"উপকণ্ঠ প্রাত্যহিক বিভাগ"
(ওয়েব ম্যাগাজিন)
প্রকাশ কাল:-06/06/2020, শনিবার
সময় :- দুপুর 12 টা
সভাপতি:- অরুণ কুমার ঘড়াই
সহঃ সভাপতি:- সেক আব্দুল মজিদ
সম্পাদক এবং
প্রকাশক:- সেক আসাদ আহমেদ
যুগ্ম সহঃ সম্পাদক :-
১) ইমরান খাঁন
২) শেখ মণিরুল ইসলাম
সম্পাদকীয় দপ্তর ::-
গ্রাম:- গাংপুরা ডাকঘর:- সাগরেশ্বর
থানা:- রামনগর জেলা:- পূর্ব মেদিনীপুর
সূচক-৭২১৪৪৬ পশ্চিমবঙ্গ ভারত
মুঠোফোন:- 9593043577
🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷
উপকণ্ঠ সাহিত্য পত্রিকা ফেসবুক আইডি লিঙ্কে ক্লিক করুন আর যুক্ত হন আমাদের সাথে
Click here
উপকণ্ঠ সাহিত্য পত্রিকা এর হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপতে যুক্ত হন লিঙ্কে ক্লিক করে
Click here
🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷
আজকে উপকণ্ঠ প্রাত্যহিক ওয়েব ম্যাগাজিনে যারা কলম ধরেছেন✒✒✒✒
1) রাজা দেবরায়
2) রঞ্জন চৌধুরী
3) প্রশান্ত মাইতি
4) মুহাম্মদ ইসমাইল
5) জুয়েল রূহানী
6) সোহিনী শবনম
7) অনাদি মুখার্জী
8) উমর ফারুক
9) বদরুদ্দোজা শেখু
10) সত্যজিৎ রজক
11) প্রদীপ কুমার দে
✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍
প্রবন্ধ
উচ্চাকাঙ্ক্ষা !
~ রাজা দেবরায়
রামায়ণে মহারাণী কৈকেয়ী'র এবং মহাভারতে মহারাজা ধৃতরাষ্ট্র'র উচ্চাকাঙ্ক্ষার পরিণতি আমরা দেখতে পেয়েছি । সর্বনাশ হতে খুব বেশি দেরি হয়নি ।
আসলে উচ্চাকাঙ্ক্ষার ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিচারবুদ্ধি লোপ পায় । যাকে নিয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষা তাকে বোঝার ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায় এক অদ্ভুত আনন্দের নেশায় । যেনতেন প্রকারেণ উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণ করা চাই । সন্তানের মনের অবস্থা যাচাই করার মানসিকতা এবং ফুরসৎ থাকে না ।
উচ্চাকাঙ্ক্ষা সবসময়ই আপাতদৃষ্টিতে সন্তানের 'ভালো'র জন্যই করা হয় । কিন্তু এই 'ভালো' ভবিষ্যতে খারাপেরও খারাপ হতে পারে সেটা ভুলে যায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই । সন্তানের চাপ নেওয়ার ক্ষমতা, মানসিক ও শারীরিক কষ্ট কোনো কিছুই স্থান পায়না উচ্চাকাঙ্ক্ষার নাগপাশে জড়িয়ে ।
তাই পরবর্তী সময়ে সন্তানের সান্নিধ্য যখন পাওয়া যায় না তখন হায় হায় করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকেনা ।
উচ্চাকাঙ্ক্ষা একদম খারাপ সেটা বলা হচ্ছেনা । কিন্তু যাচাই করতে হবে, বুঝতে হবে । অনেক ক্ষেত্রে সন্তানের সাথে কথাবার্তা, আলোচনা করেই উচ্চাকাঙ্ক্ষা পোষণ করা উচিত বলে মনে হয় ।।
🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷
কবিতা
বাবুসোনা শোন
রঞ্জন চৌধুরী
পোতা খুঁটির ওপর তোমায ঝুলিয়ে দিলাম।
তুমি কি বিপ্লবের কেতন হবে?
