Wednesday, June 10, 2020

উপকণ্ঠ প্রাত্যহিক ওয়েব ম্যাগাজিন- 11/06/2020



              "উপকণ্ঠ প্রাত্যহিক বিভাগ"
                 (ওয়েব ম্যাগাজিন) 

        প্রকাশ কাল:-11/06/2020, বৃহস্পতিবার 
                    সময় :- সকাল 6 টা

সভাপতি:- অরুণ কুমার ঘড়াই
সহঃ সভাপতি:- সেক আব্দুল মজিদ

সম্পাদক এবং
প্রকাশক:- সেক আসাদ আহমেদ
যুগ্ম সহঃ সম্পাদক :-
                  ১) ইমরান খাঁন
                  ২) শেখ মণিরুল ইসলাম

সম্পাদকীয় দপ্তর ::-
গ্রাম:- গাংপুরা ডাকঘর:- সাগরেশ্বর
থানা:- রামনগর জেলা:- পূর্ব মেদিনীপুর
সূচক-৭২১৪৪৬ পশ্চিমবঙ্গ ভারত

মুঠোফোন:- 9593043577

🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷

উপকণ্ঠ সাহিত্য পত্রিকা ফেসবুক আইডি লিঙ্কে ক্লিক করুন আর যুক্ত হন আমাদের সাথে
 Click here

উপকণ্ঠ সাহিত্য পত্রিকা এর হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপতে যুক্ত হন লিঙ্কে ক্লিক করে
Click here
🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷
আজকে উপকণ্ঠ প্রাত্যহিক ওয়েব ম্যাগাজিনে যারা কলম ধরেছেন✒✒✒✒👇👇👇👇👇
English essay ( ইংরেজি প্রবন্ধ) :-
          • ডাঃ সায়ন ভট্টাচার্য
ইংরেজি কবিতা:-
           • সিদ্ধার্থ সিংহ
অনুগল্প:-
           • কৌস্তভ ঘোষ
কবিতা:-
            • কাশীনাথ সাহা
বাংলা প্রবন্ধ:-
            • রাজা দেবরায়
কবিতা:-
            • উমর ফারুক
            • তীর্থঙ্কর সুমিত
            • অনাদি মুখার্জী
ছোটোগল্প:-
            • আব্দুল রাহাজ
কবিতা:-
            • বাপন দেব লাড়ু
             • ঝিমলি ব্যানার্জি
              • প্রদীপ কুমার দে
              • জুয়েল রূহানী

🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿
ইংরেজি প্রবন্ধ:-

English Essay:

The current Pandemic: Opportunity for true humanity
 ✍✍✍ The Calcuttaman ( Dr Sayan Bhattacharyya)
 The current Covid-19 pandemic has taken many many lives and has posed unique challenges for humans. However this is also the golden time for us to become true humans.
  We can take this
opportunity to help out each other and be good samaritans. As much as we can, we should try to help old people with their buyings. The cyclone last month has ravaged southern Bengal . We can try to reach out to the needy and help them with old clothes and medicines .
  The term ' Social distancing ' is distracting. It should better be called ' Physical distancing '. Socially we should not be away from each other. Our loved ones need our love and care at this crucial moment. We should rise to the occasion and keep ourselves and our loved ones healthy and happy.
 However this is also not a time to take things lightly. Whenever and wherever distancing norms and coughing and sneezing etiquettes are jot being followed, we can report these ti the appropriate authorities. Further spread of the disease should not occur or be limited.
  We should also spread awareness and not gossips or rumours about Covid-19 disease. People need our care and affection and good advice. Let's be good humans at this moment.

 🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿

A pond full of light

✍✍✍ Siddhartha Singha
What shall we show them anymore when they get down from our lap?

When we dine the cats do browse greedily near the plates any more
how did that glaze of grand colour become pale in the flower
   of water hyacinth
the rays of sun no more play hide snd seek like before in the
          lap of the bright colouds.

What should we show then anymore when they get down from our lap?

