক ডাউন জারি হতেই ওর মতন অনেকের কাজ চলে যায়। তারপর বাড়ি ফেরার জন্যে দিল্লীর কৈলাশনগরের কাছে বাস স্ট্যাণ্ডে দুদিন বাসের জন্যে অপেক্ষা করে। সেখান সামাজিক ব্যবধান মানা হয়নি। তাই ওর শরীরে কোন ভাবে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটে। কদিন আইসোলেশনে থাকার পর ও শরীরের অবনতি হতে শুরু করে। ও মারা যায়।
         আসাদ মারা গেলেও মণিকা একদম ভেঙ্গে পড়েনি। কদিন একটু যদিও মন মরা ছিল। পরে গা ঝাড়া দিয়ে ওঠে। নিজেই নিজের হিমগ্লোবিনকে চাঙ্গা রাখে।
        মণিকা বুঝতে পেরেছে এ লড়াই জেতার একমাত্র অস্ত্র সচেতনতা। আর তা সামাজিক ব্যবধান বিধি মানার ফলেই সম্ভব হবে।
        আসাদ তখন ব্যাণ্ডেলে একটা ফ্ল্যাট বিল্ডিংয়ে কাজ করত। মণিকা তখন একটা কোম্পানীর সেলসগার্ল। বাড়ি বাড়ি জ্যাম , জেলি , আচার এইসব বিক্রি করত।
       সেদিনটাও ছিল কোন এক পঁচিশে বৈশাখ। আসাদ যে ফ্ল্যাট বিল্ডিংয়ে কাজ করত তার পাশের বিল্ডিংয়ে " কবি প্রণাম " এর আয়োজন করা হয়। সেখানে সবাইকে অবাক করে দিয়ে আসাদ একটা রবি ঠাকুরের সুন্দর কবিতা আবৃত্তি করে। মণিকা তখন ঐ বিল্ডিংয়ে জ্যাম , জেলি বিক্রি করতে এসেছিল।
       আসাদের " ভারত তীর্থ " কবিতাটি মণিকা মন দিয়ে শোনে। কবিতাটি শুনে মণিকার বেশ ভাল লাগে। মণিকা নিজেও একটা সময় ভাল আবৃত্তি করত। তাই আবৃত্তিকারের সাথে দেখা করার ইচ্ছে প্রকাশ করে।
" আপনি তো বেশ ভাল আবৃত্তি করেন ? " দেখা হতেই মণিকা আসাদকে প্রশ্ন করে।
" না মানে , এই একটু চেষ্টা করি। " এই রকম এক অচেনা পরিবেশে এক সূন্দরী মহিলার কাছ থেকে এই রকম প্রশংসা বাক্য শুনে আসাদ খুশীতে গদ গদ হয়ে যায়। ওর চোখের কোণ চিক চিক করে ওঠে।
   " চেষ্টা করি মানে ? আপনার কবিতা পাঠের ধরণ দেখে মনে হল আপনি রীতিমত তালিম নিয়েছেন কোথাও। "
     আসাদ এবার পড়ল ফ্যাসাদে। চায়ে চুমুক দিয়ে বলল , আমি একটা বিল্ডংয়ে কাজের সূত্রে মগরার একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতাম। সেই বাড়ির একটি ছেলে রোজ আবৃত্তি করত। ওর কাছেই হাতে খড়ি। ওই বাড়িতে বসে অনেক কবিতাও লিখেছি। "
      " আপনি কবিতাও লেখেন ? আপনার মশাই অনেক ট্যালেন্ট আছে। আমাদের সামনেই নজরুল জয়ন্তীতে একটা অনুষ্ঠান আছে। সেই অনুষ্ঠানে আপনাকে কবিতা আবৃত্তি করতে হবে। আর নিজের লেখা কবিতা পাঠ করতে হবে। " কথা গুলো বলেই মণিকা আসাদের জ্বলন্ত চোখ দুটোর দিকে তাকিয়ে থাকে।
     সেই শুরূ। তারপর নিজেই আসাদের ঐ দু'চোখে ভালবাসা খুঁজে পায়।
       আসাদ মণিকার কথা রেখেছিল। নজরুলের জন্মদিনে আসাদ কবিতা আবৃত্তি , নিজের কবিতা পাঠ করে শুনিয়ে ছিল।
        আসাদ মারা গেলে মণিকা চৌধুরীবাড়িতে থাকতে শুরূ করে। বড় গিন্নীই ওর থাকার সব ব্যবস্থা করে দেয়। এই বাড়িতে ও থাকা খাওয়ার কাজ করে। এখানে ও নিজের রোজগারের টাকাতে পথের কূকুর , ভবঘুরে ভিক্ষিরিদেরকে রোজ সেবা দেয়। আজ রবিবার আজকে স্পেশাল মেনু।
        দুপুরের পরেই মণিকা সব কাজ শেষ করে একটু ফ্রী হল।
         প্রতিদিন দুপুরবেলাতে মণিকা আসাদের কবিতার ডায়েরীটা নিয়ে বসে। ওখান থেকে দু চারটে কবিতা নিজের মত করে পাঠ করে। নিজেও দু চার লাইন লেখার চেষ্টা করে। এই দুপুর বেলাতে মণিকা একটা ফ্রেশ অক্সিজেন পায়। ও মাঝে মাঝে ঘর বন্ধ করে আপন মনে আসাদের সাথে গল্প করে। ওকে গান শোনায়। আজ ও যেমন শোনাল।
 একটু পরেই চৌধুরী বাড়িতে খাল পাড়ের মেয়েরাও চলে এসেছে। আজ এখানে আর এক প্রস্থ " চণ্ডালিকা " এর মহড়া হবে। সবাই তৈরী। মুখে মাস্ক পড়ে দূরত্ব বিধি মেনে দু চারজন বৌ পজিশন নিয়েছে। মোবাইলে ভেসে আসছে " চণ্ডালিকার সংলাপ।
          " ....... .......