প্রার্থনা করি সুস্থ থেকো।
ছবির শুটিং শেষে নেমে এসো ধীর পায়ে।
জানো তো জ্ঞানশাখিক বিবর্তন যুগে
এক বাহারি ফুল ফুটেছে
আমাদের কালচেতনে।
তার কি নাম দেবে তুমি ভাবো,
আর এও ভাবো শব্দদখলে গরিবিদের
কোন ভাষা নেই - - - -
একটু হাওয়াতেই উড়ে গেছে পণ্যবিথিকার দিকে।
দিব্যকান্তি সেজে ঝড়োমুখ উলঙ্গ আজ;
চিত্রার্পিত যেন
যেমন চিত্রার্পিত হয়ে দিন কেটে যায়
বাকতুলির পেখমের কাজ, এবং
তার ক্রমিক ছবিগুলির.....
পুন : বাবুসোনা মনে রেখো
সব আত্মহত্যাই একধরনের হত্যা ।
🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷
স্বর্ণালী ভোর
প্রশান্ত মাইতি
দুধারে সারি গাছ লাইনে দাঁড়িয়ে
মাঝে পথ এঁকে বেঁকে পলকহীন
#
বসন্তের কোকিল ডাকছে ডালে
জিরিয়ে নেয় ছায়াতলে ক্লান্ত পথিক
ওত পেতে বসে মাছরাঙা পাড়ে
#
ওই দূরে প্রিয়াঙ্কার বাড়ি
পুবের উঠোনে রোদ্দুর জিরোয় বসে
#
প্রিয়াঙ্কা আঁকে ছবি একমনে স্বর্ণালীভোরের ।
🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷
ধর্ষিত সবুজ
মুহাম্মদ ইসমাইল
লভ্যাংশে গরমিল!
প্রতারণার জলচ্ছবি ভাসছে
শোষকের হুল বহুগুণ বিস্তৃত
পৃথিবীর নাট্যমঞ্চে নায়কের নষ্টামি
ধর্ষিত সবুজ গালিচা
ধর্ষিত জল হাওয়া মৃত্তিকা ।
আকণ্ঠ অমৃত পান করে
নিষ্ঠুর! ভাঙলে সে পানপাত্র
ডিজিটাল হয়েছে চারপাশ
শীতল আঁচল ছিঁড়ে
কংক্রিটের বুকে মাথা রেখে
তোমার সুখ খুঁজি!
উচ্ছ্বাসের মেজাজ নিয়ে
আমার নিষ্ঠুরতার উৎসবে
তোমারে স্মরণ করি ফি বছর।
🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷
সত্যের জয়
জুয়েল রূহানী
নাহি হিংসা নাহি মিথ্যা-
মনে যদি রয়,
মহাসত্য উন্মোচনে-
সুখ পাবে নিশ্চয়।
সত্যের কাছে মিথ্যা বাণী
রবে যে নত,
বিবেকের দংশনে হবে-
ক্ষত-বিক্ষত!
সত্য সদা জয়ী হবে-
সত্য সু-নিশ্চয়,
ধৈর্য্যের পরিচয়ে মিথ্যা-
হবে পরাজয়!
🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷
প্রয়োজন
সোহিনী শবনম
নীল পাঞ্জাবী আর লাল শাড়ি,
ট্রেন্ডিং চলছে নাকি!
হাফ স্লিভ আর কূর্তিটা
প্রয়োজন মেটাতে রাখি।
রেষ্টুরেন্টে বিরিয়ানি, সাথে কিছুটা কোক
আলু ভাতে পেট ভরে যায়,
ওটাই আসল ঝোঁক।
মার্বেল মেঝে আর কাঁচের দেয়াল,
বাইরে থেকে যায় সব দেখা।
আমার বাবা টিনের চাল আর মাটির মেঝে;
মোটা পর্দায় ঢাকা।
বাড়ি গাড়ি টাকা সব আছে যার,
সে নাকি ডিপ্রেশনের শিকার,
কাজ নেই খাবার নেই তবু
করে সে ভবিষ্যত গড়ার অঙ্গীকার।
প্রয়োজন আর প্রাচুর্যে একটু আছে ফারাক,
বাঁচতে হলে প্রয়োজনে বাঁচুন
সাম্যতা রক্ষার্থে প্রাচুর্য দানের হাত বাড়াক।
🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷
সেই সময় টা
অনাদি মুখার্জি
ফিরে এলো না সেই সময় টা,
শোনা হল না তোমার সেই কথা টা !