I can only show the way all day long far, far away can
          show a pond of light in a sea darkens

🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿


অনুগল্প - গরুর ডাক্তার
 ✍✍✍ কৌস্তভ ঘোষ

ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি প্রায় দিন সন্ধ্যায় আমাদের বারাসতের বাড়িতে আসতেন হারু ঘোষ। সাধারণ, নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের ছাপোষা ভদ্রলোক ।কালো ও দোহারা চেহারা।ঐ জেঠু আর কাকার সাথে একটু খোশ গল্প করতেন আর কি।তা যাই,হোক আমার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা হয়েগিয়েছিল। অবসর সময় , হারুদা বাড়িতে আসলে আমিও আড্ডায় যোগ দিতাম। একদিন হল কি , হারুদা কথায় কথায় আমাকে বললে " দাদাবাবু ইদানিং চোখে ভালো দেখি না, আসলে বয়স ও তো কম হচ্ছে না , প্রায় তিন কুড়ি হবে"। আমি বললাম " দেখুন হারুদা , চোখের অসুবিধা হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।ঐ টি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় , হ্যাঁ"। আমি উনাকে কলোনির মোরে ডাক্তার সেনগুপ্ত বা উনাদের পঞ্চায়েত অঞ্চলের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যে ডাক্তার বাবু চোখ দেখেন, বিনামূল্যে পরিসেবা দেওয়া হয় , সে কথা বলে বিদায় দিলাম। তারপর বেশ কিছু দিন হল হারুদার সাথে কথা হয় নি । এতটুকু শুনেছিলাম হারুদা নাকি উনার গ্রামের এক বৃদ্ধের পরামর্শ মতো চোখে কোনায় ঘানির খাঁটি সরিষার তেল লাগাচ্ছে, স্নানের আগে।ওতে নাকি চোখ ভালো থাকে।
 তার কয়েক মাস পর , একদিন সন্ধ্যায় আমার বাড়িতেই আবার হারুদার সামনাসামনি পড়লাম। দেখি উনার চোখে একটা স্বপ্ল পাওয়ারের পুরানো ফ্রেমের চশমা। বললাম," কি ব‍্যাপার হারুদা, চশমাটি আবার কোথা থেকে "?
 বললেন" আরে ভাই, সরকারি হাসপাতাল থেকে বানিয়েছি ভাই"।আরো বললেন , "শেষ পর্যন্ত চোখের ডাক্তার দেখাতেই হল "। আমি হেঁসে বললাম " কেন আপনার গ্রামীণ সরিষার তেলজ টোটকা কাজে লাগলো না বুঝি।তা ভালোই করেছেন"। একটু থেমে প্রশ্ন করলাম , " কোন ডাক্তার কে দেখালেন ? নাকি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে দেখালেন?"
হারুদার নিসংকোচ উত্তর " আরে না না , স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নয় । আমাদের গ্রামেরই একজন ডাক্তার তরফদার"। আমি অবাক হয়ে বলতে যাব "কিন্তু সে তো..."
হারুদা আমার মুখের কথা কেড়ে নিয়ে বললেন ," হাঁ, তরফদার গরুর ডাক্তার বটে কিন্তু এখন মানুষের চোখ ও দেখে,ঐ সামান্যই ফি নেয়"।
আমি হাসবো না কাঁদবো বুঝতে পারছি না। আমার মুখের কথা মুখেই রয়ে গেল।।
🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿

ভাল থাকুন
✍✍✍ কাশীনাথ সাহা
এই যে দাদা ভাল থাকুন
ঝোলে থাকুন ঝালে থাকুন
অম্বলে থাকুন তিতোয় থাকুন
লালে থাকুন নীলে থাকুন
সবুজে থাকুন গেরুয়ায়
থাকুন
যখন যে দল ক্ষমতায় সেখানেতেই
সেঁটে থাকুন
ভাল থাকুন।
ভোগে থাকুন, ভাগে থাকুন
ধ্বংসে থাকুন
কংসে থাকুন
কামে থাকুন নামে থাকুন
যেখানে ফায়দা সেখানে থাকুন
ভাল থাকুন।
নারীতে থাকুন সুরায় থাকুন
সবসময়ই মঞ্চে থাকুন
আলোয় থাকুন
অাধাঁরে থাকুন
জলে থাকুন
ফলে থাকুন
সবসময়ই ভাল থাকুন।
আলাপে থাকুন প্রলাপে থাকুন
লাইনে থাকুন
বেলাইনে থাকুন
পাঁকে থাকুন পদ্মে থাকুন
দিদিতে থাকুন
দাদায় থাকুন
পুলিশে থাকুন
পালিশে থাকুন
মানিয়ে গুনিয়ে
চলতে শিখুন
ভাল থাকুন।
শিক্ষায় থাকুন দীক্ষায় থাকুন
বাঁকে থাকুন ফাঁকে থাকুন
ধর্মে থাকুন জিরাফেও থাকুন
মাঝরাতে ভিজতে থাকুন
চোখকানটি খোলা রাখুন
ব্যাঙ্কের বই ভর্তি রাখুন
ভাল থাকুন ভাল থাকুন!
স্বর্গে থাকুন মর্গে থাকুন
ভালবাসায় ঘৃণায় থাকুন
পায়ের তলায় মাটি রাখুন
ভাল থাকুন ভাল থাকুন।

সুখে থাকুন দুঃখে থাকুন
ভাল থাকুন ভাল থাকুন
সাড়ে তিন হাত
মাটির চিতা
কবরখানি তৈরী রাখুন
ভাল থাকুন ভাল থাকুন!
🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿
প্রবন্ধ
কাজী নজরুল ইসলাম
✍✍✍ রাজা দেবরায়
১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ই জ্যৈষ্ঠ অর্থাৎ ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দের ২৪শে মে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার জামুরিয়া থানার চুরুলিয়া গ্রামে কাজী নজরুল জন্মেছিলেন । তাঁর বাবার নাম ফকির আহম্মদ এবং মা'র নাম জাবেদা খাতুন । শৈশবেই তিনি পিতৃহীন হন্ । তাঁর বাবা তাঁর নাম রেখেছিলেন দুখুমিঁয়া । তাছাড়া ছোটবেলায় তাঁকে নজরআলি, তারাখ্যাপা নামেও ডাকা হতো ।

 নজরুল পড়াশোনা শেখার জন্য খুব আগ্রহী ছিলেন । কিন্তু দারিদ্রের জন্য খুব কষ্ট করে তাঁকে জীবনে চলার পথে অগ্রসর হতে হয়েছিলো । মাত্র দশ বছর বয়সেই তাঁকে বিভিন্ন কাজে যোগ দিতে হয় । প্রায় তেরো বছর বয়সে লেটো-নাচের দলের গান রচনায় নিযুক্ত হন্ । মা'র মৃত্যুর পর নজরুল ভবঘুরে হয়ে উঠেন । প্রায় আঠারো বছর বয়সে ঊনপঞ্চাশ নম্বর বাঙালি পল্টনে সেনা হিসেবে যোগ দিলেও পল্টন ভেঙ্গে দিলে কলকাতায় বাংলা সাহিত্য সাধনায় নিজেকে নিয়োজিত করেন । কিন্তু ধূমকেতু পত্রিকায় আনন্দময়ীর আগমন কবিতার জন্য রাজদ্রোহের অভিযোগে তাঁকে কুমিল্লায় গ্রেপ্তার করা হয় ।

সাপ্তাহিক বিজলী পত্রিকায় নজরুলের প্রসিদ্ধ 'বিদ্রোহী' কবিতা প্রকাশিত হবার পর বাংলা সাহিত্যে প্রচণ্ড আলোড়ন সৃষ্টি হয় । পঁচিশ বছর বয়সে নজরুল আশালতা সেনগুপ্তের সঙ্গে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন্ ।

নজরুল বহু কাব্য, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ রচনা করেছিলেন । তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হলো - অগ্নিবীণা, বিষয়ের বাঁশী, ভাঙার গান, প্রলয়শিখা, ছায়ানট, সাম্যবাদী, সর্বহারা ইত্যাদি । নজরুল অসাধারণ সঙ্গীত ও সুরস্রষ্টা । দুই হাজারেরও অধিক গান রচনা করেছেন তিনি । বিশেষত শ্যামাসঙ্গীত, রাগাশ্রয়ী সহ নানান ধরনের গান তিনি আমাদের উপহার দিয়েছেন । বাংলা গানে গজলের মজা তিনিই প্রথম আমাদের উপভোগ করতে সাহায্য করেছেন । তবে কাব্য রূপায়নে তিনি সচেতন ছিলেন না ! কাব্যশিল্পে তিনি আবেগকে সংযত রাখতে পারেননি !