             ........ ...... ছুঁয়ো না ছুঁয়ো না ছুঁয়ো না
          ও যে চণ্ডালিক
               ........ ......... "
                ভিক্ষুকবেশী মণিকা নৃত্যের তালে তালে সকলকে সচেতনার বার্তা দিচ্ছে। ওর চোখ টস টস করছে।
   " ...... ....... জল দাও
              মোরে জল ........ "
         রান্নাঘর থেকে চৌধুরী বাড়ির বড় গিন্নী গান আর নাচের তালে তালে হাতা খুন্তী নাড়ছেন।
          আসাদ সব কিছুই উপর থেকে দেখল আর প্রাণভরে আশীর্বাদ করল।
   চৌধুরী বাড়িতে আগাম পঁচিশে বৈশাখের সুর ভেসে আসল।

🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙

অন্যান্য কবিতা:-


হাতটা বাড়াও

 ✍✍✍ রাজর্ষি আদিত্য

বিষন্নতার বদ্ধ জালে রুদ্ধ মম দেশ;
পূণ্যভূমি'র পূণ্যপ্রান্তে শ্রমিকরা অবশেষ।
শতধা ছিন্ন মাতৃক্রোড়ে আজও ছায়া ছবি আঁকি;
মোদের সমীপে এসেছে অসুখ মুক্ত করতে আঁখি।
শত লাঞ্ছনা পৃথিবী ভূমি রে, করেছি মোরা দূষণ;
তাইতো বিধির বিধান রূপে এসেছে মলিন পাষাণ।
পারো তোমরাই রক্ষা করিতে নিজেদের প্রাণ পাখি;
যদি তাই চাও হাতটা বাড়াও আপন সামর্থ্য রাখি।   
💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫

   নদীকান্না
✍✍✍ তীর্থঙ্কর সুমিত



একদিন চলে যায় আরো একদিন আসে
দুপুরের নদীগুলো স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে
বটগাছ,ঘর বাড়ি নিশ্চুপ
কত কথা পাখিদের
গাছ,নদী,বাড়ি
আশ্চর্য আমরা কেউ বুঝিনা
দুপুরের রোদ যে সরু পথটায় পরে
ওই পথ ধরে আমি এগিয়ে আসি
যে বটের ঝুড়িগুলো তার শেখরকে ধরতে চায়
সেই পথ বেয়ে নেমে আসে কত পিপরে
তারাও কিছু বলতে চায়

কান পাতো শুনতে পাবে
প্রতিদিনের নদীকান্না।
💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫

বিবেক খোঁজে আশ্রয়
✍✍✍ বটু কৃষ্ণ হালদার

দাবানলের ক্রোধ অ্যামাজনের সীমানা ছাড়িয়ে ক্যাঙ্গারুর দেশে

আশ্রয়হীন শকুনি ও আধপোড়া মাংসের গন্ধ পায়।

কাশ্মীর হতে দিল্লির শাহীনবাগ, ধর্মের নামে অস্ত্রের মৌন মিছিল দোদুল্যমান।

কংক্রিটের দেওয়াল থেকে পচা নর্দমা শুনতে পায় গোঁগানির বিকট উল্লাস।

এখন চোরাবালির স্রোত হয়ে থাবা বসিয়েছে করোনা, থমকে গেছে গতিময় জীবনের ব্যস্ততা।

দাড়ি,কমা পূর্ণচ্ছেদ একসাথে ভিড় জমায় তিন রাস্তার মোড়ে।

দিনে দিনে পৃথিবীর অসুখটা বেড়েই চলেছে। গৃহবন্দি মানুষগুলোর বাড়ছে চরম উদ্দীপনা। শুনশান লোকালয়ে অবাধে ঘুরছে হিংস্র জীব জন্তু।

ধর্ম স্থান গুলো কালো কাপড় দিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছে। প্রশ্ন একটাই, হাতে হাত রেখে স্নিগ্ধ বালুচরে পূর্ণিমার চাঁদ দেখা কি শুধু স্বপ্ন হয়ে থেকে যাবে?

এ চরম দুঃসময়ে উলঙ্গ বিবেক খোঁজে আশ্রয়।


💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫

দুঃখের দিনলিপি
✍✍✍ মিঠুন রায়

অপেক্ষায় কাটে প্রতি রাত আমার
কেউ শুনে না গোঙানির শব্দ
তন্দ্রা কাটে না ভরদুপুরেও।
যদি রাতগুলি সুন্দর হতো
তবে দেওয়ালটা সাজাতাম রঙিন স্বপ্ন দিয়ে
মেঘলা দুপুরে দাওয়ায় বসে
স্বপ্নের রঙ দিয়ে আঁকতাম মনের মত আল্পনা।
চোখ খোলা রেখে কেটে যায় রাত,
জেগে থাকি নিশাচরের মতো
অতীতেরও সীমানা আছে।
বিদ‍্যমান স্রোতের কাছে ধরা পড়ে
দুঃখের দিনলিপি।
           --------
💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫

মানুষ
✍✍✍ প্রদীপকুমার পাল

মানুষের খুব কাছাকাছি এলে
হঠাৎ হারিয়ে যায় স্রোত --
হাওয়া বিক্ষুব্ধ হয়, জল অবিশ্বাসী
সব সম্পর্ক লুকায় বসত।

গাছেরা ঝিমিয়ে পড়ে, ছায়ারা ঘুমায়
নদীও অবাধ্য হয় খুব, --
পাহাড় প্রাচীর হয়, সমুদ্র অচেনা
চির চেনা সূর্য দেয় ডুব।