সেই দিন তুমি পরে ছিলে জামদানি শাড়ি টা,
দমকা হাওয়া উড়েছিল তোমার ঐ রেশমি চুল,
আজো ও ফিরে পেলাম না সেই সময় টা!
প্রথম দেখা হয় সেই তাল দিঘির ধারে,
আলতো করে ছুঁয়ে রেখেছিলে আমার হাত হাত রেখে,
হৃদয়ে আকাশে আমি যে ভেসে ছিলাম ওগো তোমাকে দেখে দেখে!
আজ ফিরে এলো বসন্ত শুধু ফিরে এলো না সেই সময় টা !
🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷
মুক্ত বাতাসের খোঁজে
উমর ফারুক
কি অপরুপ প্রকৃতি!
অপরুপ সবুজ
সারিবাঁধা ডারি তার
হেমন্তের এক বিকেলেই অনুভব করি
মুক্ত বাতাসে উড়ছে আকাশে
ঘাস ফড়িং আর চিল পাখি।
তখনও অনেক সময় মুক্ত বাতাসের
গন্ধ পায় বটে!
তবুও বাতাসের খোঁজ মেলেনা
আচমকা এক সুরের লহমায়
সদ্যমৃত জীবনটি আকস্মিক একবার নড়ে ওঠে
তখনও সে যেন সুপ্ত,
জলের মতন প্রবাহিত হয়নি
কোকিল ডেকেছে ডাহুক ডেকেছে
তবে মুক্ত বাতাসে খোঁজ পায়নি।
জীবন যখম,
আকুতি করে সবুজের বলয়ে
পুতুল খেলার পরে
নৃত্য করে মস্ত দূরে
আদুরে ছোঁয়া ধোঁয়ার মত ওড়ে
রোজ দেখিনা মমতায় মায়ের অশ্রু!
খেয়া বয়ে যাওয়া আসা হয় রোজই
নরম মনে আলো ছড়িয়ে পড়ে উষ্ণ।
আমি তখন সবুজের সাথে কথা বলিনি ,
পবনের থেকে দশ হাত দূরে গিয়ে
সে বা তাদের আর্তি শুনেছি —
কিন্তু মুক্তবাতাসের খোঁজ পাইনি।।
কি আর বলি!
নতুন করে বলবার কিছু নেই
এখানে বাতাসের উপরে উগ্র উষ্ণতার
হস্তক্ষেপ!
🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷
উপকন্ঠ প্রাত্যহিক বিভাগ
রূপকথাগুলো
বদরুদ্দোজা শেখু
হঠাৎ ঘুমিয়ে পড়ি । কোন্খানে কোথায় কোথায়
রূপকথাগুলো যেন ডেকে নিয়ে যায়
চুপিসারে হাত ধ'রে ---
নিয়ে যায় তেপান্তরে
সাত সমুদ্দুর তেরো নদী পার
পরীদের দেশে যেখানে সময় শুধু দ্যায় উপহার
আনন্দ আনন্দ আর গল্প অফুরান,
দত্যিদানো নস্যাৎ করে জীয়ন-কাঠির দান
ডানা মেলে উড়ে যায় ময়ূরপঙ্খী নাও
ইচ্ছা হ'লে যেখানে যখন খুশী যাও
কোনো মানা নাই কারো নাই কৈফিয়ৎ
সবাই সবাই হাসি খুশী সুখী সুখী সৎ
গাছ ফুল প্রজাপতি পাখি ও বাগান
পাহাড় ঝর্ণা নদী জলধি আসমান
তারাদের দূর দেশ চাঁদের পাহাড়
সবাই প্রফুল্ল আর আনন্দ-বিহার
করে আপনার মনে,
ডানা ঝেড়ে পরীরা সাহায্য করে সব প্রয়োজনে--
ওরা যেন যাদুপরী, দরিয়া সমান
হৃদয় ওদের আর ভ্রমর -নয়ান
প্রেমের রহস্য-ভরা কমল-কমল
মোতি মোতি টলোটলো ভরা আঁখিজল
কপোলে তিলের ফুঁটকি , মরাল গ্রীবায়
ঢেউ তোলে নীল-নীল আবছায়া অমল বিভায় ।
কী সুন্দর পরিচ্ছদ কল্পতরু সখী
সহাস্য প্রশ্রয় দ্যায় সব আহাম্মকি ;
সেখানে সংসার পাতার ইচ্ছা হয় যেই
জেগে উঠি-- জেগে উঠি -- তখনি ঘুমেই ।
🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷
নক্ষত্র আবিষ্কারের কথা
সত্যজিৎ রজক
আকাশের মাঝখানের সবচেয়ে সাবলীল নক্ষত্রের আলো তুমিই আবিষ্কার করে ফেলেছো বারবার। বারবার তুমিই জিতে গেছো এই খেলাতে।
এখনও ছাদের কার্নিশে হেঁটে যাওয়া বিড়ালের নীল চোখ নক্ষত্র ভেবে আমি ভুল করে থাকি !
তুমি বলেছিলে আগে অন্ধকার চিনতে শেখো তার পর নক্ষত্র । অন্ধকার আবিষ্কার করতে না পারলে জীবনে যে কোনো কিছুই আবিষ্কার করা যায় না। কোনো কিছুই চিনতে পারা যায় না।
আমার কাছে অন্ধকার মানে তো শুধুই বিয়োগের প্রতীকী। সব কিছুই বাদ পড়ে এসেছে এতগুলো দিন ।
যেমন ভাবে তুমি, তোমার জ্যোৎস্না জলে স্নান ।
কী অদ্ভুত ব্যাপার দেখো । সেই যে তুমি, অস্তিত্বহীন হয়ে পড়া প্লুটো গ্রহের সন্ধানের দায়িত্ব দিয়ে চলে গেল , সেই থেকে আমি এখনও সন্ধ্যা হলেই ছাদে যায় অন্ধকার আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকি, বিয়োগ ফলের সংখ্যা গুনি , প্লুটো খোঁজার চেষ্টা করে চলেছি...
কিন্তু হাজার বিয়োগের ফেলেও এখনও প্লুটো গ্রহের সন্ধান খুঁজে পাইনি...
আসলে এই বাদ পড়ে যাওয়া গুলিই হয়তো জীবনের গল্প বলবে ! আসল অন্ধকার চিনতে শেখাবে !
🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷
উপকণ্ঠ প্রাত্যহিক বিভাগ
লিখব তাদের কথা
প্রদীপ কুমার দে
আমি লিখব তাদের কথা-
অন্তরে যাদের বিষম ব্যথা,
জীবনপ্রবাহে স্রোতহীন আনন্দসিন্ধু,
নয়ন বেয়ে ঝরে যাদের অশ্রুবিন্দু।
আমি লিখব তাদের কথা-
গ্রাম্যজীবন সরল যেথা,
ধরণীর কারীগররূপে প্রতীয়মান,
লাঞ্চিত যারা, আজও যারা অম্লান।
আমি লিখব তাদের কথা-
অভাবের আগুন জ্বলছে যেথা,
আঘাতে আঘাতে ফাটছে বুক,
অনাদর যাদের প্রাপ্য সুখ।
আমি লিখব তাদের কথা-
অনাহার যাদের দৈনপ্রথা,
যাদের জীবন নিশীথ রাত্রি
সেই জীবনের আমি আলোকযাত্রী।
🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷
© Sk Asad Ahamed
Editor, Upokontha
... a rural literature magazine.
Date:- 06/06/2020
Gangpura, Purba Medinipur












No comments:
Post a Comment