কাজী নজরুল ইসলাম ৭৭ বছর বেঁচে থাকলেও লিখেছিলেন মাত্র ২০ বছর । আসলে হঠাৎ মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলায় তাঁর পক্ষে আর কিছুই লেখা সম্ভব হয়নি । ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দের ২৯শে অগাস্ট ঢাকার পি.জি হাসপাতালে এই বিস্ময়কর প্রতিভাবান মানুষটি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন
🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿
লকডাউন
     ✍✍✍ উমর ফারুক
ভীড় কেন ভাই করো হাট বাজারে
ভীড়ের মাঝে করোনা রোগ বেড়ায় ঘুরে ।
লকডাউন ভারত জুড়ে নিয়ম ভাঙা কেন
একুশটা দিন রাস্তাঘাটে যাবেনা বেরোনো।
ওরা বাইরে তবু যায় কেন চুপিচুপি
মুখের দিকে চেয়ে দেখি আস্ত বহুরুপী।
যারা অকারণে শর্ত ভেঙে বুক ফুলিয়ে হাটে
বিপদ বরন করে তারা মুখ লুকিয়ে থাকে।
খোলা মুখে দিব্বি ঘুরে স্পর্শতে নাই মানা
সতর্কতা, কড়া বিধি করল জারি থানা ।
কে শোনে ভাই কার কথা উল্টো পথে চলে
মরছে মানুষ নিত্যদিনে গভীর দাবানলে।
দেখোনি কি বিশ্বজুড়ে লকডাউনের জাল
করোনাতে ভুগছে বিশ্ব আসবে কি সকাল?
নিশ্বাস নিবে নাও বিশুদ্ধ বাতাসে
ভীড় এড়িয়ে একলা দাঁড়াও নদীর পাশে।
করবে না কেউ করমর্দন স্পর্শ কভু নয়
ঔষুধ নাই এটাই ঔষুধ করবেনাকো ভয়।
ওঠ এখন ঘুমায় কেন যুদ্ধ করে এস
মহামারী আর বিশ্ববাসী মুখোমুখি বস
পারবেনা ভাই অস্ত্র যতই হাতে তুমি রেখো
বন্দী হলেই জিতবে তুমি যুদ্ধ করে দেখো।
বিবর্ন দেশ সুর হারালো কন্ঠে ভীষণ ভয়
বিজয়ের সুর মৃত্যু হয়ে উঠছে পুনরায়।
🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿

খাতা
 ✍✍✍ তীর্থঙ্কর সুমিত

আজকে আবার একাকি
এভাবেই কেটে যায় রাত
দিনের আলো আর অবাঞ্ছিত কিছু ...
নিজের মতো সাজিয়ে নিয়েছি উপন্যাস
তবুও ফেলে আসা সকাল
খুশির বার্তায় ভরিয়ে দেয় প্রতিনিয়ত
এভাবেই  ফিলিপিন্স দ্বীপপুঞ্জের
মায়াবী মায়াপুরণ
ক্রমশ বাড়তে থাকে
দিনপঞ্জির খাতায় হিসেবের খেলা চলে
রঙ ছোঁড়াছুঁড়ি
সাদা কালো মিশে যায়
নীল - হলুদের আবিরে
##
এভাবেই ফিরে আসা যায় কবির হাত ধরে
##
কবিতা বাড়িয়েছে খাতা।
🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿
যে ভাবে বাঁচতে চাই
          কবিতা
       ✍✍✍ অনাদি মুখার্জি
জীবনের চলার পথে আমি যে কিছু চাই,
শীত কালে নলেন চাই বর্ষা তে চাই ইলিশ!
অন্ধকারে মোমবাতি চাই,জীবন গড়তে চাই বই!
অটোগ্রাফ কি পাল্টাবে কী পাল্টাচ্ছে নেতা বক্তৃতায়?
শরতে চাই কাশ ফুল আর "কাশ্মীরে চাই ভারতের প্রতাকা!
পড়া ফাঁকে মোবাইল ঘাটলে!
   মায়ের বকুনি চাই চাই!
পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করলেও,বাবা কাজে আরো শাসন চাই!
চাকরি পেলে একটা বউ চাই,
কালো হলেও তার ভালো ঐ মন টা চাই !
ফুচকা চাই ,বিরিয়ানী চাই,
জীবনের শেষে এই চাওয়া পাওয়া তে ,আমি যেনো একটু শান্তিতে বাঁচতে চাই!
🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿

দুই বন্ধু ( ছোটগল্প)
✍✍✍ আব্দুল রাহাজ
একটা ছোট্ট বনের পাশ দিয়ে মেঠো পথ আদি দিগন্তের পথ ধরে চলে যাচ্ছে মেঠো এর কিছুটা দুরে একটা নদী নাম তার জলন্ধি এই নদী থেকে কিছুটা দুরে একটা গ্ৰাম ছিল নাম তার ফুলেশ্বরী দক্ষিণ দিকে বিস্তৃত মাঠ ছিল সবাই তাকে তালতলার মাঠ বলে ডাকতো ।
গ্ৰামটির মধ্য গগনে ছিল একটা হাটবাজার পাশে মস্ত বড়ো বটগাছ ছিল তার কিছুটা দুরে পাঠশালা গ্ৰামের ছোট্ট ছেলে মেয়েরা এখানে বসবাস করে। সর্বধর্ম নির্বিশেষে সবাই শান্তিপূর্ণ ভাবে বসবাস করে। গ্ৰামটিতে বড়ো হওয়ায় গ্ৰামের মোড়ল নাম দিয়েছে সেক পাড়া আর সরকার পাড়া । গ্ৰামের মানুষ খুবই ভালো সরল সাদাসিধে পারস্পারিক মেলবন্ধনে বৈচিত্র্যময় পরিবেশে বসবাস করে। ওরা প্রান্তিক হলেও ওরা সদা সর্বদা বিপদে পাশে থাকতো সাহায্য করতো।সেক পাড়ার হাসান সরকার পাড়ার আলি দুজনেই ছোটবেলা থেকেই খুবই ভালো বন্ধু একসাথে পড়াশুনা করে খেলাধুলা করে একসাথে স্কুলে যাই পাড়ার আর সব ছেলেদের সাথে নদীতে জল ছিটিয়ে সাঁতার কাটে বেশ আনন্দে দিন গুলো কাটে ওদের। সেকের বাবা ও আলির বাবা দুজনেই চাষি খুব ভালো মানুষ । এদিকে ওদের গ্ৰামের পাঠশালা প্রায় শেষের পথে ওরা বিকাল বেলায় নদীর ধারে বসে গল্প করতো আলি বললো গ্ৰামের পাঠশালা শেষ হবার কী করবি সেক সে বললো শহরে পড়ার ইচ্ছা আছে দেখা যাক কতদূর কী হয় সেক বললো তুই এই বামনহাট হাই স্কুল বাবা ভর্তি করবেন তাহলে এতগুলা বছর আলাদা থাকবো সেক চাপা গলায় বললো আমি কিন্তু তোর ছাড়া থাকতে পারবনা আচ্ছা সে দেখা যাবে । পাশে দিয়ে একটা সওর বয়সি বৃদ্ধা ভারী জিনিসপত্র নিয়ে বাড়ির দিকে রওনা দিচ্ছে কিন্তু ভারী হওয়ায় নিয়ে যেতে কষ্ট হচ্ছে ওরা দুজনে দৌড় মেরে কাছে এসে বললো ওগুলো আমাদের কাছে দাও বুড়িমা তোমার যে কষ্ট হচ্ছে ওরে আমার সোনা মানিকরা আমি পারব না তুমি পারবেনা আমাদের কাছে আমরা নিয়ে যাচ্ছি ওরা দুজন বুড়িমার জিনিস বাড়িতে পৌঁছে দিলো এই ভাবে গ্ৰামের মানুষের বিপদের দিনে পাশে দাঁড়াতো ওরা। দেখতে দেখতে গ্ৰামের পাঠশালা শেষ হলো ওরা স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে নদীর ধারে গিয়ে বসলো সেদিন প্রাকৃতিক পরিবেশ ছিল অতিব সৌন্দর্য এ ভরা ।