মান নেই, হুঁস নেই, কান্না ও হাসি নেই
মানুষ আজ উন্নত যন্ত্রমানুষ--
চেনেনা সম্পর্ক, মুখ, সবই মুখোশ ভাবে
মানুষের হাটে তাই বিকোয় মানুষ।

মানুষ নিঃসঙ্গ বড় মুহূর্ত-কাটে শঙ্কায়
শুধু সময়ের কাছে তার ঋণ --
সামনে পিছনে পাশে মুখোশ-মানুষ আর
মুখোশ-মিছিল মানুষ বিহীন।

💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫

একটা অভিজ্ঞতা  
✍✍✍ শুভঙ্কর দাস

                             
একটি নিঝুম লকডাউনের রাত্রির দারুন অভিজ্ঞতা কেড়ে নিয়েছে আমার চেতনা,
সেই নিঝুম রাত্রিতে একাকী আমি বন্দী চারদেওয়ালের মাঝে টেবিলল্যাম্পের আলোয় গভীর চিন্তামগ্ন।
হঠাৎ একটি কান্নার আওয়াজ আমার চেতনাকে কম্পিত করলো ;
        সেই নিঝুম নিশীরাতে যখন চতুর্দিকে অন্ধকার
         মনুষ্যজাতি চিরনিদ্রায় ঢলেছে পৃথিবীর কোলে।
আর একটি ক্ষুধার্ত বালকের ক্রন্দনরত ধ্বনি তীব্র আর্তনাদ করছে,
   সেইসময় আর্তনাদ মোচনের কোনো সীমা জানা নেই তার।
        ক্ষুধার্ত বালকটি অবিরত ক্ষুধায় ক্রন্দনরত
হঠাৎ একটি পথভ্রান্ত পেঁচা সুদূর মাইলের পর মাইল পথ অতিক্রম করে,
    তাঁর ক্লান্তিকর ঠোঁটে একটুকরো খাদ্য বয়ে নিয়ে চলেছেন গন্তব্যের স্থলে।
সেই একটুকরো খাদ্য-ই দিয়ে ক্ষুধার্ত বালকটির ক্ষুধা নিবারণ করে,
    এই দুর্দিনে ক্লান্তিকর পেঁচাটাই বালকটির সাথী।
আজ বিশ্ব ইতিহাসে মানবতারের শ্রেষ্ঠ জয়গান হল 'মনুষ্যজাতি'
  আজ মনুষ্যজাতি নিদ্রায় শায়িত, একটি পেঁচা একটি ক্ষুধার্ত বালকের জীবনদাতা।
এই অসাধারণ অভিজ্ঞতা আমার চেতনায় অনন্তকাল ছাপ ফেলেছে।
💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫

কাল বসন্ত হোক
          ✍✍✍ দেবনাথ সাঁতরা

কাল এমন একটা দিন হোক
যাকে বসন্ত বলা যাবে
কালকের ইচ্ছে গুলো এমন হোক
যা তোমাকে নির্দ্বীধায় বলা যাবে।
কাল শুধু তোমায় নিয়ে গল্প হোক
তোমাতেই ডুবে থাকুক  মন
কাল তোমার হাসিই সঙ্গী হোক
দুঃখ ভুলে থাকুক এই জীবন।
কাল দিনটা হবে খুব ঝলমলে
মেঘেরা সব করবে তাদের কাজ
রাত্রি কেটে হঠাৎ সকাল হলে
দেখবে তুমি ভরে আছে গোলাপ গাছ।
কাল সারাদিন কাটাবো তোমার সাথে
বলবো তোমায় যত লুকোনো কথা আছে
পলাশ ফুলকে মাড়িয়ে যাবো পথে
মিছে আবদার করব তোমার কাছে।
কাল সন্ধ্যায় উঠবে যখন চাঁদ
তোমার হাতে রাখবো আমার হাত
বলবো তোমায় কতোটা ভালোবাসি
স্বপ্ন নয়, জেগেই আমি আছি।
💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫

 রবি কিরন

 ✍✍✍ সৌভিক রাজ


নবপ্রভাতের আলোকবানে জাগল এক ছবি,
তুমি আমাদের সৃষ্টিগাঁথা প্রানের বিশ্বকবি।
আলোর দুত্যি যেমন ছড়ায় বনের পথে পথে,
তোমার নামে মুক্তি আসে শত যন্ত্রণা হতে।
সকল অমৃতের ভাণ্ড তুমি জগৎ তোমার পরে ধন্য,
সকল সৃষ্টির স্রষ্টা তুমি প্রনাম লহ হে বিশ্ববরেণ্য।
হৃদয়াঞ্চলে মনের কোণে তোমার আসন পাতা,
চিরবিরাজ নিত্যসুন্দর তুমি প্রেমের মাল্যগাঁথা।
সাহিত্য তোমার নবউন্মেষের নতুন আলোক দৃষ্টি,
দিগদিগন্তে ঘোষিত হোক তোমার কালজয়ী সৃষ্টি।
যখনই আবেগ দুঃখ খুঁজেছে আমি খুঁজেছি তোমায়,
সব দুঃখের পার পেয়েছি তোমার কাব্য গাঁথায়।
তোমার গানের অসীম দীপ্তি শাশ্বত তব ভাষা,
দিকভ্রান্ত পথিকের কাছে যেন নব জাগ্রত আশা।
তোমার কাছে চির ঋণী মোরা হে রবি পূরাও মনস্কাম,
প্রাসঙ্গিকতার অভিধানে চির অজেয় থাকুক তব নাম।
তুমি যে আমার প্রানের কবি, দেবধূপের সৌরভ,
সকলের কাছে প্রানের ঠাকুর বিশ্ববাসীর গৌরব।
বারবার তাই তোমাকে খুঁজি শত দুঃখের মাঝে,
শান্ত সমীর বক্ষে জুড়ায় তব নাম লয়ে কাছে।
বৈশাখের এই পুণ্য তিথি আসুক হাজারবার,
শত বিভেদের মাঝেও তুমি যে শক্তি দুর্নিবার।
অনির্বাণ প্রদীপালোকে তুমি ছড়াও আলোক শিখা,
হে গুরুদেব দাও হে তবে নব-মানবের দীক্ষা।
💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫
৯                
মা তুমি  
     ✍✍✍ শুভময় মিশ্রি

"মা তুমি "- সৃষ্টির বাহক, সভ্যতার আঁতুড়ঘর,
তুমি কত দহন-জ্বালা সহ্য করে আমায় ঠাঁই দিয়েছো তোমার ঝঞ্ঝাহীন শান্ত গর্ভে -
আর কত বাধা অতিক্রম করে দশমাস - দশদিন ধরে আমায় গড়েছো তিলেতিলে।
তুমি সৃষ্টি সুখের আনন্দে শত ব্যাথা ভুলে প্রসব দিয়েছো আমায় কত রক্তক্ষরণে ।
তুমি ফুটিয়ে তুলেছো আমার বাক্যহীন ওষ্ঠে প্রথম পবিত্র মা ডাক নামক ভাষা ।
তখন কি আনন্দ জানো মা , যখন আমার আধো- আধো কথায় প্রথম ভাষা বলেছিলাম,
ভেবেছিলাম এইবার পারবো হয়তো অবাধ পৃথিবীর সাথে বাক্যের লিরিক দিতে,
তা অবশ্য পেরেছিলাম শুধু তোমার জন্য মা।
আসলে মা ডাকটা জন্মলগ্ন থেকে নাড়ির সাথে সংযোগ তাই মা ডাকে কোনো খাদ নেই।
মা, মৃত্যুছাড়া তোমায় আমার থেকে কেউ কেড়ে নিতে পারবে না কোনোদিন,
তবুও যদি মৃত্যু আসে কোনদিন মৃত্যকে জয় করে রাখবো তোমায় আমার প্রানের বিনিময়ে -
তারপরও যদি মৃত্যু তোমায় নিয়ে যায় তবে আমায় ছেড়ে যেও না আমায় সাথে নিয়ে যেও -
ওই ভবপারে কারণ আজ এই পৃথিবীর ঘন্টা -মিনিট- সেকেন্ড বড়ই বেশামাল,
দিকবিদিক মানবের মানবিকতা, যুদ্ধের মহলে থেকে বারুদের গন্ধে কি শ্বাস নেওয়া যায় ?
কোথায় পাবো পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ শয়ন কক্ষ যা তোমার আঁচলের তলায় পাই ?
💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫
১০)
ভিজে যায় স্মৃতির উঠোন 

 ✍✍✍ অনিল দাঁ

আমার শৈশব জুড়ে স্মৃতির উঠোনে
এখনও ঘুরে বেড়ান মা
আমার হাঁটি হাঁটি বেলায়
বাড়িয়ে দিতেন দুটি হাত
মাটিতে পড়ার আগে
কখনও রাগ দেখাতেন না ।

নতুন ভোরের প্রথম আলোর সাথে
হাজার পা-এর সাথে ছুটে চলা বেলা
গুরুমহাশয়ের দেয়ালহীন আটচালা
বন্ধুদের শ্লেটে সংসয় মাখা গোল্লা
অথবা ক্রশচিহ্নের জয়
আশ্বিনের মাঠে মাঠে ধানের শিষের মিষ্টি গন্ধ
বারবার ভেজায় আমাকে ।
💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫
১১
শুধু প্রেম
কুশল মৈত্র

বেগুনী-নীল রঙের শাড়িটি আজ‌ও বেশ উজ্জ্বল
খোলা চুলে উড়িয়ে ছিলে নীরবতা
আঁচলে ঢেকে দিয়েছিলে আমার মুখ
প্রতিদিনের চেনা মুখ, না অন্য নারী
আকাশের চাঁদটি ঢেলে দিয়েছিল আলো
পরিনীত যুবক-যুবতী তারাদের পাশে
ছলছল চোখে সমর্পিত হল
এক অন্য ভালোবাসার মেদুরতা গোপনে।

💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫
১২) 
ভাবতে ভাল লাগে
✍✍✍ শংকর ব্রহ্ম


       ভাবতে ভাল লাগে,আমার জন্য কেউ ভাবে
সে আছে অন্য কোথাও, অন্য কোনখানে,
                              যে আমাকে টানে মনে প্রাণে
কী সে অমোঘ টান যাকে আমি এড়াতে পারি না
          মাঝখানে থাকে পড়ে বিরাট এক ব্যবধান
যে বাঁধা অতিক্রম করা সহজ নয়
                       তাই নিজেকে লাগে বড় অসহায়,
তবু ভাবতে ভাল লাগে কেউ আমার কথা ভাবে       
প্রয়োজনে আমার জন্য সে একবুক জলে নাবে
                                           ভাবতে ভাল লাগে।
💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫
১৩
মাটি

✍✍✍ পলাশ পাল

যে মাটিতে জন্ম তোমার,
সে মাটিই রোষে দূরে সরিয়ে
জল ঘোলা করছ মানব?
মনে রেখো,
এই জলের মাছ‌ ই তোমার প্রিয়।
খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করছ তাদের।
ওই মাটির সোঁদা গন্ধ তোমায় মুগ্ধ করে।
তাহলে কিসের এতো রোষ....?

💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫
১৪)
উদভ্রান্ত স্বপ্ন

     ✍✍✍শংকর হালদার

প্রভাতের নগ্ন আলোয় সমাজের নগ্নতা,
ক্রমশ প্রকাশ পায় মেলে ধরা পক্ষীর মতো।
মরিচার জমাট চেতনার শল্কমোচন
পরিবর্তন ধারার বিচিত্র ইতিহাস
লুপ্ত প্রায় বিবেক ও চেতনার নিরস সমাজ
স্বপ্ন দেখে অসাড় জীবের পরিকাঠামো।
💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫
১৫
 নীরবতার চাদরে মোড়া

✍✍✍ তাপস বর্মন


মাস বদলায়,বছর বদলায়,সমাজ বদলায় না;
নীরবতার চাদরে মোড়া থাকে।
যে ছেলেটা চায়ের দোকানে কাপ ধুয়ে-
তার স্কুলে যাওয়ার কথা,ডাক্তার হতে পারত।
যে নারী হৃদয়ে রঙে রাঙিয়ে দিত তোমাকে,
আড়াল রাখতে মমতার আঁচলে
কথায় কথায় তার লজ্জা হরণ করে শকুনের দল।
ভুগঞ্জ মাঝি,খালেক মিঞা, বুধাই টুডুরা
আজও কুঁড়ে ঘরের দাওয়ায় বসে
সময় বদলের সময় গোনে।
সুশীল সমাজ গর্জে উঠেনি।
নীরবতার চাদরে চোখ কান মুড়ে বলতে চায়, 'আমি দেখিনি, আমি শুনিনি,আমি জানিনা।'

****** ****** ****** ****
💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫
১৬
ক্ষত 

✍✍✍ শ্রীজা দত্ত

চারিদিকের স্তব্ধদিনে,
নিশ্চিহ্ন দুপুর!
পথিক জনের ছাতার মতো-
একলা থাকার সুর।

বদ্ধগানের আলোয় ভরা,
তারার অভিমান!
তোমার কাছেই জমে থাকুক-
মন খারাপের গান।

ক্ষতের মাঝে প্রলেপ মাখাই,
ঝড় বৃষ্টির দিনে!
জানলাগুলো খোলাই থাকুক-
বৃষ্টিরা নেবে চিনে।

পথ ভুলেও ফিরতে চাইলে,
দেবনা আর ফিরতে!
অসুখ সেতো সারবে না আর-
ক্ষত'র মাঝে আটকে।
💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫
১৭
আম্ফান ঝড় 

✍✍✍ মিরাজুল সেখ

সমুদ্রের বুক চিরে
মানব সভ্যতার তীরে,
হানলো আঘাত আম্ফান ঝড়
এক ভয়ঙ্কর আর্জি নিয়ে।

নীল রঙের ওই আকাশ খানা
  কালো চাদর মেখে,
বজ্রবিদ্যুৎ বৃষ্টির জল
  এলো মৃত্যুর রঙ এঁকে।

আসল ধেয়ে প্রবল বেগে
 ভাঙলো গাছ পালা,
ধ্বংস স্তুপে পরিণত হলো
  হাজার কুটির শালা।

প্রকৃতির এই নিঠুর খেলায়
   হারলো মানব জাতি,
সর্বনাশের চিত্র দেখে
  ভিজলো করুন আঁখি।

বিধ্বংসী এই আম্ফান ঝড়
  সর্বস্ব লন্ডভন্ড করে,
ধ্বংসাবশেষ রেখে গেলো
   শান্ত প্রকৃতির বুকে।।

💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫
১৮
যোগসূত্র

✍✍✍  সোহিনী মুখার্জী

তোমার আকবর তোমার আলী
আমার দুর্গা আমার কালি
তোমার আল্লা তোমার খোদা
আমার ধর্ম সুখদা মোক্ষদা ,
তোমার টিকি আমার দাড়ি
তোমার পথে আমায় চলতে নারি,
তোমার জল আমার পানি
তোমার মসজিদ আমার মন্দিরে জানি,
তোমার আমার কোরান গীতা মিলিয়ে মিশিয়ে দেখি,
কাটলে নলি রক্তে রাঙা হিন্দু মুসলিম , একি!
💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫
১৯
ভাতে মরার ভয়

     ✍✍✍  সমিত বিশ্বাস


আজ মনে বড় সংশয়
আমি দিনমজুর তাই
ঘরে বসে বাঁচার আশায়
কাল ভাতে মরার ভয় ৷

আমি নির্মাণকর্মী ভাই
কাজ করতে বিদেশে যাই
আজ বিদেশে ঘরে বন্দি তাই
পরিবার মোর ভাতে মরার ভয় ৷

সরকার ত্রাণ মোদের করছে দান
জানি না পরিবার তা কতটুকু পান
আজ মোর বড়ই কষ্ট তাই
কাল ভাতে ভাতে মরার ভয় ৷

কত ভারতবাসী আজ কাজ হারা
আগামীতে কি খাবে তারা
ভেবে আমি ব্যাকূল হয়ে যায়
তবু ঘরে বসে বাঁচানোর আশায় ৷

ঈশ্বরের কাছে রাখি এই প্রার্থনায়
পৃথিবী আবার হোক নিরাপদ আশ্রয় ৷
💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫
২০
"মেয়ের বিয়ে "
 ✍✍✍    মণিকাঞ্চন সিংহ

কনের বাবার বিষম বোঝা
মেয়ে যে বড়ো কালো,
বিয়ে যে তারে দিতেই হবে
দেখাতে হবে আলো।

ঘটক মশাই বেজায় জটিল
সাদরে সুধায় তারে,
পাত্র আছে বড়ো ভালো
অগত্যা বিহারে।

রূপে-গুণে ভদ্র সে যে
শিক্ষা নাইকো কম,
আহারে-বাহারে বেজায় সে যে
ব্যাবসায় সর্বোত্তম।