আলি জিজ্ঞাসা করলো কবে যাচ্ছিস শহরে সেক বললো কাল ভোরে সত্যি তোকে ছাড়া আমার একা থাকতে হবে তুই আমার ছেলেবেলার খেলার সাথী বিপদের দিনের বন্ধু বিশ্ব মায়ের কোলে আমরা দুই মূর্তি হয়ে থাকবো দেখিস‌। তখন সেকের বাবা বললো খোকা চল বাড়ি কাল যে বেরোতে হবে আলির অশ্রু শিক্ত চোখের জলে সেই শেষ বারের মতো সেককে দেখে বিদায় দিলো । তারপর আলি ভর্তি হলো বামন হাট স্কুলে বেশ ভালোই পড়াশোনা চলছিল আলির এদিকে সেকের কোন খবর নেই। এরপর গ্ৰামের সেই বিস্তৃত মাঠে মেলা হতো বছর বছর এবছরের মেলার দিন এসে গেলো এবার আলির মনটা খারাপ সেক নেই যে এবার গতবার মেলায় ওরা জিলিপি খেতে খেতে বাড়ি এসেছিল এবার ঠিক ছিল ওরা বাদাম কিনে খাবে কিন্তু সে আশা আর প্রকৃতির মায়ের কোলে সেই আনন্দ বিলীন হয়ে গেল। এরপর কয়েকটা বছর কেটে যায় কোনো খবর নেই সেকের এদিকে আলির বাবা মারা যাওয়ায় এন্ট্রাস পরীক্ষায় পাশ করে পড়া হলো না আর বাবার জমি নিয়ে চাষ করে আলি গ্ৰামের মানুষের সাহায্য করে গ্ৰামের সবার কাছে আলি খুব প্রিয় হয়ে উঠলো । এদিকে রহমান দৌড় দিয়ে আলির বাড়িতে এলো বললো সেক বাড়ীতে এসেছে আলি এক দৌড় দিয়ে সেকের বাড়ির সামনে চলে আসলো তার পর আলি সেই ডাক বন্ধু সেক আমার প্রানের বন্ধু সেক একথায় কানে যাবা মাএই আলি বন্ধু সে নীচে নেমেই দুচোখ ভরে নিজেদের কে একটু দেখলো কত পরিবর্তন হয়েছে ওদের। তারপর সেই নদীর ধারে বসে কত গল্প। এদিকে সেক বললো হাসপাতাল করবো গ্ৰামের মানুষকে চিকিৎসা করবো আরে তুই ডাক্তার হয়েছিস এ তো খুব ভালো কথা। আমরা ছোট বেলায় দুজন সাহায্য করতাম মানুষের এবার সাহায্য হবে সকলের সামনে বছর বছর ঘুরতে না ঘুরতেই হাসপাতাল হলো আলি বন্ধুর সঙ্গে থাকলো বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হলো আস্তে আস্তে গ্ৰাম পরিবর্তন হতে থাকলো এইভাবে দিনের পর দুই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে লাগলো। আস্তে আস্তে এক অনন্য পরিবেশ সৃষ্টি হলো গ্ৰামে । এই ভাবে দুই বন্ধু একসাথে মানবসেবায় নিজে দের কে নিমজ্জিত করে রাখলো । প্রকৃতির মায়ের কাছে এক অনন্য সাক্ষী হয়ে রইল।
🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿
উপকন্ঠ প্রাত্যহিক বিভাগ