হুকুম জারি ছেলের বাবার
একটিই চাঁদ তার,
মিল হয় যদি শর্ত সকল
তবেই হাত চার।

দান-বাসন তো দিতেই হবে
পালঙ্ক আর আলমারি,
আর যা,যা সব তত্ত্ব লাগে
নগদ পঞ্চাশ হাজার টাকা আর গয়না দশ ভরি।

তোমার মেয়ে হবে সুখী,
থাকবে নাকো অভাব।
আহারে-বাহারে হবে সে যে
রাণীর মতো স্বভাব।

কনের ভাই বেজায় রসিক
শুনিয়া ফর্দ বাহারী,
পরিশেষে বলে সে যে
অতিশয় ভিখারি।

💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫
২১
"আমাদের কথা"
          ✍✍✍সুমন্ত মাজি

আমরা কারা?
আমরা ফুটপাতবাসী আমরা বুভুক্ষু।

তোমরা তো বন্দী ঘরে এই গরমে অসস্তি লাগছে,কিন্তু আছো সুখে।

তোমরা তো ছাদের তলায়, ভাবছো কী আমাদের কথা?

এই তপ্ত রোদে কিংবা কালবৈশাখীর ঝড়ে বৃষ্টিতে কেমন আছি?

তোমাদের মুখে ভাত রুচে না চাইছো বিরিয়ানি,চিকেন রোল,চাইনিজ আর ও কত কি

আমরা উপবাসী চাইছি দুমুঠো ফ্যান ভাতখানি।

আমরা কারা?

আমরা দিনমজুর দিন আনি দিন খাই
এই দুর্দিনে কাজ নাই তাই কোথা যাই?
তোমার ছেলে স্কুলে যেতে পারছে না কিনে দিয়েছো স্মার্ট ফোন,মজেছে গেমে...
আর আমার সন্তান লাফাচ্ছে একটু দুধের জ্বালায়
আমি খাওয়াবো কি ভেবে মরি অসুখে।

আমরা কারা?

আমরা কারখানার শ্রমিক, ইউনিয়নের দালাল
 আজ নেই তো আর কাজ,বন্ধ কারখানার দ্বার

আর আমাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত ধূসর অন্ধকার।

তোমাদের পন্যের যোগান দিই আমরা তাই এই দুর্দিনে ভুলে যেয়ো না তোমরা।

আমরা আজ বড্ড অসহায় চেয়ে আছে স্ত্রী সন্তান বৃদ্ধ মা বাবা

আমি মুখ লুকিয়ে থাকি বসে ঘরের এক কোনে।

তাই এই করুন পরিণতির কথা একটু ভাবো

আমরা যে তোমাদের সমাজের সিঁড়ি...

একটি সাহায্য করো আমাদের একটু ভাত দিয়ে সঙ্গে অনেকখানি সহানুভূতি আর পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি

আজ দাও একথা

আমরা ছাড়া কিন্তু তোমাদের দাম্ভিকতা বৃথা।।
💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫
২২
বাঁচার তরে 
       ✍✍✍আসমত আলী
   

থাকতে সময় জীবন মাঝে
 পারের কড়ি চায়
রেখো মনে প্রতিক্ষণে
সময় বেগে ধায়।

শেষ বিচারের আদালতে
 উঠবে তুফান বায়
জীবন তরী যাবে ডুবে
বেলা বয়ে যায় ।

থাকতে সময় এই ধরাতে
করো এমন কাজ
মরার আগে খুলতে হবে
পাপী নামের সাজ।

অপকর্ম ভুলে সবাই
সৎ কাজে দাও মন
তোমার দয়ায় পাক দুটো ভাত
গরিব দুঃখী জন।

নিপীড়িতের দগ্ধ ব্যথা
সাথ যে তোমার চায়
কবির লিখাই তাদের ধ্বনি
স্থানটি যেন পায় ।

শান্তি তরে ঝরুক কালি
বঞ্চিতের সেই কথা কও
দুঃখী জনে মানুষ মেনে
মানুষকেই সাথে লও ।

দুস্থ তরে সুস্থ কথায়
হিংসা করো দূর
মানবতা আসুক মনে
বাজুক নতুন সুর ।।
💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫
২৩
বাস্তবতা
✍✍✍ তপন বেরা

নিঝুম রাত,বারো ছুঁই ছুঁই
ঝি ঝি পোকার ডাক
ঘুম আসেনা, জেগে থাকি তাই
চাপা টেনশন।
বাড়ির সবাই ঘুমিয়ে এখন
নিরবে নিশ্চিন্তে,
ভাবছি তখন, জন্মেছি যে মানুষ হয়ে
দায় দায়িত্ব হবে নিতে।
এখন, বাবা মায়ের দায়িত্ব শেষ
সংসার আমার ঘাড়ে
এটাই তো নিয়তির নিয়ম
এই জগত সংসারে।
আয়ের থেকে ব্যায় যে বেশি
ভাবেনা কেউ তো, তা
কোন কিছুর কমতি হলে ,
সবার মুখ হয়ে যায়, ঝাপসা।
একেই বলে সংসারের ঠ্যালা
সব‌ই, মুখ বুজে সহ্য করা
মধ্যবিত্তের অসহ্য এ এক যন্ত্রনা
এটাই বাস্তবতা।।
💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫
২৪
“ কফিন থেকে তোমাকে ”