আমরাও হারাবো একদিন
✍✍✍ বাপন দেব লাড়ু
এক মাঠ আকাশ পেতে
 বসে থাকে দিন পা ছড়িয়ে ;
  মনে মনে ভাব সম্প্রসারণ কিছুটা সময় ;
আর বাকীটা, থেকে যায় আগামীর।
পরে গোধূলির সূর্য সীমানা ছুঁলে,ফিরে আসা।

কত কত দিন প্রতিদিনের মতো।
কেটে গেছে শুধু শুধু এভাবে ;
আমরাও হারাবো একদিন,
যেভাবে হারিয়েছে দিন, প্রতিদিনের মতো।
🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿

গৃহবধূ
✍✍✍✍ঝিমলি ব্যানার্জি

গৃহবধূ মানে কি জানেন ?
সমাজের ভাষায় গৃহে থাকা বধূ ...
এদের জানেন তো নিজস্য কোনো সময় নেই !
সারাদিন এরা উদরস্থ পরিশ্রম করে কাদের জন্য জানেন ?
সংসার এর মধ্যে তার যে প্রিয় মানুষগুলো আছে ,তাদের জন্য |
ওই যে শাখা পলা সিঁদুর পরে ঢুকেছে সংসারে ...
চলতেই থাকে , চলতেই থাকে |
ভুলেই গেছে , নিজের ইচ্ছে - অনিচ্ছে !
আর প্রতিভা ? সে তো সংসারের চোরাবালিতে চুরি হয়ে গেছে মশাই !
যদিও মনে সাধ জাগে কিছু করার ...
শুনতে হয় কি জানেন ....এখন তো দেখছি
প্রতিভা ফুঁড়ে ফুঁড়ে বের হচ্ছে ...
কোথায় ছিল এতদিন ?
ব্যাঙ্গ বিদ্রুপে কান যেন বন্ধ হয়ে আসে ,
নীলকণ্ঠ যেমন হলাহল পান করে বাকিদের অমৃত
পান করতে দিয়েছিলেন ,
তেমনিই ওই গৃহবধূরাও সংসারের হলাহল পান করে নিজেরা সমস্ত যন্ত্রনা ভোগ করে !
কুড়িটা বছর সংসারে দেওয়ার পর ও শুনতে হয় ..
কি করেছ বা এখনো কি এমন করো !
হায় রে বিধাতা ! এ কেমন বিচার তোমার ?
যার সবটা জীবন শুধুই সংসারের তার প্রতি এমন
অবিচার !
এরাই হলো আমাদের গৃহবধূ !
সমাজের ভাষায় গৃহে থাকা বধূ |
🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿
উপকণ্ঠ প্রাত্যহিক বিভাগ
বিজ্ঞান চেতনা
✍✍✍ প্রদীপ কুমার দে
 উন্নত মানব, তব পরাজয় নহে স্বীকার্য,
নহে কোনো ভ্রান্তি, হে নূতন! করো আবিষ্কারী কার্য।
গড়েছ নূতন হয়েছে সফল, উদ্যম নহে বিফল,
ধ্বংসে মাতিয়া বলিছে সবে - আবিষ্কারের কুফল।

ধ্বংসাত্মক খেলার শিকার হিরোশিমা নাগাসাকি,
তাই বলিয়া বলিছে সবে, বিজ্ঞানের কুফল নাকি।
ভাবিয়া দেখ প্রত্যক্ষ করে, প্রতিভাত কর চেতনা,
বিজ্ঞান অগ্রগতির দূত, নহে ধ্বংসের প্রেরণা।
🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿

কবিতাঃ "জীবন ঘুড়ি"
✍✍✍ জুয়েল রূহানী
জীবন ঘুড়ি উড়িয়ে দিয়ে-
নীল আকাশের হৃদয় জুড়ে,
স্বপ্নগুলো তাড়িয়ে বেড়ায়-
কাজল কালো দু'চোখ জুড়ে।

নাটাই হতে ছড়িয়ে দিয়ে,
সব সুতো মন উজার করে,
তাকিয়ে থেকে উদাস মনে-
স্বপ্ন সাজাই নতুন করে।

জীবন ঘুড়ি উড়িয়ে দিয়ে-
টানলে সুতো নাটাই হাতে,
মানলে হাওয়ার গতি-বিধি
ছিড়বে নাকো বাদ-বিবাদে।
🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿

©©Sk Asad Ahamed
Editor, উপকণ্ঠ
11/06/2020
Gangpura, Purba Medinipur



No comments:

Post a Comment