✍✍✍ শঙ্কর ভট্টাচার্য

এই সাড়ে তিন হাত জমি
এ শুধু আমারই,
এর অধিকার রক্ষায়
আমি সবটুকু দিতে আছি রাজী।
সবই তো গিয়েছে চলে একে একে,
মাথার ওপর আকাশ,
প্রান ভরে নিশ্বাস নেবার মত
এক চিলতে হাওয়া,
আমার শৈশব , কৈশোর,যৌবন।
আমার এক বুক ভালবাসা,
আর রঙীন স্বপ্ন।
একে একে গিয়েছে সবই।

ভূবনডাঙার মেলায়
কৃষ্নাচতুর্দশীর রাত্রে
আমার হাত ধরে বলেছিলে তূমি
চাষার উঠোনে যখন লবানের
আঁক পড়বে,
মিঠে হাওয়ার দোলা আর
শালুকের ভীড়ের মাঝে যখন
হাসেরা সাঁতার কাটবে,
তখন ঐ কাশবনের ভিতর
তুমি আমার কপালে
সিঁদুরের আঁচড় কেটে দিও।
কথা রাখতে পারিনি আমি।
কিছু বুঝে ওঠবার আগেই
আমার পাঁজর চৃর্ন করেছিল
রাষ্ট্রের বুলেট।
আমি নাকি ": দেশদ্রোহী" জীবন্ত পাপ,
আমি নাকি সমাজের অভিশাপ।
তুমি দেখতে পেলেনা হায়
মাটির নিচেএখনও হাসছি আমি।
যে সমাজ দাঁড়াবার জন্য দিলনা
একখন্ড মাটি,
বুক ভরে নেবার মত
এতটুকু নির্মল বাতাস,
তার কিই ই বা ক্ষতি করতে পারি আমি?
কতটুকুই বা সাধ্য আমার?
আজ এই টুকুই থাক।
পার যদি
ঐ গোলাপ দিঘীর পাড়ে
যেখানে দেখা হত তোমার,আমার,
একটা পলাশ ফুলের চারা পুঁতো
আর নাম রেখ "লক্ষীছাড়া"
💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫
২৫
 পরিযায়ী
✍✍✍ চিরঞ্জিত বেরা

তোমরা পিপীলিকা তুল্য
কী হবে তোমরা বাঁচলে ?
তোমরা থাকো ছেঁড়া বস্ত্রে
দেহ তাই ছিন্নভিন্নই হবে !
বাঁচবে তারা আছে যাদের
সুশ্রী দেহে সুন্দর পরিধানে।

অনেকটা যে হাঁটতে হতো নীড়ের পানে
কেউ কথা রাখেনি রাষ্ট্রভূমে।
থাকতে যদি সীমান্ত পারে
আসতে ফিরে স্বর্গরথে চড়ে ,
ছিলে পরিযায়ী হয়ে তাই -
খন্ড দেহই ঘরে ফেরে !
হাঁটা পথ যে শেষ হয়ে যায় পথের মাঝে।

পথেই জন্ম, তোমরা যে পথেই মানুষ
যেতেও হবে পথের মাঝে অবহেলা সহে।
রাষ্ট্র চলে যাদের ঘামে তারা কই ?
দেখো চেয়ে পতিত তারা রক্তমাখা ক্লান্ত শরীরে !
যাদের হাতে অন্ন জোটে ভুক্ত পেটে
তাদের পোড়া রুটি রক্তমেখে অভুক্ত থাকে।

জীবন মূল্য আজও হয় না সমান
তাই কেউ ঘর ফেরে, কেউ পিষ্ট হয়ে মরে।
তবু তারা অন্ন জোটাবে যুগ থেকে যুগান্তরে
জন্ম তাদের শ্রমের তরে, শ্রমিকই মরবে।

💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫
২৬
বেমানান
✍✍✍ দেবাশিস সাহা

ঘুমের পাশে স্বপ্ন
স্বপ্নের পাশে ঘুম
রেললাইনে বড্ড বেমানান

মানাচ্ছে না বলেই
অদৃশ্য থেকে এসে যায় মালগাড়ি
চাকায় লেগে যায় রক্তের দাগ

💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫
২৭
মহামারীর দাপটে
           ✍✍✍ অর্পিতা ঘোষ

 ভৈরবী সুর, কখন যেন বেসুরো হয়ে গেছে বুঝিনি আগে,
মন্দ সুখে ভরে গেছে ঘর, ফ‍্যাসফেসে আওয়াজে সুর আটকে,
সন্ধ্যার শুদ্ধকল্যাণ রাগ বিষণ্ণতায় মন ছেয়েছে,
অজানা ঝড়ে সবকিছু তছনছ হয়ে গেছে।
সংশয়ে আছি অবিরত, দুঃখ আসছে প্রতি পলে,
যেন নাটকের কুশীলব আওড়েছিল বানানো সংলাপে।
ভরসার আপনজন পর হয়ে যায়, মহামারীর দাপটে,
সুখ স্বপ্ন কালো আঁচলে মুখ লুকিয়েছে কি তবে ?
ভালো নেই, প্রতিনিয়ত ভালো থাকার চেষ্টা করি তবুও–
ডুবে যাচ্ছি অতলে, হটাৎ ভূষ করে ভেসে ওঠে কাঠামো।

যদি পাই একটু বর্ণময় সুখ, খুঁজি আনাচে কানাচে,
অবশেষে পেলাম তাকে, অবহেলায় পরে ছিল কুলুঙ্গিতে।
💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫
২৮
ফেরার গান।
      ✍✍✍ রাজীব কুমার নন্দী

বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যে নেমেছে..
মনপাড়ার ওই তেপান্তরের মাঠে।
তখনো বিকেল ফুরিয়ে যায়নি....
সন্ধ্যাবাতির সাঁঝে।
ভাবতে ভাবতে আকাশ দুপুর..
ভাবতে ভাবতে ঝড় ঘনালো।
মৃত্যু গুলো ফিনকি সুরেই..
শেষের শুরু দেখতে পেলো।
আশায় ছিলো কলকবিতা।
আশায় ছিলো জোনাকী রাত।
তবু নিঝুম দিনের আলো।
রক্ত করবী তাতেই রঙ হারালো।
হারিয়ে গেলো জ্যামিতি শৈশব।
ফুরিয়ে গেলো ঝালমুড়ি বিকেল।
পড়ে রইলো ভূগোল ভোলা কর্কটক্রান্তি।
বেঁচে রইলো আকাশ মাখা কালো ঘুড়ি।
তবু ঝড় উঠলো ভালোবাসা ঘেঁষে।
ঝড় উঠলো তান্ডবের রুদ্র সাজে।
ফেরো মন হিসাব কষে।
আলতা আবিরে জীবন আঁকে।
রক্ত মাখা জীবনহানী।
মৃত্যু কুড়ানো লাশের সারি।
ফিরছে তবু বাঁচার আশা।
রেলিং ঘেরা জীবন বাসা।
খড় কুটো ভোর জীবন আসা।
বাঁচতে এসেই মরণ ছায়া।
আসছে দেখো নতুন সূর্য ঘোর।
    বাঁচার আলো ফাগুন ওড়ে।
ফিরছে তবু আসার আলো ভোর।
    মায়ের কোলে প্রানের ঝড়ে।
💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫

দিব্যেন্দু চ্যাটার্জী এর গুচ্ছ কবিতা

১) এক পশলা বৃষ্টি

সজনে ফুল বিছিয়ে রাখা রাস্তায়।
মধুর খোঁজে আসেনি কোন মৌমাছি।
তুমি আজ হয়ত আসবে......
তাই দুপুরে কয়েকবার কোকিল ডেকেছিল।
বাবুই কে বাসা বাঁধতে দেখে...
আমিও খেই হারাই,
আজ এক পশলা বৃষ্টি হতে পারত
হয়ত তুলে রাখা আছে হেমন্তের চাষিদের জন্য।

২। শীত

যখন তুই এলি হেমন্তের গোধুলি লগ্নে,
শীতের ব্যথায় অসাড় হয়নি পাঁজর।
ভেসে এসেছিল কিছু আবেগ...
যখন ছুঁয়ে ছিলি হাত দুটো,
তখন আঙুলগুলি নয়
কেঁপেছিল স্পর্শের শারদীয় বৈভব।
যখন পূর্ণিমা উদ্ভাসিত আলো...
জাগিয়েছিল তোর চন্দ্রমুখ,
সুখগুলো শুধু শিহরিত হয়েছিল।
যখন ফিরে গেলি সীমাহীন অবহেলায়,
তখন বুকে ছেয়ে গিয়েছিল
শীত কুয়াশার সংসার।

৩। অপেক্ষা

অপেক্ষারা আজ আসেনি,
গায়ে ওদের ভীষণ জ্বর।
শাড়ি ও কামিজে আরক্ত টিউলিপ
ত্রিস্রোতা পিয়ানোর তাপ বাড়ে।
প্রাচীন স্বপ্ন দৃশ্য থেকে মুছে যায় নিমগ্ন প্রতিবিম্ব,
তারপর......
রোদ্দুর হাতে
তামাটে শহরের বুকে লিখে রেখে যায় কেউ,
অনন্ত দুঃখ
আর অপেক্ষারা না আমি একই থাকি।

৪। শূন্য মনে......

ছড়িয়ে রয়েছে ছেড়া ডায়রির পাতাগুলো ঘর ময়।
পাতাগুলোতে লেখা আছে আজও কিছু কথা,
আবছা কালিতে।
আবছা কালিতে আবার স্পষ্ট হয়েছে রাত জাগা।
রাতের আঁধারে ঝরে গেছে কত শিশির বিন্দু।
দুই চোখ জেগেছে তখন, তারাদের সাথে......
দিনলিপি জেগেছে ছেঁড়া পাতাকে আঁকড়ে ধরে।
আজ সব এলোমেলো...
ছেঁড়া পাতা আর কালি, সবই আবছা হয়েছে,
ঝরে গেছে শিশিরবিন্দু হয়ে।

৫। সাদা-লাল

কলেজের গেট থেকে বেরিয়ে
আড়চোখে দেখেছিলি আমায়।
আকাশে তখন মেঘের ঘনঘটা,
বৃষ্টি শুরু হল বলে।
আমি যে তোকে রোজ দেখি,
সেটা তুই জানতিস।

পরের দিন তোর ডিপার্টমেন্টে নবীনবরণ অনুষ্ঠান।
গুটি গুটি পায়ে মনে জোর এনেছিলাম,
আজ কিছু কথা বলব। না করে দিস।
তবুও মনে রখবি তুই, জীবন ভর।
গেটের মুখে সাবধানে বাক্য সাজিয়েছি,
আজ আমি তোকে সব বলবই......

হঠাৎ সামনে এসে চুল ঠিক করলি তুই,
নজরে এল তোর ফর্সা হাত।

উঁকি দিল, লাল-সাদা চুড়ি,
না দেখলে, আর কিছুদিন......!

🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙

©সেক আসাদ আহমেদ
সম্পাদক, উপকণ্ঠ
গাংপুরা পূর্ব মেদিনীপুর
তাং- ২৭/০৫/২০২০


4 comments:

  1. আপনাদের অনেক ধন্যবাদ আমার কবিতা প্রকাশিত করবার জন্য।

    ReplyDelete
    Replies
    1. অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন

      Delete
  2. খুব সুন্দর উদ্যোগ, এভাবে চলতে থাকা চায়।

    ReplyDelete
    Replies
    1. মতামতের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন

      Delete